• সাবাস, গ্রীক বীর তিসিপ্রাস!
    মাসুদ রানা

    প্রাচীন নগর-সভ্যতার যুগে অগ্রপথিক দেশ গ্রীসের এক আধুনিক বীরের কথা বলছি। আমি নিশ্চয় অ্যালেক্সান্দার ‘দ্য গ্রেইট’ সম্বন্ধে বলছি না; বলছি অ্যালেক্সিসের কথা। তিনি অ্যালেক্সিস তিসিপ্রাস, যিনি ধীমান তারুণ্যের সাথে গণসম্পৃক্ত লড়াকু বাম-রাজনীতির সংমিশ্রণ ঘটিয়ে সূর্যের মতো ঝলসে উঠেছেন ভূমধ্যসাগরের স্বর্ণগর্ভা গ্রীসের মধ্য-গগণে সমগ্র ইউরোপ আলোকিত করে।

    মাত্র ৩৮ বছর বয়স অ্যালেক্সিস তিসিপ্রাসের। দেখতে অনেকটা তরুণ দিগ্বিজয়ী অ্যালেক্সান্দারের মতো। সুপুরুষ, নির্ভীক ও বীর। প্রাচীন কালে অ্যালেক্সান্দার বীর হয়েছিলেন রণাঙ্গণে অসি-ব্যবহার ও সেনা নেতৃত্ব দিয়ে, আর বর্তমানে অ্যালেক্সিস তিসিপ্রাস বীর হয়েছেন মসি-ব্যবহার ও জন-নেতৃত্ব দিয়ে।

    বিশ্ব পুঁজিবাদী অর্থনীতির অসম বিকাশের মধ্যে জোর করে চাপিয়ে দেয়া মেগা-স্টেইট বা মহা-রাষ্ট্র হিসেবে যে-ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন গড়ে তোলা হয়েছে ইউরোপীয় পুঁজিবাদের শক্তিবৃদ্ধি ও বিশ্ব অর্থনীতি ও রাজনীতিতে নির্বিবাদ প্রাধান্য রক্ষার প্রয়োজনে, তার মধ্যে হাঁপিয়ে উঠেছে আপেক্ষিক অর্থে যে-ক’টি দুর্বল পুঁজিবাদের দেশ, তাদের মধ্যে গ্রীস অন্যতম। ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের অর্থ-লগ্নি প্রতিষ্ঠানগুলোর ও আন্তর্জাতিক অর্থ সংস্থা আইএমএফের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী এ-পর্যন্ত চলতে-চলতে গ্রীস উপনীত হয়েছে এক ক্রান্তি কালে।

    এই ক্রান্তি-কাল শুধু গ্রীসের নয়। সমগ্র ইউরোপের। সমগ্র বিশ্বের। প্রশ্ন হচ্ছেঃ পৃথিবীর কয়েকটি বহুজাতিক বাণিজ্য-সংস্থা তাদের বশংবদ বিবিধ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অধিষ্ঠান ও প্রতিষ্ঠান-সমূহের সমর্থন নিয়ে যেভাবে বিশ্বব্যাপী নয়া-সাম্রাজ্যবাদী ব্যবস্থা চাপিয়ে দিয়ে দেশে-দেশে মানুষের জীবনকে দুর্বিসহ করে তুলেছে, তা কি অপ্রতিরোধ্য শক্তিতে এগিয়ে যাবে, না পৃথিবীর মানুষ এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে?

    প্রাচীন কালে মানব-জাতির সভ্যতার পথে নেতৃত্বদানকারী গ্রীক-জাতি আবার উঠে দাঁড়িয়েছে - এবার বিশ্ব-পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে। আপোসহীন রাজনৈতিক জোট সিরিযার মাধ্যমে বুহ্য রচনা করে এর পুরোভাগে দাঁড়িয়েছেন আধুনিক গ্রীক-বীর অ্যালেক্সিস তিসিপ্রাস অসম সাহসিকতার সাথে। আর তা লক্ষ্য করে শঙ্কিত হয়ে উঠেছে ইউরোপ তথা বিশ্ব-পুঁজিবাদ।

    পুঁজিবাদী অর্থনীতি - যার লক্ষ্য হচ্ছে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত মুনাফা অর্জন করা - তার উত্থান-কালে, জাতির নাম নিয়ে সামন্ত-সাম্রাজ্য ও তাদের সমর্থনকারী ধর্মতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াই করে, যেভাবে মানুষকে ভূমি-দাসত্ব থেকে মুক্ত করে স্বাধীন শ্রমজীবীর মর্য্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছিলো, আজ সেই পুঁজিবাদই তার সর্বোচ্চ স্তরে উপনীত হয়ে, বহুজাতিক লগ্নিপুঁজির রূপ ধারণ করে প্রতিটি জাতিকে নয়া-সম্রাজ্যবাদী দাসত্বের নিগড়ে বেঁধে ফেলেছে।

    পৃথিবীতে মানুষের দুঃখের কারণ হচ্ছে তার শ্রমের নিজের মূল্যের চেয়ে অধিক মূল্য তৈরী করার ক্ষমতা। পুঁজিবাদী অর্থনীতিতে শ্রম দিয়ে উৎপাদনের প্রক্রিয়ায় ‘ক’ পরিমাণ অর্থ-মূল্যের পণ্য ভোগ করে দেহ-মনের শক্তির পুনরুদ্ধার ও তার পুনঃপ্রয়োগের মাধ্যমে বহুগুণ ‘ক’ মূল্যের পণ্য উৎপাদন করার কারণে যে-উদ্বৃত্ত বা বাড়তি-মূল্য তৈরী হয়, তাই মালিকানার বলে মুনাফা হিসেবে ছিনিয়ে নিয়ে আবার বিনিয়োগ করে চক্র-বৃদ্ধি-হারে মুনাফার পাহাড় গড়েন পুঁজিপতিরা।

    শ্রমজীবী তাঁর উৎপাদিত মূল্য থেকে যতোই কম পান, মালিকের মুনাফার পরিমাণ বৃদ্ধি পায়; আর মুনাফার পরিমাণ যতোই বৃদ্ধি পায়, শ্রমজীবীর পণ্য কেনা ক্ষমতা ততোই কমে আসে; ক্রয়-ক্ষমতা যতোই হ্রাস পায়, পণ্যের কাটতিও কমে যায়; পণ্য বিক্রি না হলে, উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায় ‘লোকসান’ এড়াবার উদ্দেশ্যে; উৎপাদন বন্ধ হলে কর্মচ্যুত হন শ্রমজীবীরা; শ্রমজীবী কর্মচ্যুত হলে তাঁদের ক্রয়-ক্ষমতা আরও হ্রাস পায়; পরিশেষ পুঁজিবাদ মুমূর্ষু হয়ে ওঠে। এই হচ্ছে পুঁজিবাদের দুষ্টচক্র, যার হাত থেকে নিস্তার নেই কারও। আজ পর্যন্ত পৃথিবীর কোনো পুঁজিবাদ-সমর্থক পণ্ডিত এর চিকিৎসা দিতে পারেননি। একমাত্র  সামাজিক মালিকানাধীন মুনাফার-উদ্দেশ্যহীন মানব-প্রয়োজনে পরিকল্পতি অর্থনীতিই একমাত্র সমাধান - যার অর্থ পুঁজিবাদের বিনাশ।

    মানব-জাতির জন্য এক সময়কার আশির্বাদ স্বরূপ উত্থিত পুঁজিবাদ কালের পরিক্রমায় বিকাশের পথে হয়ে উঠেছে অভিশাপ। প্রকৃতি মানুষকে যা দান করেছিলো বেঁচে থাকার জন্য, তার সবকিছু - শষ্যবীজ থেকে শুরু করে খনি পর্যন্ত - কিনে নিয়েছে বিশ্ব-পুঁজিবাদ তথা সাম্রাজ্যবাদ, যার দেহগত রূপ হচ্ছে জাতীয় ও বহুজাতিক বাণিজ্য সংস্থাসমূহ এবং তাদের সমর্থনকারী বিশ্ব-প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, আইএমএফ ও ইউনাইটেড ন্যাশনস তথা জাতিসঙ্ঘ।

    বহুজাতিক এ-দানবের শোষণে ইউরোপ, এসিয়া, আফ্রিকা, আমেরিকা, লাতিন আমেরিকার সাধারণ মানুষেরা প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়েছে। দেশে-দেশে হাজার-হাজার মানুষ এমনকি আত্মহত্যা পর্যন্ত করছে। গ্রীসের আত্মমর্যাদা সম্পন্ন এক প্রৌঢ় অ্যাথেন্সের পার্লামেন্ট-চত্বরে নিজেকে বুলেটে বিদ্ধ করে আত্মহত্যা করেছেন, আর লিখে গিয়েছেন যে, রাস্তার বিন থেকে খাদ্য খুঁজে বেঁচে থাকার আত্ম-মর্য্যাদাহীন জীবনের চেয়ে তিনি মৃত্যুকে শ্রেয় মনে করেন।

    গ্রীসকে ঋণে বেঁধে আরও ঋণ-নির্ভর করে ফেলেছে সাম্রাজ্যবাদ। বলেছে, ঋণের সুদ পরিশোধ করতে। কিন্তু গ্রীসের অর্থ নেই, কীভাবে পরিশোধ করবে ঋণের সুদ? তো, ঋণদাতারা বলছে, ঠিক আছে, আরো দেয়া হবে ঋণ - ‘বেইল আউট’ যার নাম। সেই বেইল আউটের অর্থ থেকে সুদ দেবে গ্রীস। কিন্তু শর্ত একটিঃ অস্টারিটি অর্থাৎ কৃচ্ছ্রতা সাধণ করতে হবে। কিন্তু কী পদার্থ এই কৃচ্ছ্রতা?

    কৃচ্ছ্রতা পদার্থ নয় - বরং রাষ্ট্রকে অপদার্থ করার দাওয়াই এটি। রাষ্ট্র জনকল্যাণ-খাতে ব্যয় করতে পারবে না। যাঁরা কর্ম-নিযুক্ত, তাঁদের একটা অংশকে কর্মচ্যুত করে বেতনের অর্থ বাঁচাতে হবে। যাঁরা কর্ম-শেষে অবসরে আছেন, সেই বয়স্কদের ভাতা হ্রাস করতে হবে। যাঁরা কর্মক্ষম কিন্তু কর্মহীন, তাঁদের বেকার ভাতা বন্ধ কিংবা হ্রাস করতে হবে। শিশু-ভাতা-সহ সব ভাতা হ্রাস করতে হবে। বর্তমানের স্বচ্ছলদের আয়কর বাড়াতে হবে আর অতি ধনী ব্যক্তি ও বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানের আয়কর কমাতে হবে।

    সাম্রাজ্যবাদ খোদ ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের জন্যে দাওয়াই দিয়েছে। কিন্তু গ্রীসের জন্য দাওয়াই আরও শক্ত। গ্রীসকে বলেছে, তার জনপথ, বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর, পাহাড়, বন, পার্ক, হ্রদ, প্রাচীন সভ্যতার স্থাপত্য-নিদর্শন, সব বিক্রি করে দিতে ব্যক্তি-মালিকের হাতে। তারা বহুজাতিক, তাই নিলামে বিক্রি হবে সারা বিশ্বের ধনকুবেরদের কাছে উন্মুক্ত করে।

    এ-পর্যন্ত গ্রীসে প্রধান-স্রোতধারার সকল রাজনৈতিক শক্তিকেই মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে সাম্রাজ্যাবাদী শর্ত - গ্রীসে যাকে স্থানীয় ভাষায় বলা হচ্ছে মেমোরেণ্ডাম। এমনকি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জর্জ পাপেন্দ্রৌ সমাজতান্ত্রিক দলের হবার পরও বাধ্য হয়েছেন সাম্রাজ্যবাদের কাছে নতজানু হতে। তিনি ও তাঁর দলও ক্ষমতায় থাকার জন্য সাম্রাজ্যবাদের সেবাদাসত্ব মেনে নিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তিনি ‘আচ্ছা, গণভৌট দিয়ে দেখি গ্রীক জনগণ এটি সমর্থন করে কি-না’ বলার ‘অপরাধে’ তাঁকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে। গ্রীস এ-পর্যন্ত সাম্রাজ্যবাদী পরিকল্পনার ভিত্তিতেই চলছিলো।

    কিন্তু বিশ্ব-পুঁজিবাদের পরিকল্পকরা একটি হিসেব কখনও ঠিক মতো করতে পারেন না, আর তা হচ্ছেঃ জনগণের মননের হিসেব। তাঁদের ‘হাইলী সফেস্টিকেইটেড মডেল’-সমূহের সমীকরণগুলোতে ‘জনগণ’ ফ্যাক্টর সব সময় গোলমেলে হয়ে যায়। গণ-মাধ্যম দিয়ে জনগণের বোধ-বুদ্ধি, রুচি-সংস্কৃতি, পছন্দ-অপছন্দের যতো প্রকৌশল বা ‘মেনিপুলেইট’ করুক না কেনো, জীবনের যে-একটি ইচ্ছা-নিরপেক্ষ দাবী আছে, তাকে ‘মেনিপুলেইট’ সম্ভব হয় না। আর সে-কারণেই মানুষ যখন তাঁদের জীবনের তাগিদে ঘুরে দাঁড়ায়, তখন পুঁজিবাদী-সম্রাজ্যবাদী বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের সমস্ত বিদ্যা-বুদ্ধি মুখ থুবড়ে পড়ে ভেঙ্গে ছত্রখান হয়ে যায়। 

    ভূমি-প্রৌকশলী অ্যালেক্সিস তিসিপ্রাস ভূমিতে কান পেতে তৃণমূল মানুষের জীবন-প্রত্যাশার আওয়াজ শুনতে পেয়েছিলেন। কৈশোর থেকেই তিনি কমিউনিস্ট ভাবাপন্ন ছিলেন, কিন্তু ছত্রধর কিংবা তল্পিবাহক ছিলেন না। মৌলিক চিন্তার মানুষ তিনি। তিনি ও তাঁর কমরেডগণ আদর্শের আক্ষরিক-অনুসরণের চেয়ে এর সৃষ্টিশীল প্রয়োগ ও বিকাশে মনোযোগী হয়েছিলেন। তাই তাঁরা মৌলিক গণস্বার্থে একটি নির্দিষ্ট উপলব্ধি ও পর্যায়ে যাঁরা সহমতের, তাঁদেরকে নেতৃত্ব দিয়ে কয়েক বছরের মধ্যে গ্রীক জনগণের আশা-ভরসার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।

    গত সপ্তাহের নির্বাচনে গ্রীসের জনসাধারণ দেশের দীর্ঘ-প্রতিষ্ঠিত প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রত্যাহার করেছেন। গ্রীক জনগণ বুঝে ফেলেছেন, এরা দেশী-বিদেশী পুঁজিবাদী শ্রেণী তথা বিশ্ব-পুঁজিবাদের সেবাদাস। তাই বিকল্প হিসেবে খানিকটা দ্বিধা নিয়ে হলেও তাঁরা ভৌট দিয়েছেন অ্যালেক্সিস তিসিপ্রাসের নেতৃত্বাধীন সিরিযা জোটকে।

    ২০০৪ সালে যে রাজনৈতিক্ক শক্তির জন্ম, তা স্বাভাবিকভাবেই শুরুতে মানুষের মধ্যে আবেদন তৈরী করতে পারেনি। কিন্তু তাঁর লক্ষ্যের স্থিরতা ও সংগ্রামের নিত্যতা ও অবিচলতা মাত্র ৮ বছরের মাথায় সর্বশেষে পার্লামেন্টার নির্বাচনে দ্বিতীয় স্থানে নিয়ে এলো।

    একক ভাবে সরকার গঠন করতে পারার মতো সংখ্যা গরিষ্ঠতা কোনো দলই পায়নি নির্বাচনে। তাই দক্ষিণপন্থী নিউ ডেমোক্র্যাসী পার্টি সরকার গঠনে ব্যর্থ হবার পর দেশের প্রেসিডেন্ট কারোলস পাপাউলিয়াস সিরিযার নেতা অ্যালেক্সিস তিসিপ্রাসকে ম্যাণ্ডেট দিয়েছিলেন সরকার গঠনের।

    তিসিপ্রাস নিশ্চিত সরকার গঠন করতে পারতেন, যদি তিনি আপোসহীন না হতেন। কিন্তু তিনি শুরুতেই বলেছেন, তার সরকারে সে-দলই আসতে পারবে, যার গ্রীসের উপর চাপিয়ে দেয়ে ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন ও আন্তর্জাতিক অর্থ সংস্থা আইএমএফের চাপিয়ে দেয়া ঋণ-শর্ত, যা গ্রীসে মেমোরেণ্ডাম নামে পরিচিত, তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে সম্মত হবে।

    অ্যালেক্সিস তিসিপ্রাস প্রথমেই নির্ভীক চিত্তে ঘোষণায় করে দিয়েছেন যে, গ্রীক জনগণ সাম্রাজ্যবাদী সেবাদাসদের আমলে আরোপিত শর্ত প্রত্যাখান করেছেন বলেই তাঁকে ভৌট দিয়েছেন। সুতরাং নির্বাচনে তাঁদের দ্বিতীয় অবস্থান হচ্ছে সেই মেমোরেণ্ডামের বিরুদ্ধে ম্যাণ্ডেইট।

    সিরিযার মতো কেউই গণস্বার্থে বিশ্ব পুঁজিবাদের বিরুদ্দেহ দাঁড়াতে চায় না বলে তিসিপ্রাসের সাথে সরকার গঠনে আসেনি। তাই, তৃতীয় স্থান পাওয়া দল পোসাক পার্টিকে প্রেসিডেন্ট ম্যাণ্ডেইট দিয়েছেন্ন সরকার গঠনের। তারাও ব্যর্থ হতে চলেছেন। আর তা দেখে, ৮৩ বছর বয়স্ক প্রেসিডেন্ট  কারোলস পাপাউলিয়াস ডেকেছেন সব পার্লামেন্টারী দলের নেতাদের। কারণ তিনিও চাপ অনুভব করছেন ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন ও নিজ-দেশের পুঁজিপতিদের কাছ থেকে।

    কিন্তু লক্ষ্য ও প্রতিশ্রুতির ক্ষেত্রে এখনও অবিচল অ্যালেক্সিস তিসিপ্রাস বলে দিয়েছেন, তিনি যাবেন না আপোস আলোচনায়। আর তাঁর এই অবস্থানের কারণে তাঁর জোট সিরিযার প্রতি গ্রীক জনগণের সমর্থ বেড়ে গিয়েছে এক লাফে। তৃতীয় দলও যদি সরকার গঠন করতে না পারে, তাহলে সংবিধান অনুযায়ী আবার নির্বাচন হবে গ্রীসে। আর, যদি তাই হয়, তখন জনগণে ব্যাপক হারে ভৌট দেবেনে তিসিপ্রাসের সিরিযাকে।

    যদি সিরিযা একক ভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে ইউরোপের রাজনীতিতে ব্যপাক প্রভাব পড়বে গ্রীক নেতা অ্যালেক্সিস তিসিপ্রাসের অর্থাৎ রেডিক্যাল বামপন্থার। সম্ভবতঃ বিশ্ব-পুঁজিবাদের এই সঙ্কটকালে পৃথিবীর সংগ্রামী মানুষের সামনে পথ দেখাবে মানব সভ্যতার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান-রাখা এই গ্রীক জাতি। আর, এর সেনানী হবেন অ্যালেক্সিস তিসিপ্রাস।

    রোববার, ১৩ মে ২০১২
    নিউবারী পার্ক
    এসেক্স, ইংল্যাণ্ড

    masudrana1@gmail.com

পাঠকের প্রতিক্রিয়া

ইউরোপের বাম রাজনৈতিক দলগুলোর উপর আস্থা রাখা মুশকিল। তিসিপ্রাসকে আরো কয়েকদিন অবসার্ভ করা দরকার।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন