কলপন

আত্ম দহনের কালঃ এক

মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান

আজ প্রার্থনা করি নতজানু ফলবতি ধানের মত
প্রার্থনা করি সারা রাত বৃষ্টির পর যেমন জেগে উঠে
মৃত শহর ও শহুরেরা
প্রার্থনা করি দোহাই তোমার লাল কমল আর নীল কমল
আসমানি সাদা বেগুনী
প্রার্থনা করি জগত ও জগত-এর ভেতর বাহিরে
আজ তুমি প্রার্থনা গ্রহণ কর
ধ্যানীকে দাও জ্ঞান
কৃষককে শষ্য
আমারে পথ বাতলায় দেও
কোন পথে গেলে তোমার দেখা হবে না
অন্তর্গত নারীর স্মৃতি কাতরতায় ডুবে
সংসারের প্রয়োজনীয় কাজে বিরতি দিতে হবে না। ...»

বৃষ্টি

রুবাইয়াত শহীদ

বৃষ্টি কখন ঝমঝমিয়ে
ঘরের চালে রমরমিয়ে,
উদ্দামতার বেড়া ভেঙে
নদীর ’পরে,
বাঁশের ঝাড়ে,
উতাল হাওয়ার মতো বাড়ে।
থামছে নাকো থামবে নারে
ঐ বুঝি কে থামায় তারে!

ঐ বুঝি কে থামায় তারে
সন্ধ্যা নামে দিন গড়িয়ে,
পড়ছে শুধু রিমঝিমিয়ে
আকাশ ভেঙে
মাতাল বেগে
উন্মত্ততার কূল ছাড়িয়ে,
থামতে গিয়েও থামছে নারে
বৃষ্টি এবার থামো নারে।

বৃষ্টি এবার থামো নারে
পড়ছে যেন হোঁচট খেয়ে
রক্তে ভেসে যাচ্ছে নেয়ে,
স্বাধীন দেশে স্বাধীনভাবে
একাত্মতা বজায় রেখে
চলার মতো চলতে হবে।

১৪/০৩/১০

বহমানতায় বাস্তবতা

হিন্দোল নন্দী

খরায় শুকিয়েছে জল ...»

আমাদের জীবন চলে যায়

মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান

আমাদের জীবন চলে যায়

আমাদের ছেড়ে

ক্ষেত খামার ফসলের গা বেয়ে চলে যায়

চলে যায় কিশোরী মেয়ের বুক চিরে

আমাদের জীবন চলে যায় আমাদের ছেড়ে

প্রতিরাতে তেড়ে আসে শুয়োরমুখো ক্রসফায়ার

প্রতিরাতে চুরি যায় আমাদের স্বপ্ন

...»

পেশোয়ার এক্সপ্রেস

মূলঃ কৃষণ চন্দর

অনুবাদঃ জাফর আলম ...»

পরাভূত একজন

হারিসুল হক

বেশ তো জানতাম তোমাকে। ভাবতাম তুমি হ্রদ   

আমি পদ্ম, তুমি আকাশ আমি নভোচর।

এখন দেখলাম আমি সত্যি সত্যি নভোচারী। ...»

নিঃশব্দের অশ্বারোহী

মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান

আপনি যেখানটায় দাঁড়িয়ে আছেন ঠিক,

ঐ জায়গা থেকে পূর্বদিকে সোজা কালো

পিচঢালা যে রাস্তাটি ডানের গলির ভেতর ঢুকে

গেছে; যেমনটি যায় আমাদের স্বপ্ন

অজানা কোন শোলে ইদুরের গর্তে;

আপনাকে যেতে হবে ঐ রাস্তায় ।

 

ঐ রাস্তা ধরে ডানে একটা পার্লার রেখে বামের রাস্তায় যখন এসে পড়বেন

নিশ্চয় মুখে অতিরিক্ত পাউডার দেওয়া স্থূলাকার

এক রমণীর সাথে দেখা হবে-

উনি মুক্তা বানু । অন্তত গত চার বছর ধরে

শুধু এ এলাকার মানুষই নয়, গলির

মোড়ে যে পাগলটা রোজ পল্টনের ময়দানে ...»

মায়ামগ্নে বিদীর্ণ ছায়া

কাজল রশীদ

 




ছোট ছোট নদীর বিদীর্ণ ভাগ
উপচে পড়ছে ঢেউয়ের কার্নিশে
প্রতারনার বিষ ছড়াচ্ছে
জলের ভাঁজে
রকমারি সাইনবোর্ডে
রঙীন মায়ার মগ্ন প্রলোভন
ফড়িংয়েরা উড়ে যাচ্ছে দূরে ।

মেঘেরা বিরহবেলায় ঘন আচ্ছন্নতার
বেদনা উড়ায়
শ্যাওলার ভন্ডামি তীব্রস্রোতে ভেসে যায়
সেন্সরবিহীন দৃশ্যে প্রবঞ্চিত জলেশ্বর ।

 

 

১০ অক্টৌবর ২০০৯

অধরা

আহমদ রাজু

আয়েজ উদ্দির সাথে অধরার মন দেওয়া নেওয়ার কথা এপাড়া-পাড়ার কারো জানতে বাকি নেই। আর জানবে নাই বা কেন? তারাতো আর লুকিয়ে-চুকিয়ে কিছু করছে না। দিব্যি সামনা-সামনি। দেখা, চোখে-চোখ রাখা, মনে-মনে কথা বলা ইত্যাদি। একদিনতো মানু গাজী এই বেলেল্লাপনার জন্যে কিছু বলবার আগেই অধরা আকার-ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দেয়, আয়েজ উদ্দির সাথে কি করি আর না করি সেই খোঁজ কি তুমি সারাক্ষণ রাখো? তুমার কী খায়ে-দায়ে কোন কাজ নেই?

-তুইতো আমাগের গাঁয়ের ভাগনি; তোর খোঁজ আমরা না রাখলি রাখপে কিডা? ...»

Syndicate content