• ইংলিশ রায়টঃ ব্রিটেইনের লজ্জা
    মাসুদ রানা

    এক.

    ক্রসফায়ারে মৃত্যু! ঢাকাতে নয়, লন্ডনে। বিশ্বাস করা যায় না, কিন্তু তবুও সত্যি। সেই একই কথাঃ ‘আইনের লোকেরা গ্রেফতার করতে গেলে সন্দেহিত দুর্বৃত্ত তাদের উপর গুলি চালায় এবং আত্মরক্ষার্থে তাঁরা বাধ্য হয়ে পাল্টা-গুলি চালালে সে-ব্যক্তি ঘটনাস্থলে প্রাণ হারায়।’

    এ-বিবৃতি মিথ্যা ও বানোয়াট। কিন্তু এ-মিথ্যা প্রচার করে রাষ্ট্র। অথচ এ-রাষ্ট্রই  নাগরিকদের উপর ‘মোরাল অথোরিটী’ দাবী করে। তাদেরকে আইন মেনে চলতে উপদেশ দেয় এবং সর্বোপরি আনুগত্য প্রত্যাশা করে।

    বাংলাদেশের নাগরিকেরা রাষ্ট্রের অনুগত দাস-সম। এ-দাসত্বকে পবিত্র করার জন্য পালা-বদলের মালিকানায় ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’ আর ‘স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব’ রক্ষা করার পবিত্র বাণী  উচ্চারণ করা হয় উচ্চ কন্ঠে। নাগরিকেরা ভড়কে যান। রাষ্ট্রের প্রচারিত মিথ্যাকে সত্য বলে মেনে নেন। কিন্তু ব্রিটেইনের কালো নাগরিকেরা তা মেনে নেননি।

    বৃহস্পতিবারে সংঘটিত ডুগান-হত্যার জবাব চেয়ে কালো অধ্যুষিত টোটেনহ্যামের মানুষেরা শনিবারে পুলিস স্টেইশনে জমায়েত হয়েছিলেন। হত্যায়িত মার্ক ডুগানের পরিবারও সেখানে ছিলো। কিন্তু পুলিস তাঁদের তাচ্ছিল্য দেখিয়েছে। ডুগান-হত্যায় ব্যথিত হৃদয়ের জড়ো হওয়া মানুষদের কোনো তথ্য দেবার প্রয়োজন বোধ করেনি রাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। কালো মানুষদেরকে কি মানুষ মনে করা হয়?

    অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে কালো মানুষেরা জানেন, রাষ্ট্র তাদের কথা শুনে না। রাষ্ট্র তার নিজস্ব শক্তি প্রয়োগ করে অতীতেও বে-আইনীভাবে কালো-মানুষ মেরেছে। এবং প্রতিটি মৃত্যুকে ঢাকার জন্য মিথ্যা বলেছে রাষ্ট্র। এ-মিথ্যা প্রমাণিতও হয়েছে।

    ব্রিটিশ পুলিসে ইনস্টিটিউশন্যাল রেইসিজম বা প্রাতিষ্ঠানিক বর্ণবাদ আছে, তা স্টিফেন লরেন্সের হত্যাকাণ্ডের সূত্র ধরে আইনগতভাব স্বীকৃত হয়েছে।

    সাদা কর্তৃত্ত্বাধীন ব্রিটিশ রাষ্ট্র কালো মানুষদের ব্যাপক-ভাবে বঞ্চিত করে রেখেছে। কালোদের বঞ্চনার ইতিহাস নতুন নয়। সে-ইতিহাস অবর্ণনীয়।

    আফ্রিকান বংশোদ্ভূত কালো মানুষেরা শারীরিক ও মানসিক দাসত্ব ভোগ করেছে অনেক যুগ। বিশ্ব-ব্যাপী সাদা সভ্যতার ইতিহাস কালো মানুষের ঘামে ও রক্তে ভেজা।

    প্রকৃতি আফ্রিকার সন্তানদের গড়েছে বলশালী করে, সূর্যালোকে পুড়িয়ে কালো করে। কিন্তু সবল কালো দেহ এবং নির্মল সরল মন এদের দুর্ভাগ্যের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিলো ইতিহাসের এক অশুভ-লগ্নে। শারীরিক-শ্রমে অসাধ্য সাধনে সক্ষম এ-কালো দেহ আর মানসিক কুটিলতায় অনভ্যস্ত তাদের সরল মনকে সহজেই দাসে পরিণত করেছিলো সাদা সভ্যতা।

    যা কিছু মন্দ ও অসুন্দর তা আরোপ করা হয়েছিলো কালোদের উপর - কালো আইন, কালোবাজার, কালো অধ্যায়, কালো দিবস, কালো বিনব্যাগ  - কালো হলো কুৎসিত। এ-দৃষ্টি ছড়িয়ে পড়েছিলো বিশ্বময়।

    কিন্তু যেদিন মার্টিন লুথার কিং ‘আই হ্যাভ এ্যা ড্রীম’ বলে আজব এক স্বপ্নের মধ্যে উচ্চারণ করলেন ‘ব্ল্যাক ইজ বিউটিফুল’, সে-দিন কালোদের মনের দাসত্ব ঘুচে গেলো। আর দাসত্ব ঘোচার সাথে-সাথে তাদের দেহের সবলতা হয়ে উঠলো আশির্বাদ।

    লন্ডনে আমার দেড় দশকের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতায় আমি দেখেছি, কালো শিশুরা ‘সিংহ শাবক’। ত্রিশ জনের ক্লাসে একা হলেও সে তার কালোত্বের বিন্দুমাত্র অপমান সহ্য করবে না। মরুক বা বাঁচুক, যেভাবেই হোক, তার প্রতিবাদ সে করবেই। যে-ই তার কালো অস্তিত্বে আঘাত করবে, তার বিরুদ্ধে কালো শিশু - ছেলে হোক বা মেয়ে হোক - সে প্রতিবাদে সিংহ-শাবকের মতো গর্জে উঠবেই। এবং তার কন্ঠ সবার কন্ঠকে ম্লান করে প্রচণ্ড নিনাদে চতুর্দিক প্রকম্পিত করে তুলবেই।

    সেইন্ট পলস্‌ ওয়ে স্কুলে আমার টিউটর গ্রুপের একমাত্র কালো ছিলো ড্যারেন। ইয়ার সেভেন থেকেই সে ছিলো বিরাট দেহের। ওর আয়ত নির্মল চোখ, কুঞ্চিত চুল আর দুধ-সাদা পরিপুষ্ঠ দাঁতের নির্মল হাসি এখনও মনে আছে। একদিন একটি ভিন্নবর্ণের ছেলে ওকে ‘ব্ল্যাক বাস্টার্ড’ বলেছিলো। আর যায় কোথায়! সিংহের বাচ্চা যখন গালি-দেয়া ছেলেটিকে ধরতে গেলো, সে-গালিবাজটি তখন ছাগ-শিশুর মতো থর্‌-থর্‌ করে কাঁপাছিলো। সাদা ও তথাকথিত শ্যামবর্ণের বাকী ছেলে-মেয়েদের কেউই সিংহ-শাবককে আটকে রাখতে পারছিলো না।

    ড্যারেন বুঝতো ওর প্রতি আমার মমতা আছে। উপায় না দেখে আমি সামনে দাঁড়ালাম। কিন্তু সে আমাকে অতিক্রম করতে চাইলো। যখন বললাম, ‘কাম ডাউন, কাম ডাউন মাই সান। ট্রাস্ট মি, আই উইল স্ট্যান্ড বাই ইউ এ্যাট এ্যানী কস্ট এ্যাগেইস্ট দিস রেইসিস্ট এ্যাবিউস। বাট ডৌন্ট ফরগেট ব্ল্যাক ইজ বিউটিফুল!’

    বারো বছরের ড্যারেন কান্নায় ভেঙ্গে পড়লো আমার প্রসারিত বাহুতে। সে-দিন প্রথম বারের মতো আমি ওর ঘন কালো কুঞ্চিত চুল ভর্তি মাথায় আমার শান্তনার হাত রেখে অনুভব করেছিলাম, দূর থেকে ধাতব তারের মতো মনে হলেও ওর চুলের স্পর্শ কতো নরম! চোখ আমারও অস্রুসিক্ত হয়ে গিয়েছিলো।

    যাক, শ্যামবর্ণের ছেলেটিকে দিয়ে ড্যারেনের কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইয়ে ছিলাম এবং ড্যারেনও তাকে শেষ পর্যন্ত ক্ষমা করতে পেরেছিলো। শেষপর্যন্ত দু’টিতে বেশ বন্ধুত্বই হয়েছিলো। কারণ, চূড়ান্ত বিচারে ওরা দুজনেই ছিলো অবুঝ মনুষ্য-শিশু।

    বৃহস্পতিবারে ডুগান-হত্যাকাণ্ডের পর শনিবার অবধি, পুলিস স্টেইশনে গিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষার পরও কোনো খবর না পেয়ে হতভাগ্যের পরিবার ব্যর্থ মনোরথে ফিরে গেলে, সমব্যাথী এলাকাবাসীদের মধ্যে বিক্ষোভ দানা বাঁধে। পুলিসের নেতিবাচক আচরণ সে-বিক্ষোভের উত্তাপে ঘৃতাগ্নি হয়ে মানুষের প্রোজ্জ্বলিত প্রতিবাদকে দাবানলে রূপান্তরিত করে।

    কিন্তু আমরা জানি, দাবানল দেবালয়কেও রেহাই দেয় না।

    দুই.

    টোটেনহ্যাম-বিক্ষোভ দাবানল হয়ে ছড়িয়ে পড়লো লন্ডন জুড়ে। আর সে-আগুনে পুড়ে গেলো নিরীহ মানুষের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা। পুলিস অন্যায়ভাবে ডুগানকে হত্যা করে যে সুপ্ত-অগ্নি উপ্ত করেছিলো, তার পরিণত পূর্ণ-প্রকাশে সে-পুলিস প্রায় নিষ্ক্রিয় হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলো। কিছুই করতে পারলো না। লন্ডনের আগুন ছড়িয়ে পড়লো গোটা ইংল্যান্ড জুড়ে। লুন্ঠন, অগ্নি-সংযোগ, হত্যা-সহ কিছুই বাদ থাকলো না। যুক্তরাজ্য নিপতিত হলো নৈরাজ্যে।

    নৈরাজ্য অচিরেই ইংলিশ রায়ট নামে (কু)খ্যাতি লাভ করলো দুনিয়া জুড়ে। ব্রিটেইনের ‘পুলিসিং বাই কনসেন্ট’-এর তথাকথিত ঐতিহ্য ইংলিশ রায়টে পুড়ে ছারখার হয়ে গেলো। স্বয়ং হৌম সেক্রেট্যারী (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত পুলিসের ব্যর্থতার সমালোচনায় মুখর হয়ে উঠলেন পার্লামেন্টের ভিতরে ও বাইরে।

    ইসলামী সন্ত্রাসবাদের ভয় দেখিয়ে গত কয়েক বছর ধরে দ্বি-দলীয় পালা-বদলের সরকারগুলো বাধা-হীনভাবে নাগরিকদের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকার খর্ব করে ব্রিটেইনকে বস্তুতঃ একটি পুলিস রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। পার্লামেন্টে নিবর্তনমূলক আইন তৈরী করা হয়েছে। জনগণের ট্যাক্সের মিলিয়ন-মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করে রাস্তার কোণায়-কোণায় ডিজিট্যাল নজরদারী বাড়ানো হয়েছে। সে-সুবাদে নজরদারী পরিষেবা-দানকারী বাণিজ্য-প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফা বৃদ্ধি পেয়েছে, আর জনগণের উপর করের বোঝা বেড়েছে।

    প্রচার-প্রভাবিত জনগণ ‘তবুও নিরাপদ থাকি’ ভেবে তাঁদের খর্বিত অধিকারের নাগরিকতা মেনে নিয়েছিলেন। বিশ্ব-বোধহীন জনগণের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা দেয়নি কী হচ্ছে ইরাকে, আফগানিস্তানে, প্যালেস্টাইনে এবং সর্বশেষ লিবিয়াতে। একই বিশ্বে বাস করে, বিশ্ব-মানবতার যা কিছু শ্রেষ্ঠ, তা ভোগ করার পরও বিশ্ব-মানবের ভাগ্য সম্পর্কে নির্বিকার থেকে আত্ম-সর্বস্ব নিরাপত্তা লাভ করে ব্রিটেইনের পুলিস-রাষ্ট্রের নাগরিকেরা নিশ্চিত ছিলেন।

    কিন্তু এ-পুলিস যে কতো অথর্ব ও ফালতু, এ-বারের ইংলিশ রায়ট তা আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো।  ব্রিটিশ আইন-শৃঙ্খলার প্রতি অনেক নাগরিকেরই ধর্ম-সম বিশ্বাস ছিলো, যার ভিত্তিমূল নাড়িয়ে দিয়েছে এবারের ইংলিশ রায়ট।

    নাগরিকেরা যে-মিথ্যার উপর বিশ্বাস করে রাষ্ট্রের কাছে ব্যক্তি-স্বাধীনতার অনেক দিক জলাঞ্জলী দিয়ে নিরাপত্তা-বোধে নিশ্চিন্তে ছিলেন, তাঁদের ভ্রান্তি-বিলাস ভাঙ্গিয়ে দিয়েছে ইংলিশ রায়টাররা। না-চাইতেও নাগরিকদের ভুল বিশ্বাস বিচূর্ণ করে রায়টাররা এক-অর্থে উপকারই করেছেন - ভুল বিশ্বাস ভাঙ্গানোর উপকার। বেয়াড়া নাস্তিকের হাতে ভণ্ড-পীরের বুজরুকী প্রকাশিত হবার মতো উপকার।

    ব্রিটিশ নাগরিকদের এবার নতুন করে ভাবতে হবে তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে। প্রকৃত নিরাপত্তা আসলে কোথা থেকে আসে? এ-ভাবনাকে হতে হবে স্থানিক, প্রাদেশিক, দেশিক ও বৈশ্বিক। ব্রিটেইন আর সে-স্বর্গ নয়, যেখানে অসুরেরা শৃঙ্খলিত এবং দেবতারা আহ্‌লাদিত।

    লন্ডনে বে-আইনীভাবে মানুষকে খুন করা হয় বাংলাদেশের মতো। এখানে সমবেদনায় সংগঠিত মানুষ খুনের জবাবদিহিতা না পেয়ে আইন তুলে নেয় নিজের হাতে। আর তাঁরা যখন রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নৈরাষ্ট্র তৈরী করে, তখন পুলিস-রাষ্ট্র পুতুলের মতো কাঁপতে থাকে ভয়ে। বিশ্বাসী নাগরিকের বাড়ী-পোড়ে, গাড়ী-পোড়ে, দোকান লুন্ঠিত হয় এবং প্রাণ পর্যন্ত যায়। আগুনের লেলিহান শিখা যখন বাড়ীর পর বাড়ী গ্রাস করছিলো, দমকল বাহিনী পর্যন্ত নিরাপত্তার অভাবে আগুন নেভাতে আসেনি।

    কী ক্ষমতা আছে এ-রাষ্ট্রের? নিরীহ ব্যক্তি ও নিরীহ রাষ্ট্রকে আক্রমণ করা ছাড়া মানুষকে রক্ষা করার কী মুরোদ আছে এ-রাষ্ট্রের? তবে কেনো এ-রাষ্ট্রের প্রতি এতো অনুগত থাকা? কেনো তবে নাগরিকদের নাম করে এ-রাষ্ট্রকে পৃথিবী-ব্যাপী এতো আগ্রাসী হতে দেখেও নীরব থাকা? আগ্রাসী রাষ্ট্র পর-রাষ্ট্র ও নিজ-রাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য দুঃখ-দুর্দশা ও নিরাপত্তাহীনতা ছাড়া আর কী আনতে পেরেছে?

    যে-রাষ্ট্র নিজের জনগণকে নিরাপত্তা দিতে অক্ষম, সে কি-না জনগণেরই ট্যাক্সের কোটি-কোটি পাউন্ড খরচ করে যায় ইরাক, আফগানিস্তান এবং সর্বশেষ লিবায়ার জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে! কী লজ্জা!

    (আগামী সপ্তায় সমাপ্য)

    রোববার, ১৪ আগস্ট ২০১১
    নিউবারী পার্ক, এসেক্স
    ইংল্যান্ড

     


    আরো পড়ুন ইংলিশ রায়টঃ আফটারম্যাথ - মাসুদ রানা


পাঠকের প্রতিক্রিয়া

দাত ভাঙ্গা কথা লিখেছেন। আর অবশ্যই সমাপ্ত করবেন। ভাল লেগেছে। ধন্যবাদ।

"যে-রাষ্ট্র নিজের জনগণকে নিরাপত্তা দিতে অক্ষম, সে কি-না জনগণেরই ট্যাক্সের কোটি-কোটি পাউন্ড খরচ করে যায় ইরাক, আফগানিস্তান এবং সর্বশেষ লিবায়ার জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে! কী লজ্জা!"

ফিনিশিংটা এতো চমৎকার হয়েছে যে অনেকদিন মনে থাকবে। গুগল প্লাসে শেয়ার দিলাম। পরের পর্বের আশায় রইলাম। রানা ভাই, অনেক ধন্যবাদ।

কিছু কিছু বিষয়ে দ্বিমত থাকাটা স্বাভাবিক তবে লেখাটা ভালো হয়েছে। এমন একটা লেখার প্রতীক্ষায় ছিলাম। আশা করি খুব তাড়াতাড়ি লেখাটা শেষ করবেন।

এই রায়ট নিয়ে ব্রিটিশ মিডিয়ার নির্লজ্জ অপপ্রচার চলছেই। এমন কোন টিভি cZচ্যানেল নেই, এমন কোন পত্রিকা নেই যেখানে kকালোদের নিয়ে বাজে মন্তব্য হচ্ছে না। বিবিসি, স্কাই নিউজে এমন সব মন্তব্য করা হচ্ছে মারাত্বক বর্নবাদী আচরনের পর্যায়ে পড়ে।
ব্রিটেইনের বুদ্ধীজিবীরা নিরব। এ নিয়ে তাদের নিরবতা বিশ্বকে অবাক করছে বৈকি। ১২-১৪ বছরের শিশুকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। বিচারের নামে ভবিষ্যত ধবংস করা হচ্ছে এসব অবুঝ শিশুদের। কারো কোন প্রতিবাদ নেই। প্রগতিশীল দলগুলো থিউরি কপচাচ্ছে। বৃহত্তর আন্দোলনের কোন লক্ষন নেই। হালকা বক্তব্য দিয়েই দায়িত্ব এড়ানোর মতো অপরাধে তাদের প্রো গভর্নমেন্ট বললে ভুল হবে না।

ভিন্ন ধরনের লেখার জন্য রানা ভাইকে ধন্যবাদ। আশা করি আগামী পর্বে আরো বিস্তারিত জানতে পারবো।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন