• বিতর্কঃ মত প্রকাশ ও ঘৃণা প্রচার
    মাসুদ রানা

    স্বাধীনতাঃ মত প্রকাশ বনাম ঘৃণা প্রচার’ শিরোনামে দেড় বছর আগে আমার একটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয় সাপ্তাহিক পত্রিকায় ও ইউকেবেঙ্গলিতে। লেখাটি ছিলো বিশ্বে সে-সময়ে ঘটমান একটি ঘটনার প্রেক্ষাপটে।

    ২০১২ সালের জুলাই মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ‘ইনৌসেন্স অফ মুসলিমস’ নামে একটি ফিল্‌ম্‌ মুক্তিপায়, যেখানে ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে ব্যাঙ্গাত্মক কাহিনী চিত্রিত করে ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে ঘৃণা প্রচার করা হয়।

    ছবিটির নির্মাতা ছিলেন মিসরীয় কপ্টিক ক্রিশ্চিয়ান, যাঁর নাম নাকোলা বাসিলি নাকোলা। ইতিপূর্বে ব্যাঙ্ক জালিয়াতিতে ধরা-পড়া নাকোলা বাসিলি নাকোলা তাঁর নাম গোপন করে এই ছবিটি তৈরি করেছিলেন।

    আমার লেখার মূল বক্তব্য ছিলো, মত প্রকাশের স্বাধীনতা মানে যা ইচ্ছে তা বলার স্বাধীনতা নয় - কারণ চূড়ান্ত বিচারে বক্তা ও শ্রোতা পরস্পরের ওপর নির্ভশীল বলে শ্রোতাকে বিবেচনা করেই বক্তাকে বলতে হয়।  তাই, একটি নর্ম বা নিয়ম না মেনে, যা ইচ্ছে তাই করলে বা বললে, তা যা ইচ্ছে তাই প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে।

    লেখাটিতে এক্সপ্রেশন ও ইম্প্রেশন বিষয়ে কগ্‌নিটিভ সাইকোলজির ধারণা ব্যবহার করে দেখিয়েছিলাম যে, সমাজের বক্তা কিংবা শ্রোতা বস্তুতঃ কেউই স্বাধীন নন। তাই, উভয়ের স্বার্থেই একটা নিয়মের অধীনে আসা জরুরি।

    লেখাটি সম্প্রতি বাংলাদেশের রংপুর থেকে বিজ্ঞান আন্দোলন পরিষদ তাদের একটি প্রকাশনায় পুনঃপ্রকাশিত করেছে। আর, সে-লেখা থেকে অংশ বিশেষ নিয়ে গতকাল ঢাকার অনলাইন এ্যাক্টিভিষ্ট ডাঃ পিনাকী ভট্টচার্য তাঁর ফেইসবুকে একটি স্টেইটাস প্রকাশ করেন।

    পিনাকী ভট্টাচার্যের জনপ্রিয়তার কারণে সেখানে অনেক পাঠকের সমারোহ হয় এবং স্বভাবতঃ বিভিন্ন ব্যক্তি বিভিন্ন ভাবে লেখা সম্পর্কে তাঁদের মতামত রাখেন। লক্ষ্যণীয়ভাবে, এঁদের মধ্যে শুভজিত ভৌমিক নামের একজন তরুণ প্রথমেই ঘোষণা করলেন “আমি মাসুদ রানা সাহেবের মতের বিরুদ্ধে গেলাম।”

    অভিনব এই ঘোষণায় অবশ্য তিনি উল্লেখও করেননি কেনো তিনি আমার মতের বিরুদ্ধে গেলেন। অধিকন্তু তিনি লিখেছেন, অভিজিত রায় নামের একজন লেখকের লেখা পড়লে “মাসুদ রানা সাহেবের ভ্রান্তি ধরা পড়বে বলে আমার মনে হয়।”

    এর উত্তরে একজন দায়িত্বশীল লেখক হিসেবে কী বলা যেতে পারে? আমি বললাম, (১) তাঁর বিরোধিতাকে আমি শতোভাগ স্বাগত জানাই; (২) ভ্রান্তিটি নির্দিষ্ট করে বললে আমি শুধরে নেবো; এবং (৩) সে-কারণে, তিনি না চাইলেও তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবো।

    তাঁর উদ্দেশ্যে কথিত আমার কথাগুলোতে কোনো আমল না দিয়ে তরুণটি লিখলেন, ‘এটা জানা আছে আপনি বিতর্ক বিষয়টা একেবারেই পারেন না এবং কাজের চেয়ে আকাজের কথা বেশি বলেন’।

    সাথে আরও বললেন, তাঁর শর্তে বিতর্ক করতে সম্মত হলে, তিনি একটি নতুন থ্রেড খুলবেন এবং আমি যেনো সেখানে যেয়ে তাঁর সাথে বিতর্কে লিপ্ত হই।

    আমি দেখলাম, তরুণটি আমার উত্তরের স্পিরিট বুঝতে পারেননি। আমি যে তাঁর বিরুদ্ধতাকে শতোভাগে স্বাগত জানালাম, ভুল সংশোধনের শর্ত-সাপেক্ষে আমি যে তাঁর প্রতি সম্ভাব্য কৃতজ্ঞতার প্রতিশ্রুতি দিলাম, এগুলোর কোনোটিরই মর্ম ও মর্যাদা তিনি বুঝেননি। বুঝলাম, এর পেছনে থাকতে পারে উন্নত সাংস্কৃতিক মান ও মূল্যবোধে অর্জনে তাঁর দুঃখজনক বঞ্চনা।

    সুতরাং আমি লিখলাম, “গালির বিপরীতে গালি দেওয়ার সংস্কৃতি কিংবা বয়স কোনোটাই আমার নেই” এবং সে-সাথে লিখলাম, “বিশ্লেষণ বিহীন রায়-দান যে বোধ-বুদ্ধি ও মননের পরিচায়ক, তা থেকে আমার বাস বহু ক্রোশ দূরে।”

    তরুণটির নিম্ন সংস্কৃতিরকারণে আমি ফেইসবুকে তাঁর সাথে বাক্য-বিনিময়ে লিপ্ত হইনি বটে, কিন্তু তাঁর কথিত আমার ‘ভ্রান্তি’ বিষয়ে বোঝার ও বিহিত করার প্রয়োজন অনুভব করছি।

    তাই, শুভজিত ভৌমিক আমার লেখার যে-বিষয়টিকে মূল বিষয় বলে নির্দেশ করেছেন, তাতেই আলোকপাত করে আমার আজকের প্রবন্ধটি রচনা করবো।

    "আমি যদি অন্যের প্রতি যা ইচ্ছা তাই করার অধিকার রাখি তবে তার প্রতিক্রিয়ায় অন্যরাও আমার উপরে যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন।"

    উপরের বাক্যটি আমার প্রবন্ধ থেকে উদ্ধৃত করে শুভজিত ভৌমিক বলেছেনঃ

    “এইটা হচ্ছে মেইন পয়েন্ট।”

    অর্থাৎ, উদ্ধৃত বাক্যে যে-বক্তব্য বিধৃত, তাতেই শুভজিত ভৌমিকের প্রধানতম আপত্তি। এবং সেই আপত্তি তিনি মূর্ত করে তুলে ধরেছেন তাঁর ভিন্নমত তুলে ধরে। তিনি লিখেছেনঃ

    “আমার মত হচ্ছেঃ আপনি রিটেন "যা ইচ্ছা তাই" আর ফিজিক্যাল "যা ইচ্ছা তাই"-কে এক কাতারে ফেলছেন। ধরলাম নাস্তিকদের লেখা "যা ইচ্ছা তাই"। তো আস্তিকদের পক্ষ থেকে তার জবাব হতে পারে সর্বোচ্চ আরেকটা "যা ইচ্ছা তাই" ধরনের "লেখা"।  কিন্তু উত্তরটা আসছে "শারীরিক ক্ষতির" মাধ্যমে। যা ইচ্ছা তাই লেখা আর যা ইচ্ছা তাই ফিজিক্যাল হার্ম করা কি এক কথা হলো ? একটা লেখাতে কি ফিজিক্যাল কোনো ক্ষতি হয়?”

    দৃশ্যতঃ শুভজিত ভৌমিক আমার মতের পাল্টামত দিয়েছেন ৪টি বাক্যে। আর, পরবর্তী ২টি বাক্যে তিনি করেছেন দু’টি প্রশ্ন। সুতরাং, আমি প্রথমে তাঁর মতের বিষয়ে বলবো এবং তারপর তার প্রশ্ন দু’টির উত্তর দেবো।

    ভৌমিকের মত ও আমার উত্তর
    (১) উপরে শুভজিত ভৌমিকের লেখা থেকে যে উদ্ধৃতি দিলাম, তার ২য় ও ৩য় বাক্যে তাঁর প্রকাশিত মত হচ্ছেঃ যদি ধরে নেওয়া যায় যে নাস্তিকের লেখা ‘যা ইচ্ছা তাই’, তাহলে আস্তিকেরও জবাব হতে পারে ‘যা ইচ্ছা তাই’ একট লেখা।

    পাঠক লক্ষ্য করুন, এই যদি তাঁর মত হয়, তাহলে আমার মতের সাথে তাঁর মতের পার্থক্য নেই। আমিও ঠিক এ-কথাটাই বলেছি এবং তিনি স্বয়ং তা উদ্ধৃত করেছেন। তাহলে, আমার ভ্রান্তি কোথায়?

    (২) ব্যাখ্যার আগেই জাজমেণ্ট দিয়ে শুভজিত ভৌমিক ১ম বাক্যে অভিযোগ করেছেন, আমি নাকি ‘রিটেন যা ইচ্ছা তাই’ ও ‘ফিজিক্যাল যা ইচ্ছা তাই’-কে এক কাতারে ফেলেছি। পাঠক লক্ষ্য করুন।

    আমরা জানি, বুদ্ধিবৃত্তিক বিতর্কে প্রতিপক্ষকে উদ্ধৃত করে সেই উদ্ধৃতির মধ্যে অসঙ্গতি ধরিয়ে ভুল নির্দেশ করা হয়। এটি একটি স্বীকৃত পদ্ধতি সেই প্রাচীন গ্রীক যুগের বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার কাল থেকে।

    পাঠক লক্ষ্য করবেন, শুভজিত ভৌমিক সেই নিয়মের প্রথম অংশটুকু মেনে আমাকে উদ্ধৃত করেছেন ঠিকই, কিন্তু আমার উদ্ধৃতির মধ্যে কোনো অসংগতি নির্দেশ করতে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। স্পষ্টতঃ ভৌমিক কর্তৃক উদ্ধৃত আমার বক্তব্যে এই ‘এক কাতারে ফেলার’ বিষয়টি আদপেই নেই।

    তাহলে তিনি তা বললেন কীভাবে? কী করে তিনি অবাস্তব ও অস্তিত্বহীন এই ক্লেইম করলেন? এর বহুবিধ ব্যাখ্যা হওয়া সম্ভব। কিন্তু আমি তাতে গেলাম না। তবে, আপাততঃ এটুকু বলাই আমার জন্য শোভন হবে যে, ক্লেইমটি তাঁর কল্পনার সৃষ্টি।

    (৩) শুভজিত ভৌমিক ৪র্থ বাক্যে এসে একটি তথ্য দিয়ে জানিয়েছেন যে, নাস্তিকদের ‘যা ইচ্ছা তাই লেখা’র উত্তরে আস্তিকদের পক্ষ থেকে নাস্তিকদের ‘শারীরিক ক্ষতি’ করা হচ্ছে।

    এটি তাঁর পর্যবেক্ষণ। তবে আমি মনে করি তাঁর বিবৃতি অতি সাধারণীকৃত। কারণ, ‘নাস্তিকদের’ বললে কিন্তু এর মধ্যে প্রত্যেক ও সব নাস্তিক অন্তর্ভূক্ত হয়ে যায়। এবং ‘আস্তিকদের পক্ষ থেকে’ বলে আস্তিকদের প্রতিনিধিত্ব নির্দেশ করা হয়।

    প্রথমতঃ নাস্তিকরা মাত্রই ‘যা ইচ্ছা তাই’ লিখছেন না এবং আস্তিক মাত্রই নাস্তিকদের ‘শারীরিক ক্ষতি’ করছেন না। ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন না এমন লোকদের অধিকাংশই ‘যা ইচ্ছা তাই’ লিখেন না। দ্বিতীয়তঃ ঈশ্বরে বিশ্বাসী লোকদেরও অধিকাংশ মানুষ নাস্তিকদের ওপর হামলা করেন না। বস্তুতঃ উভয় পক্ষেরই অতি অল্প সংখ্যক সদস্য শুভজিত ভৌমিকের দাবীকৃত প্রকরণ হিসেবে কর্মদ্বয় করেন।

    এ-কথা বলার জন্য কোনো গবেষণার প্রয়োজন নেই যে, বাংলাদেশের বেশির ভাগ মানুষই স্বল্প সংখ্যক চরমপন্থী এই দুই দলের প্রতি যার-পর-নাই বিরক্ত হন। এর চাক্ষুষ প্রমাণ হচ্ছে, নাস্তিক ব্লগার রাজীবের ইসলাম ও মুহম্মদ নিয়ে রচিত নোংরা সাহিত্য প্রকাশিত ও প্রচারিত হওয়ার সাথে-সাথে শাহবাগে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ কমে যাওয়া।

    শুভজিত ভৌমিকের প্রশ্ন ও আমার উত্তর
    (১) শুভজিত ভৌমিক প্রশ্ন করেছেন ‘যা ইচ্ছা তাই লেখা’ আর ‘যা ইচ্ছা তাই ফিজিক্যাল হার্ম’ করা এক কথা হলো কি-না।

    আমার উত্তর হলো, এটি দু’টি এক কথাও নয়, এক কর্মও নয়। কিন্তু এ-প্রশ্ন আমাকে জিজ্ঞেস করা হেতু কী, তা বোঝা গেলো না।

    আবার বলতে হচ্ছে, শুভজিত ভৌমিক আমার লেখার যে উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি আমার ‘ভ্রান্তি’ নির্দেশ করতে চেয়েছেন, তার কোথায় তো লেখা নেই ‘যা ইচ্ছা লেখা’ আর ‘যা ইচ্ছা তাই ফিজিক্যাল হার্ম করা’ এক কর্ম বা এক কথা।

    তারপরও তিনি এই প্রশ্নটি করলেন কেনো? এটি একটি পদ্ধতি যেখানে শূন্য থেকে প্রশ্ন করে অস্তিত্বের পক্ষে সন্দেহ সৃষ্টি করা হয়। অর্থাৎ, ‘লেখা ও শারীরিক ক্ষতি করা কি এক হলো’ প্রশ্ন করে প্রশ্নকর্তা দেখাতে চান যে প্রশ্নিত ব্যক্তি ইতিপূর্বে এটি বলেছেন, তা না হলে এই প্রশ্ন আসবে কেনো।

    আমি বলবো, শুভজিত ভৌমিক এই প্রশ্ন হচ্ছে বুদ্ধিবৃত্তিক বিবেচনায় যৌক্তিকতা ও সততা বিবর্জিত একটি দুষ্ট প্রশ্ন।

    (২) শুভজিত ভৌমিকের দ্বিতীয় প্রশ্ন হচ্ছে, একটা লেখাতে কি কারও ফিজিক্যাল ক্ষতি হয় কি না। এ-প্রশ্নের উত্তরটি মনে হতে পারে, ‘না’ - এক ব্যক্তির একটি লেখা অন্য ব্যক্তির মধ্য কোনো শারীরিক ক্ষতি করতে পারে না।

    কিন্তু আমি সৌশিওলিঙ্গুয়িস্টিক্স ও কগনিটিভ সাইকোলজিকে বিবেচনায় নিলে এর উত্তরে ‘না’ বলতে পারি না। মানুষের লিখিত ও উচ্চারিত শব্দ ও বাক্য শুধু অক্ষরের স্ট্রিং বা শব্দের তরঙ্গ নয়, তার চেয়েও অধিক কিছু।

    এই অধিক কিছুটা হচ্ছে তার অর্থ। চোখ বা কানের মাধ্যমে লেখা বা কথা থেকে মানুষের মস্তিষ্কে যে উপাত্ত গ্রহণ করে, তা সেনসরি লেভেল থেকে কগনিটিভ লেভেলে অর্থপূর্ণ হয়ে উঠে ব্যক্তির অতীত অভিজ্ঞতা, সামাজিক অবস্থা, প্রেষণা, উদ্দেশ্য, বিশ্বাস, মূল্যবোধ ইত্যাদির দ্বারা।

    মানুষ তার কগনিটিভ লেভেলে সেনসেরি এক্সপেরিয়েন্সে যে অর্থ তৈরি করে, তা তার এ্যাফেক্‌টিভ বা আবেগের স্তর স্পর্শ করে মস্তিষ্ক থেকে শুরু করে স্নায়ুতন্ত্র, রক্তসঞ্চালনতন্ত্র, পরিপাকতন্ত্র, পেশীতন্ত্র, অস্থিতন্ত্র-সহ সমস্ত শরীরের ওপর প্রভাব তৈরি করে।

    সুতরাং, লেখায় শরীরের ক্ষতি হতে পারে। আর সে-কারণেই মানুষ অত্যন্ত দুঃখের কিংবা আনন্দের কিংবা অবিশ্বাস্য সংবাদ পাঠে ও শ্রবণে কার্ডিয়াক এ্যারেষ্টে পড়ে মরতেও পারে।

    হেইট স্পীচ বা ঘৃণা-বাক্য পড়ে ও শুনে পৃথিবী ব্যাপী বহু মানুষ শারীরিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন। আশির দশকে ভারতে মিরাটের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সূত্র বাংলাদেশে আমাদের ছোট্ট শহরে সৃষ্ট উত্তেজানার প্রেক্ষাপটে, হিন্দুধর্মাবলম্বী আমার এক অনুজপ্রতিম বলেছিলেন, “আমরা যতো শিক্ষিত ও কিংবা সম্পদশালীই হই না কেনো, একজন মুসলিম রিকশাচলকও যদি আমাদেরকে মা*** বলে গালি দেয়, সাথে-সাথে আমাদের সমস্ত ব্যক্তিত্ব, সাহস ও গর্ব কাঁচের টুকরোর মতো খানখান হয়ে যায়।” তিনি আমাকে আরও বলেছিলেন, ভয়ঙ্কর এই শব্দ শোনার সাথে-সাথে তাঁর বুকের মধ্যে একটি শূন্যতা ও শারীরিক দূর্বলতা অনুভব করে।

    আমি তাত্ত্বিকভাবে জানি, বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মনে এই একটি শব্দের কী যে অভিঘাত, তা মুসলমান পরিবার থেকে আসা কোনো ১০০% সেক্যুলার মানুষের পক্ষেও অনুভব করা সম্ভব নয়।

    সুতরাং, শুভজিত ভৌমিকের দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তরে আমি বলবোঃ হ্যাঁ, লিখিত ও কথিত শব্দ  ‘ফিজিক্যাল হার্ম’ করতে পারে।

    শুভজিত ভৌমিকের ‘মেইন পয়েণ্ট’, ‘মত’ ও প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হলো এবং এর মধ্য দিয়ে তার দাবীকৃত কিন্তু অপ্রদর্শিত ও অনির্দেশিত আমার ‘ভ্রান্তি’ সম্পর্কে তার স্বপ্নবিলাসেরও পরিসমাপ্তি হলো।

    সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৪
    নিউবারী পার্ক
    এসেক্স, ইংল্যাণ্ড

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন