• সকল চরমপন্থীদের ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবেলা করতে হবে
    ফরীদ আহমদ রেজা

    গতকাল (২২ মে, ২০১৩) দক্ষিণ লণ্ডনের ঊলিচ এলাকায় সন্ত্রাসীদের হামলায় একজন ব্রিটিশ সৈনিক নিহত হয়েছেন। এ-ন্যাক্কারজনক ঘটনা বর্ণ-ধর্ম নির্বিশেষে ব্রিটেনের সকল মানুষকে ক্রুদ্ধ, ক্ষুব্ধ এবং উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। আমরা কঠোর ভাষায় এ ঘটনার নিন্দা জানানোর সাথে-সাথে নিহত সৈনিকের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।

    এ-বর্বরোচিত হত্যাকান্ড সংঘটিত হবার পর অন-আইনে গোটা পৃথিবী এর ভিডিও ফুটেজ প্রত্যক্ষ করেছে। বিস্ময়ের বিষয়, হত্যার পর ঘাতকরা সেখান থেকে পালিয়ে যেতে চেষ্টা করেনি। তাদের একজন রক্তাক্ত হাতে চাপাতি এবং ছোরা ধরে রেখে নিজের দুষ্কর্মের পক্ষে সাফাই দিয়েছে। সাফাই দিতে গিয়ে সে ব্রিটিশ সরকারের বিদেশ-নীতির সমালোচনা করেছে এবং আমাদের আতঙ্কিত করে দিয়ে, সেখানে কুরআনের রেফারেন্স দিয়েছে। মুসলমান এবং ব্রিটিশ মুসলিম হিসেবে এটা আমাদের জন্যে সীমাহীন ক্ষোভ ও লজ্জার বিষয়।

    আমরা ক্ষুব্ধ এ জন্যে যে ইসলামের নাম নিয়ে সন্ত্রাসী কাজ করে সে ইসলামকে অপমানিত করেছে। ইসলামে সন্ত্রাসবাদের স্থান না থাকলেও কোন কোন মহল সন্ত্রাসবাদের সাথে ইসলামের সম্পর্ক আবিষ্কারে সদা-সর্বদা তৎপর। শুধু ব্রিটেনে নয়, গোটা পৃথিবীব্যাপী তাদের কাজ সম্প্রসারিত। তারা ইসলাম এবং মুসলমানদের দানবীয় আকৃতিতে চিত্রিত করার কোন সুযোগকে হাতছাড়া করে না। এ ঘটনাকেও তারা মুসলমানদের বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে কাজে লাগাবে। আনন্দের বিষয়, বর্তমান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডাউনিং স্ট্রীট থেকে প্রদত্ত এক বিবৃতিতে স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ‘এ-ধরণের বর্বর কাজ ইসলাম সমর্থন করে না। মুসলিম কমিউনিটি এ দেশের জন্যে অনেক কাজ করছেন। যারা এ-সন্ত্রাসী কাজ করেছে তারা ইসলাম ও মুসলিম কমিউনিটির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে’। লজ্জিত এ-জন্যে যে আমরা মুসলমানরা ব্রিটেনকে নিজেদের দেশ মনে করি এবং এ দেশের উন্নতির জন্যে দিনরাত পরিশ্রম করছি। আমরা চাই, বর্ণ-ধর্ম নির্বিশেষে বিলাতের সকল মানুষের জীবন সুখি, সমৃদ্ধ ও সুন্দর হোক। কথিত ঘাতক তার ঘৃণ্য কাজের মাধ্যমে এ-দেশের সকল মুসলমান ও ইমিগ্র্যাণ্টকে কলঙ্কিত করেছে। এ-ন্যাক্কারজনক কাজ করে সে আমাদের ব্যাপারে স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে সন্দেহের বীজ বপন করেছে।

    হত্যাকাণ্ডের সংবাদটি বিবিসি অনলাইনে পাঠ করার সাথে সাথে আমরা ভেবেছি, ইংলিশ ডিফেন্স লীগ বা বিএনপি’র মত চরম দক্ষিণপন্থী দল এ-ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করবে। পরবর্তীতে আমরা দেখলাম, বাস্তবেও তাই ঘটেছে। বিএনপি নেতা নিক গ্রিফিন সাথে সাথে ট্যুইটারে মন্তব্য করলেন, ‘গণহারে ইমিগ্রেশনের কারণেই এ-অপরাধ সঙ্ঘটিত হয়েছে।’  অপরদিকে ইংলিশ ডিফেন্স লীগের শ'খানেক লোক ঘটনার পর-পর অকুস্থলের আশেপাশে জড়ো হয়ে মুসলিম বিরোধী শ্লোগান দেয়া শুরু করে। তারা পুলিশের উদ্দেশ্যে বোতলও নিক্ষেপ করে। ইডিএল নেতা টমি রবিনসন-এর একটি উক্তি অন-লাইন গার্ডিয়ান তুলে ধরেছে। সে বলেছে, ‘ওরা আমাদের সৈনিকদের মস্তক কেটে ফেলছে। এর নামই ইসলাম, যা আমরা আজ দেখছি। তারা আমাদের এক সৈন্যের মাথা কেটে লন্ডনের রাজপথে ফেলে রেখেছে।’ সে আরো বলে, ‘স্কুলগুলোতে আমাদের পরবর্তী বংশধরদের শিক্ষা দেয়া হয়, ইসলাম শান্তির ধর্ম। আসলে তা নয়, এটা কখনো ছিল না। আজ আমরা যা দেখছি, এটাই ইসলাম। যথেষ্ট হয়ে গেছে। এর প্রতিকার হতে হবে। সরকারকে শুনতে হবে, পুলিশকে শুনতে হবে, ব্রিটিশ জনগণ কতটুকু ক্ষুব্ধ তা তাদের বুঝতে হবে।’ 

    বর্ণবাদী ও দক্ষিণপন্থীদের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ সরকার এবং পুলিশের কঠোর ভূমিকার পরও নিক গ্রিফিন এবং টমি রবিনসন-এর কথার কিছুটা প্রতিধ্বনি আমরা বিভিন্ন স্থানে দেখেছি। হত্যাকাণ্ডের প্রতিক্রিয়া স্বরূপ বিভিন্নস্থানে মসজিদ এবং মুসলমানদের উপর ছোটোখাটো হামলার ঘটনা পত্র-পত্রিকায় এসেছে। এগুলোকে একটি বর্বরোচিত ঘটনার স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখাই ভালো। সংঘটিত হত্যাকান্ডের প্রেক্ষিতে ইডিএল বা বিএনপির বক্তব্য ব্রিটিশ জনগণকে কতটুকু প্রভাবিত করেছে বা ভবিষ্যতে করবে তা আমরা নিশ্চিত করে বলতে না পারলেও সন্ত্রাস এবং চরমপন্থার বিরুদ্ধে ব্রিটিশ জনগণের  কঠোর অবস্থান আমাদের জানা আছে। এশিয়া বা আফ্রিকার কোন দেশে এ রকম ঘটনা ঘটলে সাথে সাথে দাঙ্গা বেঁধে যাওয়ার উপক্রম হতো। বাংলাদেশে বা পাকিস্তানে কোন খৃষ্টান ধর্মাবলম্বী যদি কোন সৈন্যকে এ ভাবে হত্যা করতো তা হলে সে সব দেশের মানুষ এর প্রতিক্রিয়া স্বরূপ কি করতো তা কল্পণা করতেও আমরা আতঙ্কিত হই। সে তুলনায় ব্রিটেনে কিছুই হয়নি এবং এর প্রতিক্রিয়া স্বরূপ এখানে ব্যাপক কোন হাঙ্গামা সৃষ্টির সম্ভাবনা আছে বলেও আমরা মনে করি না। কিন্তু মুসলমান হিসেবে বা ইমিগ্র্যাণ্ট হিসেবে আমাদের দায়িত্ব এবং  নিজেদের রেকর্ড সঠিক ও উজ্জল করার প্রয়োজনীয়তাকে উপেক্ষা করার উপায় নেই। 

    আমাদের মতে, এ হত্যাকান্ড মুসলমান এবং ইমিগ্র্যান্টদের সামনে চ্যালেঞ্জ নিয়ে হাজির হয়েছে। পৈশাচিক কাজকে শুধু নিন্দা করে এ চ্যালেঞ্জে বিজয়ী হওয়া যাবে না। আমাদের এ স্বীকৃতি দিতে হবে, মুসলিম কমিউনিটিতে চরমপন্থা ও সন্ত্রাসের বীজ রয়েছে। ঊলিচ হত্যাকাণ্ডের কথিত ঘাতক চিৎকার দিয়ে বিশ্ববাসীকে তা জানিয়ে দিয়েছে। নিরপরাধ ও নিরস্ত্র ব্রিটিশ সৈনিককে হত্যা করে সে 'আল্লাহু আকবার' ধ্বনি দিয়ে ইসলাম ও মুসলমানদের অপমানিত করেছে। ব্রিটিশ সরকার বা এ-দেশের আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্বে নিয়োজিত বিভিন্ন সংস্থা অবশ্যই সকল শক্তি দিয়ে চরমপন্থীদেরকে মোকাবেলার চেষ্টা করবে। ইমিগ্র্যান্ট এবং মুসলমানদেরও এ ব্যাপারে উদ্যোগী ভূমিকা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। ইসলামের দোহাই দিয়ে কেউ চরমপন্থা বা সন্ত্রাসী কার্যকলাপকে বৈধতা দেয়ার চেষ্টা করলে দেশের সুশীল ও সচেতন নাগরিক হিসেবে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। আমরা এখানে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করতে পারি না। যদি বা কিন্তুর মারপ্যাচ বাদ দিয়ে এক কথায় চরমপন্থাকে ‘না’ বলতে হবে।

    চরমপন্থীদের চিহ্নিত করার কাজে আমাদের কথিত ঘাতকের দেয়া কুরআনের রেফারেন্সকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে দেখতে হবে। সে বলেছে, ‘কুরআনে আছে, চোখের বদলে চোখ, দাঁতের বদলে দাঁত।’ ফৌজদারী দণ্ডবিধি প্রসঙ্গে কুরআনে তা উল্লেখিত হয়েছে। এর মানে হচ্ছে, কারো বিরুদ্ধে যদি এ অভিযোগ আসে যে সে কারো চোখ বা দাঁতের ক্ষতি করেছে তা হলে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে আসামীর জন্যে সমপরিমাণ শাস্তির ব্যবস্থা করা। এর মাধ্যমে কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে সরকারের আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ার অধিকার দেয়া হয়নি। এ থেকে বোঝা যায় ধর্মীয় লেবাসধারী কোন ‘মুর্খ-পন্ডিত’ ঘাতককে ইসলামের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে বিভ্রান্ত করেছে। যারা সরলপ্রাণ মানুষদের এ ভাবে বিভ্রান্ত করছে তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। কথিত ঘাতক ব্রিটিশ সরকারের বিদেশনীতি নিয়েও কথা বলেছে। সৈনিকরা ব্রিটিশ বিদেশনীতি প্রণয়ন করে না তা একজন সাধারণ মানুষও জানে। ব্রিটিশ বিদেশনীতির অপরাধে একজন সাধরণ সৈনিককে, যে কারো সাথে যুদ্ধরত বা যুদ্ধক্ষেত্রে নয়, হত্যা করা কি কুরআনের সুষ্পষ্ট লঙ্ঘন নয়? কুরআন বলেছে, ‘একজন মানুষকে হত্যা করবে সে যেন সমগ্র মানবজাতিকে হত্যা করলো।’ ‘একজনের অপরাধের বোঝা অন্যজন বহন করবেনা।’ তা ছাড়া সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের মাধ্যমে ব্রিটিশ বিদেশনীতি পরিবর্তন করা যাবে বলে যারা মনে করে তারা আহাম্মকের স্বর্গে বাস করে। ব্রিটেন একটি গণতান্ত্রিক দেশ। ব্রিটিশ সরকারের কোন নীতির মধ্যে পরিবর্তন আনতে হলে ব্রিটিশ রাজনীতির সাথে অধিকতর সম্পৃক্ত হতে হবে। রাজনৈতিক পদ্ধতিতে অংশ নেয়ার মাধ্যমে তা অর্জন করতে হবে, সন্ত্রাসী কার্যক্রমের মাধ্যমে নয়। 

    মুসলমানদের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, তারা পৃথিবীর যেখানে যায় সে দেশকেই তারা নিজেদের দেশ মনে করে। ব্রিটেনের মুসলমানরা এর ব্যতিক্রম নয়। প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় প্রজন্মের ইমিগ্র্যান্ট মুসলমানদের প্রায় সকলের মধ্যে এ-মনোভাব রয়েছে। অধিকন্তু, তৃতীয় প্রজন্মের মুসলমানদের কাছে ব্রিটেন দ্বিতীয় স্বদেশ নয়, একমাত্র স্বদেশ। বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত প্রভৃতি দেশকে তারা মা-বাবার দেশ হিসেবে বিবেচনা করে। ইমিগ্র্যাণ্টদের তৃতীয় প্রজন্মের সন্তানেরা বিলাতের রাজনীতি ও অর্থনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে সাফল্যের স্বাক্ষর রাখছে। তারা এ দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে নিজেদের উন্নয়ন ও অগ্রগতি হিসেবে দেখে। জীবন দিয়ে হলেও তারা এ-দেশের শান্তি ও নিরাপত্তা অক্ষুন্ন রাখতে বদ্ধপরিকর। 

    মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশসমূহের অনেক মানুষ নিজ দেশে নির্যাতনের শিকার হয়ে বিলাতে এসে রাজনৈতিক আশ্রয়ে বসবাস করছেন। আইনের শাসন, মানবাধিকার, মৌলিক অধিকার, ন্যায়-বিচার ইত্যাদির বিচারে পৃথিবীর অনেক দেশের তুলনায় ব্রিটেনের অবস্থান শীর্ষে। যারা ইসলামী রাষ্ট্র বা শরিয়া আইনের কথা বলে বিলাতের রাস্তায় স্লোগান দেন তাদের বুঝা উচিত, শরিয়া আইনে যে-সাম্য ও ন্যায় বিচারের কথা বলা হয়েছে তা তথাকথিত মুসলিম দেশগুলোর চেয়ে ব্রিটেনে আমরা অনেক বেশি উপভোগ করছি। বর্তমান ঘটনা থেকেই একটা দৃষ্টান্ত দেয়া যায়। ঊলিচের হত্যাকাণ্ডের আসামীদের আটক করার আগে ব্রিটিশ পুলিশ গুলি করে তাদের আহত করেছে। কারণ, ঘাতকদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র আছে বলে পুলিশের কাছে তথ্য ছিল। এ-সময় গুলি করা ছাড়া পুলিশের সামনে অন্য কোন উপায় ছিল কি না তা অনুসন্ধান করে দেখার নির্দেশ ইণ্ডিপেণ্ডেণ্ট পুলিশ কমিশনকে দেয়া হয়েছে। অথচ বাংলাদেশসহ বিভিন্ন মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে পুলিশের গুলিতে এবং পুলিশের হাতে নির্যাতিত হয়ে শত শত মানুষ মারা যাচ্ছে। তা নিয়ে সরকার বা পুলিশ মোটেই মাথা ঘামাচ্ছে না। বিভিন্ন মানুষকে রিমান্ডে নিয়ে বাংলাদেশের পুলিস দিনের পর নির্যাতন করে পঙ্গু করছে বা মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে। মানবাধিকার কর্মীরা পর্যন্ত এ ব্যাপারে টু শব্দ করছে না। শরীয়া আইনের ন্যায়-ইনসাফের কথা বলতে হলে, আপনারা নিজেদের দেশ বা সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশে গিয়ে বলুন। মানবাধিকার ও মানবতা সে-সব দেশেই ভূলুণ্ঠিত হচ্ছে। ঘৃণা ও সন্ত্রাসের প্রচার করে মুসলমানদের জন্যে নিরাপদ এবং শান্তিতে বসবাসের এ-দেশকে বিনষ্ট করবেন না। 

    যারা চরমপন্থা ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের মাধ্যমে এ দেশকে উত্তপ্ত করে তুলতে চায় তারা অবশ্যই মানবতার দুশমন। এ দেশের চরম দক্ষিণপন্থী গোষ্ঠী এমনিতেই মুসলমান এবং ইমিগ্র্যাণ্টদের বিরুদ্ধে নানা রকম উস্কানিমূলক কথাবার্তা প্রচার করে ব্রিটেনবাসীকে উত্যক্ত করছে। কিন্তু বহুজাতিক সাংস্কৃতিক চেতনায় সমৃদ্ধ উদার গণতান্ত্রিক ব্রিটিশ সমাজ কখনো তাদের প্ররোচনায় কর্ণপাত করেনি। বিলেতের সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষ বহুজাতিক গণতান্ত্রিক চেতনার ব্যাপারে অঙ্গীকারাব্ধ। অপরদিকে ইসলামের বাণী ঘৃণা বা বিদ্বেষের নয়, ভালোবাসার। ইসলামের পথ চরমপন্থা নয়, মধ্যমপন্থা। ইসলামের পথ সন্ত্রাস নয়, ডায়ালগ। সহমর্মিতা, ক্ষমা, সহনশীলতা ও ভালোবাসায় সমৃদ্ধ বানী নিয়ে মুসলমানরা এ-দেশে এসেছে। মুসলমানদের মধ্য থেকে বিচ্ছিন্ন কোন ব্যক্তি বা গ্রুপের তৎপরতা ব্রিটিশ সমাজে বিভক্তির কারণ হিসেবে চিহ্নিত হলে এর দায় শেষ পর্যন্ত মুসলমান এবং ইমিগ্র্যানণ্ট কমিউনিটির সকলকে বহন করতে হবে। তাই আমাদের এ-ব্যাপারে ছাড় দেয়ার কোন সুযোগ নেই। কমিউনিটির সবাইকে নিয়ে আমাদের সকল প্রকার সন্ত্রাস ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। 

    লণ্ডন, ২৩ মে ২০১৩
    লেখক ব্রিটেন প্রবাসী শিক্ষাবিদ ও কলামিস্ট
    faridahmedreza@hotmail.com 

     

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন