• শাহবাগ-আন্দোলনঃ কতিপয় দ্বন্দ্ব
    মাসুদ রানা

    ফাঁসির নাগালের বাইরে থাকা প্রাক্তন জামায়াতী ও মানবতাবিরোধী অপরাধী আবুল কালাম আযাদের ফাঁসিদণ্ড ঘোষণার মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা বৃদ্ধির পর, বর্তমান জামায়াত-নেতা ও উচ্চতরমাত্রার অপরাধী কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড গুরু অপরাধে লঘু সাজা হিসেবে প্রত্যক্ষিত হয়।

    তার আগে, জামায়াত-শিবিরের নতুন প্রজন্মের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইতিবাচক মন্তব্য, পুলিসকে জামায়াতের কর্মীদের রজনীগন্ধা উপহার এবং সর্বোপরি জামায়াতের কর্মসূচির প্রতি রাষ্ট্রের আশ্চর্য্য নমনীয়তা ও সহযোগিতার ফলে আওয়ামী লীগের সাথে জামায়াতের একটি গোপন বুঝাপড়া হয়েছে বলে সন্দেহ দেখা দেয়।

    এ-ঘটনার সুযোগ নিয়ে ‘ব্লগার এ্যাণ্ড অনলাইন এ্যাক্টিভিস্ট নেটওয়ার্ক’ সংগঠনের ব্লগারগণ শাহবাগ চত্বরে এসে তাঁদের ‘ডিফায়েন্স’ দেখিয়ে বললেনঃ ‘এ-রায় মানি না, কাদের মোল্লার ফাঁসি চাই।’

    অন্য অনেক দেশের মতো একই নাম ও প্রতীকযুক্ত সংগঠন ‘ইয়ুথ ফর পীস এ্যাণ্ড ডেমোক্র্যাসি’র মধ্যে এ-ব্লগারগণ ডঃ জিন শার্পের সূত্রায়িত ‘ননভায়োলেন্ট পলিটিক্যাল ডিফায়েন্স’ সংঘটিত করার উদ্দেশ্যে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে তৈরী হয়েছিলেন। এ-সংগঠনের প্রেসিডেন্ট ইরমান এইচ সরকারের প্রজন্মব্লগে গত ২৫ মে ২০১২ তারিখে স্পষ্ট বলা হয়েছিলো, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে ঘটতে যাচ্ছে একটা অনেক বড় পরিবর্তন’ এবং ‘এই পরিবর্তনটি আসছে যুদ্ধাপরাধীর বিচারের মধ্য দিয়ে।’

    সুতরাং, ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে আরব বসন্ত,  মার্কিন দেশে ‘অকুপাই’ আন্দোলন ও ভারতে ধর্ষণ-বিরোধী আন্দোলন, ইত্যাদি দেখে মানসিকভাবে উদ্দীপ্ত এবং ৪২ বছর ধরে বহু-বঞ্চনার কারণে কর্তৃপক্ষ-বিরোধী নাগরিকগণ গণমাধ্যমের ‘এণ্ডৌর্সমেন্ট’ বা পৃষ্ঠপোষকতায় লাখে-লাখে জড়ো হলেন শাহবাগ-চত্বরে। শুরু হলো শাহবাগ-আন্দোলন, যার দাবি হচ্ছে প্রধানতঃ সকল যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি, জামায়াতে ইসলামীর নিষিদ্ধি, জামায়াতী-চিহ্নিত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বর্জন, ইত্যাদি।

    শাহবাগ প্রসঙ্গে আমার আগের দু’টি লেখার প্রথমটিতে সূচনা এবং দ্বিতীয়টিতে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করেছি। তৃতীয় পর্বের এ-লেখায় দেখানো হচ্ছে আন্দোলনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব।

    (১) মৌলিক দ্বন্দ্বঃ রূপ বনাম বিষয়
    শাহবাগ-আন্দোলন তাত্ত্বিকভাবে, গান্ধীবাদী ‘ননভায়োলেন্ট ডিফায়েন্স’ বা অহিংস অমান্যতায় ভিত্তিষ্ঠিত। এ-আন্দোলনের ‘ফর্ম’ বা রূপ ‘ডিফায়েন্ট’ বা অমান্যবাদী, কিন্তু এর ‘কন্টেন্ট’ বা বিষয়বস্তু হচ্ছে ‘কনফর্মেশন্যাল’ বা আনুগত্যশীল। অর্থাৎ, ভঙ্গিটি অমান্যতা প্রদর্শনমূলক হলেও ভেতরটা বস্তুতঃ আনুগত্যপূর্ণ।

    যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও শাস্তির প্রশ্নে কর্তৃপক্ষের সাথে শাহবাগের অমান্যাবাদীদের যে-পার্থক্য, তা হচ্ছে ‘স্কেইলার ডিফারেন্স’ বা মাত্রার পার্থক্য। বিজ্ঞান বলে, যে-কোনো ক্রিয়ার যেমন ‘ম্যাগনিচ্যুড’ বা মাত্রা থাকে, তেমনি তার ‘ডাইরেকশন’ বা দিকও থাকে। এ-বিবেচনায় কর্তৃপক্ষের সাথে শাহবাগ-আন্দোলনের কোনো ‘ভেক্টর ডিফারেন্স’ বা মাত্রা-দিক-সমন্বিত পার্থক্য নেই।

    শাহবাগ-সমাবেশের অমান্যতা ভীষণ মূর্ত, কিন্তু কার বিরুদ্ধে এ-অমান্যতা, তা খুবই বিমূর্ত। ‘যাবাজ্জীবন কারাদণ্ড মানি না’ স্লৌগান হচ্ছে অমান্যতার দিক। কিন্তু কোন্‌ কর্তৃপক্ষে বিরুদ্ধে এ-আমন্যতা, তার উল্লেখ না করে নিরুত্তর থাকা হচ্ছে অমান্যতার ঘাটতির দিক। তাই দেখি, শাহবাগ-সমাবেশ আদালতের রায় না-মানার স্লৌগান দিলেও কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে - অর্থাৎ আদালত বা সরকারের বিরুদ্ধে - কোনো কথা বলছে না। এর মানে হচ্ছে, কর্তৃপক্ষের সাথে অমান্যবাদীদের কোনো মৌলিক দ্বন্দ্ব নেই।

    উল্লেখ করা প্রয়োজন, ডঃ শার্প তাঁর ‘ফ্রম ডিক্টেইটর টু ডেমোক্র্যাসি’ বইতে অহিংস অমান্যতার যে-সকল ‘ট্যাকটিক’ বা কৌশল ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন, তাতে প্রতিপক্ষ হিসেবে ধরা হয়েছে একটি স্বৈরতান্ত্রিক কর্তৃপক্ষকে। কিন্তু শাহবাগ-আন্দোলনে অমান্যতার ক্ষেত্রে এই যে কর্তৃপক্ষ-বিরুদ্ধতাহীনতা, এটি হচ্ছে শাহবাগ-আন্দোলনের মৌলিক দ্বন্দ্ব ও মূল সীমাবদ্ধতা। আর, এ-কারণেই কর্তৃপক্ষ বা সরকার কয়েক দিনের মধ্যেই এ-আন্দোলনকে উদরস্থ করে ফেলতে সক্ষম হয়েছে।

    (২) আদর্শিক দ্বন্দ্বঃ অহিংসা বনাম জিঘাংসা
    শাহবাগ-আন্দোলনের ফর্ম ও কন্টেন্টের দ্বন্দ্ব ছাড়াও আছে একটি আদর্শিক দ্বন্দ্ব। গান্ধীর অহিংস অমান্যতা সুনির্দিষ্টভাবে হত্যা, প্রতিশোধ, ইত্যাদি হিংসাবৃত্তির বিরোধী। ভারতীয় গান্ধী জার্মান ফ্রয়েডের মতো মনে করেন না যে, মানুষ মৌলিকভাবে ‘ইরেশনাল’। অহিংসবাদ মনে করে, মানুষ মৌলিকভাবে ‘রেশন্যাল’। ‘ইরেশন্যাল’ ও প্রবল শক্তিকে অহিংসা-অমান্যতার দ্বারা নৈতিকভাবে পরাস্ত করে ‘রেশনালিজম’ প্রতিষ্ঠাই এর লক্ষ্য।

    জ্বালাও-পোড়াও-ভাঙ্গো-মারো প্রবণতার মিছিল-হরতালের পথে না যেয়ে, নগরচত্বর অধিকার, ঘরে-না-ফেরা, নৃত্য-গীত প্রদর্শনী, পতাকা উত্তোলন, স্বর্গে বেলুন-পত্র প্রেরণ, ইত্যাদির মাধ্যমে শাহবাগ আন্দোলন তার অহিংস-অমান্যতার ফর্ম বজায় রাখলেও, এর উচ্চারিত ‘ফাঁসি চাই’ দাবির মধ্য আছে বিশাল এক জিঘাংসা। এ-মৃত্যুক্ষুধা দার্শনিকভাবে অহিংসাবাদের সম্পূর্ণ বিরোধী।

    কোনো-কোনো ধর্ম নিজেকে ‘শান্তির ধর্ম’ বলে দাবি করলেও, ব্যক্তিকে তাঁর কর্মের জন্য ব্যক্তিগতভাবে দায়ি করে পুরষ্কার ও শাস্তির ব্যবস্থা রেখে জীবনের বদলে জীবন কিংবা চক্ষুর বদলে চুক্ষর বিধানও দিয়েছে। কিন্তু, বৌদ্ধনীতি-ভক্ত অহিংসবাদী গান্ধী বলেছেন, ‘An eye for an eye turns the whole world blind’ - অর্থাৎ ‘চক্ষুর বদলে চক্ষু নিলে সারা পৃথিবীটাই অন্ধ হয়ে যায়’।

    শাহবাগ-আন্দোলনে উচ্চারিত ‘ফাঁসি চাই’ দাবি অহিংসা ধারণ করে না। ব্লগারগণ ধর্ম প্রসঙ্গে মুখে ও ব্লগে যাই প্রকাশ করুন না কেনো, ওঁরাও কিন্তু ‘চক্ষুর বদলে চক্ষু’ নীতি ও সংস্কৃতির মধ্যেই ক্রিয়াশীল।

    শিশু-মনোবিজ্ঞানী ও বিকাশ-মনোবিজ্ঞানীরা হয়তো রীতিমতো শঙ্কিত হবে যে, শাহবাগ-সমাবেশে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক থেকে শুরু করে ছোট্ট শিশুরা পর্যন্ত ‘বিচার চাই, বিচার চাই’ না বলে, ‘ফাঁসি চাই, ফাঁসি চাই’ বলছেন। কোমলমতি শিশুদের মধ্যেও দেশপ্রেমের নামে ঘৃণা, জিঘাংসা ও মৃত্যুক্ষুধা জাগিয়ে তোলা হচ্ছে। এটি ভালো কি মন্দ সে-বিতর্কে না গিয়ে, অন্ততঃ নিরাপদে বলা যায় যে, তা মোটেও অহিংসবাদকে প্রতিফলিত করে না।

    (৩) আইনতাত্ত্বিক দ্বন্দ্বঃ আদালত বনাম জনমত
    শাহবাগ-আন্দোলনের উল্লিখিত দ্বন্দ্ব-দু’টি পৃষ্ঠদৃষ্টে এতো স্পষ্ট নয়। কারণ, এর প্রত্যক্ষণের জন্য গভীরতর মনোনিবেশের প্রয়োজন। হয়তো প্রয়োজন গভীরতর দার্শনিক বোধেরও। কিন্তু এ-আন্দোলনের আইনতত্ত্ব সম্পর্কিত দ্বন্দ্ব সহজবোধ্য।

    প্রথমতঃ একদিকে আদালতের শীর্ষতাকে মান্য করা এবং অন্যদিকে তার রায়কে অমান্য করার মধ্য দিয়ে শাহবাগ-আন্দোলন এমন একটি দ্বন্দ্বের জন্ম দিয়েছে, যা আদলতের শীর্ষতা বজায় রাখাকে দুরহ করে তুলেছে। আদালতকে রাস্তায় সমাবেশিত মানুষকে খুশি করার মতো রায় দেবার দিকে পরিচালিত করা হচ্ছে। এমনকি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আদালতের উদ্দেশ্য জনগণের আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটিয়ে রায় দিতে বলেছেন।

    ‘রুল অফ ল’ বা আইনের শাসন নিশ্চিত করার জন্য আইন ও আদালতের স্বাধীনতা ও শীর্ষতার স্বীকৃতি ও মান্যতা অপরিহার্য্য। আদালত যদি কোনো পদ্ধতিগত বা প্রক্রিয়াগত বা আচরণগত ভুল কিংবা আইনের লঙ্ঘন করে না-থাকে, তাহলে আদলতের রায়ের প্রশ্নাতীত মান্যতা প্রয়োজন।

    আদালতের ব্যাপারে হতাশা প্রকাশ করা যেতে পারে, পুনর্বিবেচনার ব্যাপারে আবেদন করা যেতে পারে, কিন্তু কোনোক্রমেই একই সাথে আদালতের শীর্ষতাকে স্বীকার এবং এর রায়কে অস্বীকার বা অমান্য করা যায় না। শাহবাগ-সমাবেশ এ-দ্বন্দ্ব এড়াতে পারতো আদালতের রায়ে ‘হতাশা’ প্রকাশ করে পুনর্বিবেচনার দাবি করে। কিন্তু তা না-করে, আদালতের দেয়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ‘মানি না’ বলছে শাহবাগ।

    দ্বিতীয়তঃ শাহবাগ শুধু আদালতের শীর্ষতাকেই অমান্য করেনি, এর স্বাধীনতাকেও অস্বীকার করছে। বিচারাধীন সব অপরাধীর ফাঁসি দাবি করে শাহবাগ-আন্দোলন প্রকৃত প্রস্তাবে আদালতকে ‘ডিক্টেইট’ বা নির্দেশ করছে। অপরাধ যতো গভীরই হোক না কেনো, আইন-শাসিত সমাজে অপরাধের প্রতিকারের জন্য শুধু বিচার চাওয়া যেতে পারে, শাস্তি ডিক্টেইট করা যায় না।

    আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত সম্পর্কে বাংলাদেশের মেরুকৃত রাজনীতির দক্ষিণ গোলার্ধ প্রথম থেকেই সরকারের প্রভাবাধীন ও পক্ষপাতদুষ্ট বলে আপত্তি করে আসছে। বিপরীতে, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি বলে দাবিদার মেরুর মতে, আন্তর্জাতিক আদালত হচ্ছে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও স্বাধীন।

    আদালত যদি নিরপেক্ষ ও স্বাধীনই হবে, তাহলে এ-আদালতের রায়ের মধ্যেও ন্যায়বিচার প্রতিফলিত হচ্ছে বলতে হবে। কিন্তু শাহবাগ-আন্দোলন তা বলছে না। শাহবাগ-আন্দোলন আদালতকে ন্যায্য, অথচ এর রায়কে অন্যায্য হিসেবে প্রত্যাখ্যান করে, তার বিপরীতে ‘ফাঁসি দিতে হবে’ বলে ডিক্টেইট করে, বস্তুতঃ আদালতের স্বাধীনতা খর্ব করে, একটি প্রকট দ্বন্দ্বের জন্ম দিয়েছে।

    (৪) দার্শনিক দ্বন্দ্বঃ ধর্মনিরপেক্ষতা বনাম ধর্মসাপেক্ষতা
    বাংলাদেশের উদ্ভব ও বিকাশের ক্ষেত্রে ধর্মনিরপেক্ষতা একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলেও বিষয়টি সম্পর্কে দেশটিতে বোধ-আবেগ-আচরণ প্রায়শঃ বিভ্রান্তিকর। কারও মধ্যে দেখা যায় ধর্মনিরপেক্ষতা মানে হচ্ছে মসজিদেও যাওয়া, মন্দিরেও যাওয়া। আবার কারও কারও মধ্যে দেখা যায়, মসজিদ-মন্দির ভেঙ্গে ফেলার প্রবণতা। বাস্তবে এর-কোনোটিই ধর্মনিরপেক্ষতা নয়। এর প্রথমটি বহুধর্মবাদ এবং দ্বিতীয়টি ধর্মবিদ্বেষবাদ।

    সংজ্ঞানুসারে, ধর্মনিরপেক্ষতার কাজ যেখানে ধর্মকে অপ্রাসঙ্গিক করা, ধর্মবাদ ও ধর্মবিদ্বেষবাদ উভয়ের কাজ হচ্ছে ধর্মকে প্রাসঙ্গিক হিসেবে জীবন্ত রাখা। ধর্মবাদের ধর্ম-প্রীতির বিপরীতে ধর্মবিদ্বেষবাদে আছে ধর্ম-ঘৃণা। ধর্মবাদ ও ধর্মবিদ্বেষবাদ এ-দু’টির মধ্যে বিদ্যমান ধর্ম-সংশ্লিষ্টতাকে বিবেচনায় রেখে উভয়কেই বলা যায় ‘ধর্মসাপেক্ষবাদ’।
    ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মসাপেক্ষতার ‘কগনিটিভ’, ‘এ্যাফেক্টিভ’ ও ‘বিহ্যাভিয়ারাল’ দিক পরিমাপ করে এদের সংখ্যামান নিরুপণ করলে সম্ভবতঃ দেখা যাবে, ধর্মীয়তায় ধর্মমাত্রা যেখানে ‘প্লাস ওয়ান’ (+১), ধর্মবিদ্বেষের ধর্মমাত্রা সেখানে ‘মাইনাস ওয়ান’ (-১)। আর, ধর্মনিরপেক্ষতার ধর্মমাত্রা হচ্ছে ‘এ্যাবস্যুলিউট জ়িরো’ (০)।

    ধর্মবিদ্বেষ ও ধর্মনিরপেক্ষতা সম্পূর্ণ দুই ভিন্ন মনোবৃত্তিক ও দার্শনিক প্রকরণ বলে ধর্মনিরপেক্ষ ব্যক্তি যেমন ধর্মবিদ্বেষী হতে পারেন না, তেমনি ধর্মবিদ্বেষী ব্যক্তিও ধর্মনিরপেক্ষ হতে পারেন না। ধর্মবিদ্বেষীরা বস্তুতঃ ধর্মসাপেক্ষবাদী হবার কারণে অনেকটা কালাপাহাড়ের মতো, যিনি নিষ্প্রাণ পৌত্তলিকতা ছেড়ে নিরাকার একেশ্বরবাদ গ্রহণের পর যত্রতত্র মূর্তি ভাঙ্গতে শুরু করেছিলেন (অর্থাৎ, এখানে মূর্তিগুলোই পৌত্তলিকতার স্রষ্টা মনে করা এবং এগুলোকে হত্যা করে বিজয়ী হওয়ার ধারণা ক্রিয়াশীল)।

    ধর্মনিরপেক্ষতায় আছে ধর্মের প্রতি ‘অহিংস অমান্যতা’ কিন্তু ধর্মবিদ্বেষে আছে ‘সহিংস বিরোধিতা’ যাদেরকে ইংরেজিতে যথাক্রমে বলা হয় ‘নন-ভায়োলেন্ট নন-কোপারেশন’ এবং ‘ভায়োলেন্ট অপজিশন’।

    শাহবাগ-আন্দোলনে ধর্মনিরপেক্ষতার দাবির সাথে আশ্রিত ও মিশ্রিত হয়ে আছে ধর্মবিদ্বেষবাদ। আর ধর্মবিদ্বেষবাদ সংজ্ঞানুসারে ধর্মসাপেক্ষবাদ হবার কারণে, সেখানে একটি দ্বন্দ্ব দেখা দিতে বাধ্য। তাই, প্রথম পর্যায়ে একদিকে শাহবাগ-সমাবেশে ‘ধর্ম যার-যার, রাষ্ট্র সবার’ স্লৌগানের মাধ্যমে ধর্মনিরপেক্ষতা প্রদর্শন এবং অন্যদিকে কিছু ‘হার্ডকৌর ব্লগার’কে ধর্মের প্রতি প্রচণ্ড বিদ্বেষ নিয়ে ইসলামের প্রবর্তকের বিরুদ্ধে ব্যাঙ্গোক্তি করতে দেখা যায়।

    কিন্তু ধর্মবাদীদের পক্ষ থেকে নাস্তিক্য-বিরোধী আক্রমণ শুরু হবার পর, শাহবাগ-আন্দোলনের নেতৃত্ব ভয় পেয়ে ধর্মবাদের দিকে সহজেই হেলে পড়েন। শাহবাগ-সমাবেশে ‘দোয়া’ এবং মসজিদে-মন্দিরে-প্যাগোডা-গীর্জায় প্রার্থনার কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। অর্থাৎ, শাহবাগ-আন্দোলন পূর্বোল্লিখিত ধর্মমাত্রার ‘মাইনাস ওয়ান’ থেকে এক লাফে ‘প্লাস ওয়ান’ ধর্মমাত্রায় অবস্থান গ্রহণ করে।

    (৫) সাংগাঠনিক দ্বন্দ্বঃ কেন্দ্রীয়তা বনাম পরিধিতা
    শাহবাগ-আন্দোলনের সাংগঠনিক দ্বন্দ্বটি হচ্ছে আন্দোলন পরিচালনাকারী কেন্দ্রের সাথে আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ব্যাপক মানুষের পরিধির দ্বন্দ্ব। শুরুতে উল্লেখ করা হয়েছে কী কারণে ও পরিস্থিতিতে লক্ষ-লক্ষ লোক শাহবাগে সমাবেশিত হয়েছিলো। কিন্তু লক্ষ্য করার বিষয় হচ্ছে যে, আন্দোলন পরিচালনাকারী কেন্দ্রটি আন্দোলনের বিস্তৃত পরিধির সাথে কোনো পদ্ধতিগত ও কাঠামোবদ্ধ সংযোগ গড়ে তুলতে পারেনি। এটি মূলতঃ এ-আন্দোলনের নেতৃত্বর অরাজনৈতিক-সাংগঠনিক চরিত্রের কারণে সৃষ্ট।

    বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিভিন্ন গণ-আন্দোলনে ও গণ-অভ্যূত্থানে যে-সকল সংগ্রাম কমিটী গঠিত হতে দেখা যায়, শাহবাগ-আন্দোলনে সে-রকম কোনো কিছু লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। অর্থাৎ, আন্দোলনে অংশগ্রহণ উন্মুক্ত থাকলেও আন্দোলন পরিচালনার বিষয়টি সমানুপাতে উন্মুক্ত নয়। এখানে আমরা লক্ষ্য করি, পরিধি পর্যায়ে ‘ইনক্লুসিভনেস’ বা বিস্তৃতি এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ে ‘এক্সক্লুসিভনেসের’ বা সঙ্কোচনের মধ্যে দ্বন্দ্ব।

    এ-দ্বন্দ্বের ফলে জনতার সাথে নেতৃত্বের জীবন্ত সংযোগ গড়ে তোলার কোনো উপায়ই খোলা নেই। চলন্ত আন্দোলনের মধ্যে জনগণের মধ্যে যে-বোধের, আবেগের ও আচরণের পরিমাণগত ও গুণগত পরিবর্তন ঘটে, নেতৃত্বর পক্ষে পদ্ধতিগতভাবে তা জানা ও বুঝা প্রায় অসম্ভব। মোটকথা, ব্লগারদের ‘এক্সক্লুসিভ’ নেতৃত্ব আন্দোলনের ‘ইনক্লুসিভ’ চরিত্রের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ ও দ্বান্দ্বিক।

    (৬) রাজনৈতিক দ্বন্দ্বঃ দলনিরপেক্ষতা বনাম দলনির্ভরতা
    যে-কোনো সত্ত্বায়, দ্বন্দ্ব থাকলেই, সেখানে কম্পন তথা গতির সৃষ্টি হবে। কিন্তু প্রতিটি গতির একটি পরিণতি আছে। তাই, একটি সত্ত্বার মধ্যে দ্বন্দ্ব সমূহ পরিমাণগত পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে গুণগত পরিবর্তনের দিকে এগিয়ে চলে। তখন সত্ত্বাটি নতুন অবয়বে বিকশিত হয় এবং সেখানে নতুন দ্বন্দ্বের উদ্ভব ঘটে।

    শাহবাগ-আন্দোলনের পূর্বোল্লিখিত দ্বন্দ্ব-সমূহ বিকশিত হয়ে যে অনিবার্য সঙ্কট তৈরি করলো, তার নিরসনের জন্য নতুন দ্বন্দ্ব দেখা দিলো, আর সে-হলো আন্দোলনকে রাজনৈতিক দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখা বনাম কোনো একটি দলের শরণ নেয়া।

    আন্দোলনের ফর্মে আমান্যতার কারণে প্রথম দিকে শাসক দল আওয়ামী লীগের ভাষণ-প্রয়াসী একাধিক নেতাকে শাহবাগ-সমাবেশে প্রতিহত করা, প্রধানমন্ত্রীর রাজাকার-কুটুম্বিতার পৌস্টার প্রদর্শনী, আওয়ামী লীগে রাজাকার পুনর্বাসনের তালিকা, ধর্মভিত্তিক রাজনীতির নিষিদ্ধির দাবি, ইত্যাদি লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু আন্দোলনের কন্টেন্ট বা ৬ দফা কর্মসূচিতে কর্তৃপক্ষের প্রতি অমান্যতা না থাকাতে, তা অচিরেই কর্তৃপক্ষীয় দল আওয়ামী লীগ জন্যে ‘এক্সেসিবল’ বা প্রবেশযোগ্য হয়ে ওঠে। অর্থাৎ, ‘ফর্ম’ বা রূপের অমান্যতা ভেঙ্গে পড়ে ‘কন্টেন্ট’ বা বিষয়বস্তুর পরিপূরক হয়ে ওঠে।

    শাহবাগ-আন্দোলনের প্রথম ক’দিন লক্ষ-লক্ষ মানুষকে টানতে পেরেছিলো এর ‘ফর্ম’ বা রূপে ‘ডিফায়েন্স’ বা অমান্যতা ছিলো বলে। কিন্তু এ-অমান্যতার রূপকে অমান্যতার ‘কন্টেন্ট’ বা উপযুক্ত কর্মসূচি দিয়ে পূর্ণ করতে না-পারার কারণে, মানুষের অংশগ্রহণ কমে এলো। আর, এর ফলে আন্দোলনের মধ্যে দল-নিরপেক্ষতার সাথে দল-নির্ভরতার দ্বন্দ্ব তৈরি হয়।

    দল-নিরপেক্ষতার সাথে দল-নির্ভরতার দ্বন্দ্ব যতোটুকু না ভিতর থেকে বিকশিত, তার চেয়েও বাইরে থেকে আরোপিত। আর এটি সম্ভব হয়েছে আন্দোলনের সাংগঠনিক পরিধির সাথে কেন্দ্রের ইনক্লুসিভ বনাম এক্সক্লুসিভনেসের দ্বন্দ্বের যৌক্তিক নিরসন না ঘটার কারণে।

    শাহবাগ-আন্দোলনের দলনিরপেক্ষতা বনাম দলনির্ভরতার দ্বন্দ্বে দলনিরপেক্ষতা হেরে যায় এবং আন্দোলনটি বর্তমানে বহুলাংশে আওয়ামী লীগ নির্ভর হয়ে ওঠে। এখানে অবশ্য, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পরিপক্কতা ও দক্ষতা একটি ভূমিকা পালন করেছে।

    বর্তমানে শাহবাগ-আন্দোলন কথা বলছে মহাজোটের রাজনৈতিক ভাষায়। অর্থাৎ, দলনিরপেক্ষ শাহবাগ-আন্দোলন শেষ পর্যন্ত দেশের মধ্য বিদ্যমান রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের মধ্যে পরিণতি লাভ করলো। এ-প্রসঙ্গে লেনিনীয় ‘পলিটিক্স অলওয়েইজ সুপারসীডস’ কথাটির সাধারণ সত্যতা আবার প্রমাণিত হলো।

    (৭) প্রধান দ্বন্দ্ব বনাম অপ্রধান দ্বন্দ্ব
    আন্দোলনের ‘ফর্ম’ বা ‘কন্টেন্ট’ যা-ই হোক না কেনো, তা অবশ্যই একটি সমাজের ভেতরকার কোনো-না-কোনো দ্বন্দ্বের প্রতিফলন ঘটায়। আর, দ্বন্দ্বগুলো যেহেতু একই সমাজে ঘটে, তাই এগুলোর মধ্যে একটি আন্তঃসম্পর্ক না থেকে পারেই না। এ-আন্তঃসম্পর্ক হতে পারে ‘মিউচ্যুয়ালি ইনক্লুসিভ’ বা পরস্পরের পরিপূরক অথবা ‘মিউচ্যুয়ালি এক্সক্লুসিভ’ বা পরস্পরের প্রতিবন্ধক।

    শ্রেণী-বিভক্ত প্রতিটি সমাজেই একটি প্রধান দ্বন্দ্ব থাকে। এ-দ্বন্দ্বটি, রূপকার্থে, দেশের প্রধান নদীর মতো। সমাজে আর যা-যা ছোটো-বড়ো দ্বন্দ্ব থাকে, ছোটো-বড়ো নদীর মতো, সেগুলো উদ্ভুত হয় সেই দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করেই। তাই, প্রধান দ্বন্দ্বকে বাদ দিয়ে কোনো দ্বন্দ্বকেই বস্তুনিষ্ঠভাবে বুঝা যায় না এবং নিরসনও করা যায় না। একমাত্র প্রধান দ্বন্দ্বের সাথে ‘এলাইন’ বা মিল-প্রতিষ্ঠা করেই এ-দ্বন্দ্বগুলোর নিরসন করা সম্ভব।

    আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন জাতীয় রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটি কোনো তুচ্ছ ঘটনা নয়। এ-ঘটনার মধ্য দিয়ে ঔপনিবেশিক আমলের উর্দুভাষী বনাম বাংলাভাষী জাতিদ্বন্দ্ব নিরসিত হয়ে ‘পোটেনশিয়াল ক্লাস-কন্ট্র্যাডিকশন ইউদিন’ অর্থাৎ, বাংলাভাষীদের নিজেদের মধ্যে সম্ভাবনাময় শ্রেণীদ্বন্দ্ব রূপে আবির্ভূত হয়।

    কারণ, উর্দুভাষী পাকিস্তানী কর্তৃত্বকারী শ্রেণীকে হটিয়ে দিয়ে রাষ্ট্রটি এসেছে বাংলাভাষী উচ্চাকাঙ্খী মধ্যবিত্ত শ্রেণীর হাতে, যারা গত ৪২ বছর ধরে রাষ্ট্রক্ষমতা ব্যবহার করে বিশাল পুঁজিপতি বা ধনিক-বণিক শ্রেণীতে পরিণত হয়েছে। আর, ৪২ বছর আগের সে-পুরনো দরিদ্র শ্রেণী - অর্থাৎ, প্রান্তিক কৃষক, ক্ষেত মজুর, শ্রমিক, কর্মচারী - আপন জাতির নতুন ধনিক-বণিক শ্রেণীর শাসনে ও শোষণে নিষ্পেষিত হচ্ছে। এর মধ্য দিয়েই গঠিত হয়েছে বাংলাদেশের সমাজের প্রধান দ্বন্দ্ব। আর যে-সকল দ্বন্দ্ব আছে, সেগুলো সেখান থেকেই উৎসারিত এবং সেখানেই পরিণতি প্রাপ্ত হতে বাধ্য।

    বাংলাদেশের শোষিত শ্রেণীগুলো তাদের জীবনের তাগিদে শ্রেণীসংগ্রাম করছে ধনিক-বণিক-শোষক-শাসক শ্রেণীর বিত্ত-বৈভব-ক্ষমতার সাথে নিজেদের জীবনের বঞ্চনা-কষ্ট-অসহায়ত্বের পার্থক্য অনুধাবন করে। কিন্তু ধনিক-বণিক-শোষক-শাসক শ্রেণী সমাজের এ-পার্থক্যকে এবং এর যে-কোনো রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব ও ভাষ্যকে চেপে রাখতে চায় অন্য যে-কোনো অপ্রধান দ্বন্দ্বের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব ও ভাষ্যকে প্রধান্যে এনে।

    ‘মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি বনাম মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তির মধ্যে বিরোধ’ একটি দ্বন্দ্ব বটে। কিন্তু এটি স্বাধীন বাংলাদেশের সমাজের প্রধান দ্বন্দ্ব নিশ্চয় নয়। বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের সিংহভাগের বঞ্চনাময় মানবেতর ও মর্যাদাহীন জীবনের সাথে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষ নির্বিশেষে ধনিক-বণিক শ্রেণীর ঐশ্বর্য্যপূর্ণ ও সুখময় জীবনের নির্মম পার্থক্য তা সমর্থন করে না। যাঁরা এ-দ্বন্দ্বকে প্রধান দ্বন্দ্ব বলে বুঝতে বা বুঝাতে চান, তাঁরা হয় ভ্রান্ত, নয়তো দুষ্ট।

    শাহবাগ-সমাবেশ যে-দ্বন্দ্বে নিয়োজিত হয়েছে - অর্থাৎ, যে-আন্দোলনটি করছে - তা বাংলাদেশের সমাজের প্রধান দ্বন্দ্বের সাথে ‘এলাইন’ করা নয়। ফলে, পৃষ্ঠদৃষ্টে স্পষ্ট না হলেও, বাংলাদেশের সমাজের প্রধান দ্বন্দ্বের সাথে শাহবাগ-আন্দোলনের রয়েছে একটি ‘পোটেনশিয়াল কন্ট্র্যাডিকশন’ বা সম্ভবনাময় দ্বন্দ্ব। এ-দ্বন্দ্বের কারণেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এ-প্রথম বারের মতো এ-রকম একটি গণ-আন্দোলনে শ্রমিক ও মেহনতি শ্রেণীর কোনো অংশগ্রহণ নেই।

    আর, এখানে তাহরির স্কোয়ার কিংবা অকুপাই আন্দোলনের সাথে শাহবাগ-আন্দোলনের পার্থক্য। বিশ্বব্যাপী আজ নগরচত্বর আন্দোলনগুলো যেখানে শ্রেণীসংগ্রামে মুখরিত। বাংলাদেশের শাহবাগ-আন্দোলন সেখানে শ্রেণী বৈষম্যের প্রশ্নে মুক।

    এ-কথা আমি নির্দ্বিধায় বলতে পারি, বাংলাদেশের ইতিহাসে যতো গণ-আন্দোলন হয়েছে, তার মধ্যে এ-শাহবাগ আন্দোলন হচ্ছে সবচেয়ে কম প্রগতিশীল এবং প্রগতিশীল বলে দাবিদার শক্তিগুলোর কাছে সবচেয়ে বেশি হতবুদ্ধিকর।

    রোববার, ৩ মার্চ ২০১৩
    নিউবারী পার্ক
    এসেক্স, ইংল্যাণ্ড

পাঠকের প্রতিক্রিয়া

ধৈর্য ধরে পুরো তিন পর্বই পড়ার জন্য ধন্যবাদ। আশা করি, ভিন্নমত প্রকাশ করে সমৃদ্ধ করবেন।
বাংলাদেশে শোষিত শ্রেণীর পক্ষে লড়াই কেউ করছে বলে আমার জানা নেই। তবে, করছেন বলে যাঁরা দাবি করেন, তাঁদের সম্পর্কে আমি শীঘ্রই লিখবো - লিখতেই হবে।

আপনার তিন পর্বের লেখা আজ পড়ে শেষ করলাম। ভিন্নধর্মী বিশ্লেষণ ভালো লাগলো।আপনার কোন কোন কথার সাথে ভিন্নমত আছে। সেটা আপাততঃ উহ্য থাক।
আপনি বলেছেন, বাংলাদেশের শোষিত শ্রেণীগুলো তাদের জীবনের তাগিদে শ্রেণীসংগ্রাম করছে ধনিক-বণিক-শোষক-শাসক শ্রেণীর বিত্ত-বৈভব-ক্ষমতার সাথে নিজেদের জীবনের বঞ্চনা-কষ্ট-অসহায়ত্বের পার্থক্য অনুধাবন করে।
আপনার কাছে আমার প্রশ্ন, শোষিত শ্রেনীর স্বার্থের কথা যারা বাংলাদেশে প্রবলভাবে উচ্চারণ করেন তারা শোষিত শ্রেনীকে নিজেদের পরিচালিত লড়াইয়ে জড়িত করতে পারছেন না, এর কারণ কি? এ ব্যাপারে আপনার সুচিন্তিত বিশ্লেষণ দেখতে চাই।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন