• ওমর মুখতারের ত্রিপোলিঃ শতবছর পর একই আক্রমণ
    মাসুদ রানা

    ইতিহাস কীভাবে ঘুরে-ঘুরে ফিরে আসে! এটি ২০১১ সালের গ্রীষ্মকাল। ঠিক ১০০ বছর আগে, ১৯১১ সালে, এই গ্রীষ্মকালেই ‘আত্মসমর্পন না করলে ধ্বংস করে দেয়া হবে ত্রিপোলিকে’ বলে হুমকি নিয়ে লিবিয়ার দুয়ারে দাঁড়িয়েছিলো এই ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর একটি - ইতালী।

    সেদিনও লিবীয়রা আত্মসমর্পণ না করে আত্মগোপন করেছিলেন। সে-দিনও এই ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক শক্তি তিন দিন ধরে ত্রিপোলির উপর বোমাবর্ষণ করার পর ঘোষণা করে যে, ত্রিপোলিতানিয়ানগণ ‘ইতালির সাথে দৃঢ়ভাবে আবদ্ধ ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’।

    ১৯১১ সালের গ্রীষ্ম থেকে শুরু হয় ইতালীয় ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে মক্তব-শিক্ষক ওমর মুখতারের নেতৃত্বে লিবীয়দের সশস্ত্র গেরিলা-যুদ্ধ। মরুভূমিতে গেরিলা যুদ্ধের কৌশল উদ্ভাবন, যুদ্ধ-পারদর্শিতা, সাহস, বীরত্ব, উদারতা ও সততার জন্য ইতিহাস-বিখ্যাত উঠেন ওমর মুখতার। দু-দশক যুদ্ধ করেন ওমর মুখতার। ‘মরুভূমির সিংহ’ নামে পরিচিত এই বীরকে শেষ পর্যন্ত ইতালীয়রা ঘৃণ্য কৌশলে কাপুরুষোচিতভাবে গ্রেফতার করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করে।

    হত্যার আগে ওমর মুখতারকে বশ্যতা স্বীকারের জন্য নানাভাবে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করে ঔপনিবেশিক শক্তি। কিন্তু ওমর মুখতারের কথা একটিইঃ তোমরা আমার দেশ দখল করেছো, আমার মানুষদের গৃহহীন করেছো, নারীদের বিধবা করেছো, শিশুদের পিতৃহীন করেছো; তোমরা হানাদার, তোমাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়া আমার ধর্ম এবং আমি এ-ধর্ম ত্যাগ করবো না - আমার জীবনের বিনিময়েও না - আমার পর আমার মানুষেরা তোমাদের বিরুদ্ধে লড়বে।

    ইতালীয় জেনারেল রোদোলফো গ্র্যাৎসিয়ানি ওমর মুখতারকে বর্ণনা করেন এই বলেঃ সফেদ চুল, দাড়ি ও গোঁফ রাখা মাঝারি উচ্চতার সুঠাম শরীরের মানুষ। জীবন্ত ও দ্রুত বুদ্ধির, ধর্মীয় বিষয়াদিতে জ্ঞানসম্পন্ন, আপোষহীন, স্বার্থহীন, শক্তিশালী ও ক্ষিপ্র চরিত্রের ওমর শেষ দিন পর্যন্ত অত্যন্ত দরিদ্র ও ধার্মিক ছিলেন, যদিও তিনি ছিলেন সেনুসিবাদী গুরুত্বপূর্ণতম ব্যক্তিদের মধ্যে একজন।

    উল্লেখ্য, সেনুসিবাদ হচ্ছে শত বছরেরও অধিক কাল আগে গড়ে ওঠা ঔপনিবেশিকতা-বিরোধী একটি রাজনৈতিক ডক্ট্রিন যা মুহাম্মদ আল মাহদি বিন সাঈদ মুহাম্মদ এস সেনুসি’র নাম অনুসারে প্রতিষ্ঠিত।

    আজ থেকে একশো বছর আগেও আজকের মতোই লিবীয় দেশপ্রেমিকদের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক শক্তির সমর্থনে এগিয়ে এসেছিলো স্থানীয় দালাল। সে-দিনও ঘোষণা করা হয়েছিলো জীবিত বা মৃত ওমর মুখতারের জন্য অর্থ-পুরষ্কার।

    ওমর মুখতারকে গ্রেফতার করে তিন দিনের মধ্যে ‘বিচার’ করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করলেও, ইতালীয় ঔপনিবেশিক শক্তি হত্যা করতে পারেনি তার স্বাধীনতা-বোধ ও আত্মমর্যাদাকে। ইতালীয় ঔপনিবেশিক কারাকর্তৃপক্ষ পর্যন্ত বিমুগ্ধ হয়েছিলেন বন্দী ওমর মুখতারের ব্যক্তিত্বে।

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইতালী পরাজিত অক্ষশক্তি-ভুক্ত হবার কারণে লিবিয়া হাত বদল হয়ে ইঙ্গ-ফরাসীদের কর্তৃত্বে চলে যায়। ইঙ্গ-ফরাসীরা অপরাপর আরব জাতিসমূহের মতোই সেখানে পশ্চিমা স্বার্থের সংরক্ষক রাজ-পরিবার প্রতিষ্ঠা করে।

    আরব বীর আব্দুল গামাল নাসেরের নেতৃত্বে পুতুল-বাদশাহ ফারুককে তাড়িয়ে দিয়ে সাম্রাজ্যবাদী নিয়ন্ত্রণ ও কর্তৃত্বকে অস্বীকার করে মিশরে জনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর যে-নবজাগরণ শুরু হয় সমগ্র অঞ্চলে, এমনকি বিশ্বজুড়ে, তার প্রভাবে জেগে ওঠে মরু-সিংহ ওমর মুখতারের দেশ লিবিয়াও।

    তরুণ সেনানী মুয়াম্মার আল-গাদ্দাফী নাসেরের পদাঙ্ক অনুসরণ করে ইউরোপীয়দের পুতল বাদশা ইদ্রসিকে গদীচ্যুত করে প্রতিষ্ঠা করেন লিবিয়ার জনরাষ্ট্র এবং দেশ থেকে বিতাড়িত করেন পশ্চিমা সামরিক শক্তিকে। জাতীয়করণ করেন দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ।

    গাদ্দাফী লিবিয়ার প্রাকৃতিক সম্পদকে বিদেশী লুন্ঠনের কবল থেকে মুক্ত করে নিয়োজিত করেন নিজের দেশ ও দেশের মানুষের দ্রুত উন্নয়নের প্রকল্পে। চার দশকের মধ্যে তিনি অত্যন্ত পশ্চাৎপদ ও দরিদ্র দেশ লিবিয়াকে একটি উন্নত ও কল্যাণ-রাষ্ট্রে পরিণত করেন, যেখানে নাগরিকদের সরকারী-ভর্তুকী যুক্ত নামমাত্র মূল্যের খাদ্যের বাজার ব্যবস্থা, বিনামূল্যে প্রাপ্য বাসস্থান, চিকিৎসা এবং ঊর্ধ্বসীমাহীন উচ্চশিক্ষা। এমনিক সুদ-হীন ঋণে গাড়ী কেনার টাকা এবং বিয়ে করে সংসারী হলে ভালো অঙ্কের এক-কালীন অর্থ-উপহার।

    এটি কোনো কল্পনা বা নিছক প্রচারণা-মূলক দাবী নয় যে, ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্ত-হওয়া দেশগুলোর মধ্যে লিবিয়ার-মতো সমৃদ্ধ ও কল্যাণময় রাষ্ট্র পৃথিবীতে আর একটিও নেই। কীভাবে তা সম্ভব হলো?

    সহজ সূত্রঃ দেশের সম্পদ বিদেশী রাষ্ট্র কিংবা দেশীয় লুটেরাদের হাত থেকে রক্ষা করে জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দ্রুত অবকাঠামো ও উপরি-কাঠামো গড়ে তোলা - প্রতিটি নাগরিকের জন্য মনুষ্য-জীবন নিশ্চিত করা।

    স্বভাবতঃ যিনি বা যাঁরা স্বদেশের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ঔপনিবেশিক শাসনকে কোনো-না-কোনো প্রকার বিপ্লবের মাধ্যমে উৎখাত করে জনগণের পক্ষে একটি নতুন ব্যবস্থার গোড়াপত্তন করেন, তাঁরা তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে পরাজিত শক্তির প্রত্যাবর্তন রোখার লক্ষ্যে প্রতিনিয়তঃ জাগ্রত ও তৎপর থাকেন। এ-কাজটি না করলে কী হয়, তা আমার এ-লেখার পাঠক যে জাতির মানুষ, সে-জাতি বহু মূল্য দিয়ে বুঝতে পেরেছে।

    আধখানা বাংলা নিয়ে গঠিত বাংলাদেশ ‘প্রজাতন্ত্র’ হয়েছে আজ চল্লিশ বছর। প্রায় সমান সময়েই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে লিবিয়ার ‘জনরাষ্ট্র’। কিন্তু এটি বাস্তব যে, অত্যন্ত উর্বর ও প্রাকৃতিক সম্পদে ভরা বাংলাদেশ রাষ্ট্রটির অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থান-চিকিৎসা-শিক্ষার অধিকার বঞ্চিত নাগরিকেরা তাদের প্রতিশ্রুত ‘সোনার বাংলা’ ছেড়ে মরুদেশ লিবিয়াতে চাকুরী করতে যায়। তার উল্টোটি হয় না। শুধু বাংলাদেশ থেকে নয়, ইউরোপ থেকে পর্যন্ত মানুষ সুখে বাস করার জন্য লিবিয়াতে স্থানান্তরিত হয়েছেন। লিবিয়া এমন একটি দেশ যার কোনো বৈদেশিক ঋণতো নেই-ই, বরং আফ্রিকা-সহ বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোকে মুক্তহস্তে সাহায্য করে আসছে। তেল-সমৃদ্ধ দেশ অনেকই আছে। কিন্তু লিবিয়ার মতো তেলের সাথে সাথে সুখ ও সমৃদ্ধি আছে, এমন দেশ নেই। সুতরাং শুধু তেলের কারণেই লিবিয়া সমৃদ্ধ হয়েছে, এমন যুক্তি ভ্রান্ত হতে বাধ্য।

    লিবিয়ার উন্নতি ও সমৃদ্ধির পেছনের রয়েছে তার নেতৃত্ব। যুদ্ধে ও বিপ্লবে নেতৃত্ব দিয়ে দেশ মুক্ত করা তেমন কঠিন কাজ নয় - যতোটা কঠিন মানুষকে দারিদ্র ও শোষণের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করা। এর জন্য মানুষের জন্য প্রকৃত অর্থে মানবিক জীবন প্রতিষ্ঠা করার সংকল্প। এ-সংকল্প আসে দেশের মানুষকে ভালোবাসার মধ্য থেকে। এ-ভালোবাসাই রূপ নেয় সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী প্রতিরোধ প্রচেষ্টায়। তা না হয়ে পারে না।

    মুয়াম্মার গাদ্দাফী লিবিয়ার সিংহ-পুরুষ। তিনি ওমর মুখতার ও গামাল নাসেরের যোগ্য উত্তরাধিকারী। গত বছর গাদ্দাফী যখন ইতালীতে গেলেন, তখন তিনি তাঁর সমগ্র সফর-কালে বুকে একটা বেইজ পরিধান করে রেখেছিলেন এবং সেটি ছিলো একটি ফটোগ্রাফ - ইতালীয় সেনা পরিবেষ্টিত ও শিকলে হাত-পা বাঁধা ওমর মুখতারের ফটোগ্রাফ। তার সফর সঙ্গী করে নিয়ে গিয়েছিলেন ওমর মুখতারের বৃদ্ধ পুত্রকে। একশো বছর পরও গাদ্দাফী ভোলেননি তার জাতির উপর ঔপনিবেশিক লুন্ঠন ও নির্যাতন ইতিহাস। এবং তার বিরুদ্ধে তিনি এ-ভাবেই প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন একশো বছর পরও।

    ইতিহাস ভোলেনি ঔপনিবেশিক শক্তিও। সে ভোলেনি তার স্বর্গরাজ্যিক ঔপনিবেশিক লুন্ঠনের সোনালী দিনের কথা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত রাষ্ট্রের বিজয় ও পরবর্তীতে তার বিশ্ব-শক্তিতে পরিণত হবার কারণে ঔপনিবেশিক শক্তিগুলো এশিয়া,আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকা থেকে থাবা গুটিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছিলো। কিন্তু তারা ভোলেনি অতীতের সোনালী লুন্ঠনের দিন এবং ছাড়েনি সুযোগ পেলেই উপনিবেশ ফিরে পাবার স্বপ্ন।

    আজ লিবিয়াতে ঔপনিবেশিকদের সোনালী দিনে প্রত্যাবর্তনের স্বপ্ন বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। সাম্রাজ্যবাদী পশ্চিম ও তাদের অনুগত রাষ্ট্রগুলো সে-স্বপ্ন বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে।

    জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত, আন্তর্জাতিক গণ-মাধ্যম, সবাই মিলে এক মহা মিথ্যাচার করে লিবিয়াকে পুনর্দখলের চেষ্টা করেছে। প্রথম থেকেই মিথ্যাচার করছে এ-সাম্রাজ্যাবাদী শক্তি। শুরুতে কর্নেল গাদ্দাফির ভেনিজুয়েলাতে পালিয়ে যাবার মিথ্যা খবর থেকে শুরু করে গাদ্দাফি-পুত্রদের গ্রেফতারের খবর - সব ভূয়া, সব মিথ্যা, নগ্ন ও নির্লজ্জ মিথ্যা।

    সাম্রাজ্যবাদীরা বহু আগে থেকে পরিকল্পনা করে লিবিয়াতে তথাকথিত বিদ্রোহ ঘটিয়েছে। এর জন্য আগে থেকে তাদের সেনাবাহিনী রীতিমতো মহড়া ও প্রশিক্ষণ নিয়েছে। সাম্রাজ্যবাদী শক্তি তাদের নিজের দেশে দোকান লুট হলে গুলির হুকুম দেয়, আর লিবিয়াতে অস্ত্রের গুদাম লুট করে নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের হুঁশিয়ারি দেবার কারণে জনরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা গাদ্দাফির বিরুদ্ধে জাতিসংঘের সীলমোহর নিয়ে লিবিয়ার ‘জনগণকে রক্ষার’ জন্য বোমা-হামলা চালায়।

    আজ একশো বছর আগের সেই গ্রীষ্মের মতোই ত্রিপোলিতে দখল নিয়েছে সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ও তাদের স্থানীয় দালালেরা। কিন্তু ইতোমধ্যেই নিজেদের মধ্যে কামড়া-কামড়ি শুরু হয়ে গিয়েছে লিবিয়ার তেলের ভাণ্ডারে কার কতো অধিকার হবে তার বাঁটোয়ারা নিয়ে।

    পরিতাপের বিষয়, যাঁরা আফগানিস্তান, ইরাক, প্যালেস্টাইনে সাম্রাজ্যবাদ কিংবা সাম্রাজ্যবাদের এ্যাজেন্টদের ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতার বিরুদ্ধে কথা বলেন, তাঁরা আজ লিবিয়ার ক্ষেত্রে একই সাম্রাজ্যবাদকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সমর্থন করছেন।

    তাঁরা গাদ্দাফীকে ডিক্টেইটর বলেন। না-প্রেসিডেন্ট, না-প্রধানমন্ত্রী, না-সেনাপ্রধান, তবুও গাদ্দাফি ডিক্টেইটর। পশ্চিমের প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবীরা বলছেন ‘বেনেভোলেন্ট ডিক্টেইটর’ অর্থাৎ কল্যাণকার একনায়ক।

    তা তিনি শুধু ‘ডিক্টেইটর’ই হোন, কিংবা ‘বেনেভোলেন্ট ডিক্টেইটর’ই হোন, কিন্তু সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলো পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম সমর-শক্তি ন্যাটোর ওয়্যার মেশিন নিয়ে তাঁকে হত্যা করে তাঁর দেশ দখল করতে চাইবে, আর ‘বিশ্ব-বিবেক’ চেয়ে-চেয় দেখবে, এটি কীভাবে সম্ভব?

    ‘এ-বিশ্বে জোর যার মুল্লুক তার’ কথাটির চেয়ে আর কী সত্য আছে? আন্তর্জাতিক আইন, কানুন, মানবাধিকার, সার্বভৌমত্ব, জাতিসংঘ, ইত্যাদি যা কিছু আছে এগুলো মিথ্যার নষ্ট জঞ্জাল ছাড়া আর কী?

    আজ যাঁরা এ-মিথ্যাকে যারা মিথ্যা হিসেবে দেখতে চাইছেন না, অন্যায়কে যাঁরা অন্যায় হিসেবে দেখতে চাইছেন না, যাঁরা লিবিয়ার উপর আরোপিত এ-অন্যায়ের আজ প্রতিবাদ করছেন না, আগামী দিনে যখন তারাও একই অন্যায়ের শিকার হবেন, তখনও কি তারা বিশ্বের এই একই নীরবতা আশা করবেন?

    হে বিশ্ব-বিবেক! হে মানবতা! তুমি কি কেবলই কথা? বইয়ে লেখা শব্দ মাত্র? আর কিছু নয়, যা চেতনায় ধারণ করে আমাদের সক্রিয় করে তোলে - অন্ততঃ একটি অননুমোদনের শব্দ উচ্চারণ করতেও শেখায়?

    একশো বছর আগের অসিধারী মহীরুহ শিক্ষক ওমর মুখতারের দেশের উপর একশো বছর পরও একই বর্বরতা ও মিথ্যার আশ্রয়ী সাম্রাজ্যবাদী শক্তির হানা আঘাতের বিরুদ্ধে আমি মসিধারী এক অকিঞ্চিতকর শিক্ষক সমস্ত চেতনা দিয়ে প্রতিবাদ করি!

    রোববার, ২৮ অগাস্ট ২০১১
    নিউবারী পার্ক
    এসেক্স, ইংল্যান্ড

     

পাঠকের প্রতিক্রিয়া

লিবিয়ার রিবেল এবং ন্যাটোর বদৌলতে পৃথীবির মানুষক প্রতারক মানবতাবাদীদের আসল চেহারা দেখতে পেলো। ওই সোড স্যেলুট দেম।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd>
  • Lines and paragraphs break automatically.

লেখা ফরম্যাট করার বিষয়ে আরো তথ্য

আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন