• কমিউনিজমের বাঙালী ভ্রান্তিঃ অর্থবিকৃতি ও ভিক্ষাবৃত্তি
    মাসুদ রানা

    কমিউনিজমের অর্থবিকৃতি
    আমার আগের একটি লেখায় আমি বলেছিলাম,  ‘কমিউনিজম’ শব্দের বঙ্গানুবাদ ‘সাম্যবাদ’ ভুল। সেখানে আমি দেখিয়েছিলাম, ‘কমিউনিজম’ শব্দের মূলে ‘সাম্য’ নেই। আছে ‘কমিউন’ বা সম্প্রদায়। তাই, ‘সাম্য’ আনা ভুল। আমি দেখিয়েছিলাম 'সাম্য' একটি বুর্জোয়া ধারণা, যা কমিউনিজমের দার্শনিক পিতা কার্ল মার্ক্সের জন্মেরও আগে ১৭৮৯-১৭৯৯ সালে ফরাসী বিপ্লবের নীতিবাক্য হিসেবে 'স্বাধীনতা, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব' (liberté, égalité, fraternité) ত্রিশব্দে উচ্চারিত ও গৃহীত হয়েছিলো। আজকের লেখায় আমি দেখাবো, 'কমিউনিজম' শব্দের বঙ্গানুবাদে ‘বাদ’ শব্দটির ব্যবহারও যথার্থ নয়।

    কমিউনিজমকে একটি ‘বাদ’ বলা হলে বিষয়টি অসম্পূর্ণ থেকে যায়। কারণ, ইংরেজিতে ‘ইজম’ একই সাথে তত্ত্ব ও ব্যবস্থা নির্দেশ করলেও বাংলা ‘বাদ’ তা বুঝায় না। বাংলায় ‘বাদ’ বলতে শুধু তত্ত্ব বুঝায়, ব্যবস্থা বুঝায় না।

    ‘কমিউনিজম’ সম্পর্কে জ্ঞাতমাত্র ব্যক্তিই জানেন, এটি শুধু তত্ত্ব নয়, একটি সমাজ-সংগঠন ব্যবস্থাও। অক্সফৌর্ড ডিকশনারিতে কমিউনিজম শব্দের এণ্ট্রিতে বলা হয়েছে, "a theory or system of social organization in which all property is owned by the community and each person contributes and receives according to their ability and need”। অর্থাৎ, কমিউনিজম হচ্ছে একটি তত্ত্ব ও সামাজিক সংগঠনের ব্যবস্থা, যেখানে সমস্ত সম্পত্তির মালিকানা সম্প্রদায়ের এবং প্রতিটি ব্যক্তি নিজের ক্ষমতা অনুসারে অবদান রাখেন এবং প্রয়োজন অনুসারে গ্রহণ করেন।

    উপরের সংজ্ঞানুসারে, কমিউনিজম যেহেতু একই সাথে তত্ত্ব ও ব্যবস্থা, তাই কমিউনিজমের বাংলা পরিভাষা তৈরি করতে ‘বাদ’ ব্যবহার, তার অর্ধেক অর্থ প্রকাশ করে মাত্র। বাংলাভাষায় ‘বাদ’ শব্দের অন্ততঃ ১০টি অর্থ আছে - উক্তি, বাক্য, তর্ক, কলহ, যথার্থ বিচার, মত বা তত্ত্ব, বাধা, বৈরিতা, বিয়োগ ও বর্জন - যাদের একটি হলো থিওরি। স্পষ্টতঃ 'বাদ' ব্যবস্থাকে নির্দেশ করে না।

    তাহলে ‘বাদ’ বাদ দিয়ে, তার স্থলে কী আনা উচিত ছিলো? আমি মনে করি ‘তন্ত্র’ শব্দটি যথার্থ। ‘সোশিয়ালিজম’ শব্দের বাংলা ‘সমাজতন্ত্র’ ঠিক আছে। ‘তন্ত্র’ শব্দ একই সাথে মন্ত্র ও যন্ত্র নির্দেশ করে তত্ত্ব ও ব্যবস্থাকে ধারণ করে। বস্তুতঃ তন্ত্র শব্দটি ‘ইজম’-এর চেয়েও অধিক পারঙ্গম।

    বাংলা অভিধানে ‘তন্ত্র’র অন্ততঃ পক্ষে ১১টি অর্থ আছেঃ (১) শিব-শক্তি সম্বন্ধীয় উপাসনাবিধি (২) বেদের শাখাবিশেষ (৩) রাষ্ট্রশাসন পদ্ধতি (৪) বিদ্যা বা শাস্ত্র (৫) সাধনপ্রণালী বা পন্থা (৬) মতবাদ (৭) অধ্যায় (৮) মন্ত্রবিদ্যা (৯) বয়নযন্ত্র (১০) পশুর অন্ত্র (১১) তার।

    কমিউনিজমের যে-আভিধানিক অর্থ, তাতে ‘তন্ত্র’ই যথার্থ। কারণ, তন্ত্র একই সাথে তত্ত্ব ও ব্যবস্থা নির্দেশ তো করেই, এমনকি সাধন প্রণালী ও শাস্ত্রও হিসেবে নির্দেশ করে। ফলে, কমিউনিজমের বাংলা পরিভাষা তৈরিতে ‘বাদ’ বাদ দিয়ে ‘তন্ত্র’ যুক্ত করা উচিত। কিন্তু এই ‘তন্ত্র’ কোন শব্দের সাথে যুক্ত করতে হবে? স্পষ্টতঃ ‘কমিউন’ শব্দের সঠিক অর্থ-প্রকাশক বাংলা শব্দের সাথে।

    আগেই বলা হয়েছে ‘কমিউন’ শব্দের অর্থ ‘সম্প্রদায়’। এটি একটি তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ। এছাড়াও বাংলা অভিধানে হিন্দি-মূলের একট শব্দ আছে - ‘কৌম’ - যার অর্থ হচ্ছে ‘জনগোষ্ঠী’ ও  ‘জনসমাজ’। সুতরাং, দীর্ঘ প্রতিষ্ঠিত অভ্যাসবশতঃ কমিউনিজমকে ‘সাম্যবাদ’ বলা হলেও, মনে রাখতে হবে এর প্রকৃত অর্থ হচ্ছেঃ (১) সম্প্রদায়তন্ত্র (২) কৌমতন্ত্র (৩) জনসমাজতন্ত্র বা জনতন্ত্র।

    অর্থবিকৃতির সমস্যা
    যে-কোনো বিষয়ের শাব্দিক প্রকাশ যদি যথার্থ না হয়ে বিকৃত হয়, তাহলে এর উপলব্ধিও বিকৃত হতে বাধ্য। কমিউনিজমের মধ্যে প্রথমতঃ ‘সম্প্রদায়’ নেই বলে, কমিউনিষ্টদের মধ্যেও সম্প্রদায়কে বিবেচনায় রাখা ও আনা জরুরি অনুভূত হয় না। দ্বিতীয়তঃ এটি ‘বাদ’ হওয়ার কারণে, শুধুমাত্র মতবাদ বা আদর্শ হিসেবেই সীমিত রয়েছে।

    বাংলাদেশের অতি-কেন্দ্রানুগ রাজনীতি সারা দেশের স্থানীয় সম্প্রদায় সমূহকে ছিন্নভিন্ন করে দিয়ে একটি সর্বগ্রাসী দ্বিদলীয় মেরুরকরণ ঘটিয়েছে। আর, এই মেরুকরণে মূলে যে-দু’টি দল আছে - আওয়ামী লীগ ও বিএনপি - তাদের উভয়ই হচ্ছে গণতন্ত্র বিবর্জিত এক পারিবারিক ও স্বৈরাতান্ত্রিক রাজনীতির আধার।

    এই দল দু'টি দলের প্রতিটির সর্বোচ্চ নেতৃত্ব রাজতন্ত্রানুরূপ একটি মাত্র পরিবারের হাতের মুঠোয়। সাম্রাজ্যিক যুগে যেভাবে বিভিন্ন অঞ্চলে স্থানীয় রাজা বা নবাবের কাছে দেশ জায়গীর দেওয়া হতো, এই দল দু'টি রাজতান্ত্রিক বংশপরম্পরা নেতৃত্ব প্রতিটি জেলা-উপজেলায় তাঁদের অনুগত স্থানীয় সামন্ত-প্রায় পরিবারের কাছে 'দল' জায়গির দিয়ে রাখে। জায়গিরদারদের কাজ হচ্ছে সম্রাট-সম্রাজ্ঞী-প্রায় শীর্ষ নেতা-নেত্রীকে তাঁদের মেজাজ মতো খুশী রাখা।

    এটি একটি প্রবলতন্ত্র, যার মধ্য দিয়ে জনগণের উৎপাদশীলতা তথা শ্রম শোষণ করে দলীয় লাইনে এক দলের পর আরেক দলের লোকেরা হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হচ্ছেন এবং সেই টাকা বিদেশে পাচার করছেন। এদের কাছে বাংলাদেশ কার্যতঃ একটি উপনিবেশ ছাড়া আর কিছুই নয়। এঁরা পালাবদল করে এই 'উপনিবেশ' শাসন করছে অতি-কেন্দ্রানুগ রাষ্ট্রযন্ত্র দিয়ে। অর্থাৎ, রাষ্ট্রীয় বাহিনীসমূহের চাবিপদে নিজেদের একান্ত অনুগত লোকদের নিয়োগ দিয়ে, বাস্তবে ঐ বাহিনীগুলোকে পরিবারগুলোর প্রাইভেট বাহিনীতে রূপান্তরিত করার মাধ্যমে।

    এর ফলে, বাংলাদেশের গ্রামের পাড়া থেকে পর্যন্ত নগরীর মহল্লা পর্যন্ত ঐতিহ্যগতভাবে যে সম্প্রদায়-বোধে পরিচালিত হতো, সেগুলো ভেঙ্গে পড়েছে। প্রবল কেন্দ্রাভিগ রাষ্ট্রের কাছে সম্প্রদায় হারানো মানুষ একা, দুর্বল ও অসহায় হয়ে পড়েছে। আর এই সুযোগে, রাষ্ট্রের বিভিন্ন বাহিনী সেই মানুষকে জিম্মি করে অর্থ দাবী করছে, ডেকে নিয়ে হত্যা করে ‘ক্রসফায়ার’ বলে চালিয়ে দিচ্ছে। বিএনপির তৈরি 'ক্রসফায়ার' বাহিনী এবার আওয়মী লীগ ব্যবহার করছে। মানুষ অসহায়, কিছুই করতে পারছে না।

    অতি-কেন্দ্রানুগ এই প্রবল রাষ্ট্রের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে ব্যক্তি মানুষের জন্যে শক্তিশালী স্থানীয় কমিউনিটি, কমিউন বা সম্প্রদায় গড়ে তোলা ছাড়া বিকল্প নেই। শক্তিশালী স্থানীয় সম্প্রদায় গড়ে তোলার জন্যে প্রয়োজন স্থানীয় সম্প্রদায়ের হাতে অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা দেওয়ার, যার রাজনৈতিক রূপ হবে গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকার।

    যথার্থ সাম্প্রদায়িকতা
    এই মুহূর্তে সর্বগ্রাসী পুঁজিবাদী অতি-কেন্দ্রাভিগ রাজনীতির বিরুদ্ধে প্রকৃতি, পরিবেশ ও মানুষের পক্ষে একটি প্রগতিশীল আন্দোলন হচ্ছে প্রয়াতঃ মার্কিন লিবার্টেরিয়ান সৌশ্যালিষ্ট ম্যুরে বূকচিন যে ‘কম্যুনালিজম’ বা ‘সাম্প্রদায়িকতা’। আমি আমার আগের লেখায় উল্লেখ করেছি, কুর্দী মার্ক্সাবাদীরা ম্যুরে বূকচিনের ‘সাম্প্রদায়িকতা’কে সবচেয় প্রগতিশীল ধারণা বলে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছেন।

    আমি বাংলাদেশের প্রগতিশীলদেরকেও যথার্থে সাম্প্রদায়িক হওয়ার পরামর্শ দেবো। আর তাঁদের বলবো, রাজনৈতিক মতবাদ হিসেবে ধর্মবাদকে লড়তে হলে ‘অসাম্প্রদায়িকতা’র বিকৃত, বিমূর্ত ও অর্থহীন ধারণা দিয়ে নয়, সরাসরি সেক্যুলারিজমের ভিত্তিতেই লড়তে হবে। আর, এই লড়াইটা সবচেয়ে ভালো হতে পারে স্থানীয়ভাবে - সাম্প্রদায়িকভাবে।

    কারণ, স্থানীয় সম্প্রদায়ই ঐতিহ্যগতভাবে ধর্ম-নির্বিশেষে পরস্পরকে আপনজন, পাড়ার লোক, গ্রামের লোক, এলাকার লোক - এমনকি দেশের লোক - বলে জানে ও মানে। আমি আগের লেখায় দেখিয়েছি, ১৮৭১ সালের মার্চে প্যারসি সম্প্রদায়সমূহ প্যারিস কমিউন গঠন করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করার সাথে-সাথে রাষ্ট্র থেকে ধর্মকে আলাদা করেছিলো। এটি ছিলো তাঁদের প্রথম কর্মসূচি।

    আমূল পরিবর্তনকারী প্রতিটি বিপ্লবে দেখা গেছে এই সম্প্রদায়িক রূপ। ফরাসী বিপ্লবে যেভাবে গড়ে উঠেছিলো প্যারিসের অঞ্চলে অঞ্চলে 'কমিউন', রুশ বলশেভিক বিপ্লবে গড়ে উঠেছিলো অঞ্চলে অঞ্চলে 'সোভিয়েত' বা পঞ্চায়েত। সেই পঞ্চায়েতগুলোর নেতৃত্বে লেনিনের বলশেভিক দলের লোকজন তেমন ছিলো না তেমন। তা সত্ত্বেও বিপ্লবের নেতা লেনিন বলেছিলেন 'power to the Soviets' - 'পঞ্চায়েতের হাতে ক্ষমতা দাও।' ১৯১৭ সালের অক্টোবর বিপ্লব (নতুন ক্যালেণ্ডারে নভেম্বর) সেই স্লৌগানের ভিত্তিতেই সংঘটিত হয়েছিলো।

    অর্থের দারিদ্র ও আদর্শের ভিক্ষাবৃত্তি
    আমি এক সময় মার্ক্সবাদী আদর্শ অনুসরণ করতাম। এখন আমি কোনো 'আদর্শ' অনুসরণ করি না। যেখানে যা সত্য আছে, সেখান থেকেই সেই সত্য গ্রহণ করি। আর, সেই সত্য গ্রহণের কষ্ঠিপাথর হিসেবে বিজ্ঞানের ওপর নির্ভর করি - বিশ্বাসের ওপর নয়।

    মার্ক্সবাদের পাঠ ও উপলব্ধির ভিত্তিতে আমার আমার সন্দেহ হয়, বাংলাদেশের কমিউনিষ্টগণ মার্ক্সবাদ-লেনিনবাদ ঠিকভাবে বুঝেছেন কি না। লেনিনীয় একদেশে-বিপ্লব তত্ত্ব অনুসারে যে-বুর্জোয়া শ্রেণীর বিরুদ্ধে বিপ্লবের কথা বলা হয়, বাংলাদেশের সে-বুর্জোয়া শ্রেণী নিজেদের মধ্যে অন্তর্কলহে লিপ্ত থাকার পরও লেনিনবাদী কমিউনিষ্টগণ জনগণের সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে যেতে পারছেন না।

    আমার ধারণা, বাঙালী কমিউনিষ্টগণ বাঙালী জাতি এবং এই জাতির অন্তর্গত সম্প্রদায়সমূহকে বুঝতে পারেননি। এঁরা যেভাবে জাতি বুঝতে ভুল করেছিলেন ইতিহাসে এবং জাতীয়তাবাদকে দিয়ে দিয়েছিলেন তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী বুর্জোয়া শ্রেণীর হাতে, একইভাবে আজ তাঁরা সম্প্রদায় বুঝতে ভুল করে 'সাম্প্রদায়িকতা' তুলে দিয়েছেন ধর্মবাদী বুর্জোয়াদের হাতে।

    তাই, অর্থ হারিয়ে এই অর্থহীন এই কমিউনিষ্টগণ রূপতঃ সর্বহারা হয়ে ভিক্ষে করে ফিরছেন বুর্জোয়া শ্রেণীর দ্বারে দ্বারে। আমি তাঁদের ভিক্ষের দেখতে পাচ্ছি বাঙালী জাতির প্রথম জাতি-রাষ্ট্রের প্রথম একনায়ক শেখ মুজিবুর রহমানের মস্তক উৎকীর্ণ বাকশালের টাকশালে মুদ্রিত একটি মূদ্রা, যার নাম 'মুক্তিযুদ্ধের চেতনা'।

    বলাই বাহুল্য, বাঙালীর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ফরাসী 'স্বাধীনতা-সাম্য-ভ্রাতৃত্ব'র মতোই একটি বুর্জোয়া চেতনা, যার মধ্যে কমিউনিষ্ট উপাদান থাকলেও, তার গুণ-মান-পরিমাণ পর্যাপ্ত নয়। আর, তা নয় বলেই আওয়ামী লীগ এই চেতনার নেতৃত্বে রয়েছে।

    কমিউনিষ্টগণ শুধু ৪৪ বছর কেনো, আরও ৪৪ দশক বছর ধরে চেষ্টা করলেও, 'মুক্তিযুদ্ধের চেতনা'র কথা বলে আওয়ামীল লীগকে 'বিট' করতে পারবে না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করলে, আওয়ামী লীগকে এর নেতা মেনেই তা ধারণ করতে হবে। এই সত্য কমিউনিষ্টগণ না বুঝলেও বাংলাদেশের যেকোনো মানুষ তা বুঝতে পারেন।

    সোমবার ৫ এপ্রিল ২০১৫
    লণ্ডন, ইংল্যাণ্ড

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন