• মুয়াম্মার গাদ্দাফিঃ ভবিষ্যতের প্রেরণা-পুরুষ
    মাসুদ রানা

    মুয়াম্মার গাদ্দাফি (১৯৪২ - ২০১১)

    গাদ্দাফি তাঁর ওয়াদা মোতাবেক স্বদেশের মাটিতেই প্রাণ দিলেন। সুযোগ ও অনুরোধ থাকার পরও তিনি দেশ ছাড়েননি। বিশাল শক্তিধর পশ্চিমা সামরিক ওয়্যার মেশিন ন্যাটো ও এর সহযোগী আল-কায়েদা-সহ তথাকথিত বিদ্রোহীদের বুহ্য-ভেদ করার সময় তিনি আহত হন।

    আরব মুসলিমদের কলঙ্কিত ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করে গাদ্দাফিকে আহত অবস্থায় খুন করা হয় - যেভাবে করা হয়েছিলো ইসলামের চতুর্থ খলিফা আলি বিন তালিবের পুত্র হুসেইনকে কারবালাতে। হুসেইন বিন আলির মৃতদেহ থেকে যেভাবে লুট করা হয়েছিলো মূল্যবান দ্রব্যাদি, তেমনিভাবে গাদ্দাফির শরীর থেকে লুট করা হয় ৪১ বছর আগের পরা তাঁর বিয়ের আংটি-সহ সব কিছু।

    গত চার দিন ধরে গাদ্দাফির মরদেহকে অসমাহিত করে রাখা হয়েছে, যেমনভাবে তিন দিন ধরে সমাহিত করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে রেখেছিলো মদিনার বিদ্রোহীরা ইসলামের তৃতীয় খলিফা ওসামান বিন আফ্‌ফানকে খুন করার পর। ওসমান বিন আফ্‌ফানের মৃতদেহ না ধুয়ে রক্তাক্ত কাপড়েই তাঁকে রাতের অন্ধকারে কবর দেয়া হয়। তাও মুসলিম সমাধিস্থল ‘বাকি আল ফারকাদে’ তাঁকে স্থান দেয়া হয়নি। কবর দেয়া হয় পার্শ্ববর্তী ইহুদিদের ‘হুশ কাউকাবে’। আজ প্রায় দেড়  হাজার বছর পর মোটামুটি একই দৃশ্য দেখতে পাচ্ছি সেই আরব মুসলামদের মধ্যে।

    বাইশ বছর বয়স্ক স্বঘোষিত হত্যাকারীর গর্বিত স্বীকারোক্তিঃ ‘রাস্তায় কিছু ছেলে-মেয়ের সাথে হেঁটে যাচ্ছিলো গাদ্দাফি। আমরা তাকে তার কোঁকড়ানো চুল দেখে চিনতে পারি। আমি তার উপর দুটো গুলি চালাই। সে সাথে-সাথে মারা যায়নি। মরেছে আধঘটা পরে। আমি তাকে একটা চড় কষাই। সে বললো, তুমি আমার পুত্রের মতো। আমি তাকে আরও একটা চড় লাগাই। তখন সে বললো, আমি তোমার পিতার মতো। এরপর আমি আমার মুঠোয় তার চুল ধরে মাটিতে ফেলে দিই। এই দেখুন তার গায়ের কাপড়। এই তার সোনালী পিস্তল। এই দেখুন সোনার আংটি যা আমি তার আঙ্গুল থেকে খুলে নিয়েছি।’

    কী ছিলো গাদ্দাফির অপরাধ? তাঁর একমাত্র অপরাধ তা হচ্ছে স্বদেশ ও স্বদেশবাসীকে ভালোবেসে তাদের জন্য একটি আন্তর্জাতিক ঋণহীন, বিনামূল্যে শিক্ষা-চিকিৎসা-বাসস্থান ও নামমাত্র মূল্যে ভর্তুকী-দেয়া খাদ্যের নিশ্চয়তা-সহ মরুভূমির শুষ্কতাকে জয় করে অফুরন্ত বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা সম্বলিত জীবন-বিধানে আত্মনিয়োগ করা।

    সাম্রাজ্যবাদের সেবাদাস রাজা ইদ্রিসকে রক্তপাতহীন পন্থায় ক্ষমতাচ্যুত করে লিবায়াতে রাজতন্ত্রের পরিবর্তে জনরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ক্যাপ্টেইন গাদ্দাফি ও তাঁর এগারোজন সঙ্গী। মার্কিন ও ইউরোপীয়দের দখল করা লিবিয়ার জাতীয় সম্পদ তিনি পুনরুদ্ধার করেছিলেন। লিবিয়া থেকে তাদের সামরিক ঘাঁটি প্রত্যাহার করতে বাধ্য করেছিলেন। তিনি লিবিয়াকে বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র ও অশিক্ষিত দেশ থেকে মাত্র চার দশকের মধ্যে আফ্রিকার সর্বাধিক উন্নত ও সুখী দেশে রূপান্তরিত করেছিলেন। এটি গাদ্দাফির দাবি নয় - জাতিসংঘের উন্নয়ন সূচকের বক্তব্য।

    অনেকেই জানেন না, লিবিয়া তেল সম্পদের চেয়েও জল সম্পদ সাম্রাজ্যাবাদীদের কাছে অধিক গুরুত্বপূর্ণ। গাদ্দাফি পৃথিবীর ইতিহাসে অমর হয়ে থাকতে পারেন শুধু তাঁর গ্রেইট ম্যান মেইড রিভারের জন্য। বর্তমানে পৃথিবীতে এটি হচ্ছে সর্ববৃহৎ ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্ক। সাহারা মরুভূমির নিচে প্রাগৈতিহাসিক কালের বিশুদ্ধ জলের সন্ধান পেয়ে তা থেকে ভূগর্ভস্থ মরুনদী তৈরী করে সারা দেশ-জুড়ে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করেছিলেন তিনি। এ-পানি ব্যবহার করে গাদ্দাফি যে-কৃষি উৎপাদন শুরু করেছিলেন, তাতে লিবিয়া খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে বিদেশে রফতানী করে বিশ্ববাজারে স্থান করতে যাচ্ছিলো।

    লিবিয়া আন্তর্জাতিক অর্থসংস্থা আইএমএফ থেকে একটি পেনি বা সেন্ট বা ইউরো ঋণ করেননি। তিনি এমন আন্তর্জাতিক ঋণমুক্ত জনরাষ্ট্র তৈরী করেছিলেন। শুধু তাই নয়, আফ্রিকার সন্তান গাদ্দাফি আফ্রিকাকে সাম্রাজ্যবাদী শোষণের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করতে তৎপর হয়েছিলেন। তিনি আফ্রিকাকে পৃথিবীর বুকে একটি শক্তিশালী মহাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। লিবিয়ায় জনরাষ্ট্রের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তিনি আফ্রিকান যুক্তরাষ্ট্র গড়ে তোলার পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।

    দুঃখজনক হলেও সত্য যে, গাদ্দাফির জনরাষ্ট্রের ধারণাটা অনেকেই নিজস্ব মানসিক প্রতিবন্ধকতার কারণে বুঝতে পারেন না বা বুঝতে চান না। প্রথমতঃ আমরা ইউরোপীয় তত্ত্ব ছাড়া অন্য কোনো তত্ত্ব নিতে অভ্যস্ত নই। এটি এক ধরনের ইউরোপীয়ান হেজেমোনি। গাদ্দাফি যেহেতু পশ্চিমা ধাঁচের পুঁজিবাদী গণতন্ত্রবাদ, ইউরপীয় সমাজতন্ত্রবাদ এবং এমনকি আরবের ইসলামী মৌলবাদকে উপেক্ষা করে তাঁর ‘থার্ড ইন্টারন্যাশনাল থিওরী’ বাস্তবায়িত করতে চেয়েছিলেন, তাই পশ্চিমা শিক্ষায় শিক্ষত এবং ইসলামী দীক্ষায় দীক্ষিতদের মধ্যে কেউই তাকে সহ্য করতে পারেননি।

    গাদ্দাফিকে সবাই বুঝতে চেয়েছে তাদের নিজেদের মাপকাঠিতে। পুঁজিবাদী গণতন্ত্রীরা দেখেছেন যে, প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্র অনুসরণ করছে না। তাই তাঁরা তাঁকে ডিকটেইটর হিসেবে দেখেছেন। কিন্তু গাদ্দাফি তাত্ত্বিক বিশ্লেষণে দেখিয়ে দিয়েছে যে, রিপ্রেজেন্টেটিভ ডেমোক্র্যাসী বস্তুতঃ গণতন্ত্র নয়। পার্লেমেন্ট এমপিরা জনগণের প্রতিনিধিত্ব করেন না। তাঁরা পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্ব করেন নিজ-নিজ রাজনৈতিক দলের।

    গাদ্দাফির পর্যবেক্ষণ কি সত্য নয়? এমনকি পার্লামেন্টের জন্মভূমি ব্রিটেইনে আমরা কী দেখি? আমাদের এমপিরা কি আমাদের মতামত তুলে ধরেন? ব্রিটেইনের মানুষ যুদ্ধ চায় না, কিন্তু পার্লামেন্ট যুদ্ধের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেয়। ব্রিটেইনের মানুষ অবৈতনিক উচ্চশিক্ষা চায়, কিন্তু পার্লামেন্ট ৯,০০০ পাউন্ডের টিউশন ফীর পক্ষে সিদ্ধান্ত নেয়।

    গাদ্দাফি বলেন, ‘পার্টি হচ্ছে পাওয়ার অফ এ্যা পার্ট অভার দ্য হৌল’ - অর্থাৎ, পার্টি হচ্ছে সমগ্রের উপর অংশ বিশেষের ক্ষমতা। এটি সত্য নয়?

    পৃথিবী জুড়ে লোকেরা না-জেনেই বিপ্লবী গাদ্দাফিকে ‘প্রেসিডেন্ট গাদ্দাফি’ বলে সম্বোধন করেন। তাঁকে পদত্যাগ করতে বলেন। কিন্তু তিনি না-প্রেসিডেন্ট, না-প্রধানমন্ত্রী কিংবা ইমাম। তিনি সিম্পলি, বিপ্লবের নেতা।

    গাদ্দাফি-যে লিবিয়াতে রক্তপাতহীন বিপ্লবের মাধ্যমে রাজতন্ত্র উৎখাত করে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির দখল হটিয়ে জনরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে দেশের সম্পদ কাজে লাগিয়ে দেশটাকে উন্নত করেছেন, এতো সত্য! তো, এটিইতো স্বাভাবিক যে, যতো দিন বেঁচে থাকবেন, ততোদিন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ক্ষমতা বা পদ-পদবী গ্রহণ না করেও তিনি বিপ্লবকে রক্ষা করবেন।

    গান্ধীতো বিল্পবও করেননি। ভারত-যে স্বাধীন হয়েছে আপোস-রফা ও ভাঙ্গনের মাধ্যমে, তাওতো গান্ধী কোনো ক্ষমতায় বা পদে না থেকেও তাঁর ভাবনার রাজত্ব করেছেন। করেননি? তিনি কংগ্রেস পার্টির প্রেসেডেন্টের পদে না থেকে কিংবা প্রার্থী না হয়েও, কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট পদে বাঙালী নেতা সুভাষ বসুর নির্বাচিত হওয়াকে গান্ধী তাঁর ব্যক্তিগত পরাজয় হিসেবে ঘোষণা করে শেষ পর্যন্ত তাঁকে দেশ-ছাড়তে বাধ্য করেননি?

    বাংলাদেশে যদি শেখ মুজিবুর রহমান প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রী না হয়ে শুধু স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেরণ পুরুষ হয়ে বেঁচে থাকতেন, তাহলে আমরা কী দেখতে পেতাম? দেখতাম, স্বাধীনতা যুদ্ধ না করেও শুধু প্রেরণা দানের জন্যই তাঁর স্বপ্ন বাংলাদেশে বাস্তবায়তি হচ্ছে - এমনকি যদি তিনি বাকাশালও কায়েম করতে চাইতেন।

    ১৯৭৫ সালের পর আওয়ামী লীগ বলতো,  ‘বঙ্গবন্ধু বাকশালের মাধ্যমে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন, তাই সিআইএ ষড়যন্ত্র করে তাঁকে হত্যা করিয়েছে।’ তর্কের অনুরোধে যদি আওয়ামীলীগের আগের কথাটা সত্য বলে ধরে নিই, তাহলে এটা কি খুব বেআদবি হয়ে যাবে যদি প্রশ্ন করিঃ আপনারা এখন তবে মার্কিনীদের ইচ্ছা তালিম করে দেশের স্বার্থ বিকোচ্ছেন কেনো? আর, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী গাদ্দাফিকে যখন ঘোষণা দিয়ে খুন করিয়ে নেয়, তখন আপনারা খুশি হোন কী মানসে?

    আমি জানি তাঁরা বলবেন, ‘সে বঙ্গবন্ধুর খুনিকে আশ্রয় দিয়েছিলো। জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ফৌন করে বলেছিলো ওদের ক্ষমা করে দিতে।’ কিন্তু গাদ্দাফি নিশ্চয় মার্কনীদের দোসর হয়ে শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে শিশু-সহ হত্যা করার মতো জঘন্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন না?

    দৃশ্যতঃ যে মার্কিনীরা খুন করলো শেখ মুজিবুর রহমানকে, তাঁরা ক্ষমা পেলো এবং এখন বাংলাদেশে সমস্ত বিষয়ে অগ্রাধিকার পাচ্ছে। আর মার্কিনীদের হাতে ক্রীড়নক খুনীদের ক্ষমা করে দেবার অনুরোধ করাতে গাদ্দাফি হয়ে উঠলেন মহা অপরাধী? এমনকি কমিনিউস্ট নেতা মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমও গাদ্দাফিকে এ-কারণে ‘বড় রকমের অপরাধে' অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন

    গাদ্দাফির সবচেয়ে বড়ো অপরাধ ছিলো তিনি না মস্কোপন্থী, না চীনাপন্থী, না মার্কিন পন্থী, না ওয়াহাবী পন্থী কিংবা ইরানপন্থী। গাদ্দাফি ছিলেন মৌলিক চিন্তার ক্ষণজন্মা পুরুষ। তিনি জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ ভিত্তিক গণতন্ত্র অর্থাৎ ডাইরেক্ট ডেমোক্র্যাসী প্রতিষ্ঠা করতে চাইছিলেন। তিনি দেশের সম্পদের উপর জনগণের মালিকানা প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। তিনি পুঁজিবাদের জঘন্য রূপ ও সিনো-সোভিয়েত সমাজতন্ত্রের সীমাবদ্ধতাও লক্ষ্য করেছিলেন। তিনি তাঁর দেশের ঐতিহ্য ও প্রথার উপর ভিত্তি করে সাম্যের ধারণার ভিত্তিতে লিবীয় সমাজতন্ত্র গড়ে তুলে তাঁর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন।

    তাঁর তত্ত্বে ও চর্চায় কিছু ঐতিহাসিক সীমাবদ্ধতা থেকে থাকতে পারে। কিন্তু তিনি অসৎ উদ্দেশ্যের লোক ছিলেন না। তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার করেছে পৃথিবীর সমস্ত মিডিয়া। তাঁর পক্ষে প্রচারের কেউ ছিলো না। কারণ তিনি ছিলেন আপোষহীন। তাঁর পক্ষে না ছিলো রাশিয়া, না ছিলো চীন, না ছিলো আরব লীগ, না ছিলো ইরান, না ছিলো তুরস্ক! শক্তির ভারসাম্যে তিনি হয়তো তাঁর ব্যক্তিগত প্রাণ হারিয়েছেন। কিন্তু তাঁর স্বপ্ন ও সংগ্রাম হারাতে পারে না।

    আমি আজ ভবিষ্যত-বাণী করছি, এক সময় আসবে যখন সারা পৃথিবীর সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী মুক্তি-পাগল মানুষের কাছে গাদ্দাফি দার্শনিক ও কর্মবীর হয়ে প্রেরণা যুগাবেন।

    আমি জানি এ-মুহূর্তে আমার এ-লেখার তেমন কোনো ‘ভক্ত’ পাবো না। তবুও লিখছি, কারণ আমার কাজ হচ্ছে ডাক দিয়ে যাওয়া। তাই ডাক দিয়ে যাই।

    রোববার, ২৩ অক্টোবর ২০১১
    নিউবারী পার্ক
    এসেক্স, ইংল্যান্ড

পাঠকের প্রতিক্রিয়া

তৃতীয় কমেন্টকারী যে বিপ্লব পালের মাইক তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।

পাল সাহেব যে তথ্য উপস্থাপন করেছেন তার সুত্র কি? এভাবে সুত্র ছাড়া তথ্য উপস্থাপন করলে তথ্যগুলো মিথ্যচার বলেই ধরে নেবো। মুক্তমনায় তাঁর লেখাটা পড়ে এটুকু নিশ্চিত করে বলতে পারি লিবিয়া বা গাদ্দাফী সম্পর্কে তার ধারনা জিরো। বিপ্লব পাল বলেছেন গাদ্দাফীর সাথে আমেরিকার সম্পর্ক ছিল এবং পরবর্তীতে সে সম্পর্ক ভেঙ্গে যায়। এই ভিত্তিহীন তথ্য তিনি কোথায় পেলেন? আর ২য় তথ্যের সুত্র কি? এরকম প্রমান ছাড়া তথ্য উপস্থাপন তো মিথ্যাচার।

তৃতীয় কমেন্টকারীকে বলি, নিজ নামে মন্তব্য করুন। কাপুরুষের মতো আর কতদিন?
যুক্তি থাকলে তা উপস্থাপন করুন। অন্যের মাইক না হয়ে নিজে কিছু লিখুন।

@এটা পেলাম

পড়লাম আপনার দেয়া লিঙ্কের লেখাটা।

পড়ার পর লেখক ভদ্রলোকের 'মনস্তাত্বিক স্থিরতা' আছে কি-না, সে প্রশ্ন যে জাগেনি মনে, তা বলবো না - তবে সেটা এখানে আলোচনা না করাই ভালো।

পুরো লেখাটায় আপাতত না যাই, আপনি যে-টুকুন এখানে পেইস্ট করেছেন তা নিয়ে দু'টো কথা বলি। গাদ্দাফি সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী এ-বক্তব্য খণ্ডন করতে গিয়ে পালবাবু বাঙালি বাম-সমাজকে দু'টো হাইকৌর্ট দেখিয়েছেনঃ

হাইকৌর্ট ১
গাদ্দাফির ঘাতক-বাহিনী ও আমেরিকা-কানেকশনঃ
[ক] গাদ্দাফির একটি গুপ্ত ঘাতক-বাহিনী ছিল - যা আফ্রিকা, (এ)সিয়া ও ইউরোপের প্রচুর রাষ্ট্রনেতা এবং সাংবাদিক হত্যা করেছে।

[খ] আমেরিকার সাথে গাদ্দাফির সম্পর্ক অত্যন্ত মধুর ছিল, পরে কোন এক অজ্ঞাত সময়ে তা তিক্ততায় পর্যবসিত হয় - যা বিরাট গল্প সাব্যস্ত করে পালবাবু আরো একটি গোপন হাইকোর্টের ইশারা দিয়েছেন পাঠকদেরকে।

হাইকৌর্ট ২
আবারও আমেরিকা কানেকশন (কেন যে আলাদা ক্যাটেগোরিতে ফেললেন কে জানে!) - সিআইএঃ
[ক] সিআইএ (যদি সিয়া বলতে পালবাবু তাই বুঝিয়ে থাকেন!) গাদ্দাফির দেখভাল করতো। ১৯৮৪ সাকে তারা গাদ্দাফিকে হত্যা করতে ব্রিটেইনের এমআই৬ এর করা একটি চক্রান্ত নস্যাত করে দেয়।

[খ] বিনিময়ে সিআইএ'র নির্দেশে গাদ্দাফির লোকজন দক্ষিণ আমেরিকা থেকে অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত মহাদেশগুলো জুড়ে কমিউনিস্ট পার্টিগুলোতে টাকা ঢেলে সুঁচ হয়ে ঢুকতো। এভাবে তাদের গোপন তথ্য গাদ্দাফির লোকেরা পাচার করে আমেরিকাকে দিতো।

তাঁর করা ক্যাটেগোরাইজেশনের ধরণ দেখে মনে হতে পারে যে, বৈজ্ঞানিক কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে তো বটেই, কী-করে বক্তব্য গুছিয়ে প্রকাশ করতে হয় সে-সম্পর্কেও ধারণার অভাব আছে জনাব পালের। কিন্তু প্রোফাইল পড়ে জানা গেলো তিনি একাধারে একজন আলোক-প্রযুক্তিবিদ ও লেখক। অর্থাৎ সন্দেহীত দুই বিষয়েই তার আনুষ্ঠানিক শিক্ষা অথবা অভিজ্ঞতা রয়েছে। সুতরাং বাদ দিলাম সে-প্রসঙ্গ। বরং বক্তব্যে যাইঃ তিনি বলছেন আমেরিকা গাদ্দাফির প্রাণের দোস্ত! সিআইএ তাঁকে ব্রিটিশ হত্যা-ষড়যন্তের হাত থেকে বাঁচায় ইত্যাদি ইত্যাদি।

কিন্তু প্রমাণ কই পালবাবু? সারা পৃথিবীকে তাক লাগিয়ে দিয়ে এতো বড়ো একটি গোয়েন্দা আবিষ্কার করে ফেললেন, প্রমাণ দেখান তার। না, প্রমাণ নেই। তবে পরিবেশিত তথ্যের জন্ম কী তাঁর মধুর স্বপনে? নাকি তিনি নিজেকে পয়গম্বর ঠাউরেছেন যে, যা বলবেন লোকে বিনা-বাক্যব্যয়ে তা-ই মেনে নেবে! প্রমাণ-চাহিদার আশঙ্কায় তিনি আগেই বলে দিয়েছেন, সে-এক বিরাট গল্প ভায়া! আপনি চতুর বটেন হে পাল! কিন্তু ছলচাতুরী দিয়ে তো বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনা করা যায় না, শঠতা করা যায় মাত্র।

আরও মজার বিষয় হচ্ছে তাঁর লেখার পাঠকরাও নির্দেশিত হাইকৌর্ট দেখে মরি মরি বলে তালিয়া বাজাচ্ছেন - ঠিক যেন দৃষ্টিহীনেরই মতো। বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়ে একজন লিখিয়ের কাজ পাঠকের ভাবনার কপাট খুলে দেয়া। আর পাল করছেন উল্টোটা - দিচ্ছেন তালা লাগিয়ে।

আপনি সার্থক বটেন পাল সাহেব - হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার মতো সফল আপনি!

hahaha, eta pelam..

আজ যখন কিছু কিছু বাম বাঙালী তাকে আমেরিকান সম্রাজ্যবাদ বিরোধি এক চরিত্র বলে হিরো বানানোর চেষ্টা করছে-তাদের দুটো তথ্য জানা উচিতঃ

এক -১৯৮০ থেকে প্যান এম বোম্বিং- সিয়া আফ্রিকা এবং ইউরোপের প্রচুর রাষ্ট্রনেতা এবং জার্নালিস্টদের হত্যা করেছে গদ্দাফির ঘাতক বাহিনী কাজে লাগিয়ে। গদ্দাফির অন্যতম বড় সমর্থক ছিল আমেরিকা। দীর্ঘদিন।
কেন গদ্দাফি-আমেরিকার সম্পর্ক ভেঙে শত্রুতা শুরু হল-সেটা লম্বা কাহিনী।

দুই-১৯৮৪ সালে তাকে খুন করার জন্যে বৃটিশ ইন্টালিজেন্সের ছক ও ভেস্তে দেয় সিয়া! কারন? কারন লিবিয়ার টাকা খাটত অনেক কমিনিউস্ট “বিপ্লবী” পার্টিতে। ব্রাজিল থেকে অস্ট্রেলিয়া-অনেক জায়গাতে কমিনিউস্ট আন্দোলনে টাকা ঢালতেন গদ্দাফি। মজার ব্যাপার হচ্ছে এগুলো গদ্দাফি করত সিয়ার নির্দেশে। কারন ওইসব পার্টিগুলিতে লিবিয়ান ইন্টালিজেন্সির মাথাগুলি ঢুকে যেত। আর খবর পাচার হয়ে যেত সিয়ার কাছে।

http://mukto-mona.com/bangla_blog/?p=19508

গাদ্দাফি তোমায় সালাম, ইতিহাস তোমায় একদিন স্বরন করবে।

ক্ষনজন্মা এই বীরের নাম লিখা থাকবে ইতিহাসের পাতায়।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন