• কনস্পিরেসি থিওরী বনাম অব্‌ভিয়াস
    to-kill-a-mockingbird.png
    মাসুদ রানা

     

    ভূমিকা

    ‘কনস্পিরেসি থিওরী’র আড়ালে অনেক ‘অব্‌ভিয়াস’ও ইদানিং ঢাকা পড়ে যায়। কিন্তু ‘অব্‌ভিয়াস’ অর্থাৎ ‘স্পষ্ট প্রতীয়মান’ ঘটনার এমন একটা শক্তি থাকে যা ‘হজম’ করা চিন্তা ও বোধের জন্য কঠিন।

    আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল আইএমএফ-এর প্রাক্তন প্রধান ডমিনিক স্ট্রস-কান কাণ্ডটিও আমার কাছে তেমনি একটি অব্‌ভিয়াস মনে হচ্ছে, যেমন মনে হয়েছে লিবিয়া-কাণ্ড।

    লন্ডনে বাঙালী ‘বুদ্ধিজীবী’ মহলে মার্চ মাসে লিবিয়ার ব্যাপারে আমার কথাগুলো ‘খাওয়াতে’ পারছিলাম না। লিবিয়া সম্পর্কে আমার ব্যাখ্যা খুব তাদের আছে অখাদ্য ষড়যন্ত্র তত্ত্ব মনে হচ্ছিলো। আমার প্রিয় একটি সংবাদপত্র-অফিসে এ-নিয়ে প্রচুর কথা হয়েছে। ‘প্রগতিশীল’ বন্ধু-মহলতো সে-সময় গাদ্দাফিকে ফাঁসি দেবার জন্য রীতিমতো এ্যাডভোক্যাসি করছিলো।

    কিন্তু বন্ধুরা, এটি কি এখন অব্‌ভিয়াস নয় যে ‘লিবিয়ার জনগণকে রক্ষা’ করা ইউরো-মার্কিনীদের উদ্দেশ্য নয়? এটি কি এখন অবভিয়াস নয়, যে গাদ্দাফি কোনোক্রমেই মুবারক নয়? এটি কি এখন অব্‌ভিয়াস নয় যে বেনগাজি আর তাহরির স্কোয়ার এক নয়?

    আজ আমি গাদ্দাফিকে নিয়ে লিখতে বসিনি। লিখছি ডমিনিক স্ট্রস-কানকে নিয়ে। হতে পারে এটি একটি কনস্পিরেসি থিওরী অথবা অব্‌ভিয়াস। তবে ঘটনাটি নিম্নরূপ।

    কনস্পিরেসি

    ডমিনিক স্ট্রস-কান ফরাসী রাজনীতির দ্বন্দ্ব ও আপোস প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক লেবেলে সমাজতন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও আইএমএফের প্রধান হতে পেরেছিলেন। বলা বাহুল্য, বিশ্বব্যাংকের প্রধান হবেন মার্কিন নাগরিক, আর আইএমএফের হবেন ইউরোপীয়, এটিই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর প্রতিষ্ঠাকাল থেকে অলিখিত নিয়ম। এখনও চলছেঃ সবকিছু ‘বিশ্ব’ নামের কিন্তু নেতৃত্ব পশ্চিমের! এটি অনেকটা, ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ বাংলাদেশে ইসলামের রাষ্ট্রীয় ধর্ম হবার মতো সোনার পাথরবাটি।

    বিশ্বের অর্থগোষ্ঠী ও বহুজাতিক কোম্পানীগুলোর কাছে অর্থ-সঙ্কটে পড়া গ্রীস গরম পিৎজ্জা হয়ে দেখা দিলো ইউরো-জৌনের চুলোয়। গ্রীসকে উদরস্থ করার জন্য তৈরী করা হলো।

    আকন্ঠ ঋণে নিমজ্জিত গ্রীসকে আরও ঋণ দিতে চায় বিশ্বের লগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এবং তাদের পরম আদরের সংস্থা আইএমএফ। কিন্তু গ্রীসকে দুটো কাজ করতে হবে।

    প্রথমতঃ জন-খাতে খরচ কামাতে হবে। ‘কৃচ্ছতা’র মধ্য দিয়ে ‘সাশ্রয়’ করার জন্য। কারণ, ঋণের সুদ দিতে হবে তো! তাই বেতন কমাও, ছাটাই করো, পেনশন কমাও, অবসরের বয়স বাড়াও, ট্যাক্স বাড়াও।

    সুদের অর্থ আগে নিশ্চিত করো। কী খাবে, কী পরবে, পরে দেখা যাবে। আসল তো দিবেই, সে-ব্যাপার ভাবনা নেই। কিন্তু সুদটা কীভাবে দিবে বুঝে নিতে চাই। এ-প্রবণতা সুদখোর মাত্রেরই - তা সে আইএমএফ হোক আর ইউনূসই হোক।

    দ্বিতীয়তঃ আগের টাকার কী হলো? নতুন ঋণ দিতে তো কোনোই আপত্তি নেই, ঋণ-দানই তো আমাদের কাম। কিন্তু ভায়া, আগের হিসাবটা নিকেশ করো।

    নগদ নেই? তাতে কী? ঘটি-বাটি, সোনা-দানা, জায়গা-জমি, গোরু-বলদ, ইত্যাদি, ইত্যাদি, নেই? ওগুলো দাও। বাজার দরতো পাবে না, তা একটা দাম ধরে পুষিয়ে নেবো।

    গ্রীসকে বলা হলো, তোমার রেইলওয়ে, মটরওয়ে, সী-পৌর্ট, এয়ারপৌর্ট, এনার্জী, ওয়াটার, প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্য, যা-যা বিক্রয়যোগ্য, এগুলো আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করে ২৮ বিলিয়ন ইউরো জোগাড় করে আগের ঋণের ফয়সালা করো।

    এগুলো জাতীয় সম্পত্তি? অসহ্য! জাতীয় সম্পত্তি আবার কী? তোমরা-তো নেতা, জাতির জন্য সিদ্ধান্ত নেবার মালিক তো তোমরাই।

    গণতন্ত্র? তা বটে! এটিতো আমাদের প্রিয়বস্তু। তো, ডাকো পার্লামেন্ট অধিবেশন। ভৌট হয়ে যাক। এমপিদের তো চিনি। ‘উই উইল টেইক কেয়ার অফ দেম’।

    ডমিনিক স্ট্রস-কানের আবার ইচ্ছা তিনি ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি হবেন। সমাজতান্ত্রিক দল থেকে। কিন্তু গ্রীসের জাতীয় সম্পদ এক হাতে বিক্রি করে দিয়ে অন্য হাতে তো সমাজতান্ত্রিক লাল সেলাম দেয়া যায় না। তাই তিনি আমতা আমতা করছিলেন। মানুষ বেকার হয়ে যাবে, অসন্তোষ বাড়বে, ইত্যাদি, ইত্যাদি শতো ভাবনা।

    নাহ্‌, স্ট্রস-কান কথা শুনছে না। ওর প্রেসিডেন্ট হবার শখ হয়েছে। গ্রীস বাঁচিয়ে ইউরোপের হিরো হতে চায়। দাঁড়া দেখাচ্ছি!

    এ্যাই দেখতো, ওর আমল-নামা বের কর! ওর যৌন-কাতরতার দোষ আছে না? কী? ফরাসীরা এগুলো কেয়ার করে না? কিন্তু আমরা করাবো। এদিকে আয়, কানে কানে বলি, কারণ দেয়ালেরও কান আছে।

    অবভিয়াস

    ১৪ মে শনিবার। নিউ ইয়র্ক থেকে প্যারিস-গামী ফরাসী বিমানের সীট থেকে স্ট্রস-কানকে কান ধরে নিয়ে এলো পুলিস স্টেশনে। কী ব্যাপার?

    তোমার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তুমি হোটেল-মেইডকে এই সকালে রেইপ করার চেষ্টা করেছো। বেচারী দরিদ্র আফ্রিকান নারী। তুমি সবল ইউরোপীয় পুরুষ এবং পৃথিবীর গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান আইএমএফের প্রধান। দূর্বলের উপর সবলের অত্যাচার! এ আমরা কোথাও বরদাস্ত করি না - যেমন লিবিয়াতে করছি না (সাবধান, বাহরাইন, শ্রীলঙ্কা, সৌদী আরবের কথা বলবে না!) এবং ভবিষ্যতে করবো না।

    আর, তোমার কিচ্ছা-কাহিনী জানি। তুমি আগে কার সাথে কী করতে চেয়েছিলে বা করেছো সেগুলোও দেখো পত্রপত্রিকায় বেরিয়েছে। ফ্রীডম অফ প্রেস বলে কথা! অতএব, তোমার পজিশন কী তাতে কিছু আসে যায় না। মোরা আইনের লোক!

    ১৬ মে, সোমবার। বেইল চাও? হাঃ, হাঃ, হাঃ! গ্রীসের জন্য বেইল-আউট চাও না, এখন নিজের জন্য চাও? নো ওয়ে! হবে না।

    এ্যাই, কে আছিস, ওকে হাতকড়া পরা, আর আমাদের মহান সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনে দিয়ে ‘প্যারেইড’ করিয়ে গাড়ীতে তোল্‌! তাপর সোজা সবচেয়ে কুখ্যাত কারাগারে নিয়ে যা। যেখান দাগী ক্রিমিন্যালগুলো রাখা হয়। আর দেখিস, ও যেনো আত্মহত্যা না করে বসে!

    ১৮ মে, বুধবার। এবার ট্রস-কান বললেন, আমি রিজাইন করতে চাই আইএমএফ থেকে। নিজে বাঁচলে বাপের নাম। গ্রীস গোল্লায় যাক। আমাকে কাগজ-কলম দাও। প্রাণত্যাগ নয়, পদত্যাগ করতে চাই।

    গুড বয়। এইতো বুদ্ধিমানের কথা। তোমার ইকোনমিক্স পড়া কাজে লেগেছে। লাভ-ক্ষতি বুঝতে শিখেছো। ঠিক আছে। আজ বুধবার, আজই রিজাইন করো, তোমাকে এ-সপ্তাহ’র মধ্যেই জামিন দিবো। কিন্তু, সাবধান গ্রীসের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তোমাকে ছাড়বো না। মনে থাকে যেনো।

    ২০ মে, শুক্রবার। এবার সংবাদ-মাধ্যমগুলো জানালো, স্ট্রস-কানকে জামিন মঞ্জুর করেছেন বিজ্ঞ আদালত। তবে তিনি বিচার না হওয়া পর্যন্ত নজর-বন্দী হয়ে থাকবেন। তার এ্যাপার্টমেন্টে কে-কে আসবে তার নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

    প্রসিকিউশন বললো, আমরা ন্যায় বিচার চাই। কান সাহেব খুব বদ-কাম করেছেন। দরিদ্র বাদিনীকে দিয়ে 'ঔরাল সেক্স' করিয়েছেন। সমস্ত প্রমাণ আমাদের হাতে আছে। খাঁটি প্রমাণ। বাদিনীর কাপড়ে ও হোটেল স্যুইটের কার্পেটে যে পুরুষ-শুক্রের আলামত পাওয়া গিয়েছে, তার ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত যে, কান সাহেব তার সাথে যৌন-অসদাচরণ করছেন, নিপীড়ন করছেন এবং ধর্ষণের চেষ্টা করেছেন।

    ২৯ জুন, বুধবার। গ্রীসের কোটি-কোটি মানুষের আপত্তি সত্ত্বেও গ্রীক পার্লামেন্ট পাস করিয়ে নিলো প্রস্তাব - জনখাতে ব্যয় কমানো হবে এবং জাতীয় সম্পত্তি বিক্রি করা হবে।

    ৩০ জুন, বৃহস্পতিবার। গ্রীক পার্লামেন্ট প্রতিজ্ঞা নিশ্চিত করলো। বুধবারের অনুমোদিত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য সংবিধানে আইন তৈরী করলো। এভরীথিং ডান্‌।

    নিউ ইয়র্ক টাইমসের খবর, ডমিনিক স্ট্রস-কানের মামলা তরল হয়ে যাচ্ছে। কারণ, ওই আফ্রিকান বংশোদ্ভূত হোটেল-পরিচারিকার - অর্থাৎ বাদিনীর - বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

    ১ জুলাই, আবার শুক্রবার। মার্কিন প্রসিকিউটারগণ চিঠি জমা দিলেন আদালতের কাছে। লিখলেন, এই বাদিনী মিথ্যাবাদিনী। স্ট্রস-কান তার সাথে যা করেছেন, তা করার পর বাদিনী কোথায় কখন কী করেছে, সে-সম্পর্কে পুলিসের কাছে দেয়া তার বয়ানের সাথে বাস্তব আচরণের অমিল আছে।

    ধর্ষণ চেষ্টার পর সে সুপারভাইজারের কাছে সরাসরি যায়নি। সে পাশের স্যুইট পরিষ্কার করেছে। স্ট্রস-কানের স্যুইট পরিষ্কার করেছে। তারপর সুপারভাইজারের কাছে গিয়েছে।

    সে কারাবন্দী এক ড্রাগ ডীলারের সাথে ফৌনে কথা বলেছে এবং স্ট্রস-কানের বিরুদ্ধে অভিযোগের সুবাদে তার কিছু অর্থ রোজগার হবে বলে উল্লেখ করেছে।

    আরও কথা হলো, আমেরিকাতে রাজনৈতিক আশ্রয় নেবার সময় সে বলেছিলো, তার উপর গণ-ধর্ষণ হয়েছে তার দেশ আফ্রিকাতে, যা আসলে মিথ্যা। সে নিজেই স্বীকার করেছে আমাদের কাছে।

    তার ব্যাংকে এক লাখ ডলার পাওয়া গিয়েছে, যা গত দু’বছরে জমা হয়েছে। কিছু ডলার এসেছে ওই ড্রাগ ডীলারের কাছ থেকে। সুতরাং এই কালো আফ্রিকান নারী মিথ্যবাদিনী।

    আদালত বললেন, স্ট্রস-কান সাহেব, আপনি যান। বেইল ছাড়াই আপনাকে রিলিজ দেয়া হলো। তবে পাসপৌর্টটি আমাদের কাছে থাকুক কিছু দিন।

    স্ট্রস-কান সস্ত্রীক আদালতকে বললেন, ধন্যবাদ, মহামান্য আদলত!

    পাঠক, যদি আমেরিকান সাহিত্যের সাথে পরিচয় থাকে, তো নিশ্চয় ১৯৬০ এর দশকের হারপার লী’র বিখ্যাত উপন্যাস ‘টু কিল এ্যা মকিংবার্ড’ সম্পর্কে জানেন। স্টস-কানের মামলার সাথে ঐ উপন্যাসে অনেক মিল আছে।

    সেখানেও একটি রেইপের মামলা ছিলো। এর সাথে জড়িত ছিলো কালো আফ্রিকান একটি চরিত্র। পার্থক্য, হচ্ছে সেখানে শ্বেতাঙ্গী নারীর রেইপের অভিযোগ ছিলো কালো পুরুষের বিরুদ্ধে। আর, স্ট্রস-কান কাণ্ডে কালো নারীর অভিযোগ শ্বেতাঙ্গ পুরুষের বিরুদ্ধে।

    কিন্তু মিলের জায়গা হচ্ছে, সমস্ত প্রমাণ থাকার পরও যেটি সিদ্ধান্ত হয়, সেটি হচ্ছেঃ একটি কালো মানুষের উপর মিথ্যা কথার বলার বৈশিষ্ট্য আরোপ করে তার পক্ষের সমস্ত সাক্ষ্য-প্রমাণকে উপেক্ষা করা।

    মিথ্যা ধর্ষণের অভিযোগের অভিযুক্ত ‘নিগ্রো’ ভাড়া-শ্রমিক টম রবিনসনে পক্ষ দাঁড়ানো আইনজীবী এ্যাটিকাস ফিঞ্চ প্রমাণ করলেন সে নিরাপরাধ, কিন্তু তবুও রক্ষা করতে পারলেন না তাকে বর্ণবাদে-অন্ধ শ্বেতাঙ্গ জুরি-সদস্যদের। ফিঞ্চ জুরির উদ্দেশ্যে বলেছিলেনঃ

    ‘ভদ্রমহোদয়গণ, রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীরা এই আদালতে আপনাদের সামনে নিজেদেরকে এমন কুটিল আস্থার সাথে হাজির করছেন যেনো তাদের বয়ানে সন্দেহ করা না যায়। ভদ্রমহোদয়গণ, তারা আস্থাশীল যে আপনারা তাদের সহগামী হন এই ধারণায় - এই দুষ্ট ধারণায় - যে সকল নিগ্রোই মিথ্যা কথা বলে, সকল নিগ্রোই মূলতঃ অনৈতিক জীব’ 

    টু কিল এ্যা মকিংবার্ড উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছিলো ১৯৬১ সালে। সম্ভবতঃ গত মাসেই ‘টু কিল এ্যা মকিংবার্ড’ উপন্যাসের ৫০তম বার্ষিকী উৎযাপিত হয়েছ। এর লেখিকা হারপার লী এখনও বেঁচে আছেন এবং নিউ ইয়র্কেই থাকেন।

    লী তার ফিকশনে সে-সময়ের মার্কিন সমাজের যে ভয়ঙ্কর বর্ণবাদী মানসিকতা উন্মোচন করেছিলেন, তা আজ ৫০ বছর পরেও সম্ভবতঃ বাস্তবে বর্তমান।

    উপন্যাসের প্রসিকিউটারগণ নিশ্চিন্তে নির্ভর করেছিলেন জুরি-সদস্য তথা নাগরিকদের বর্ণবাদী বিদ্বেষের উপর। তাদের ছিলো একটি দুষ্ট ধারণাঃ ‘সকল নিগ্রোই মিথ্যা কথা বলে, সকল নিগ্রোই অনৈতিক জীব’।

    আজ পঞ্চাশ বছর পর নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনের ক্রিমিন্যাল কৌর্টের প্রসিকিউটারগণ একই ধারণার উপর নির্ভর করছেন এবং নিশ্চিন্তে বলতে পারছেন, আফ্রিকা বংশোদ্ভূত এই কালো বাদিনী মিথ্যাবাদিনী।

    প্রশ্ন থেকে যায়, ডমিনিক স্ট্রস-কান কাণ্ডের সাথে কালো বিদ্বেষী বর্ণবাদী মানসিকতার কী সম্পর্ক? সম্পর্ক মানেই যে কার্য-কারণ লাইনে হতে হবে এমনটি আবশ্যক নয়। রসায়ন-বিজ্ঞানে দুটি পদার্থের মধ্যে বিক্রিয়ার ফলে যে ভিন্ন পদার্থ তৈরী হয়, সেখানে কখনও 'ক্যাটালিস্ট' হিসেবে অন্য একটি পদার্থ উপস্থিত রাখা হয়, যেটি বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে না, তবে বিক্রিয়াকে ত্বরান্বিত ও সুচারু হতে সাহায্য করে।

    বর্ণবাদ আছে, এটি বাস্তব। নিজে বর্ণবাদী না হয়েও অন্যের বর্ণবাদী মানসিকতাকে ব্যবহার করা হয়, এটিও বাস্তব। এটি অনেকটা জিন্নাহ্‌র ধার্মিক না হয়েও ধর্মকে ব্যবহার করার মতো। ঠিক একইভাবে স্ট্রস-কান-কাণ্ডে বর্ণবাদ কোনো মোটিভেশন্যাল ফ্যাক্টর ছিলো না, কিন্তু 'টুল' হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে বলে মনে হয়।

    ষড়যন্ত্রতত্ত্ব মতে, ডমিনিক ট্রস-কানকে ধরার ও ছাড়ার গোটা কাণ্ডটিতে 'টুল' হিসেবে ব্যবহার করা জন্য আফ্রিকান ইমিগ্র্যান্টের মতো উপযুক্ত আর কে হতে পারতো? তার নাজুকতার কারণে তার উপর ধর্ষণের আক্রমণ সহজেই বিশ্বাসযোগ্য আবার তার কালোত্বের কারণে তাকে মিথ্যাবাদিনী বানানোও সহজ। এ-রকম একটি 'ফ্লেক্সিবল টুল'ই ডমিনিক স্ট্রস-কানকে 'সাইজ-আপ' করার জন্য যথার্থ।

    লক্ষ্যণীয় ও আশ্চর্য্যের বিষয় হচ্ছে, ডমিনিক স্ট্রস-কানের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী এই কালো নারীর নামও আমরা কেউ জানি না, তার ছবিও কখনও দেখিনি!

    রোববার, ৩ জুলাই ২০১১
    নিউবারী পার্ক, এসেক্স
    ইংল্যান্ড

     

     

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন