• ধুত্তরি দূত!
    মাসুদ রানা

    ব্রিটেইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম সাইদুর রহমান খানের একটি লেখা ‘অমর একুশে বিশ্বস্বীকৃতি পেলো যেভাবে’ শিরোনামে গত সোমবার সাপ্তাহিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। লেখাটির একটি প্রকাশ সম্ভবতঃ যথেষ্ট হয়নি। তাই, একই লেখা, একই সপ্তাহে,‌ একই শহর লণ্ডন থেকে, সাপ্তাহিক সুরমাকেও প্রকাশ করতে হলো।

    দৃশ্যমান গুরুত্বের কারণেই দূতের লেখাটি অখণ্ড মনোযোগের সাথে পড়লাম। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন তিনি। লিখেছেন, জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোর সাধারণ সভায় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কী প্রস্তাব করা হয়েছিলো, কীভাবে ‘পাকিস্তান ও সৌদি আরব-সহ ২৮টি দেশ’ সে-প্রস্তাবের পক্ষে লিখিত সমর্থন দিয়েছিলো এবং কীভাবে তিনবার হাতুড়ি পিটিয়ে ‘জনাব লুডোভিট মোলনার’ ২১শে ফেব্রুয়ারীকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করলেন।

    ইতিপূর্বে এ-কথাগুলো আমরা লণ্ডনে শুনেছি তোজাম্মেল হক ওরফে টনি হকের মুখে। তা সত্ত্বেও রাষ্ট্রদূত খানের লেখায় একটি অভিনব দাবি লক্ষ্য করা গেছে, যা টনি হক কিংবা দায়িত্বশীল কোনো ব্যক্তি ইতিপূর্বে করেননি। রাষ্ট্রদূত খান দাবি করেছেন, ১৯৯৯ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর সভায় বাংলাকে "আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি" দেয়া হয়েছে।

    গত কয়েক বছর ধরে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, একুশে ফেব্রুয়ারীতে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ পালন-কালে অনেক ‘বক্তা’ এমনও পর্যন্ত বলেন যে, বাংলা ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। ধরে নিয়েছিলাম, এ-রকম দাবি সম্ভবতঃ অজ্ঞতা-প্রসূত।

    কিন্তু রাষ্ট্রদূতের মতো ‘মহামান্য’ অবস্থান থেকে যখন দাবি করা হয় যে, ২১শে ফেব্রুয়ারীকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণার ফলে বাংলা ভাষার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মিলেছে, তখন তখন তাঁকে একদিকে যেমন অবজ্ঞা করা যায় না, অন্যদিকে আবার মেনেও নেয়া যায় না। তাই ‘ধুত্তরি’ বলে নিক্ষেপ করি পরীক্ষার আগুনে।

    প্রথমে জানা দরকার বাংলাদেশ কী প্রস্তাব করেছিলো, যা গ্রহণের কারণে "বাংলা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলো"?

    বাংলাদেশের প্রস্তাবের পাঠ আমাদের কাছে নেই। তবে, রাষ্ট্রদূত খান প্রস্তাবের নম্বর (৩০সি/ডি/আর-৩৫) সহ বাংলাদেশী প্রস্তাবের ইংরেজি পাঠ পত্রস্থ করেছেন, যা হলোঃ ‘Bangladesh propses that 21st February be proclaimed as 'International Mother Language Day' throughout the World to commemorate the martyrs who sacrificed their lives on this very date in 1952’ অর্থাৎ, "বাংলাদেশে প্রস্তাব করছে যে, বিশ্বজুড়ে ২১শে ফেব্রুয়ারীকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ ঘোষণা করা হোক শহীদের স্মরণে যাঁরা তাঁদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন নির্দিষ্ট এই তারিখটিতে।"

    স্পষ্টতঃ বাংলাদেশের প্রস্তাবে বাংলা ভাষার স্বীকৃতির কোনো কিছুই নেই। বাংলাদেশ যে-প্রস্তাবই করে থাকুক না কেনো, সেটি নয়, বরং শেষ পর্যন্ত কী প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে, তাই নির্ধারক ভূমিকা পালন করবে।

    সরল অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, ১৯৯৯ সালের ১৯ নভেম্বরে প্রকাশিত ইউনেস্কোর ৩০তম জেনারেল কনফারেন্সের রিপৌর্টে এ-বিষয়ে বলা হয়েছেঃ

    30 C/DR.35 (submitted by Bangladesh and Saudi Arabia; supported by Oman, Benin, Sri Lanka, Egypt, the Russian Federation, Bahamas, Dominican Republic, Belarus, the Philippines, Côte d’Ivoire, India, Honduras, Gambia, the Federated States of Micronesia, Vanuatu, Indonesia, Papua New Guinea, Comoros, Pakistan, Islamic Republic of Iran, Lithuania, Italy and the Syrian Arab Republic) relating to paragraph 05204, the Commission recommends that the General Conference proclaim “International Mother Language Day” to be observed on 21 February.

    অর্থাৎ, ৩০ সি/ডিআর.৩৫ নং প্রস্তাবানুসারে, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের উপস্থাপিত এবং ওমান, বেনিন, শ্রীলঙ্কা, মিশর, রাশিয়া, বাহামাস, ডোমিনিকান, বেলারুস, ফিলিপিনস, আইভরি কৌস্ট, ভারত, হণ্ডুরাস, গাম্বিয়া, মাইক্রোনেসিয়া, ভ্যানুয়াটা, ইন্দোনেসিয়া, পাপুয়া নিউ গিনি, কোমোরোস, পাকিস্তান, ইরান, লিথুয়ানিয়া, ইটালী ও সিরিয়ার সমর্থিত ০৫২০৪ নং অনুচ্ছেদ প্রসঙ্গে কমিশন সুপারিশ ক্রমে জেনারেল কনফারেন্স ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ ২১শে ফেব্রুয়ারীতে পালনীয় বলে ঘোষণা করে।

    রাষ্ট্রদূত খান তাঁর লেখায় লিখেছেন, ‘এত অল্প সময়ে এত বড় অর্জন আলাদীনের আশ্চর্য প্রদীপের মতই মনে হচ্ছিল। বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিরাও আমাদের অভিনন্দন জানালেন। আমাদের সত্ত্বা ও অস্তিত্বের এক অপরিহার্য ও অমোঘ অবলম্বন মাতৃভাষা বাংলা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলো। এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কী হতে পারে’।

    ভালো কথা, মহামান্য দূত, কিন্তু কোথায় দেখলেন বাংলা ভাষার স্বীকৃতি? তার চেয়েও বড়ো কথা ভাষার স্বীকৃতি বলতে কী বুঝায়? আলাদীনের আশ্চর্য্য প্রদীপের সমস্যা হচ্ছে, এতে জ্বীন বাঁধা বলে দেখবেনঃ এই আছে, তো এই নেই।

    জাতিসংঘ কর্তৃক একটি ভাষার স্বীকৃতির দুটো মাত্রা থাকা সম্ভব। প্রথমতঃ জাতিসংঘের অভ্যন্তরে কোনো একটি ভাষাভাষীর মানুষকে তাঁর ভাষার ব্যবহার করার অনুমোদন দেয়া। দ্বিতীয়তঃ খোদ জাতিসংঘ কর্তৃক স্বীকৃতিকামী ভাষার ব্যবহার।

    ইতিহাস থেকে জানি, ১৯৭৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান জাতিসংঘে প্রথম বাংলা ভাষায় ভাষণ দেন। তাঁর সেই বাংলা ভাষণই ছিলো জাতিসংঘে কোনো বঙ্গজের পক্ষে তাঁর মাতৃভাষার অনুমোদিত প্রথম ব্যবহার। সুতরাং সেটি ছিলো একটি স্বীকৃতি।

    দ্বিতীয় স্বীকৃতি আসে ১৯৮১ সালে, যখন বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় জাতিসংঘের তথ্য কেন্দ্র স্থাপন করে সংঘের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাংলা ভাষায় প্রকাশিত হতে শুরু করে। কেন্দ্রটি সেই থেকে এখনও পর্যন্ত জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রকাশনা বাংলায় প্রকাশ ও প্রচার করে আসছে।

    প্রথম ঘটনাটি যেখানে ছিলো জাতিসংঘে গিয়ে বাঙালীর দ্বারা বাংলা ভাষা ব্যবহারে অনুমোদন জনিত স্বীকৃতি, দ্বিতীয়টি হচ্ছে জাতিসংঘের পক্ষে বাংলাদেশ থেকে বাংলা ভাষা ব্যবহার জনিত স্বীকৃতি।

    এর বাইরে আরেকটি স্বীকৃতির কথা আমাদের জানা আছে, যার পক্ষে লণ্ডন থেকে দাবী করা হয়েছিলো ২০০৪ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারীতে।

    চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের উদ্যোগে লণ্ডন বাংলা প্রেসক্লাব-সহ আরও ৬টি সংগঠনের পক্ষ থেকে জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিবে কফি আনানের কাছে দাবি করা হয়েছিলো বাংলাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে গ্রহণ করার। যুক্তি দিয়ে বলা হয়েছিলো, ফ্রেঞ্চ, ইংলিশ, রাশান, চাইনীজ, স্প্যানিশ ও  আরবী মতোই বাংলা জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে গৃহীত হবার যোগ্যতা রাখে, কারণ বাঙালী হচ্ছে পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম এথনোলিঙ্গুয়িস্টিক গ্রুপ বা ভাষা-জনজাতি।

    চারণের এ-চিঠির উত্তরে কফি আনানের পক্ষ থেকে পরামর্শ দেয়া হয়েছিলো প্রস্তাবটি যেনো কোনো সদস্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে উত্থাপিত করা হয়। প্রকৃতপক্ষে, চারণের একটি অনুষ্ঠানে বার্মিংহাম থেকে আমন্ত্রিত তোজাম্মুল হক ওরফে টনি হক চারণের চিঠি ও কফি আনানের উত্তর শোনার পর বাংলাদেশ সরকারকে এ-কাজে সম্পৃক্ত করার পরামর্শ দেয়া উচিত বলে অভিমত ব্যক্ত করেন। তাঁর ভাষণের বিস্তারিত প্রতিবেদন সাপ্তাহিক সুরমায় প্রকাশিত হয়েছিলো।

    দুর্ভাগ্যবশতঃ বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কাছে মূল চিঠির একটি প্রতিলিপি পাঠানোর পরও কোনো উত্তর মেলেনি। অথচ, ব্রিটেইনের প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার পক্ষ থেকে চিঠি প্রাপ্তি স্বীকার করে উত্তর পাঠানো হয়েছিলো।

    মোদ্দা কথা হচ্ছে,  ২০০৪ সালে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে বাংলার স্বীকৃতি চাওয়া হয়েছিলো লণ্ডন থেকে, যা হয়তো পরবর্তী পর্যায়ে বাংলাদেশের কোনো এক এমপি বিষয়টি পার্লামেন্টে উত্থাপন করেন। ধারণা করি, বাংলাদেশ সরকারে পক্ষ থেকে জাতিসংঘকে ‘এ্যাপ্রৌচ’ও করা হয়েছে, যদিও এর ফল এখনও মেলেনি।

    এর বাইরে জাতিসংঘে বাংলা ভাষার স্বীকৃতি কোনো আর কোনো ঘটনা নেই। ২১শে ফেব্রুয়ারীকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে হিসেবে গ্রহণ করা আর বাংলাভাষাকে স্বীকৃতি দেয়া এক কথা নয়। বাংলাভাষার স্বীকৃতির জন্য বাংলাদেশ কিংবা সৌদি আরব প্রস্তাবও করেনি এবং ইউনেস্কোর পক্ষ থেকে তার দেবার কোনো প্রশ্নও উঠেনি।

    সুতরাং ২১শে ফেব্রুয়ারীকে জড়িত করে বাংলা ভাষার স্বীকৃতির যে কথা সজোরে প্রচারিত হচ্ছে ইচ্ছাকৃত কিংবা অনিচ্ছাকৃত মীথ্‌। এবং এই মীথ এমনই এক পর্যায়ে উঠেছে যে, অনেকে এমনও দাবী করেন যে, বাংলা নাকি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এটি একটি হাস্যকর ও নির্বোধ দাবী।

    সোনার যেমন পাথরবাটি হয় না, মাতৃভাষা কখনও আন্তর্জাতিক হয় না। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস কথার মানে হচ্ছে বিশ্বজুড়ে নানা ভাষাভাষী লোকদের নিজ-নিজ মাতৃভাষার স্বীকৃতি ও সম্মান - বাংলাকে সব জাতির মাতৃভাষা হিসেবে গ্রহণ করা নয়। এরকম দাবী শুধু হাস্যকর ও অসম্ভবই নয়, একুশের চেতনারও পরিপন্থী।

    রাষ্ট্রদূত খান বহুদূর চলে গিয়েছেন আবেগের নৌকায় পাল তুলে। তিনি লিখেছেন, ‘বিশ্বের ১৯০টি দেশে এখন প্রতি বছর ২১শে ফেব্রুয়ারি ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসাবে উদযাপিত হচ্ছে। ঐসব দেশের মানুষ জানছে ঢাকার বুকে ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারিতে কি ঘটেছিল, কি কারণে রফিক, সালাম, বরকত, জব্বার প্রাণ দিয়েছিল। আরো জানবে বাংলা ভাষা, বাঙালি সংস্কৃতি এবং বাংলাদেশের অভ্যূদয়ের ইতিহাস। এটা যে জাতি হিসেবে আমাদের জন্য কত বড় অর্জন তা ভাবা যায় না।’

    রাষ্ট্রদূত খানের কথা অল্প-মূল্যের বাক্যবাগিশতা ছাড়া আর কিছুই নয়। তিনি বলতে, ‘পারতেন ২১শে ফেব্রুয়ারীকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে উদযাপন করা জন্য জাতিসংঘের পক্ষ থেকে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে আহবান জানানো হয়েছে’।

    ১৯০টি দেশ তো দূরের কথা খোদ বাংলাদেশেও আজ নতুন প্রজন্মের অনেক মানুষ জানেন না ২১শে ফেব্রুয়ারী কী, আর কী ঘটেছিলো ১৯৫২ সালের এই দিনে। সম্প্রতি বাংলাদেশেরই একটি সংবাদ মাধ্যম বাংলা এ্যাকাডেমীর বইমেলাতে একটি ভিডিও জরীপ করে এ-সত্য উন্মোচিত করেছে।

    বাকী ১৮৯টি দেশের মধ্যে যেখানে বাংলাদেশী বাঙালী বাস করেন, তাদের মধ্যে যাঁরা আপেক্ষিক অর্থে রাজনীতি-সচেতন এবং ইসলামবাদী নন, কেবল তাঁদেরই একটি ক্ষুদ্র অংশ নিজ-নিজ পরিধিতে একুশে ফেব্রুয়ারীকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে পালন করেন। তাঁরা জানেন এবং বলেন কী ঘটেছিলো ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারী তারিখে।

    যে-ইউনেস্কোকে বাংলাভাষার স্বীকৃতিদানকারী বলে রাষ্ট্রদূত দাবি করলেন, তার পক্ষ থেকে রুটীন ওয়ার্ক হিসেবে ২১শে ফেব্রুয়ারীতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনের কর্মসূচি নেয়া হয় এবং এতে ইউনেস্কোর পরিচালক একটি বাণী দিয়ে থাকেন।

    ইউনেস্কোর ওয়েবসাইটে সংরক্ষিত যতোগুলো বাণী আছে, সেগুলো পড়ে দেখা গিয়েছে যে, কোথাও বাংলাভাষা কিংবা ১৯৫২ সালের শহীদের নামটি পর্যন্ত নেই। আমি দৈবচয়ন পদ্ধতিতে দুটো ভাষণ পড়ে দেখেছি, এর একটি ফরাসী ভাষায় ২০০৪ সালে কোয়িচিরো মাতসুউরার বাণী এবং দ্বিতীয়টি হচ্ছে ২০১১ সালে ইংরেজিতে দেয়া ইরিনা বোকোভার ভাষণ। দুটোর একটিতেও বাংলা ভাষা কিংবা ভাষা-শহীদের নাম গন্ধও নেই।

    বস্তুতঃ থাকার কথাও নয়। জাতিসংঘের ইউনেস্কো বাংলাভাষার স্বীকৃতি কিংবা ১৯৫২ সালের বাংলা ভাষার শহীদের স্মরণ করার জন্য ২১শে ফেব্রুয়ারীকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে ঘোষণা করেনি। এটি সেই বাঙালীরাই প্রচার করছেন, যাঁরা ১৯৫২ সালের ‘শহীদ দিবস’কে আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মধ্যে বুঝে অথবা না বুঝে বিলীন করে দিতে চান।

    কিন্তু কেনো তা তাঁরা চান? এ-প্রশ্নটি দৃশ্যতঃ জটিল বটে, কিন্তু এর উত্তর পাওয়া অসম্ভব কিছু নয়।

    রোববার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০১২
    নিউবারী পার্ক
    এসেক্স, ইংল্যাণ্ড
    masudrana1@gmail.com

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন