• ব্ল্যাসফেমি আইন ও বাংলাদেশের বাস্তবতা
    ফরীদ আহমদ রেজা

    সম্প্রতি বাংলাদেশে ব্ল্যাসফেমি আইন বা ধর্মবিদ্বেষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন নিয়ে অনেকে আলোচনা করছেন। কতিপয় ব্লগারের ইসলাম ধর্ম এবং নবী সম্পর্কে কথিত বিদ্বেষমূলক মন্তব্য এবং পরবর্তীতে এর বিরুদ্ধে হেফাজত ইসলামের আন্দোলন বিষয়টাকে সামনে নিয়ে এসেছে।  মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা বা বাক-স্বাধীনতা মানুষের মৌলিক মানবিক অধিকার। সংবাদপত্র, ব্লগ, বই-পুস্তক, টেলিভিশন, বক্তৃতা-বিবৃতির মাধ্যমে আজকের মানুষ তাদের মতামত প্রকাশ করে। অনিয়ন্ত্রিত বাক-স্বাধীনতা গণতন্ত্রের আবিশ্যিক উপাদান। বাক-স্বাধীনতায় রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ আরোপিত হলে গণতন্ত্র বিকশিত হয় না এবং মুক্তবুদ্ধির চর্চা অবরুদ্ধ হয়। এ কারণে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের  অধিকারী ব্যক্তি ও সমাজ বাক-স্বাধীনতার প্রশ্নে আপোসহীন।

    আমরা লেখকের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী, বাক-স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। তবে মুক্তবুদ্ধি এবং মননের চর্চা যারা করেন তাদের অবশ্যই সকল ক্ষেত্রে রুচির পরিচয় দিতেহবে। কোন সুস্থ বিবেক-বুদ্ধির অধিকারী লেখক মতামতের স্বাধীনতার নামে কোন গোষ্ঠী, শ্রেনী বা পেশার লোকদের জন্যে অপমানকর অথবা কোন ধর্মের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ মূলক রচনা লিখেতে পারেন না। মননশীল লেখকরা ‘সেলফ-সেনসরশিপ’-এর মাধ্যমে এ ধরণের অশোভন কাজ থেকে নিজেদের বিরত রাখেন। কোথাও এর ব্যত্যয় ঘটলে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে বাধ্য। গাড়ির চালকদের যে ভাবে ট্রাফিক সিগনাল মেনে চলতে হয় সে ভাবে লেখকদেরও সভ্য সমাজের অলিখিত কিছু নিয়ম-নীতি মেনে চলতে হয়। অবাধ ব্যক্তি স্বাধীনতা সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, এ ব্যাপারে কারো দ্বিমত নেই। একই ভাবে লেখকের স্বাধীনতাও অবাধ নয়, সমাজের কাছে লেখকরা দায়বদ্ধ। কোন লেখক এর ব্যতিক্রম করলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লাগাম টেনে ধরা ছাড়া উপায় থাকে না।

    রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতার মতো বাক-স্বাধীনতারও কিছু অলিখিত নিয়ম-নীতি রয়েছে। বাক-স্বাধীনতার আবিশ্যিক অনুষঙ্গ হচ্ছে অপরের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ। যে বাক-স্বাধীনতা ভিন্নমতের প্রতি রূঢ় বা সহিংস করে তুলে সেটাকে বাক-স্বাধীনতা না বলে স্বেচ্ছাচারিতা বলতে হবে। স্বেচ্ছাচারিতাকে কেউ স্বাধীনতা বলে না। পৃথিবীর কোন স্বাধীন দেশ এর নাগরিকদের স্বেচ্ছাচারিতাকে প্রশ্রয় দিতে পারে না। নাগরিকদের কেউ অপরের অধিকারে হস্তক্ষেপ করলে অথবা অরাজকতা, সন্ত্রাস, খুন-খারাবি বা লুট-তরাজ করলে সরকারকে তাদের কঠোর হাতে দমন করতে হয়। বাক-স্বাধীনতা বা মতামতের স্বাধীনতার ব্যাপারেও রাষ্ট্র একই নিয়ম মেনে চলতে বাধ্য। সকল মানুষের কাছেই তাদের ধর্মবিশ্বাস একটি স্পর্শকাতর বিষয়। শুধু মুসলমান নয়, সকল ধর্মের অনুসারীদের কাছেই তাদের ধর্মবিশ্বাস আবেগের সাথে জড়িত। তাই মতামতের স্বাধীনতার নামে কারো ধর্মবিশ্বাসকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করাকে রাষ্ট্র অনুমোদন দিতে পারে না। মানুষের বিশ্বাস নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা শুধু রুচিহীনতার পরিচয় নয়, এর ফলে সমাজে ও রাষ্ট্রে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে। কোথাও এ ধরণের প্রবণতা দেখা দিলে দেশের নাগরিক সমাজ এবং রাষ্ট্রকে রেফারির ভূমিকা পালন করতে হয়। সামাজিক রীতি-নীতি, বন্ধন ও মূল্যবোধ মানুষকে সহনশীল করে গড়ে তুলে। এর পরও কেউ বাড়াবাড়ি করলে সেখানে হস্তক্ষেপ করার অধিকার রাষ্ট্রের থাকতে হবে। এ প্রেক্ষাপটেই ধর্মের বিরুদ্ধে কটুক্তিকারীদের জন্যে বাংলাদেশে কঠোর আইন প্রণয়নের দাবি উত্থাপিত হয়েছে।

    যারা মানুষের ধর্মবিশ্বাসকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে তাদের আমরা নিন্দা জানাই। সাথে সাথে বিনীত ভাবে বলবো, বাংলাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ব্ল্যাসফেমি আইন প্রণয়ন সঠিক পদক্ষেপ হবে বলে আমাদের মনে হয় না। যেখানে আইনের শাসন নেই সেখানে যে কোন কঠোর আইন অপপ্রয়োগ হবার একশ ভাগ সম্ভাবনা থাকে। জরুরী আইন নামে একটি কালো আইন বাংলাদেশে চালু আছে। যখন যে দল ক্ষমতায় যায় তারা এ আইনকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে। ব্ল্যাসফেমি আইন হলে বিরোধীদের দমনের জন্যে ক্ষমতাসীন দল – তা সে যে দলই হোক - এ আইন প্রয়োগ করবে। পাকিস্তানে ব্ল্যাসফেমি আইন আছে এবং সেখানে এ আইনের অপপ্রয়োগ ব্যাপক ভাবে হচ্ছে। সরকার এবং দুষ্ট লোকেরা রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক স্বার্থে তা ব্যবহার করে মানুষকে হয়রানি করছে। পাকিস্তানে ব্ল্যাসফেমি আইন ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ব্যবহারের অভিযোগ বিশ্ব-মিডিয়ায় বার বার আসছে। স্বার্থান্বেষী মহল ব্ল্যাসফেমি আইনের সুযোগে অনেক নিরীহ লোককে সেখানে হয়রানি করছে।

    অনেকে হয়তো জানেন না, ব্ল্যাসফেমি আইন কোন শরয়ী আইন নয়। পাশ্চাত্যে খৃষ্টধর্মকে রক্ষা করার কথা বলে ব্ল্যাসফেমি আইন চালু হয়। সমালোচকরা মনে করেন, ধর্মরক্ষার চেয়ে মুক্তচিন্তা রুদ্ধ করাই ছিল এর লক্ষ্য। তাদের মতে মুক্তচিন্তার বিপক্ষে খৃষ্টীয় চার্চ-এর অবস্থানের কারণেই সপ্তদশ শতকে ইউরোপে ব্ল্যাসফেমি আইন প্রণয়ন করা হয়। পৃথিবীর অনেক দেশে এখনো ব্ল্যাসফেমি আইন আছে। ৪৫টি ইউরোপীয় দেশের মধ্যে ডেনমার্ক, জার্মেনি, গ্রিস, আয়ারল্যান্ড, ইটালি, মাল্টা, নেদারল্যান্ড এবং পোলান্ডে কাগজে-কলমে ব্ল্যাসফেমি আইন বহাল আছে। ২০০৮ সালে বৃটেন দু শ’ বছরের অধিক পুরানো ব্ল্যাসফেমি আইন বাতিল করেছে। মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া এবং উত্তর আফ্রিকার প্রায় ৩৩টি দেশে এ আইন বলবৎ আছে, এর অধিকাংশ মুসলিম সংখ্যগরিষ্ঠ দেশ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোন কোন অঙ্গরাজ্যে ব্ল্যাসফেমি আইনের অস্তিত্ব থাকলেও ১৯৫২ সালে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ের মাধ্যমে ধর্মীয় কারণে কাউকে শাস্তি দানের বিরুদ্ধে রায় প্রদান করে ব্ল্যাসফেমি আইনের প্রয়োগকে বন্ধ করে দেয়।

    প্রশ্নে উঠতে পারে, কারো লেখা বা বক্তব্য যদি মানুষের ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত করে তা হলে এর কি কোন প্রতিকার থাকবে না? কোন ধর্ম গ্রহণ বা বর্জন ব্যক্তির ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয় হলেও ধর্মকে আঘাত করা বা ধর্মীয় ব্যক্তিত্বকে নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করা অবশ্যই গর্হিত ব্যাপার। বাংলাদেশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হওয়ার পরও সেখানে ইসলাম ধর্ম এবং মহানবী (স)কে নিয়ে হাসি-তামাশা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। স্বাভাবিক নিয়মেই সেখানে এর বিরুদ্ধে মানুষ সোচ্চার হয়েছে। অতীতেও বাংলাদেশে কারো কোরো বিরুদ্ধে এ ধরণের অভিযোগ এসেছে। ব্লেসফেমি আইন না থাকলেও সরকারকে তা মোকাবেলা করতে বেগ পেতে হয়নি। দাউদ হায়দার, তাসলিমা নাসরিন এবং সরদার আলাউদ্দীন-এর কথা কারো কারো মনে থাকার কথা। বাংলাদেশের প্রচলিত আইনেই তদানীন্তন সরকার এ সকল অভিযোগের সুরাহা করে সংক্ষুব্ধ জনগোষ্ঠীর ক্ষোভ প্রশমন করেছে।    

    বাংলাদেশে ধর্ম অবমাননার দায়ে অতিসম্প্রতি অনেকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।  এ ধরণের অভিযোগে যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তারা সত্যিকার অর্থে ধর্ম-অবমাননা করেছেন কি করেননি তা জনগণের কাছে স্পষ্ট নয়। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ এ ধরণের অনেক মামলাকে রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা হিসেবেই দেখছে। প্রচলিত হয়রানিমূলক আইনকে যেখানে সামাল দেয়া যাচ্ছে না সেখানে ব্ল্যাসফেমি আইন হলে সে আইনের খড়গ কখন কার উপর পতিত হবে কেউ বলতে পারে না। আজ যারা এর পক্ষে জনমত গঠন করছেন তাদের বিরুদ্ধেও তা এক সময় প্রয়োগ হবে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা হচ্ছে যারা ব্ল্যাসফেমি আইনের পক্ষে বলছেন তারা অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন হবার কোন সম্ভাবনা নেই। এটা নিশ্চিত অন্যরা ক্ষমতায় যাবে এবং তখন ব্ল্যাসফেমি আইন আজকের দাবিকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা হবে।

    অনেকে ব্ল্যাসফেমি আইনের পরিবর্তে ধর্মদ্রোহী বা ধর্ম অবমাননাকারীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনের দাবি করেন। এ দাবির পক্ষে তারা শরিয়া আইন বা মদীনা রাষ্ট্রের রেফারেন্স দেন।যে কোন মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে শরিয়া আইনের একটা রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা আছে। শরিয়া আইনের কথা বলে জনগণের ধর্মীয় আবেগকে সহজেই কাজে লাগানো যায়। মদীনা রাষ্ট্রে যে সামাজিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে শরিয়া আইন চালু হয়েছিল তা বর্তমানে অনুপস্থিত। মদীনা রাষ্ট্রে ধর্মদ্রোহী বা ধর্ম অবমাননাকারী হিসেবে যাদের শাস্তি হয়েছে এর রাজনৈতিক তাৎপর্য আমাদের অনুধাবন করতে হবে যা বর্তমানে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। তা ছাড়া অনেকের কথাবার্তা শুনলে মনে হয় যেন চোরের হাতকাটা, ব্যভিচারীকে শাস্তি প্রদান প্রভৃতি ধরণের কতিপয় ফৌজদারী দন্ডবিধি প্রয়োগ করা-ই শরিয়া আইনের প্রধান লক্ষ্য। আসলে শরিয়া আইনের আসল লক্ষ্য হচ্ছে সমাজে সাম্য, ন্যায় বিচার এবং মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করা। যে সমাজে সাম্য, ন্যায় বিচার এবং মানবাধিকার নিশ্চিত নয় সেখানে শরিয়া আইন অপ্রাসঙ্গিক বিষয়। বৈশ্বিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং মুসলিম বিশ্বের সামাজিক বাস্তবতার কারণে বর্তমান সময়ের বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ তারিক রামাদান শরিয়া আইনের ফৌজদারী দন্ডবিধি মুলতবী করার পক্ষে জোর দাবি উত্থাপন করেছেন। তার এ দাবির বিপক্ষে বিতর্ক করার অবকাশ আছে, কিন্তু তার যুক্তিকে এক কথায় উড়িয়ে দেয়া যায় না।

    প্রসঙ্গক্রমে আরেকটি বিষয়ের প্রতি পাঠকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। ইসলামবিদ্বেষী ব্লগারদের বিরুদ্ধে বলতে গিয়ে অনেকে নাস্তিকদের ফাঁসি চাই বলে শ্লোগান দিয়েছেন। অবশ্য ভিন্নমতের প্রতি সহনশীল হিসেবে চিহ্নিত জনগোষ্ঠীর দেশ বাংলাদেশে ইদানীং ‘ফাঁসি চাই’ কথাটা খুব জনপ্রিয়তা পেয়েছে। আমরা দেখেছি, ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা পর্যন্ত কপালে বা বুকে ‘ফাঁসি চাই’ শ্লোগান লিখে চিৎকার দিচ্ছে। কেউ বলে যুদ্ধাপরাধীর ফঁসি চাই, কেউ বলে নাস্তিকের ফাঁসি চাই, কেউ বলে মাহমুদুর রহমানের ফাঁসি চাই এবং কেউ বলে রানাপ্লাজার মালিকের ফাঁসি চাই। আমরা জানি, স্বাধীন দেশের একজন সংক্ষুব্ধ নাগরিক গুরুতর অপরাধীর ফাঁসি চাইতে পারেন।তবে আমরা বিনয়ের সাথে বলতে চাই, দয়া করে কোমলমতি শিশুদের ফাঁসি চাই শ্লোগান শিক্ষা দেয়ার মাধ্যমে তাদের মনে হিংস্রতার বীজ বপন করবেন না। তাদের কন্ঠে ফাঁসি চাই শ্লোগানের চেয়ে ‘আলোকিত জীবন চাই’ শ্লোগান বেশি মানায়। আবার যারা নাস্তিকদের ফাঁসি দাবি করছেন তাদের প্রতি আমাদের নিবেদন, তাদের এ দাবি ইসলামী চেতনার সাথে সাংঘর্ষিক।  নাস্তিক বলতে আমরা এমন লোককে বুঝি যে স্রষ্টার অস্তিত্বে বিশ্বাস করে না। যারা হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃস্টান প্রভৃতি যে কোন ধর্মের অনুসারী তারা কেউ নাস্তিক নয়, তারা স্রষ্টায় বিশ্বাসী।তবে আল্লাহ মানুষকে এ ক্ষমতা এবং অধিকার দিয়েছেন যে সে চাইলে স্রষ্টাকে অস্বীকার করতে পারে। আল্লাহ ইচ্ছে করলে পৃথিবীর সকল মানুষকে ঈমানদার বানিয়ে ফেলতে পারতেন। কিন্তু আল্লাহ তা করেননি। তিনি ব্যাপারটা মানুষের ইচ্ছা-শক্তি ও বিবেকের উপর ছেড়ে দিয়েছেন। ইসলামের মতে, স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি বা বিবেক প্রয়োগ করে সত্যপথ গ্রহণের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে পরকালে শাস্তি বা পুরস্কার। জোর করে কাউকে আস্তিক বা মুসলমান বানানোর বিধান ইসলামে নেই। তাই যারা নাস্তিকের ফাঁসি চাই বলছেন তারা সঠিক কাজ করছেন না। নাস্তিক বা স্রষ্টার অস্তিত্বে অবিশ্বাসীদের মধ্যে অনেক রুচিশীল মানুষ আছেন যারা উদার এবং পরমতসহিষ্ণু। আপনারা জানেন না, গণতন্ত্রমনা এ সকল নাস্তিকদের অনেকে হয়তো আপনাদের দাবির প্রতি ঐকমত্য পোষণ করছেন। ইসলাম বা মহানবীর বিরুদ্ধে কটুক্তিকারীরা নাস্তিক হোক বা আস্তিক হোক, তাদের জন্যে কঠোর শাস্তি দাবি করার অধিকার যে কোন নাগরিকের রয়েছে। তবে ঢালাও ভাবে সকল নাস্তিকের ফাঁসি দাবি করা ইসলাম এবং ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।

    লন্ডন, ১৯ মে ২০১৩
    লেখকঃ শিক্ষক, কবি এবং কলামিস্ট

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন