• বাংলাদেশ ও মিসরঃ গণ-অভ্যূত্থানের ঐতিহাসিক শিক্ষা
    মাসুদ রানা

    বঙ্গপোসাগরের বাংলাদেশে ১৯৯০ সালে গণ-অভূত্থানে ছিলো একটি পরম স্লৌগানঃ ‘এক দফা এক দাবি, এরশাদ তুই কবে যাবি?’ ভূমধ্য সাগরের মিসরে গণ-অভ্যূত্থান হলো ২০১১ সালে, যেখানেও একটি পরম স্লৌগানঃ ‘এক দফা এক দাবি মুবারক তুই কবে যাবি?’ স্বদেশে স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে দুটি ভিন্ন-ভিন্ন জাতির এক অভিন্ন দাবি।

    দুটো দেশেই স্বৈরতান্ত্রিক একনায়ক - বাংলাদেশে হুসেইন এরশাদ এবং মিসরে হোসনি মুবারক -  প্রেসিডেন্ট হিসেবে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন এবং কারাদণ্ডিত হন। কিন্তু তা সত্ত্বেও সময়ের ব্যবধানে বাংলাদেশে এরশাদ এখন রাজনৈতিক ভাবে পুনর্বাসিত। মিসরেও মুবারক পুনর্বাসিত হবেন বলে আশঙ্কা করছেন অভূত্থানকারী। দু-দেশের গণ-অভ্যূত্থানকারী তথা বিপ্লবীদের মধ্যে বিষয়টি অপ্রত্যাশিত ও অগ্রহণীয়।

    গতকাল মিসরের আদালত প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারক ও তাঁর দীর্ঘ-কালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হাবিব এল-আদলিকে কারাদণ্ড দিয়েছে, যদিও মুবারকের দুই পুত্র-সহ তাঁর অন্যান্য সহযোগী রেহাই পেয়ে গিয়েছেন।

    এছাড়াও, মুরারক ও এল-আদালির বিরুদ্ধে আদালতের রায়টি হয়েছে এমনই প্রকারের, বিশেজ্ঞরা বলছেন, শেষ পর্যন্ত হয়তো মুবারকও ধোয়া তুলসী পাতা হয়ে যাবেন। কারণ, আদালত মুবারককে প্রায় এক হাজার অভ্যুত্থানকারী হত্যার জন্য দায়ী করেনি। আদালত তাঁকে দায়ী করেছে ঐ হত্যা বন্ধ করার উদ্যোগ গ্রহণ না-করার জন্য। অর্থাৎ, কমিশনের জন্য নয়, অমিশনের জন্য।

    মিসরীয় গণ-অভ্যূত্থানে অংশগ্রহণকারীদের একজনকে উদ্বৃত করে পশ্চিমের একটি গণমাধ্যম জানিয়েছে, তিনি মনে করেন যে, মুবারককে শাস্তি দিয়ে বস্তুতঃ দীর্ঘকালের গড়ে ওঠা শাসক গোষ্ঠীকে বাঁচিয়ে দিয়েছে আদালত।

    এদিকে দেখা যাচ্ছে, মুবারক-আমলের শেষ প্রধানমন্ত্রী আহমেদ শফিক মিসরে গত মাসে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম রাউণ্ডে দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত করে চূড়ান্ত রাউণ্ডে লড়ার জন্য তৈরী হয়েছেন। কিন্তু গণ-অভ্যূত্থানকারীরা এটি মেনে নিতে পারছেন না। তাঁদের প্রশ্নঃ তাহলে কি গণ-অভ্যূত্থান দেহে সফল হলেও মর্মে ব্যর্থ?  এই প্রশ্নটি মিসরের জন্য চল্‌তি হলেও বাংলাদেশের জন্য ঐতিহাসিক।

    বাংলাদেশে স্বৈরাচার-বিরোধী আন্দোলনের পথিকৃৎ না হলেও আন্দোলনে-থাকা বৃহত্তম শক্তি আওয়ামী লীগের সাথে আজ রাজনৈতিক জোটে মিত্র হয়ে উঠেছেন ‘পতিত স্বৈরাচারী’ বলে কথিত হুসেইন এরশাদ। তাঁরই সামরিক শাসনের নির্দেশে ঘাতক-ট্রাক রাস্তায় পিষে হত্যা করেছিলো মিছিলে-প্রতিবাদী আওয়ামী-কর্মী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ শিক্ষার্থী সেলিম ও দেলোয়ারকে। গণ-অভূত্থান দেহে সফল হলেও শেষতঃ মর্মে ব্যর্থ হয় কেনো? অভ্যূত্থানকারীরা কখনও বেদানার্ত, কখনও রাগান্বিত, কখনও হতাশ হয়ে এই প্রশ্নটি করেন। কিন্তু এর উত্তর কি তাঁরা জানেন?

    ইতিহাসের উত্তর আগে থেকে জানা যায় না বলে দাবি করেছেন জার্মান দার্শনিক হেগেল। তিনি রূপক ব্যবহার করে বলেছেন মিনার্ভার (গ্রীক জ্ঞান-দেবী) পেঁচক পাখা মেলে শুধুমাত্র সন্ধ্যার আঁধার নামলেই। অর্থাৎ, ইতিহাসের যবনিকাপাত হলেই ইতিহাসের সম্যক উপলব্ধি সম্ভব।

    আমি বলবো, ইতিহাসের উত্তর আগে থেকে জানা সম্ভব নয় বলেই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে হয়। হয়তো উত্তরাধুনিক পণ্ডিতেরা বলবেন, ইতিহাসের এক ঘটনা থেকে অন্য ঘটনা পৃথক। ইতিহাসে সাধারণীকরণের কোনো সুযোগ নেই, তাই শিক্ষা নেয়াও সম্ভব নয় এবং তার কোনো প্রয়োজনও নেই। বস্তুতঃ ব্যক্তি ও শ্রেণীর প্রয়োজনই ঐতিহাসিক প্রয়োজনীয়তা হিসেবে দেখানো হয়। 

    ভ্রান্ত তাঁরা, যাঁরা মানব ইতিহাসকে বিচ্ছিন্ন মনে করেন। ভ্রান্ত তাঁরাও, যাঁরা ঐতিহাসিক শিক্ষাকে উপেক্ষা করেন। অনেকে বলেন, ইতিহাসের শিক্ষাই এটি যে, ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নেন না। কিন্তু এই ‘কেউ’ হচ্ছেন তাঁরা, যাঁরা ইতিহাসের বিপরীতে দাঁড়িয়ে ইতিহাস গড়তে চান। পরিবর্তনকামীদের জন্য এ-শিক্ষাটা খুব জরুরী।

    পৃথিবীর প্রত্যেকটি বিষয় যেমন স্বতন্ত্র, এমনি সবকিছুই আন্তঃসম্পর্কিত। এই-যে স্বাতন্ত্র্য ও আন্তঃসম্পর্ক, তা একই সাথে ধারণ করে বুঝতে পারাটা জরুরী। মানব গোষ্ঠীর আচরণের স্বাতন্ত্র্য ও সাধারণ রূপ আছে বলেই সামাজিক মনোবিজ্ঞান একটি বিজ্ঞান হিসেবে বিকশিত হয়ে উঠেছে।

    মিসরের গণ-অভ্যূত্থানের নেতৃত্ব যদি দেখতেন ২২ বছর আগে গণ-অভ্যূত্থান সংঘটিত করা একটি জাতির - বাঙালীর - অভিজ্ঞতাটা কী, তাহলে তাঁরা শুরু থেকেই আরও বুঝে চলতে পারতেন। যাহোক, মিসরীয়গণ হয়তো বাঙালী জতিকে তেমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ জাতিই মনে করেননি, যার অভিজ্ঞতা তাঁদের জন্য অনুধ্যানের বিষয় হতে পারে।

    বাংলাদেশের গণ-অভ্যূত্থানের অভিজ্ঞতাটা কী? এটি একটি দীর্ঘ বিশ্লেষণের বিষয়, যা পত্রিকার এক ইস্যুতেই শেষ হবার নয়। তবে বিশ্লেষণের বৃত্তান্ত আপাত পেছনে ঠেলে দিয়ে এর নির্যাস তুলে ধরে বলা যায়, গণ-অভ্যূত্থান গড়ে ওঠার কালে যদি (১) জনগণের বিভিন্ন অংশের নিজস্ব দাবির ‘চার্টার’ গড়ে না ওঠে, (২) ঐ চার্টারকে ভিত্তি করে যদি সম্ভাব্য প্রতিটি স্থানে আলোচানা-আয়তন ও আন্দোলনের কর্ম-পরিষদ গড়ে না ওঠে, (৩) এই কর্ম-পরিষদগুলো যদি পরস্পরের সাথে সমন্বয় ও সংযোগ রক্ষা করে আন্দোলনকে একটি সাধারণ রাজনৈতিক লক্ষ্যে এগিয়ে না নিয়ে যেতে পারে, (৪) সংযোজিত ও সমন্বিত কর্ম-পরিষদগুলো যদি একটি আপোসহীন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অধীনে না আসে এবং (৫) এই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের যদি প্রচলিত ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের দর্শন ও কর্মসূচি না থাকে, তাহলে গণ-অভ্যূত্থান কিংবা গণ-অভ্যূত্থান-মূলক বিপ্লব ব্যর্থ হতে বাধ্য।

    বাংলাদেশে ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ জেনারেল এরশাদের সামরিক স্বৈরশাসন আরোপিত হবার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ ডাকসুর উদ্যোগে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তোলা হয়েছিলো। এই পরিষদ সর্বজনীন শিক্ষার ১০ দফা দাবীকে সামনে নিয়ে এক রক্তঝরা আপোসহীন আন্দোলনের সূচনা করে। সেই শিক্ষা আন্দোলনের অংশ হিসেবে ১০৮৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারীতে রাজধানী ঢাকায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দেবার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়া ছাত্র মিছিলে পুলিসের গুলিতে একাধিক প্রাণনাশের ঘটনার সূত্র ধরে সূচিত হয় রাজনৈতিক দলগুলোর সংগ্রামী ঐক্যের প্রক্রিয়া। ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের মডেলে গড়ে ওঠে বিভিন্ন পেশার সংগ্রাম পরিষদ, যার মধ্যে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ সংক্ষেপে স্কপ উল্লেখযোগ্য। আন্দোলন বিকশিত হচ্ছিলো বিপুল সম্ভাবনা নিয়ে।

    কিন্তু আমরা লক্ষ্য করলে দেখতে পাবো, উপরে উল্লিখিত ৫টির মধ্যে প্রথম ৪টি শর্ত মোটামুটি পূরণ করলেও ৫ম শর্তটি পূরণ করতে পারেনি বাংলাদেশের আশির দশকের আন্দোলন। তাই ৮ বছর ধরে তৈরি-হওয়া এই গণ-আন্দোলন সঠিক দৃষ্টিবোধ, নেতৃত্ব ও কর্মসূচির অভাবে শেষ পর্যন্ত ‘এক দফা, এক দাবি, এরশাদ তুই কবে যাবি’ প্রকারের বোধ ও কর্মসূচিতে পর্যবসিত হয়। আর এরই ভিত্তিতে ৮ বছরের গণ-আন্দোলন চলতে-চলতে ১৯৯০ সালে গণ-অভ্যূত্থান রূপে পরিণত লাভ করে। এরশাদের পতনের মধ্য দিয়ে গণ-অভ্যূত্থানটি তার পরম দাবীতে সফল হলেও আন্দোলনটি তার অন্তর্নিহিত দাবি পূরণে ব্যর্থ হয়ে যায়। বিস্মৃতির গহ্‌বরে তলিয়ে যায় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ১০ দফা ও স্কপের ৫ দফা-সহ জনগণের বিভিন্ন অংশের দাবি-দাওয়া।

    আশির দশকের গণ-আন্দোলনের সবচেয়ে এগিয়ে থাকা শক্তি, যাঁরা মূলতঃ আন্দোলনটি গড়ে তুলেছিলেন, তাঁরা এসেছিলেন সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের ধারা থেকে। কিন্তু তা সত্ত্বেও জাতীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব দেবার মতো সাহস তাঁদের ছিলো না।

    মূলতঃ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের আদর্শবাদ, কর্মসূচি, নেতৃত্ব ও ঘটনার সাথে ঐতিহাসিক ভাবে প্রয়োজনীয় একটি উল্লফন-মূলক ছেদ (ব্রেইকথ্রো) ঘটাবার মতো বুদ্ধিবৃত্তিক ও মনো-সাহসিক ক্ষমতা অর্জনে অক্ষম হবার কারণে, সম্ভাবনা থাকার পরও বামপন্থীদের হাত থেকে নেতৃত্ব চলে যায় ডানপন্থীদের হাতে।

    পরিকল্পিত বাম-ঐক্যের বদলে বাধ্য-হয়ে-গড়ে-ওঠা বাম ৫-দলীয় জোটের প্রধান নেতারা জনগণের উপর নিজেদের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করার বদলে আবির্ভূত হলেন দক্ষিণপন্থী আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র দুই ঝগড়াটে নেতৃত্বের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার ঘটক রূপে। অধিকন্তু, আদর্শিক ও রাজনৈতিক দারিদ্রের কারণে তাঁরা গোটা আন্দোলনকে নিয়ে গেলেন একটি ছন্দোবদ্ধ স্লৌগানের মধ্যেঃ ‘এক দফা, এক দাবি, এরশাদ তুই কবে যাবি।’

    এর ফলে যা হবার তাই হলোঃ এরশাদ চলে গেলেন পদত্যাগ করে, কিন্তু জনগণের জীবনের দাবি তথা ব্যবস্থা পরিবর্তনের দাবি রয়ে গেলো অপূরিত হয়েই। এমনকি স্বয়ং এরশাদও ফিরে এলেন তাঁরই বিরুদ্ধে স্লৌগান দেয়া আন্দোলনের তথাকথিত শক্তির মিত্র রূপে।

    ২০১১ সালের মিসরী গণ-অভ্যূত্থান ১৯৯০ সালের বাংলাদেশের গণ-অভ্যূত্থানের মতোই প্রথম ভুলটি করেছে সমস্ত দাবিকে ‘এক দফা এক দাবি, মুবারক তুই কবে যাবি’ মধ্যে আটকে রেখে। মিসরীয়রাও ‘নাসেরীয় আমলে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মিসরীয় সেনাবাহিনীর ঐতিহাসিক ভূমিকা’ সংক্রান্ত স্মৃতির মোহে আটকে গিয়ে মিসরীয় রাষ্ট্রের সেনা-শাসিত কাঠোমোর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারেনি। মিসরীয় সেনা-শাসিত রাষ্ট্রটিই নিজেকে রক্ষার জন্য মুবারককে ‘কুরবানি’ দিয়েছে জনগণের ‘এক দফা এক দাবি’ মেনে। বিপ্লবীরা এটেইকেই জয় মনে করে ভুল করেছেন।

    তবে ঘটনা প্রবাহ দেখে মনে হচ্ছে, অভ্যূথানের অগ্রগামী তরুণ বিপ্লবী অংশ তাঁদের ভুল বুঝতে পেরে নতুন ভাবে সংগঠিত হচ্ছেন। এ-ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে সুয়েজের তরুণ বিপ্লবীরা। তাঁরা আজ রোববারেই তাঁদের কর্মসূচি ঘোষণা করতে সক্ষম হয়েছেন। তাঁদের কর্মসূচির বিস্তারিত আমার পক্ষে এখনও জানা সম্ভব হয়নি ইংরেজিতে বিস্তারিত আসেনি বলে। তবে যতোটুকু এসেছে, তাতে দুটো রাজনৈতিক দাবি আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে।

    প্রথমতঃ তাঁরা দাবি করছেন যে, পতিত স্বৈরতন্ত্রের প্রধানমন্ত্রীকে আহমেদ শফিককে বাদ দিয়ে গণ-অভ্যূত্থানে অংশগ্রহণ-করা চার প্রত্যাশী প্রেসিডেণ্টের সমন্বয়ে একটি বিপ্লবী প্রেসিডেনশিয়াল কাউন্সিল গঠন করে একটি অন্তর্বর্তী কালের জন্য তাঁদের হাতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিতে হবে। দ্বিতীয়তঃ রাজনৈতিক ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করে একটি গণতান্ত্রিক সংবিধান প্রণয়ণ করতে হবে এবং তার ভিত্তিতে আগামীতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তার বাইরে যে তথ্য আমারা ইতোমধ্যে জেনেছি, তাতে দেখা যাচ্ছে সমাজতন্ত্রীরা সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক ও মৌলিক অধিকার বাস্তবায়নের দাবি নিয়ে এসেছেন।  

    সুয়েজ ছাড়াও রাজধানী কায়রো ও দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী আলেক্সান্দ্রিয়াতে বিপ্লবীদের সমর্থিত প্রেসিডেণ্ট প্রার্থী সাব্বাহি প্রথম রাউণ্ডে মুসলিম ব্রাদারহূডের প্রার্থীকে অনেক পেছেনে সর্বোচ্চ হারের ভৌট পেয়ে সঙ্কতে দিলেন যে, মিসরের তাহরির স্কোয়ারের গণ-অভ্যূত্থানকারীরা সম্ভাবনার দিক থেকে এখনও ইতিবাচক।

    মিসরীয় বিপ্লবীদের করণীয় হবে শহরে-শহরে, গ্রামে-গ্রামে, সেক্টরে-সেক্টরে সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তোলা, সেখানে নিজস্ব স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়সমূহ নিয়ে আলোচনা, তর্ক-বিতর্ক অব্যাহত রাখা, এবং শক্তিশালী কর্ম-পরিষদের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা উৎসাহিত করে আন্দোলনের সম্পৃক্তি ও শক্তি বৃদ্ধি করা।

    ১৯১৭ সালে বিপ্লবের প্রাক্কালে রাশিয়াতে যেভাবে জনগণের পঞ্চায়েত বা ‘সোভিয়েত’ গড়ে উঠেছিলো, যে-কোনো গণ-অভ্যূত্থানে জনগণের পক্ষের শক্তির উচিত হবে সেই ধরনের সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তোলা। আর, দেশ-ব্যাপী গড়ে ওঠা হাজার-হাজার সংগ্রাম পরিষদের সমন্বিত আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে পরিবর্তন পেকে উঠবে, নিশ্চিত করতে হবে সেই পরিবর্তন যেনো এক-দফায় পর্যবসিত না হয়ে সংগ্রাম পরিষদের দাবীর প্রতি জবাদিহিমূলক হয়। এক মাত্র এ-রকম পরিস্থিতিতে গণ-অভ্যূত্থান জনগণের পক্ষে ফল নিয়ে আসে, অন্যথায় নয়।

    ১৯৯০ সালে বাংলাদেশ একটি দারুন সুযোগ হারিয়েছে। পৃথিবীর নাগরিক হিসেবে আমার আশা, মিশরীয় গণ-অভ্যূত্থান যেনো ব্যর্থ না হয়।

    রোববার, ৩ জুন ২০১২
    নিউবারী পার্ক
    এসেক্স, ইংল্যাণ্ড
    masudrana1@gmail.com

    লেখক ১৯৮২ সালে ডাকসুর নির্বাচিত সদস্য এবং স্বৈরাচার-বিরোধী আন্দোলন সূচনাকারী ও কারাভোগকারীদের একজন।

পাঠকের প্রতিক্রিয়া

লেখাটা পড়ে মনে হলো বাংলাদেশের বামপন্থী দলগুলো ঐতিহাসিকভাবে অপদার্থ। রাজনীতির মাঠে তারা আসলেই আনফিট। তাদের না আছে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য না আছে লক্ষ্যপুরনের পরিকল্পনা। সদ্য জন্ম নেয়া গরুর বাছুর যেভাবে এদিক সেদিক ছুটাছুটি করে বাংলাদেশের বাম দলগুলোও লক্ষহীনভাবে এদিক সেদিক ছূটাছুটি করছে।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন