• শাহবাগ-আন্দোলনঃ প্রগতির ভ্রান্তবীক্ষণ
    মাসুদ রানা

    প্রগতির বিতর্ক

    ‘এ-কথা আমি নির্দ্বিধায় বলতে পারি, বাংলাদেশের ইতিহাসে যতো গণ-আন্দোলন হয়েছে, তার মধ্যে এ-শাহবাগ আন্দোলন হচ্ছে সবচেয়ে কম প্রগতিশীল এবং প্রগতিশীল বলে দাবিদার শক্তিগুলোর কাছে সবচেয়ে বেশি হতবুদ্ধিকর’ (‘শাহবাগ-আন্দোলনঃ কতিপয় দ্বন্দ্ব’, ইউকেবেঙ্গলি.কম, ৩ মার্চ ২০১৩ ও সাপ্তাহিক পত্রিকা, ৪ মার্চ ২০১৩, লণ্ডন)।

    উপরের পাঠটি আমি লিখেছিলাম বাংলাদেশে চলমান শাহবাগ-আন্দোলন প্রসঙ্গে, আমার সিরিজ-লেখার তৃতীয় পর্বের উপসংহার হিসেবে। কিন্তু এ-উপসংহার টানার আগে, আমি বিশ্লেষণ করেছি এক-দুই-তিন করে, এ-আন্দোলনের প্রেক্ষাপট, আকৃতি ও প্রকৃতি।

    সতেরো দিন পর লক্ষ্য করলাম, আমার ঠিক ১৮০ ডিগ্রী বিপরীত অবস্থান থেকে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের - সংক্ষেপে, বাসদের - সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান লিখেছেনঃ

    ‘শাহবাগ স্কয়ারের জাগরণের আন্দোলন বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংগ্রামের ইতিহাসে চলতি ধারার রাজনীতির গতিপথ থেকে প্রগতির দিকে বাঁক নেয়া একটি সূচনা’ (‘প্রগতির পথে বাঁক নেওয়া গণজাগরণ আন্দোলন’, দৈনিক আমাদের সময়, ২০ মার্চ ২০১৩, ঢাকা)।

    স্পষ্টতঃ এখানে পরস্পর বিরোধী দুটি প্রত্যক্ষণ, যার পেছেনে নিশ্চয় থেকে থাকবে পরস্পর বিরোধী দু’টি বিচারধারা। শাহবাগ-আন্দোলনকে খালেকুজ্জামান যেখানে বলছেন প্রগতিমুখী, আমি সেখানে বলছি, এ-আন্দোলন শুধু সবচেয়ে কম প্রগতিশীলই নয় বরং প্রগতিশীলদের জন্য হতবুদ্ধিকরও।

    যদি আমার উপসংহার-বাক্যের প্রথমাংশ ঠিক প্রমাণিত হয়, তাহলে শেষাংশ যে অবশ্যই ঠিক, তার প্রমাণ হবেন স্বয়ং খালেকুজ্জামান।

    প্রগতির প্রকৃতি
    বাংলাদেশের রাজনৈতিক বচনে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’র মতোই ‘প্রগতি’ একটি কুহকী শব্দ, যার বস্তুনিষ্ঠ অর্থ প্রায়শঃ ‘আটারেন্স’ বা উচ্চারণ থেকে অপসৃত। তাই, বিতর্কের শুরুতে স্থির করতে হবে প্রগতি বলতে কী বুঝানো হয়। কারণ, যে-কোনো বিতর্কের জন্য বিতর্কিত বিষয়ের একটি সংজ্ঞা প্রয়োজন। এটি বিজ্ঞানাশ্রিত অনুসন্ধানের প্রথম ধাপ। 

    প্রোগ্রেস বা প্রগতির শাব্দিক অর্থ হলো উন্নততর অবস্থার দিকে সরণ। তবে এই প্রোগ্রেস বা প্রগতি একটি উপায় না ফল, তা নিয়ে রাজনীতিতে দার্শনিক পার্থক্য রয়েছে ।

    ‘শ্রেণী সংগ্রাম ইতিহাসের চালিকা শক্তি’ বলে বিশ্বাস করেন যাঁরা, তাঁদের কাছে প্রোগ্রেস বা প্রগতি হচ্ছে ফল এবং বিপ্লব হচ্ছে উপায়। অর্থাৎ, তাঁরা শ্রেণী সংগ্রামকে তীব্রতর করে বিপ্লব সম্পন্ন করার মধ্য দিয়ে সামাজে প্রগতি আনার কথা বলেন।

    বিপরীত দিকে, শ্রেণী-সহযোগিতা ও শ্রেণী-সমন্বয়ে বিশ্বাস করেন যাঁরা, তাঁদের কাছে প্রগতি হচ্ছে একটি উপায়। তাঁরা শ্রেণী সংগ্রামের তীব্রতাকে মন্দীভূত করে বিপ্লব ঠেকাতে প্রগতিকে একটি উপায় বা কর্মসূচি হিসেবে অবলম্বন করেন।

    ঊনবিংশ শতকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাদী শাসককূল প্রগতিবাদকে তাদের রাজনৈতিক দর্শন ও কর্মসূচি হিসেবে গ্রহণ করেছিলো। পুঁজিবাদী সর্বগ্রাসী মুনাফার উপর কর চাপিয়ে শ্রমজীবী মানুষের সামাজিক অবস্থার ক্রমিক পরিবর্তন এনে পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে খানিকটা মানবিক করা হয়েছিলো। রাজনীতির ইতিহাসে এটি প্রোগ্রেসিভিজম বা প্রগতিবাদ নামে পরিচিত।

    রাজনৈতিক দর্শন ও কর্মসূচিতে ‘প্রোগ্রেসিভিজম’ বা প্রগতিবাদ হচ্ছে ‘কনসার্ভেটিজম’ বা রক্ষণবাদের বাঁয়ে, কিন্তু ‘রেভ্যুলিউশনিজম’ বা বিপ্লববাদের ডানে অবস্থিত। রক্ষণবাদ যেখানে প্রচলিত ব্যবস্থার সংরক্ষণ চায়, প্রগতিবাদ সেখানে চায় এর ক্রমশঃ পরিবর্তন, আর বিপ্লববাদ চায় আমূল পরিবর্তন।

    ‘প্রোগ্রেসিভিজম’ বা প্রগতিবাদের সাথে মার্ক্সবাদী ‘প্রোগ্রেস’ বা প্রগতির ধারণার মৌলিক পার্থক্য আছে। কার্ল মার্ক্স তাঁর ঐতিহাসিক দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করে দেখান যে, শ্রেণী-বিভক্ত পুঁজিবাদী সমাজে উৎপাদনে ও বন্টনে স্বার্থের যে-শ্রেণীগত সংগ্রাম চলছে ধনিক-বণিক শ্রেণী ও সর্বহারা-শ্রমিক শ্রেণীর মধ্যে, তা বস্তুতঃ সমাজের উৎপাদিকা শক্তির সাথে উৎপাদন সম্পর্কের দ্বন্দ্ব। অর্থাৎ, পুঁজিবাদী উৎপাদন ব্যবস্থায় উৎপাদনের উপরকণ ও শ্রম মিলে যে উৎপাদিকা শক্তি তৈরী হয়, তার সাথে উৎপাদন-সম্পর্কের প্রকরণটির (মালিক-মজুর প্রকারের সম্পর্ক) একটি দ্বন্দ্ব আছে।

    মার্ক্স দেখান, চলতে-চলতে উৎপাদিকা শক্তির বিকাশের পথে পুরনো উৎপাদন-সম্পর্ক বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সমাজে স্থবিরতা ও সঙ্কটের সৃষ্টি হয়, অর্থনৈতিক মন্দা আসে -  ঠিক এখন যেমন এসেছে। মার্ক্সের মতে, সমাজের প্রগতি মানে হচ্ছে, উৎপাদিকা শক্তির বাধাহীন বিকাশ, যা আসতে পারে পুরনো উৎপাদন সম্পর্ককে নতুন উৎপাদন সম্পর্কের দ্বারা প্রতিস্থাপন করার মধ্য দিয়ে।

    কিন্তু যেহেতু ধনিক-বণিক শ্রেণী তাদের মালিকানা যুদ্ধ ছাড়া ছাড়ে না, তাই সর্বহারা-শ্রমিক শ্রেণীকে সে-যুদ্ধটা করে, জয়ী হয়েই, সমাজের প্রগতি নিশ্চিত করতে হয়। এ-যুদ্ধটাই হচ্ছে শ্রমিক শ্রেণীর রাষ্ট্র-বিপ্লব, যেখানে ধনিক-বণিকের রাষ্ট্র গুড়িয়ে দিয়ে সর্বহারা-শ্রমিকের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হয়। অর্থাৎ রাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গের - এক্সিকিউটিভ (আমলাতন্ত্র), লেজিশ্লেচার (আইনতন্ত্র), জুডিশিয়ারীর (বিচারতন্ত্র) - এবং তার অতিরিক্ত ডিফেন্সের (প্রতিরক্ষার) প্রতিস্থাপন দরকার হয়।

    সুতরাং মার্ক্সবাদী অর্থে, প্রগতি বলতে বিপ্লব বা বিপ্লবের অনুকূলে আন্দোলন ও গতিকে বুঝানো হয়। বিপ্লবের অনুকূলে নয়, এমন কোনো কিছুই প্রগতিশীল নয় বরং প্রতিক্রিয়াশীল। সে-অর্থে, পুঁজিবাদী সমাজে বিপ্লবী হতে পারে একমাত্র সর্বহারা-শ্রমিক শ্রেণী, যাঁদের ‘শৃঙ্খল ছাড়া হারাবার কিছুই নেই’।

    সর্বহারা-শ্রমিক শ্রেণী ইচ্ছানিরপেক্ষভাবে, তাদের অবস্থানগত কারণেই, বিপ্লবী। তাদের মধ্যে বিপ্লব প্রবণতা অনেকটা ‘ইনস্টিংক্ট’ বা সহজাত প্রবৃত্তির মতো। উপযুক্ত দর্শন ও বিজ্ঞানের জন্ম দিতে পারলে, তাদের এ-প্রবৃত্তি সচেতন বিপ্লব প্রচেষ্টায় পরিণত হয়। আর তখনই তারা হয়ে ওঠে যথার্থ প্রগতিশীল।

    বিপরীত দিকে, পুঁজিবাদী উৎপাদন ও রাষ্ট্রব্যবস্থায় ইচ্ছা-নিরপেক্ষভাবেই ধনিক-বণিক শ্রেণী হচ্ছে প্রতিক্রিয়াশীল শ্রেণী। কারণ, তারা বিদ্যমান উৎপাদন সম্পর্কের পরিবর্তন চায় না। তারা খানিকটা সংস্কার কিংবা খানিকটা ছাড় দিতে সম্মত হলেও, তাদের পক্ষে আমূল পরিবর্তনকামী তথা প্রগতিশীল হওয়া সম্ভব নয়। অর্থাৎ, পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থায় ধনিক-বণিকেরা সংজ্ঞানুসারেই একটি প্রতিক্রিয়াশীল শ্রেণী। ফরাসিতে ধনিক-বণিক শ্রেণীসমূহকে বলা হয় ‘বুর্জোয়াজি’, যার বিশেষণ হচ্ছে 'বুর্জোয়া'।

    বুর্জোয়া শ্রেণী ও সর্বহারা শ্রেণীর মধ্যবর্তী একটি উপশ্রেণী হচ্ছে পেটিবুর্জোয়া শ্রেণী - অর্থাৎ, ক্ষুদে বুর্জোয়া শ্রেণী। এটি মূলতঃ বুর্জোয়া শ্রেণীরই প্রান্তিক অংশ। বাংলায় এদের বলা হয় মধ্যবিত্ত শ্রেণী।

    পেটিবুর্জোয়া শ্রেণী একদিকে সর্বহারা শ্রেণীর শ্রম শোষণ করে এবং অন্যদিকে নিজেও বুর্জোয়া শ্রেণীর শোষণের শিকার হয়। তাই, তারা প্রধানতঃ বিদ্যমান পুঁজিবাদী ব্যবস্থা টিকিয়ে রেখেই সেখানে ক্রমঃপরিবর্তন বা সংস্কার এনে নিজেদের অবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে চায়। তারা কখনও কখনও সর্বহারা শ্রেণীর সমর্থন লাভের জন্য বিপ্লবী পরিবর্তনের কথাও বলে।

    ঐতিহাসিকভাবে, মধ্যবিত্ত শ্রেণী থেকেই বিপ্লবের দর্শন ও বিজ্ঞানটা আসে। তাদের শোষিতাবস্থার কারণে তাঁর মধ্যে বিদ্যমান ব্যবস্থা পরিবর্তনের আকাঙ্খা থাকে, আবার শোষকাবস্থানের সুবাদে সুযোগ-সুবিধা ও শিক্ষা-দীক্ষা পাবার কারণে তারা পরিবর্তনের দর্শন ও বিজ্ঞানেরও জন্ম দিতে পারে। কিন্তু তা সত্ত্বেও মধ্যবিত্ত বিপ্লবী শ্রেণী নয়।

    শ্রমিক শ্রেণী ভিন্ন অন্য শ্রেণীর ব্যক্তি বিশেষকে যদি প্রগতিশীল হতে হয়, তাহলে তাঁকে শ্রমিক শ্রেণীর সাথে একাত্ম হতে হবে। একইভাবে, শ্রমিক শ্রেণীর মধ্য থেকে যদি কেউ মালিক শ্রেণীর সাথে একাত্মতা বোধ করেন, তাহলে তিনি শ্রমিক হওয়া সত্ত্বেও প্রতিক্রিয়াশীল হবেন।

    খালেকুজ্জামানের প্রগতির ধারণা
    প্রগতি সম্পর্কে খালেকুজ্জামানের ধারণা কী, তা তাঁর আলোচ্য লেখা থেকে বুঝার উপায় নেই। কারণ তিনি তাঁর লেখাটিতে ব্যাখ্যা করেননি কী-কী কারণে শাহবাগ আন্দোলন প্রগতিমুখী হলো। তবে, খালেকুজ্জামানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল যেভাবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় চরিত্র ও বিপ্লবের স্তর নির্ধারণ করেছে, তা থেকে প্রগতি সম্পর্কে দলটির ধারণা নির্ণয় করা যায়।

    বাসদ তার প্রতিষ্ঠাকালীন ঘোষণায় বলেছিলো, পাকিস্তানী ঔপনিবেশিক শাসক শ্রেণীর দ্বারা অবদমিত বাঙালী উঠতি ধনিক-বণিক শ্রেণীর প্রতিনিধিত্বকারী দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় অর্জিত হবার পর, বাংলাদেশে একটি পুঁজিবাদী জাতীয় রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অর্থাৎ, বাংলাদেশের উৎপাদন ব্যবস্থা পুঁজিবাদী এবং রাষ্ট্রক্ষমতায় আছে বাঙালী ধনিক-বণিক শ্রেণী।

    বাসদ মনে করে, স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে বাঙালী ধনিক-বণিক শ্রেণী বাংলাদেশে পুঁজিবাদী অর্থনীতিকে সংহত ও জোরালো করার চেষ্টা করছে। আর, এটি করতে যেয়ে তারা দেশীয় সর্বহারা ও দরিদ্র শ্রেণীর উপর শোষণের মাত্রা বহুগুণ বৃদ্ধি করেছে। এর ফলে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য হচ্ছে।

    বাসদ আরও মনে করে, ক্ষমতাসীন ধনিক-বণিক শ্রেণী বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে তাদের শ্রেণীশাসন ও শোষণ স্থায়ী করার উদ্দেশ্যে শুধু অর্থনীতিতে নয়, বরং রাজনীতি, সংস্কৃতি, শিক্ষা, শিল্প, সাহিত্য, মূল্যবোধ, রুচি, ইত্যাদি ক্ষেত্রে প্রতিক্রিয়াশীল অবনমন ঘটিয়ে এমন একটি সঙ্কটের জন্ম দিয়েছে, যার সমাধান পুঁজিবাদী ব্যবস্থা বজায় রেখে সম্ভব নয়।

    তাহলে কী করতে হবে? বাসদ বলে, বিপ্লব করতে হবে। কী ধরণের বিপ্লব? সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব। অর্থাৎ, রাষ্ট্রটি যেহেতু পুঁজিবাদী এবং ক্ষমতায় আসীন যেহেতু জাতীয় ধনিক-বণিক শ্রেণী, তাই বিপ্লবটি হবে সরাসরি সমাজন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। আর, এ-বিপ্লবটি করতে পারে একমাত্র সর্বহারা-শ্রমিক শ্রেণী। অর্থাৎ, সর্বহারা-শ্রমিক শ্রেণীর ‘ভ্যানগার্ড’ বা অগ্রগামী অংশের দ্বারা গঠিত একটি বিপ্লবী দলের মাধ্যমে জাতীয় ধনিক-বণিক শ্রেণীর রাষ্ট্র ভেঙ্গে সর্বহারা-শ্রমিক শ্রেণীর রাষ্ট্র গঠন করে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। 

    সুতরাং বাসদের জন্ম-কালে প্রগতির ধারণা ছিলো বিপ্লবী। অর্থাৎ, বিপ্লব ছাড়া প্রগতি সম্ভব নয় বলেই বাসদ মনে করতো। অর্থাৎ, বাসদের কাছে বিপ্লব ছিলো উপায় এবং প্রগতি ছিলো ফল। বাসদ তখন সেই প্রগতি আনার লক্ষ্যে বিপ্লব প্রচেষ্টায় নিজেকেই একমাত্র সর্বহারা শ্রেণীর সঠিক বিপ্লবী দল বা ‘ভ্যানগার্ড’ বলে মনে করতো।

    কিন্তু সম্প্রতি, বাসদের, কিংবা এর নেতা খালেকুজ্জামানের বোধে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। ‘প্রগতির পথে বাঁক নেওয়া গণজাগরণ আন্দোলন’ শীর্ষক লেখায় তিনি লিখেছেনঃ

    ‘তারুণ্যের এই জাগরণই বাংলাদেশে গণআকাঙ্খা পূরণের ভবিষ্যত। এই জাগরণ এক ধাক্কায় তার চরম লক্ষ্য পূরণে সফল হবে না। অনেক বিচিত্র গতি-প্রকৃতিতে, উত্থান-পতন, বহুমাত্রিক সংগ্রামী অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে তা এগিয়ে যাবে।’

    ভালো কথা। এ-তারুণ্য কোন্‌ শ্রেণীর? তাঁরা কি সর্বহারা-শ্রমিক শ্রেণীর পক্ষে? না, নিশ্চয় নয়। তাঁরা আপদামস্তক মধ্যবিত্ত। সর্বহারা-শ্রমিক শ্রেণীর সাথে এদের না আছে সংস্রব, না আছে তাদের প্রতি পরোয়া।

    তাদের ৬-দফা দাবির মধ্যে যেমন শাসক শ্রেণীর দুঃশাসন ও শোষক শ্রেণীর দুঃসহ শোষণের বিরুদ্ধে কথা নেই, তেমনি তাঁদের শাহবাগ-সমাবেশেও বাংলাদেশের নিপীড়িত শ্রেণীর অংশগ্রহণ নেই। এমনকি সর্বহারা-শ্রমিক শ্রেণীর বিপ্লবের প্রগতি আনতে চান যাঁরা, তাঁরাও এর নেতৃত্বে নেই। স্বয়ং খালেকুজ্জামানই লিখেছেনঃ

    ‘আমরা সর্বাত্মকভাবে এই জাগরণে অংশ নিয়েছি, একে অভিনন্দিত করেছি, উৎসাহিত করেছি - তবে সব সময়ই চেষ্টা করেছি এক দল নিরপেক্ষ রাখার।’

    পাঠক লক্ষ্য করুন, দল নিরপেক্ষতার কথাটি। যদি ‘তারুণ্যের এই জাগরণই বাংলাদেশে গণ আকাঙ্খা পূরণের ভবিষ্যত’ হবে এবং একে যদি ‘দল নিরপেক্ষই রাখা’ হবে, তাহলে বাসদকে ‘সর্বহারা শ্রেণীর বিপ্লবী দল’ বলার অর্থ কী? কিংবা এ-দলের কাজই বা কী?

    শাহবাগ-আন্দোলন যে-একটি রাজনৈতিক আন্দোলন, তা খালেকুজ্জামান নিজেই স্বীকার করেছেন। তিনি লিখেছেনঃ

    ‘এই আন্দোলন অরাজনৈতিক নাই। অতি উচ্চমাত্রার রাজনীতির উপাদানমিশ্রিত এই আন্দোলন। একে দলীয়করণ দোষে ক্ষতিগ্রস্ত করা সঙ্গত হবে না।’

    কি অভিনব! দাবিতে শোষণ-শাসনের বিরুদ্ধে কোনো কথা নেই, সমাবেশে নিপীড়িত প্রগতিশীল শ্রেণীর কোনো অংশগ্রহণ নেই, অতি উচ্চমাত্রায় রাজনীতির উপাদান মিশ্রিত বুঝা সত্ত্বেও, বিপ্লবী বলে দাবিদার দলটির শীর্ষ নেতা পর্যন্ত এ-আন্দোলনকে দল-নিরপেক্ষ রাখতে চান! তাহলে এ-আন্দোলন ‘প্রগতির দিকে বাঁক’ নিলো কীভাবে?

    এর উত্তরে খালেকুজ্জামান শব্দের পর শব্দ সাজিয়ে কয়েকটি রূপক ব্যবহার করে কিছু বুঝাবার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু কোনো অর্থ প্রকাশ তো দূরের কথা, এতে ‘সাবজেক্ট-প্রেডিকেইট’ বা উদ্দেশ্য-বিধেয়ের সার্থক মিলনে একটি বাক্য পর্যন্ত তৈরী হয়নিঃ

    ‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি এবং এর অন্তরালে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাস্তবায়নে বিষয় যা নিয়ে নবপ্রজন্ম শাসক গোষ্ঠির দেশপ্রেমের ফাঁকা বুলির অসারতা ছুঁড়ে ফেলে হৃদয়ে বাংলাদেশের ধারণ করে প্রগতির আলোর নতুন করে উদ্ভাসিত হয়েছে।’

    আমি সততার সাথে নিশ্চিত করছি, উপরের বাক্য-সদৃশ শব্দমালা থেকে কোনো অর্থই আমি উদ্ধার করতে পারিনি। তবে বিলক্ষণ বুঝতে পারছি, কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই তিনি শাহবাগ-আন্দোলনকে ‘প্রগতি’ অভিধায় ভূষিত করেছেন। এতে শাহবাগ-আন্দোলনের প্রতি তাঁর আবেগী সমর্থন ছাড়া আর কিছুই বুঝা যাচ্ছে না।

    শাহবাগ-আন্দোলনের আদর্শ
    আমার মতে, শাহবাগ-আন্দোলন আর যাই হোক, প্রগতিশীল নয়। প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির বিরুদ্ধে কিছু বললেই, তা আপনি থেকেই, প্রগতিশীল হয়ে যায় না। একটি আন্দোলন প্রগতিশীল হয় তখন, যখন তার মধ্যে প্রগতির উপাদান থাকে।

    অধিকন্তু, প্রগতিশীলতা একটি ঐতিহাসিক ও বৈশ্বিক ধারণা। পৃথিবীতে মানব-সভ্যতার গতির বিপরীতে কোনো একটি বিশেষ দেশে প্রগতি হয় না।

    প্রগতির যেমন বস্তুগত দিক আছে, তেমনি তার ভাবগত বা আদর্শগত দিকও আছে। আমরা শাহবাগ আন্দোলনের কথা বিবেচনা করলে দেখবো, এতে প্রগতিশীলতার বস্তুগত বা আদর্শগত লেশমাত্র নেই।

    (১) শাহবাগ-আন্দোলন হচ্ছে রুল অফ ল বা আইনের শাসনের বিরুদ্ধে। কারণ, এ-আন্দোলন আদালতকে একটি নির্দিষ্ট রায় দেবার জন্য ‘ডিক্টেইট’ বা নির্দেশ করছে। সুতরাং এটি চরিত্রের দিক থেকে স্বেচ্ছাচারী আন্দোলন এবং সেই অর্থে প্রতিক্রিয়াশীল।

    (২) এ-আন্দোলন পৃথিবীর ন্যায়বিচার ও শাস্তি সম্পর্কিত অগ্রসর জুরিসপ্রুডেন্স বা আইনতত্ত্বের বিরুদ্ধে। পৃথিবীর অগ্রসর জাতিগুলো শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডকে একটি পশ্চাৎপদ ধারণা মনে করে। বাংলাদেশের প্রগতিশীল দাবীদার কমিউনিস্টরা পর্যন্ত অপরাধীর মৃত্যুদণ্ডের দাবি করে প্রমাণ করেছেন যে, তাঁরা পৃথিবীর বর্তমান অগ্রসর চিন্তার অনেক পেছনে অবস্থান করছেন।

    (৩) এ-আন্দোলন সেক্যুলারিজমের আদর্শ ও যৌক্তিকতা প্রদর্শন করা ছাড়াই (শুরুতে) ধর্মীয় রাজনীতি নিষিদ্ধির দাবী করেছে। রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় জীবনে ধর্মের আবেদন নিঃশেষিত না করে নিষিদ্ধির দাবী প্রগতিশীল হতে পারে না। প্রগতি একটি ডাইনামিক কনসেপ্ট বা গতিশীল ধারণা, যা স্ট্যাটিক বা স্থবির নয়।

    (৪) শাহবাগ-আন্দোলন কয়েকটি সংবাদ-মাধ্যমের নিষিদ্ধির দাবী করেছে। বস্তুনিষ্ঠভাবে লক্ষ্য করে দেখা গিয়েছে, শাহবাগ-আন্দোলন সম্পর্কে বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি সংবাদ-মাধ্যমই একেকটি পক্ষ অবলম্বন করে সংবাদ পরিবেশন করেছে এবং একেকটি পক্ষকে বিভিন্ন নেতিবাচক বিশেষণে ভূষিত করেছে। একটি সংবাদ-মাধ্যমের রাজনৈতিক পক্ষপাত যাই হোক না কেনো, গণতান্ত্রিক সমাজে তার প্রকাশনা নিষিদ্ধ করার দাবী স্বৈরতান্ত্রিক।

    (৫) ‘যুদ্ধপরাধীদের বিচারে বিরোধিতাকারী রাজনৈতিক দল, শক্তি, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে’ অপরাধী গণ্য করে বিচারের দাবী করেছে শাহবাগ-আন্দোলন। কিন্তু এ-আন্দোলনের জন্য এটি একটি স্ববিরোধী দাবী। কারণ, খোদ শাহবাগ-আন্দোলনই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্র্যাইবুন্যালের বিচারের রায়ের বিরোধিতাকারী। এ-আন্দোলন আদলতের রায়-দেয়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিরোধিতা করে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে পাল্টা রায় ডিক্টেইট বা নির্দেশ করছে। ভিন্নমতকে অপরাধ হিসেবে দাবী করার মধ্যে কোনো প্রগতিশীলতা নেই।

    (৬) কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও অভিযোগের প্রমাণ ছাড়া ব্যাঙ্ক, হাসপাতাল, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের ‘ব্ল্যাঙ্কেট’ দাবি বৈষম্যমূলক ও হিংসাপ্রসূত। এ-রকম দাবী একবার গ্রহণযোগ্য হলে ভবিষ্যতে তা প্রগতিশীল আন্দোলন ও সংগঠনের বিরুদ্ধেও যেতে পারে।

    (৭) শাহবাগ আন্দোলন সাধারণভাবে 'র‍্যাশন্যালিজম'-বিরোধী। এ-আন্দোলন মানুষের মধ্য 'র‍্যাশনালিজম'-এর বিপরীতে তীব্র আবেগের প্রতি আবেদন তৈরী করে বৃদ্ধ অধ্যাপক থেকে শুরু করে কোলের শিশুটিকে পর্যন্ত মৃত্যুক্ষুধায় ইর‍্যাশন্যাল মানুষে পরিণত করেছে। এ-আন্দোলন মানুষের মধ্যে সুকুমারবৃত্তি ও ‘র‍্যাশন্যালিজম’-এর বদলে জিঘাংসা ও ‘ইর‍্যাশন্যালিজম’-এর জন্ম দিয়েছে। প্রগতিশীলতা ও 'ইর‍্যাশন্যালিজম' পরস্পর বিরোধী।

    (৮) শাহবাগ-আন্দোলন মানুষের মধ্যে আধ্যাত্মিক ‘রিচুয়্যালিজম’ বা আচারবাদের মাধ্যমে পশ্চাৎপদ ধ্যান-ধারণাকে উস্কে দিয়েছে। এ-আন্দোলন থেকে প্রথমে শহীদদের উদ্দেশ্যে স্বর্গে বেলুনপত্র পাঠানো হয়েছে। পরবর্তীতে সকল ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ ও প্রার্থনা শুরু করেছে। এটি মোটেও প্রগতিশীলতার মধ্যে পড়ে না। বাংলাদেশের কোনো প্রগতিশীল আন্দোলনে এটি হয়নি।

    (৯) শাহবাগ-আন্দোলন আদি-অন্তে অপ্রগতিশীল হবার কারণে সমাজের বিভিন্ন স্তরে প্রগতিশীল আন্দোলন জন্ম দেয়ার বদলে সারা দেশ জুড়ে প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। অর্থাৎ, শাহবাগ-আন্দোলন যে-'ইর‍্যাশন্যালিজম'-এর জন্ম দিয়েছে, তার প্রতিক্রিয়া হিসেবে ধর্মবাদীরা আরও প্রতিক্রিয়াশীল হয়ে ওঠেছে। স্বর্গে বেলুনপত্র প্রেরণ আর চাঁদে সাঈদীর মুখ-দর্শনের মধ্যে দার্শনিক কোনো পার্থক্য নেই। এটি হচ্ছে প্রতিক্রিয়াশীলতার বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়াশীলতা।

    (১০) শাহবাগ-আন্দোলন শুরু হবার পর বাংলাদেশ সর্বহারা-শ্রমিক ও অন্যান্য নিপীড়িত শ্রেণীর প্রগতিশীল আন্দোলন ও সংগ্রাম স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে। অতীতে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রতিটি প্রগতিশীল আন্দোলনের দাবিতে কৃষক-শ্রমিক-ক্ষেতমজুর-সহ নিপীড়িত শ্রেণীসমূহের দাবি অন্তর্ভূক্ত হতে দেখা গিয়েছে। যখনই একটি প্রগতিশীল আন্দোলন গড়ে উঠেছে, তখনই তার প্রভাবে বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষের মধ্যে তাঁদের নিজস্ব সংগ্রামী সংগঠন প্রতিষ্ঠিত ও নিজস্ব দাবী উত্থিত হতে দেখা গিয়েছে। কিন্তু শাহবাগ-আন্দোলন তার প্রগতিহীনতার কারণে তা পারেনি।

    পরিশেষে, শাহবাগ-আন্দোলন প্রগতিশীলতার ছদ্মাবরণে একটি অপ্রগতিশীল আন্দোলন হবার কারণে, এটি শুধু মধ্যবিত্তের মধ্যে 'ইর‍্যাশনালিজম'-এরই জন্ম দেয়নি, ‘সর্বহারা শ্রেণীর বিপ্লবী দল’ বলে দাবীদার বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামানের মতো সৃষ্টিশীল নেতাকেও হতবুদ্ধি করেছে। তাই তিনি এ-আন্দোলনকে প্রগতির দিকে বাঁক নিতে দেখেছেন, যা অনেকের জন্য হতাশার। কিন্তু, এরও কারণ থাকবে কতিপয়, নিশ্চয়!

    রোববার, ৩১ মার্চ ২০১৩
    নিউবারী পার্ক
    এসেক্স, ইংল্যাণ্ড
    masudrana1@gmail.com

পাঠকের প্রতিক্রিয়া

Rana Bhai :
Thank you.
We will be waiting for e-book from UK Bengali.
Take care,

ধ ন্যবাদ, রানা ভাই । ভালো লাগলো বিশ্লেষণধর্মী লেখা।

আপনার সবগুলো লেখা আমি মনোযোগ দিয়ে পড়ার চেষ্টা করেছি। না বলে পারছি না, যে আপনার ব্যখ্যার জায়গাগুলোর সাথে আমার ভাবনারও অনেক মিল আছে বিধায় সহমত পোষণ করছি।

শাহবাগ নির্দ্বিধায় রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে অস্তিতিশীল করে তুলেছে। এখন তার ফলাফল প্রেক্ষাপটকে এমন জায়গায় নিয়ে গেছে, যা জনগণের জন্য করে বুমেরাং হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী এ উভয় সংকট ফ্যাসিসম চাপিয়ে দেয়া হয়েছে কি না এটা গুরুত্বসহকারে দেখার বিষয়।

তবে, এই ফ্যাসিসমের চূড়ান্ত শিকার যে নিপীড়িত জনগণ ও তাদের প্রতিনিধি প্রকৃত প্রগতিশীল সমাজ - এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নাই।

খুশী হব, যদি আপনার কোন লেখাতে সমস্যাগুলোর ব্যখ্যাসহ বৈজ্ঞানিক সমাধানের পথ নিয়ে আলোচনা করা হয়।

ধন্যবাদ, নাগরিক ও রায়হান কবির। এ-মুহূর্তে লেখা ছাড়া আর কিছু করার ক্ষমতা নেই। তাই লিখে যাচ্ছি।
যাঁরা আমার চেয়ে অগ্রগামী, অন্ততঃ কাজের ক্ষেত্রে, আমার বিশ্লেষণ যদি তাঁদের কাজে লাগে, তাহলে লেখার একটা প্রায়োগিক স্বার্থকতা আছে বুঝতে হবে। অবশ্য, তা না হলেও লিখতে হবে। এটি হচ্ছে স্বারোপিত দায়িত্ব।
শাহবাগ-আন্দোলন নিয়ে যাঁরা লিখেছেন, তাঁদের লেখায় তুলে ধরা বিশ্লেষণগুলোর একটি তুলনামূলক উপস্থাপনা নিয়ে ইউকেবেঙ্গলি একটি ই-বুক প্রকাশনার কথা ভাবছে। এটি হলে, বিভিন্ন প্রকারের বিশ্লেষণের তূল্যবিচারের সুযোগ পাওয়া যাবে। তাতে পাঠকদের মধ্যে 'ক্রিটিক্যাল থিংকিং' উৎসাহিত হবে।

আপনার আগের লেখাগুলোর মত এই অসাধারন লেখাটার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

It is become very essential that someone should write about this real SHAHBAG. Its a total madness which ignite whole country into caos more or less civil war situation. SHAHBAG! its a bitter product of middle class fantacy. Now whole country has to swallow it. Why? Why?
I am angry,disgusted, hopeless, and betrayed by some degree but your writing makes a believe that at least someone hasn't sailed himself down the river yet at the same time i feel so pitty for the leaders for left movements of BD. How come they failed to grasped this fact. Perhaps they don't want to take a risk!!! Please keep it up and many thanks for well ovserved and thoughtful writing.

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন