• উৎসব-জাতি-সম্প্রদায়-সম্প্রীতি
    মাসুদ রানা

    অস্তিত্বের জন্য একটি জাতির আইডেণ্টিটি বা আত্মপরিচিতি অপরিহার্য। জাতির আত্মপরিচিতির ক্ষেত্রে যে-সমস্ত উপাদান ঐতিহাসিক উৎপাদক হিসেবে কাজ করে, তার মধ্যে উৎসবও একটি। উৎসব একটি জাতির সকল সদস্যকে একত্রে গ্রথিত করে তাঁদের একানুভূতিকে নবায়িত ও শক্তিশালী হতে সাহায্য করে। সে-কারণেই উৎসবকে হতে হয় সর্বজনীন।

    চার দশক আগে বাঙালী জাতির একটি নিজস্ব রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে - বাংলাদেশ - যদিও তা প্রকৃত বাংলার ভগ্নাংশ মাত্র। কিন্তু এখনও পর্যন্ত এ-জাতির প্রকৃত অর্থে কোনো সর্বজনীন উৎসব গড়ে ওঠেনি (তবে খানিকটা সম্ভাবনা নিয়ে বিরাজ করে পয়লা বৈশাখের বাংলা নববর্ষ উৎসব)।

    বিশ্বজুড়ে উৎসব পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যাবে, এর রয়েছে কমপক্ষে ৫টি উপাদানঃ  সজ্জা, সম্মিলন, শুভেচ্ছা, সম্পাদন ও ভোজ, যার যোগফলে সৃষ্ট হয় সামাজিক আনন্দ যা কখনও ব্যক্তিগত ভাবে সৃষ্টি করা যায় না। উল্লিখিত এ-৫টি উপাদান ছাড়া উৎসব হয় না। নিচে এ-৫টি উপাদান ঈষৎ বিশদে বর্ণিত হলো।

    (১) সজ্জা হচ্ছে বাহ্যিক উপকরণ সহযোগে সাধারণ রূপের পরিবর্তন ও পরিবর্ধন। সজ্জা সাধারণতঃ ইতিবাচক এবং সে-অর্থ রূপ বর্ধক। উৎসবে ব্যক্তির চেহারায়, পোশাকে, আবাসে ও পরিবেশ যে ইতিবাচক ও রূপবর্ধক পরিবর্তন করা হয়, তার সবটুকু মিলিয়েই উৎসবের সজ্জা গঠিত হয়।

    (২) সম্মিলন হচ্ছে গণ-অংশগ্রহণের মাধ্যমে উৎসবের কেন্দ্রীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পাদনের উদ্দেশ্যে কোনো পাবলিক প্লেইসে বা গণ-স্থানে সমস্ত মানুষের একত্রে সমাগম। এ-ছাড়াও উৎসবের ব্যাপ্তিকালে বিভিন্ন পরিসরে সম্মিলন সংগঠিত হয়। উৎসবের সম্মিলন বলতে এর সবগুলোকেই বুঝানো হয়।

    (৩) শুভেচ্ছা হচ্ছে উৎসব উপলক্ষ্যে অন্যের সাথে নিজের সুখ ও আনন্দ বিনিয়মের উপায়। এর প্রকাশ হতে পারে শব্দে, স্পর্শে এবং উপহার সামগ্রীর মাধ্যমে। শুভেচ্ছাপত্র, অভিবাদন, আলিঙ্গন, চুম্বন, উপঢৌকন ইত্যাদি হচ্ছে শুভেচ্ছার উদাহরণ।

    (৪) সম্পাদন বলতে বুঝায় উৎসবের ক্রিয়াকাণ্ডের সংঘটন। এ-ক্রিয়াকাণ্ডের মধ্য কিছু আছে লক্ষ্য আর কিছু উপলক্ষ্য। লক্ষ্য-কাণ্ড সরাসরি আনন্দের উৎস। কিন্তু উপলক্ষ্য-কাণ্ড তা নাও হতে পারে। সাধারণতঃ উপলক্ষ্য-কাণ্ডে সংক্ষিপ্ত কিন্তু লক্ষ্য-কাণ্ড বিস্তৃত।

    (৫) ভোজ হচ্ছে অনেকে মিলে একত্রে ফেস্টিভ ফূড বা উৎসবী খাবার খাওয়া, যা দৈনন্দিন খাদ্যের চেয়ে ভিন্ন ও আকর্ষণীয়। প্রাণীমাত্রেই খাদ্যে আনন্দ লাভ করে। সুতরাং প্রাণী হিসেবে মানুষের আনন্দ খাদ্য-বর্জিত হতে পারে না।

    দুর্ভাগ্যের বিষয়, এ-পাঁচটি উপাদানকে ধারণ করে সর্বজনীন - অর্থাৎ, সমগ্র বাঙালী জাতির জন্য এখনও - কোনো উৎসব গড়ে ওঠেনি গোটা বাংলায় কিংবা বাংলাদেশে। বাঙালী জাতির আইডেন্টি ক্রাইসিস বা আত্মপরিচয়ের সঙ্কটের যে কথা বলা হয়, তার সাথে সর্বজনীন উৎসব গড়ে না ওঠার একটা সম্পর্ক থাকা সম্ভব।

    সংস্কারার্থেও বাঙালী জাতি নিয়ে কথা বলা ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ, এ-জাতির লোকেরা নিজের প্রশংসা ছাড়া কিছুই শুনতে চায় না। সমালোচনা কিংবা দোষের দিকে দৃকপাত করলে সাথে-সাথে সবাই মিলে তেড়ে আসে। দেশদ্রোহী, বিশ্বাসঘাতক, নাস্তিক, রাজাকার, দালাল, ইত্যাদি গালি দেয়। এমনকি, কখনও-কখনও ফাঁসি পর্যন্ত চেয়ে বসে। আর এহেন মনস্তাত্ত্বিক পরিবেশে বুদ্ধিজীবীরাও ঝুঁকির ভয়ে সত্য কথাগুলো বলেন না। বরং বহমান স্রোতে বুদ্ধির নৌকো ভাসিয়ে ঘোলাজলে মৎস্য শিকার করাটাই শ্রেয় মনে করেন। তাঁরাও আত্মপ্রশস্তির বাজারে নিজের পসরা নিয়ে নির্বিকার বসে খদ্দের আকর্ষণ করার চেষ্টা করেন।

    কিন্তু তবুও বলতে হয় এবং বলতে হবে। ঝুঁকি নিয়েই বলতে হবে এবং বলছিঃ যাঁরা স্বাধীন জাতির স্বপ্ন দেখেছিলেন ও নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, তাঁরা দার্শনিক ছিলেন না - কিংবা বলা যায়, দার্শনিকভাবে দরিদ্র ছিলেন। এমনকি তাঁরা তেমন ইতিহাস সচেতনও ছিলেন না। যদি হতেন, তাহলে সমগ্র জাতির জন্য সর্বজনীন এক বা একাধিক উৎসবের পরিকল্পনা ও প্রবর্তন করতেন। ভারতের সফল নৃপতি সম্রাট জালালুদ্দিন আকবর তাই করেছিলেন। না থাকার মধ্যেও বাঙালী যে উৎসবটিকে খানিকটা সর্বজনীন বলে দাবি করতে পারে, তা হচ্ছে সম্রাট আকবরের প্রবর্তিত পয়লা বৈশাখের নববর্ষের উৎসব।

    এ-কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, বাংলাদেশে প্রধানতম উৎসবসমূহ হচ্ছে ধর্মীয়োৎসব - ঈদ, পূজো, বড়দিন ইত্যাদি। কিন্তু এ-কথাও ঠিক যে, এর কোনোটাই সর্বজনীন নয়। এগুলো একেকটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমিত এবং সে-অর্থে সাম্প্রদায়িক।

    উৎসব পালনে বাঙালী তার মনের সঙ্কীর্ণতা দূর করতে পারেনি। হিন্দু বা মুসলমানদের মধ্যে সম্ভবতঃ কেউ (এ-দুটোই প্রধান ধর্মীয় সম্প্রদায়) মনেই করেন না, তাঁদের ‘সর্বজনীন’ দূর্গোৎসবে বিংবা ঈদোৎসবে প্রতিবেশীর সাথে সুখ ও আনন্দ শরিক করার প্রয়োজন আছে। তাই দেখা যায়, যখন এক সম্প্রদায় উৎসবে মত্ত অন্য সম্প্রদায় তখন নিষ্ক্রিয় দর্শক। তাহলে উৎসবের সর্বজনীনতা কোথায় থাকলো?

    যে-সমস্ত রাজনীতিক ও বুদ্ধিজীবী সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এ্যাডভৌক্যাসি বা সুপারিশ করেন, তাঁরা তো বলেই খালাস! তো, সম্প্রীতি কীভাবে আসবে? একটি কি শুধু শুভেচ্ছা, নাকি চর্চারও বিষয়? কী ভাবে এর চর্চা সম্ভব? এর চর্চ্চা সম্ভব উৎসবকে সত্যিকার অর্থে সর্বজনীন করার মধ্য দিয়ে।

    বাঙালী বুদ্ধিজীবীদের প্রগতিশীল ব্র্যান্ড বা নামদারেরা ঈদ, পূজো বা বড়োদিন এলে দৃশ্যতঃ বিপদে নিপতিত হন। প্রগতিশীলেরা সাধারণতঃ সেক্যুলার বলে সম্ভবতঃ বুঝতে পারেন না এ-উৎসবের দিনগুলোতে তাঁদের কী করার আছে। পয়লা বৈশাখের নববর্ষ-উৎসবে তাঁরা যেমন জলে-মৎস্য-সম বোধ করেন, ধর্মীয় মূলের উৎসবগুলোতে তাঁরা সম্ভবতঃ ডাঙ্গা-ডাঙ্গা অনুভব করেন।

    যাঁরা ইম্পিরিসিজম বা অভিজ্ঞতাবাদের বাইরে কোনো কিছুকে সত্য বলে গণ্য করেন না এবং সুপারন্যাচারাল এণ্টিটি বা অতিপ্রাকৃত অস্তিত্ব স্বীকার করেন না, তাঁদের পক্ষে ধর্মীয় মূলের উৎসবে অসহায় না হলেও বেকার অনুভব করাটা স্বাভাবিক। সুতরাং, তাঁরা শীতনিদ্রায় যান। এ-সময়টা তাঁরা ছেড়ে দেন ধর্মবাদীদের জন্য। ধর্মবাদীরা এর সুযোগ নিয়ে ধর্মীয় মৌলবাদী অসহিষ্ণুতার চাষাবাদ করেন।

    বুদ্ধিজীবীদের উচিত হবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির শুধু কথক না হয়ে এর ধারক ও বাহক হওয়া। এক্ষেত্রে উৎসবগুলো সম্প্রীতির সে-সুযোগ তৈরী করে দিতে পারে। ঈদ-পূজো-বড়দিন-বৌদ্ধপূর্ণিমা কিংবা পয়লা বৈশাখ যাই হোক না কেনো, এগুলোকে মানুষের একঘেঁয়ে ও প্রায়শঃ আনন্দহীন জীবনের মাঝখানে একটুখানি আনন্দ ও সুখের প্রয়াস হিসেবে দেখতে হবে। সাধারণ মানুষ যখন আনন্দপ্রবণ ও উৎসব মুখর হন, তখন বুদ্ধিজীবীদের উচিত হবে না মন খারাপ করে ঘরে বসে থাকা। বরং উচিত হবে মানুষের আনন্দে শরিক হয়ে তাদের নিকটবর্তী হওয়া।

    কী-করে ধর্মীয় উৎসবকে সর্বজনীন করা যায়? আধুনিক রাষ্ট্রকে ধর্ম নিরপেক্ষই হতে হবে, কিন্তু রাষ্ট্র যতোই ধর্মনিরপেক্ষ হোক না কেনো, জনগণের মধ্যে আদিতে ধর্মকে কেন্দ্র গড়ে ওঠা উৎসব যেভাবে তার ঐতিহ্যের অংশে পরিণত হয়েছে, তাকে হঠাৎ করে বাদ দেয়া যায় না এবং উচিতও নয়। জোর করে বাদ দিলে সে আবার জোর করেই ফিরে আসে। তাই সম্প্রীতি-প্রয়াসী সমাজ সংস্কারকদের উচিত হবে মানুষকে নিরানন্দ-শূন্যের মধ্যে ফেলে না দিয়ে প্রচলিত উৎসবগুলোকেই সর্বজনীন করার প্রকৌশল গ্রহণ করা।

    সামাজিক প্রকৌশলীরা স্থানীয়ভাবে ভিন্ন-ভিন্ন ধর্মের লোকদের একে-অন্যের উৎসবে সহযোগিতা ও অংশদারিত্ব দেবার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে পারেন। উৎসবের ৫টি-উপাদানের মধ্যে ‘সম্পাদন’ ছাড়া বাকী সবগুলোতে এ-অংশীদারিত্ব সম্ভব। এমনকি খানিকটা অভিযোজনের মাধ্যমে সম্পাদনেও সম্ভব।

    উদাহরণ স্বরূপ, মুসলমানের ঈদের জামাতে কিংবা গরু কুরবানিতে হিন্দুর অংশগ্রহণ যেমন সম্ভব নয়, হিন্দুর পূজোপাঠে কিংবা আরতিতে তেমনি মুসলমানের যোগদানও তেমন অসম্ভব। কিন্তু একের উৎসবে অন্যকে শুভেচ্ছা জানানো, উপহার দেয়া, আনন্দ সম্মিলনীতে মিলিত হওয়া, নিজস্ব উৎসবী পোশাক পরিধান ও অনিষিদ্ধ উৎসবী খাবার খেতে তো কোনো সমস্যা হবার কথা নয়।

    এমনকি, ‘সম্পাদন’ না করেও সম্পাদনে অংশ নেয়া করা যায়। যেমন, হিন্দুর পূজোয় যে আরতি হয়, তা যদি একজন মুসলমান দেখেন, তাতে তার ধর্ম যাবার কথা নয়। যদি তা না হয়, তাহলে প্রতিবছর দূর্গাপুজোয় বাংলাদেশের মুসলমান রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকার প্রধানেরা যে-যান, তাতে তাদের কারও ধর্ম থাকার কথা নয়। দেশের প্রধানমন্ত্রী বা প্রেসিডেণ্ট যদি তাঁর ব্যক্তিগত ধর্ম বিশ্বাসের চেয়ে ভিন্ন ধর্মবিশ্বাসের সম্পাদন প্রত্যক্ষ করতে পারেন, তাহলে সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রেও তা সম্ভব।

    ধর্মীয় উৎসবকে সর্বজনীন করার যে সামাজিক প্রকৌশলের কথা উল্লেখ করা হলো, তা করার দুটো স্ট্র্যাটেজি বা পদ্ধতি বিবেচনা করা যেতে পারে। একটি হচ্ছে ‘মিচ্যুয়ালি এ্যাগ্রীড’ বা পারস্পরিক-সম্মতির পদ্ধতি এবং অন্যটি হচ্ছে ‘মেজোরিটি রেস্‌পন্‌সিবিলিটি’ বা ‘সংখ্যাগুরু-দায়’ পদ্ধতি।

    পারস্পরিক সম্মতির পদ্ধতিতে সম্প্রীতি-প্রয়াসী সামাজিক প্রকৌশলীদের উৎসাহে ও বুঝানোর ফলে স্থানীয়ভাবে ভিন্ন-ভিন্ন ধর্মের বাসিন্দারা নিজ-নিজ ধর্মীয় উৎসবে অন্য ধর্মের প্রতিবেশীদের স্থান দিতে এবং অপরের ধর্মীয়  উৎসবে নিজের স্থান নিতে উদ্বুদ্ধ হন। এর ফলে আমরা দেখি মুসলামানের ঈদে হিন্দুরা উৎসব-বিহনে না থেকে বরং আনন্দ করেছেন এবং একইভাবে হিন্দুর দূর্গাপূজোয় মুসলমানেরাও উৎসবের আনন্দ ভোগ করেন।

    পারস্পরিক সম্মতির পদ্ধতির ফলাফল দ্রুত এবং এটি সবচেয়ে ভালো কার্যকরী হতে পারে যেখানে ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে সংখ্যাগত পার্থক্য ব্যাপক নয়। বাংলাদেশের মতো দেশে যেখানে সংখ্যালঘুরা সংখ্যাগুরুর তুলনায় অতি ক্ষুদ্র, সেখানে পারস্পরিক সম্মতির পদ্ধতি চাপ হিসেবেও অনুভূত হতে পারে।

    সংখ্যাগুরু-দায় পদ্ধতিতে সংখ্যাগুরু সম্প্রদায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দিকে এগিয়ে যায়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এ-পদ্ধতির প্রয়োগ করতে হলে সম্প্রীতি-প্রয়াসীদের উচিত হবে সংখ্যাগুরু মুসলমানদেরকে হিন্দু-খ্রিস্টান-বৌদ্ধ-সহ বিভিন্ন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দিকে এগিয়ে যেতে উদ্বুদ্ধ করা। কীভাবে এগিয়ে যাবে?

    বাংলাদেশের সংখ্যাগুরু মুসলমান যা করতে পারেন তা হচ্ছেঃ

    সজ্জা - ঈদ উপলক্ষ্যে ভিন্ন ধর্মের বন্ধু ও প্রতিবেশীকে নতুন পোশাক থেকে শুরু করে আবাসিক ও পরিবেশিক পরিসজ্জার সামগ্রী উপহার দিতে পারেন।

    সম্মিলন - অমুসলিম বন্ধু ও প্রতিবেশীকে অন্যান্য বন্ধু ও প্রতিবেশীর সাথে ঈদ উপলক্ষ্যে আয়োজিত বিভিন্ন ধরণের সামাজিক সম্মিলনে নিমন্ত্রণ করতে পারেন।

    শুভেচ্ছা - ঈদের আগে সংখ্যালগুরু সংখ্যালঘু অমুসলিম প্রতিবেশী ও বন্ধুকে ঈদের শুভেচ্ছা কার্ড পাঠাতে পারেন; সাক্ষাতে শুভচ্ছা শব্দ উচ্চারণ করতে পারেন; করমর্দন, আলিঙ্গন কিংবা সামাজিক-চুম্বন (সিলেটে একে ‘হুঙ্গা’ বলা হয়) করতে পারেন।

    সম্পাদন - মুসলিম-ধর্মস্থানে অন্য ধর্মের মানুষের তো দূরের কথা, মুসলিম নারী পর্যন্ত প্রবেশাধিকার-বঞ্চিতা।  এ-অলিখিত নিময় খুবই রক্ষণশীল। সম্প্রীতি-প্রয়াসী মুসলমানকে এখানে উদার হতে হবে। ঈদগাঁয়ে গ্যালারী বানিয়ে বা অনুরূপ ব্যবস্থা নিশ্চিত করে নামাজের জামাতে যোগ না-দেয়া নারী-পুরুষের বসার ব্যবস্থা করে দেয়া যায়, তাতে ঈদোৎসবের উপলক্ষ্য-কাণ্ডটি হয়ে উঠবে আনেকাংশে সর্বজনীন।

    ভোজ - ঈদ উপলক্ষ্যে ভিন্ন ধর্মের প্রতিবেশী ও বন্ধুকে ভোজে নিমন্ত্রণ করতে হবে। এক্ষেত্রে খাবার পরিবেশন-কালে সম্পূর্ণ বিশ্বস্ততার সাথে তাঁদের খাদ্যের নিষিদ্ধতাকে শ্রদ্ধা করতে হবে।

    সংখ্যাগুরু-দায় পদ্ধতি উৎসবের সর্বজনীন করার প্রয়াস নিরলসভাবে চলতে থাকলে রিফ্লেকশন বা প্রতিফল পদ্ধতিতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলোর মধ্যেও এর আবির্ভাব ঘটবে। সংখ্যাগুরু-দায় পদ্ধতি ধীর-ফলদায়ী কিন্তু অনেক নিরাপদ। তাই এক্ষেত্রে ধৈর্য ধরতে হবে।

    তাত্ত্বিকভাবে উপসংহার টেনে বলা যায়, উৎসবের সর্বজনীনতা বাঙালীর আত্মপরিচয়ের সঙ্কট দূরীভূত করতে সাহায্য করবে, যা জাতিগত অগ্রগমণের জন্য অপরিহার্য।

    শনিবার, ২৯ অক্টোবর ২০১১
    নিউবারী পার্ক
    এসেক্স, ইংল্যান্ড

পাঠকের প্রতিক্রিয়া

একই চিন্তা ভিন্ন জায়গায় বসে পোষণকারীদের মধ্যে একটি মানসিক ঐক্য থাকে, এই লেখা আমার সামনে সেই প্রমাণ হাজির করলো। আমি এখানে উল্লিখিত দুটি কাজ ইতিমধ্যেই করেছি। এক: উপহার প্রদান। একটি হিন্দু ভাইপো সম্পর্কের ছেলেকে জামা কিনে গিফট করেছি। দুই: দাওয়াত। আমার মেয়ের স্কুলের এক হিন্দু শিক্ষককে দাওয়াত দিয়েছি ঈদে। তারজন্য রান্না হবে খাশির মাংস। তার ত্রিসীমানায় গোমাংস থাকবে না। অন্যান্য যা খাবার দাবার তা তো আমরা হিন্দু মুসলমান নির্বিশেষে খাই। অসাধারণ লেখা লিখেছেন মাসুদ ভাই। মরার আগে হিন্দু মুসলমান বাঙালী আত্নপরিচয়ে গর্বীত হতে পেরেছে জানতে পারলে আমার মৃত্যু অত্যন্ত সুখের হবে। লেখাটি সাহসি, পিঠ চুলকানো লেখালেখির ঠিক বিতরিত। লেখাটি ঝুকিপূর্ণ তবে সাংঘাতিক এক সফট টোন এখানে ব্যবহার করা হয়েছে। লেখাটি ঐতিহাসিক, বৃদ্ধিবৃত্তিক ও সময়ের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। আমি এর জাতিগঠনমূলক উপাদানের জন্য ও সুলিখিত সত্সাহিত্যিক কর্মপ্রয়াস বিবেচনায় এর বহুল প্রচার কামনা করছি। ধন্য ধন্য ধন্য।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন