• জেরেমি করবিন ও ব্রিটেইনের ভবিষ্যত প্রসঙ্গে
    jeremy-corbyn.jpg
    মাসুদ রানা

    আমার বিবেচনায়, বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে মানবিক ও নৈতিক রাজনীতিক হচ্ছেন ব্রিটেইনের লেইবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন। কিন্তু তিনি পুঁজিবাদ-সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী বলে ব্রিটেইনের ডীপষ্টেইট বা গহীনরাষ্ট্র তাঁকে নেতৃত্বের পদ থেকে সরাবার জন্যে সমস্ত প্রকারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

    গত শুক্রবারে ট্রেইড ইউনিয়ন Unite-এর নেতা লেন ম্যাক-ক্লাস্কী দৈনিক গার্ডিয়ানের সাথে এক সাক্ষাতকারে ব্রিটেইনের গোয়েন্দা সংস্থা এমআই-ফাইভের বিরুদ্ধে ব্ল্যাক প্র্যাক্টিসের অভিযোগ করে বলেছেন, তারা জেরেমি করবিনকে ক্ষমতা থেকে ফেলার চেষ্টা করছে।

    ম্যাক-ক্লাস্কীর এই সতর্কতামূলক বক্তব্যটি লেইবার দলের ডানপন্থীরা ডাউনপ্লে করে উড়িয়ে দিলেও দলের সদস্যদের বোধের ক্ষেত্রে ধনাত্মক ভূমিকা রাখবে। আর, লেইবারের সাধারণ সদস্যই জেরেমি করবিনের শক্তি।

    ব্রেক্সিট ব্রিটেইনের জনগণের জন্যে এই অর্থে ভালো যে, এটি ইউরোপীয় মাল্টিন্যাশন্যাল নিওলিবার‍্যালিজমের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। কিন্তু এর বিপদের দিক হচ্ছে এই যে, এটি ব্রিটেইনের জনগণকে নিয়ন্ত্রণহীন ব্রিটিশ নিওকনসার্ভেটিজমের থাবায় পতিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে।

    বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রয়োজন জনগণের মৌলিক মানবাধিকার ও ডিগনিটি রক্ষার গণ-চেতনা জাগুরুক আন্দোলন। আশার কথা এই যে, জেরেমি করবিনকে কেন্দ্র করে লেইবার পার্টিতে সেই জাগরণ তৈরি হয়েছে নতুন প্রজন্মের লক্ষ লক্ষ নাগরিক এই দলে যোগ দেওয়ার ফলে।

    নতুন প্রজন্মের লক্ষ লক্ষ প্রগতিমনা সদস্যের যোগদান ও জেরেমি করবিনের প্রতি তাঁদের অকুণ্ঠ সমর্থন লেইবার পার্টির ব্লেয়ারাইটদের টনক নাড়িয়ে দিয়েছে বলেই তাঁর বিরুদ্ধে দলের ভেতরে ডানপন্থী ক্যু দে'তার চেষ্টা করা হয়েছিলো।

    কিন্তু দক্ষিণপন্থী ব্লেয়ারাইটগণ এখনও পর্যন্ত সফল হতে পারেনি লেইবার দলের নতুন প্রজন্মের প্রগতিশীল সদস্যদের আন্দোলন-সংগঠন 'মৌমেণ্টাম' (Momentum) ও ট্রেইড ইউনিয়ন সংস্থা ইউনাইট (Unite)-এর কারণে।

    জেমেরি করবিনের নেতৃত্বের প্রতি যে চ্যালেইঞ্জ এসেছে দলের দক্ষিণপন্থীদের পক্ষ থেকে, তার চূড়ান্ত ফয়সালা হবে সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় দলীয় সম্মেলনে নেতা-নির্বাচনে।

    যদিও, এখনও পর্যন্ত জেরেমি করবিনের জনপ্রিয়তা রূপতঃ আকাশস্পর্শী, কিন্তু সতর্ক থাকতে হবে এই জন্যে যে, ব্রিটেইনের গহীনরাষ্ট্র সর্বতোভাবে চেষ্টা করবে তাঁর রাজনৈতিক মৃত্যু ঘটাতে। আর এর বিরুদ্ধের করবিনের একমাত্র রক্ষকবচ হচ্ছে নীতির প্রশ্নে আপসহীনতা।

    জেরিমি করবিনের সামনে মাত্র দু'টি পথ খোলাঃ হয় মৃত্যু নয়তো বিজয়। করবিনিজমের বিজয় মানে এক নতুন ব্রিটেইন, যার অভিঘাত হবে আন্তর্জাতিকও।

    ২৬/০৭/২০১৬
    লণ্ডন,ইংল্যাণ্ড

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন