• দেশপ্রেম কারে কয়?
    মাসুদ রানা

    ‘দেশপ্রেম’ ধারণাটি প্রাচীন হলেও এর ব্যবহার প্রাত্যহিক। তবুও বলতে দ্বিধা নেই, এর অর্থটি বরাররই জটিল। কারণ, সম্ভবতঃ দেশপ্রেমের কোনো বস্তুনিষ্ঠ ও সর্বজনীন ধারণা নেই। যুদ্ধমান দু’পক্ষের মধ্যে সংঘটিত মৃত্যুকে যেমন উভয় পক্ষই মৃত্যু বলে, দেশপ্রেমের বিষয়টি সে-রকম নয়। ধরা যাক দ্বিমেরুর বঙ্গদেশের কথা, যেখানে প্রায়শঃ একপক্ষের কাছে যা দেশপ্রেম, অন্যপক্ষের কাছে তা দেশদ্রোহ। পক্ষহীন সাধারণ মানুষ পক্ষাঘাতগ্রস্তের মতো অর্থ হাতড়ে বিমূঢ় হনঃ ‘দেশপ্রেম আসলে কী?’

    এহেন জটিল 'দেশপ্রেম'-এর অর্থকে জটিলতর করে তুলেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, দুর্নীতির অভিযোগে তাঁর পদত্যাগী মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনকে দেশপ্রেমিক ঘোষণা করে। কেনো তিনি দেশপ্রেমিক? কারণ, আন্তর্জাতিক সংস্থা কর্তৃক দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হয়ে তিনি ‘দেশের সম্মান বাঁচাতে’ পদত্যাগ করেছেন। শেখ হাসিনা দাবি করে বলেছেন, এটি করতে ‘গাট্‌স’ লাগে এবং একমাত্র আওয়ামী লীগের নেতাদেরই সেটি আছে।

    উল্লেখ্য, শেখ হাসিনার আরেক মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তও কিছু দিন আগে অর্থ কেলেঙ্কারীতে রেইল-মন্ত্রী হিসেবে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। শেখ হাসিনা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে সুনির্দিষ্টভাবে দেশপ্রেমের সার্টিফিকেইট না দিলেও, পদত্যাগের সুবাদে তিনিও ‘দেশপ্রেমিক’ হয়ে গেলেন।

    দেশপ্রেম বিষয়ে শেখ হাসিনার নিজের সম্পর্কে দাবি আরও বেশি। এই কিছু দিন আগেই দাবি করেছেন, তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ দেশপ্রেমিক, তাঁর চেয়ে বড়ো দেশপ্রেমিক আর কেউ নন। রাজনীতিকের কাছ থেকে জনগণ দলগত বাগাড়ম্বর শুনে অভ্যস্ত হলেও ব্যক্তিগত আত্মপ্রশংসা শুনে জনগণ অভ্যস্ত নন। তবুও তাঁরা  মেনে নিয়েছিলেন যাচ্ছেতাই বলার সাথে যাচ্ছেতাই খাওয়ার আদ্য-ছন্দ মিলের প্রবাদবাক্য স্মরণ করে। কিন্তু দেশপ্রেম সংক্রান্ত শেখ হাসিনার সর্বশেষ আবুল-উদাহরণ সমেত সংজ্ঞাটি সত্যি ঘাবড়ে দিয়েছে লোকজনদের।

    শেখ হাসিনার বক্তব্য সম্বলিত খবরটি দেশটির প্রধানতম বাংলা দৈনিক ‘প্রথম আলো’র অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত হবার অল্প সময়ের মধ্যে তিনশতাধিক পাঠক প্রতিবাদ করে অত্যন্ত তীর্যক মন্তব্য করেছেন। একজন লিখেছেন, ‘আবুল যদি দেশপ্রেমিক হয়, আমি তাহলে খেজুর গাছ।’ প্রতিবাদের এরকম প্রকাশ আগে চোখে পড়েনি। যাহোক, আরেকজন পাঠক অতি সরল ভাষায় কঠিন প্রশ্ন করেছেন শেখ হাসিনার প্রতিঃ ‘দেশপ্রেম কাকে বলে?’

    সাধারণ মানুষ দেশপ্রেমকে সততা, দয়া, ইত্যাদি ব্যক্তিগত ‘ভার্চ্যু’ বা সদগুণের চেয়ে উচ্চতর মাত্রার একটি কাঙ্খিত গুণ হিসেবে দেখেন। তাই আমরা ‘অসৎ দেশপ্রেমিক’, কিংবা ‘নির্দয় দেশপ্রেমিক’ বলে কোনো ধারণার আলোচনা লক্ষ্য করি না। সে-কারণেই, দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত পদত্যাগী মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের নামের সাথে ‘দেশপ্রেমিক’ অভিধাটি যুক্ত হয়ে আসাতে মানুষজন প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বিরুদ্ধাচরণ করছেন। বঙ্গজনেরা হয়তো ভাবছেনঃ দেশপ্রেমিক হলে কেউ দুর্নীতি করতে পারেন না, অসৎ হতে পারেন না। কাউকে এমনও বলতে শোনা যায়, দেশপ্রেম হচ্ছে ‘ঈমানের অঙ্গ’।

    ‘ঈমান’ সম্পর্কে আমার ধারণা সামান্য। তবে আধুনিক ইউরোপে পুঁজিবাদের বিকাশের পথে ধর্মের বিরুদ্ধাচরণের মধ্য দিয়ে দেশপ্রেমের উদ্ভব ঘটেছে। কারণ, দেশপ্রেম বা দেশানুগাত্য এসেছে রাজানুগাত্য বা রাজপ্রেমের বিপরীতে। পণ্য উৎপাদন ও বাণিজ্য প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে ও পুঁজিবাদ তার বিকাশের প্রয়োজনে চেয়েছিলো ভূমিদাসদের মুক্তি করে স্বাধীন শিল্প-শ্রমিক বানাতে, ভূমিতে শিল্প-স্থাপনা, শিল্প-বিকাশের অনুকূল যোগাযোগ ও অবাধ বাণিজ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে। এর পথে বাধা ছিলো ভোগসর্বস্ব রাজতন্ত্র আর এর ঐশ্বরিক বৈধতা দানকারী যাজকতন্ত্র। তাই যাজকতন্ত্রের আদর্শিক হাতিয়ার ধর্মবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে জন্ম হয়েছে দেশপ্রেমের, যা ভাবাদর্শ হিসেবে পুঁজিবাদকে বিকশিত হতে এবং বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়তে সাহায্য করেছিলো।

    মূলতঃ দেশপ্রেমও ধর্মের মতো একটি আদর্শবাদ। তাই ধার্মিক, দেশপ্রেমিক, আদর্শবান, ইত্যাদি বিশেষণ ও প্রকরণের মধ্যে অতিমাত্রার আবেগ ও সংবেদনশীলতা লক্ষ্যণীয়। মজার ব্যাপার হচ্ছে, এগুলো ‘হাইলী ইমোশনালী চার্জড’ হওয়া সত্ত্বেও এর আবেদন সর্বজনীন নয়। একজন নিষ্ঠাবান হিন্দু একজন নিষ্ঠাবান মুসলমানের কাছে নিতান্ত মূর্তি-পূজারী ও ‘সৃষ্টিকর্তা’র আদেশ অমান্যকারী এবং সেই অর্থে অধার্মিক। একজন ইসরায়েলী দেশপ্রেমিক একজন দেশপ্রেমিক প্যালেস্টাইনীর কাছে সাংঘাতিক আগ্রাসী দখলদার। একজন আদর্শবাদী কমিউনিস্ট একজন গণতন্ত্রবাদীর কাছে অনাদর্শিক স্বৈরতান্ত্রিক।

    কেনো এমনটি হয়? এটি হচ্ছে ‘পার্সপেক্টিভ’-এর পার্থক্যের ফল। পূর্বমুখী হয়ে দাঁড়ালে শুধু সূর্যোদয় দেখা যায়। সূর্য যে অস্তও যায়, তা দেখা যায় না। পৃথিবী যে ঘুরছে তা পৃথিবীতে দাঁড়িয়ে বুঝা যায় না। বিজ্ঞানীরা সাধারণ মানুষের চেয়ে অধিক দেখতে ও বুঝতে পারেন, কারণ তাঁরা আপেক্ষিক অর্থে ভিন্ন ‘পার্সপেক্টিভ’ থেকে দেখার ও বুঝার চেষ্টা করেন এবং কোনো দেখাকেই চূড়ান্ত ও শেষ দেখা মনে করেন না। প্রতিষ্ঠিত ধারণাগুলোকে চ্যালেইঞ্জ করা এবং ভেঙ্গে দেখা হচ্ছে বৈজ্ঞানিকতার একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

    বঙ্গজসাধারণ ধরেই নিয়েছেন, দেশপ্রেমিক হলে দুর্নীতিপরায়ণ হওয়া সম্ভব নয়; অথবা দুর্নীতিপরায়ণ হলে দেশপ্রেমিক হওয়া যায় না। এভাবে ধরে নেয়াটা কতোটুকু যৌক্তিক? পরীক্ষা করা যাক দেশপ্রেমিক শব্দটির ব্যবচ্ছেদের মাধ্যমে।

    ‘দেশপ্রেমিক’ শব্দটি সম্ভবতঃ ইংরেজি ‘প্যাট্রিয়ট’ শব্দের বঙ্গানুবাদ। ইংরেজ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে আধুনিক জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সমস্ত ধারণাই বঙ্গজনেরা পেয়েছেন ইংরেজি শেখার পর। সুতরাং ‘দেশপ্রেমিক’-এর আগমন ‘প্যাট্রিয়ট’ থেকেই হয়ে থাকবে। তো দেখা যাক, অক্সফৌর্ড ডিকশনারীতে ‘প্যাট্রিয়ট’ বলতে কী বুঝানো হয়ছে। অক্সফৌর্ড ডিকশনারী নির্দেশ করে নিশ্চিত করছিঃ তিনিই দেশপ্রেমিক, যিনি দেশকে প্রবলভাবে সমর্থন করেন এবং দেশকে রক্ষা করতে শত্রু  বা অনিষ্টকারীর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে প্রস্তুত রয়েছেন।

    এখানে সততার কোনো নাম গন্ধও নেই। আছে ‘দেশ’কে ‘সাপৌর্ট’ করা ও ‘ডিফেণ্ড’ করার ধারণা। এখন দেশ বলে কী বুঝায়? ভূখণ্ড, জনগণ, রাষ্ট্র, সরকার? একটি মূর্ত-নির্দিষ্ট মুহূর্তে দেশ বলতে বুঝায় একটি সরকারের পরিচালনায় একটি রাষ্ট্রীয় কাঠামোর অধীন, একটি জনগোষ্ঠী সমেত একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ড। এই সত্ত্বাগুলোকে পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেশ প্রেম হয় না। শুধু মাটির প্রতি ভালোবাসাই দেশপ্রেম নয়। আজ যে-ভূখণ্ডকে নিয়ে বাঙালী দেশপ্রেমে ‘আমার সোনার বাংলা’ গাইছে, সেই মাটিতে তারা এক সময় গেয়েছে ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’। তারও আগে এই মাটিতেই দেশপ্রেমিকেরা বঙ্গজনেরা গেয়েছেন অখণ্ড ভারতের বন্দনায় ‘বন্দে মাতরম্‌’ জয়গান। এখন পূর্ববর্তী কোনোটিই আর দেশপ্রেমের গান নয়। এগুলো গাইলে বাস্তবে শুনতে হবে দেশদ্রোহিতার গালি।

    দেশ প্রেমের সাথে সততার কোনো সম্পর্ক নেই। সে-জন্যেই এক সময়কার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা ছিলো গায়ে ছাপ না-লাগানোর মতো একটা ‘দেশদ্রোহিতা’, কিন্তু আজ সেই মামলাই হচ্ছে গর্বের সাথে গায়ে ধারণ করার মতো একটা ‘দেশপ্রেমিক’ ঐতিহাসিক ঘটনা। পূর্ববাংলাকে পাকিস্তান থেকে আলাদা করার 'আগরতলার ষড়যন্ত্র' কাণ্ডের সাথে শেখ মুজিবুর রহমান কোনো ভাবেই জড়িত নন, এই দাবিই ছিলো তাঁর দেশপ্রেমিকতার ফৌক্যাল পয়েন্ট। তখন জনগণ বিশ্বাস করেছিলেন যে, শেখ মুজিবুর রহমান সততার সাথে সত্যি কথাই বলছেন। কিন্তু বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, শেখ মুজিবুর রহমান পাক-আদলতে যে-ভাষ্য দিয়েছিলেন তা ছিলো মিথ্যা, কারণ তিনি পূর্ববাংলাকে পাকিস্তান থেকে আলাদা করে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র জন্ম দেবার চেষ্টায় আগরতলা কাণ্ড থেকে বিবিধ কাণ্ডের প্রথম পুরুষ এবং এর সবগুলোই এখন দেশপ্রেমের বৈশিষ্ট্য হয়ে তাঁকে মহিমান্বিত করেছে। কেউ কি আর জানতে চায় শেখ মুজিবুর রহমান সত্যবাদী ছিলেন কি-না? না, এটি অপ্রাসঙ্গিক।

    শেখ হাসিনা সৈয়দ আবুল হোসেনকে ‘দেশপ্রেমিক’ বলেছেন বলে যাঁরা তাঁর প্রতি তীর্যক মন্তব্য করছেন, তা ভাবছেন তিনি না বুঝেই এই শব্দটি ব্যবহার করেছেন। না, তিনি বুঝেই দাবি করেছেন যে, সৈয়দ আবুল হোসেন প্রকৃত দেশপ্রেমিক। শেখ হাসিনা জানেন, মাটি-মানুষ-রাষ্ট্র-সরকার এই চারটিকে তিনি যেভাবে এক লাইনে দেখেন, সৈয়দ আবুল হোসেন সেই লাইনের ‘ডিফেণ্ডার’। এর একটিও বাদ দিয়ে দেশপ্রেমিক হওয়া সম্ভব নয়। এখানে দুর্নীতি, অর্থ-কেলেঙ্কারি, অসততা, ইত্যাদি বিষয় অপ্রাসঙ্গিক ও অবান্তর। এটি যে শুধু শেখ হাসিনারই বৈশিষ্ট্য, তা নয়। এটি ডান-বাম নির্বিশেষে সবার বেলায়ই প্রযোজ্য। এখানে দৃশ্যমান ইসলামিস্ট, সৌশ্যালিস্ট ও কমিউনিস্টরা এলেও তাই করবেন।

    তাহলে এ-লেখার উদ্দেশ্য কী? শেখ হাসিনার সমর্থন? না, নিশ্চয় না। লেখার উদ্দেশ্য হচ্ছে পাঠকের মোহ ভাঙ্গানো। কিছু-কিছু শব্দ ও ধারণা নিয়ে বাঙালীর মধ্যে বেশি বাড়াবাড়ি ও আবেগের ভিত্তিহীন উচ্ছাস রয়েছে। এ-লেখার উদ্দেশ্য হচ্ছে, আবেগের ফুলানো বেলুনে যুক্তির আলপিন গেঁথে বস্তুনিষ্ঠ ও বৈজ্ঞানিক বোধ তৈরী করা।

    কথা শেষ করা যাক দেশপ্রেম সম্পর্কে ইংরেজি সাহিত্যের বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব ও জনসন ডিকশনারী অফ ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজের প্রণেতা স্যামুয়েল জনসন (১৭০৯-১৭৮৪) একটি কথা দিয়ে, যা তিনি বলেছিলেন ১৭৫৭ সালে। কথাটি হচ্ছেঃ ‘প্যাট্রিয়োটিজম ইজ দ্য লাস্ট রিফিউজ অফ দ্য স্কাউড্রেল’ - অর্থাৎ, ‘বদমায়েশদের শেষ আশ্রয়স্থল হচ্ছে দেশপ্রেম।’

    ইংরেজ এই মনিষীর কথা এখনও সত্য। আজও দেশে-দেশ দেশপ্রেমের কথা বলে মানুষের ওপর মানুষের নির্যাতন চলে। শেখ মুজিবুর রহমান মেরেছিলেন সিরাজ শিকদারকে দেশপ্রেমের কথা বলে। সিরাজ শিকদারও অস্ত্র হাতে নিয়েছিলেন শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে দেশপ্রেমের শপথ নিয়ে। শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবার হত্যা করা হয়েছে সেই দেশপ্রেমের দোহাই দিয়ে। জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসেছেন দেশপ্রেমের মন্ত্র শপথ নিয়ে। তাঁকেও মারা হয়েছে দেশপ্রেমের আঙ্গীকারে। দেশপ্রেমের জিগির তুলে জামায়াতে ইসলামীও বুদ্ধিজীবী নিধন করেছে এবং গণহত্যায় সমর্থ যুগিয়েছে।

    দেশপ্রেমের কথা বলে এখন ডান-বাম সকলেই স্ব-স্ব দিকে লোক টানতে চায়। রাষ্ট্র ক্ষমতায় যেতে চায়। কিন্তু মানুষ বিভ্রান্ত খোদ ‘দেশপ্রেম’ নিয়ে। কারণ, এটি একটি বায়বীয় ধারণা - সাবজেক্টিভ। যাঁরা প্রকৃতই দেশের মানুষের মঙ্গল চান, তাঁদের উচিত হবে এই সাবজেক্টিভ ধারণা ও বিমূর্ততা থেকে বেরিয়ে এসে মূর্ত ও বস্তুনিষ্ঠ ধারণা গড়ে তুলে জনগণের সামনে সুন্দর মানবিক জীবনের পথ দেখানো, যেখানে জনগণ প্রকৃত মনুষ্য-জীবনের অধিকার নিয়ে তার সম্ভাবনাগুলোর বিকাশ ঘটাতে পারবে।

    বাঙালী পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম জনজাতি। এই জাতির জন্য পৃথিবীতে উপযুক্ত স্থান নির্দেশ করে তাঁকে সে-দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। বিশ্ববোধ নিয়ে বিশ্ব আঙ্গিকে বাঙালীর নেতৃত্ব বিকশিত হতে হবে। সেই নেতৃত্ব গড়ে উঠুক ইতিহাসকে চ্যালেইঞ্জ করে।

    বৃহস্পতিবার, ২৬ জুলাই ২০১২
    নিউবারী পার্ক
    এসেক্স, ইংল্যাণ্ড
    masudrana1@gmail.com

পাঠকের প্রতিক্রিয়া

আল-হামদুলিল্লাহ্ লেখাটি খুবই চমতকার হয়েছে এবং আমার খুব ভালো লেগেছে।আমার মতে দেশ প্রেম নয় আমাদের উচিত আল্লাহ্'র ভিত্তির উপর দাড়ানো। আল্লাহ্ আমাকে এবং আপনাকে সঠিক বুঝ দান করুন। আমীন

খুব যৌক্তিক ও বৈজ্ঞানিক একটি লেখা। আমার ব্যক্তিগত ধারনাকেও আবার নতুন করে ভাবতে শিখাচ্ছে। লেখক যথেষ্ট মুক্তমনা ও উদাহরন ভিত্তিক একটি নিরপেক্ষ বাস্তবতাকে ফুটিয়ে তুলেছেন। এখন শুধু প্রয়োজন আমাদের দেশের আপামর জনসাধারনের নিকট এই বাস্তবতাগুলো কতো সহজ ও গ্রাহ্য ভাবে পৌছানো যায় এবং কিভাবে?

কারন সত্যকে তো একদিন বুঝতেই হবে।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন