কলপন

মায়া হরিণের হাড়

আহমদ রাজু

যা হবার তা-তো হয়েই গেছে। এখন ইচ্ছে করলেও কিছু করার নেই। এই বীভৎস সময় থেকে ফেরার কোন পথ-ই তার সামনে খোলা নেই। অবশ্য ফিরে যাবার কথা সে যে মনে মনে ভাবেনি তা নয়, ভেবেছে। কোন উত্তর পায়নি। শেষ পর্যন্ত নিজেকে হার মানিয়ে কাজে মন দিতে হয়েছে সখিনা বেকারীর মালিক করিমুদ্দির। ...»

আবার এসেছে ফিরে

মাসুদ রানা

[বগুড়ার কৃষক শুকুর আলী ও তাঁর পুত্র সিজান হোসেন, যাঁদেরকে আমি চিনি না, কিন্তু রক্ত সম্পর্কিত মনে করি, সেই পিতা-পুত্রের মৌবাইল ফৌনে একত্রে রাজনৈতিক চুটকি শোনার দায়ে পুলিসের হাতে গ্রেফতারিত হওয়ার প্রতিবাদে আমি লিখেছি এই কবিতাটি। কবিতাটি উৎসর্গ করছি তাঁদেরই মতো গ্রাম ও নগরীর প্রান্তিক মানুষদের প্রতি, যাঁদের আমি আমার রক্ত ও নাড়ি হিসেবে মানি।]
- মাসুদ রানা

আবার এসেছে দেশে পুরনো সে-বাকশাল,
পাল্টেছে বিধি-বিধান মানুষ আর দিনকালঃ
দেখতে মানা, শুনতে মানা, হাসতে মানা। ...»

মানুষের চোখগুলো আহত আকাশ

সৈয়দ রুম্মান

কি অনায়াসে পুরে নিলে আস্ত একটি রাষ্ট্র তোমার মুঠোয়,
বিকলাঙ্গ প্রজাপতিগুলো হাতড়িয়েছিলো দুঃখের আইলে আইলে
কিন্তু তাঁদের চোখে আবারও নেমে এলো ভোমরার শূল;
দেখি, মানুষের চোখগুলো আহত আকাশ!

আমাদের বিশ্বাসে ট্রোজানের যবনিকা এলো,
গোলাপের লাল পাপড়িগুলো হয়ে গেল মুড়ি-মুড়কি-খই।

বণিক-আয়না তবে এবার আলোকভেদ্য...
কুশীলব-পর্ব ছাপিয়ে হলে তীক্ষ্ণ তীরন্দাজ।
আলোকবর্ষগুলোও দেখবে তোমার ঠোঁটে তাড়কার হাসি;
বিদীর্ণ ত্রাচিসতে ঘোরে এ কোন অ্যাফিয়ান্তেস!

১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৪
কমার্শিয়াল স্ট্রীট, লণ্ডন

হার মানা হার - ২

যুথিকা বড়ুয়া

(দুই)

[আগের পর্ব পড়তে ক্লিক করুন হার মানা হার - ১] ...»

কী আশায় বাঁধা এ খেলাঘর

যুথিকা বড়ুয়া

বিশ্বাস আর ভালোবাসা নিয়েই মানুষ বেঁচে থাকে পৃথিবীতে, যা বাচ্চা-বুড়ো-জোয়ান-নারী-পুরুষ প্রতিটি মানুষই একান্ত করে পেতে চায়। সেই সঙ্গে মান-মর্যাদায় পূর্ণ, অর্থ-বিত্ত-ঐশ্বর্য্য, সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ও আনন্দময় জীবন কে না পেতে চায়! ...»

নীলিমায় হৃদয় হারায়

আব্দুল্লাহ আল জামিল

হঠাৎ করে সামনে দেখি শ্যামলা মেয়ে
কপাল থেকে মাথা ঝাঁকিয়ে চুল সরিয়ে
মিষ্টি হেসে বাঁকা চোখে এদিক তাকায়
হৃদয় আমার দূর নীলিমায় হারিয়ে যায়।

 

রোববার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০১২

 

অন্বেষণ

আব্দুল্লাহ আল জামিল

 

ওই যে নোট বইটা পড়ে আছে
     শেলফের এক কোনে,
ওটার পাতা উল্টে দ্যাখো
     পাবে কোন শোক গাঁথা।

ওই যে গাছটি দেখছো
     ধুলোয় ঢাকা যার পাতা,
ধুলোর স্তর সরিয়ে দ্যাখো
     আছে জীবনের অস্তিত্ব।

ওই দ্যাখো ধ্বংসস্তূপ
     দাঁড়িয়ে রাস্তার পাশে,
সরিয়ে দ্যাখো আবর্জনা
     পেতে পারো কষ্টে ভেজা মানুষের কঙ্কাল।

ওই যে পোড়ো বাড়িটি দ্যাখো
     হয়ে আছে ইতিহাসের সাক্ষী,
খুঁড়ে দেখতে পারো গভীরে তার
     পেয়ে যাবে কৃষকের শ্রমে লব্ধ গুপ্ত-ধন।

 

রোববার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০১২

বাবার ধূমপান ছাড়ার গল্প

সুমাইয়া বরকতউল্লাহ্

রাত এগারোটা। মা ওয়াক ওয়াক, গগগ করতে করতে এক দৌড়ে এসে বেসিনে বমি করে দিলেন। আমরা দুই ভাই-বোন রিডিং রুমে পড়ছিলাম। দৌড়ে গেলাম। মা বকবক করে বাবাকে বকে যাচ্ছেন। অর্ধেক বকা দিতেই আবার গগগ ওয়াক করে বমি করছেন। বকাও দেয় সাথে বমিও করে। ঘটনার কিছুই বুঝতে পারছি না।

মা বমি করতে করতে বেসিনে উপুড় হয়ে হাঁপাচ্ছেন। রাগের চোটে একটু পরপর বকা দিতে গেলেই আবার গগগ ওয়াক। মুখ থেকে লোল-বিজলা পড়ছে। চোখ বেয়ে পানি পড়ছে। ...»

Syndicate content