• ‘জীবনে যারে তুমি দাওনি মালা, মরণে কেনো তারে দিতে এলে ফুল?'
    মাসুদ রানা

    আওয়ামী লীগের সদ্য প্রয়াতঃ নেতা আব্দুর রজ্জাকের প্রতি ‘শ্রদ্ধা জানাতে' লণ্ডনে সোমবারে অনুষ্ঠিতব্য শোকসভায় যাবার অনুরোধ সম্বলিত একটি পাঠ্যবার্তা বাংলা-মাধ্যমের সাংবাদিকরা পেয়েছেন। এটি যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পাঠানো বার্তা। আব্দুর রাজ্জাক সম্পর্কে সেখানে বলা হয়েছে যে, তিনি ছিলেন ‘ঝানু রাজনীতিক, বিখ্যাত মুক্তিযোদ্ধা, স্বাধীনতা যুদ্ধের সংগঠক ও আওয়ামী লীগের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক'।

    নিঃসন্দেহে আব্দুর রাজ্জাক তাই ছিলেন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে যদি পরিবারতন্ত্রের প্রবর্তন না হতো, তাহলে তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীও হতে পারতেন। কিন্তু, বাস্তবতা হলো এই, সাম্প্রতিক কালে আব্দুর রাজ্জাক প্রান্তিক হয়ে পড়েছিলেন। অনেকে বলেন, তাঁকে প্রান্তিক করে ফেলা হয়েছিলো।

    কেন্দ্র থেকে প্রান্তে সরিয়ে দেয়া, কিংবা ব্যঘ্রকে মুষিকে পরিণত করা, কিংবা তার উল্টোটাও করা আওয়ামী লীগে নতুন কিছু নয়। যুদ্ধকালীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদকে এভাবেই প্রান্তিক করে ফেলা হয়েছিলো স্বাধীন বাংলাদেশের এক পর্যায়ে। আমার ধারণা, শেখ মুজিব যদি গান্ধী হতে পারতেন, তাহলে তাজুদ্দিন আহমেদ হতেন বাংলাদেশের নেহরু।

    আব্দুর রাজ্জাকের প্রান্তিক হবার পেছনে তাঁর নিজেরও অবদান আছে। সঙ্কট-কালে তিনি শীর্ষ নেতৃত্বের পাশে দাঁড়াননি কিংবা দাঁড়াতে পারেননি। এটি একটি ‘অমিশন'। হয়তো ‘কমিশন'ও কিছু থেকে থাকবে, যা আমরা জানি না। রাজনীতিতে ভুলের কোনো স্থান নেই। এটি একটি নির্মম প্রক্রিয়া। কিন্তু মানুষ নির্মম নয়। বলা ভালো, মানুষের নির্মম হওয়া উচিত নয়।

    ভারতের এক রাজনীতিক-দার্শনিক বলেছিলেন, ‘রাজনীতি একটি হৃদয়বৃত্তি'। জানি না, সব রাজনীতিই হৃদয়বৃত্তি কি-না। রাজনীতির অন্তর্কলহে নেতাকে খুন করার ঘটনাও বিরল নয়। শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে এমন হৃদয়হীন ভাবে খুন করার পেছেন যে-নেতা ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে, তিনি মুসলিম লীগের ছিলেন না, ছিলেন আওয়ামী লীগেরই। নাম তাঁর, খন্দকার মোশতাক আহমেদ।

    আব্দুর রাজ্জাক অনেক দিন ধরেই লণ্ডনে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাঁর অবস্থা বিশেষ ভালো ছিলো না। তিনি মারা যাবেন, এটি মোটামুটি ধারণা করা গিয়েছিলো। আর সে-কারণেই জীবতাবস্থাতেই তাঁর মৃত্যুর শোকবার্তা পাঠিয়ে দেয়া হয়েছিলো সংবাদ-মাধ্যমে, বাংলাদেশে। এটি প্রমাণ করে, আব্দুর রাজ্জাকের মৃত্যু-পরবর্তী কর্তব্যগুলো সম্পর্কে প্রস্তুতি ছিলো।

    কিন্তু জীবিত আব্দুর রাজ্জাকের জন্য কী প্রস্তুতি ছিলো, যখন তিনি অসুস্থ হয়ে লণ্ডনে এলেন? রাজনৈতিক মহলে এ-বিষয়ে বেশ আলোচনা হয়েছে যে, তাঁর দলের কেন্দ্রীয় নেতারা, বড়ো-বড়ো মন্ত্রীরা লণ্ডনে আসছেন-যাচ্ছেন, কিন্তু তাঁকে হাসপাতালে দেখতে যাননি। এমনকি, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে আব্দুর রাজ্জাকের প্রতি যে আগ্রহ, তাঁর অসুস্থতায় যে-উদ্বেগ ও তাঁর যত্নে যে-তাড়না থাকবে বলে ধারণা করা হয়েছিলো, তা লক্ষ্য করা যায়নি।

    কেনো এমনটি হলো? এজন্যই কি যে, দলের ‘হাই কমাণ্ড' আব্দুর রাজ্জাকের প্রতি বিরক্ত? আর সে-কারণেই আব্দুর রাজ্জাকের বিষয়ে আগ্রহ, উদ্বেগ ও যত্ন দেখিয়ে নিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার কেউ নষ্ট করতে চাননি? কীভাবে গড়া উচিত রাজনৈতিক ক্যারিয়ার, আর বাস্তবে তা কীভাবে গড়ে উঠছে?

    দুয়েকদিন আগেই আওয়ামী লীগের আরেক নেতা তোফায়েল আহমেদ ঢাকায় ‘নেতৃত্ব' সম্পর্কিত একটি সেমিনারে পূর্বের সাথে বর্তমানের তুলনা করে বক্তৃতা করেছেন। তিনি বলেছেন, তাঁদের সময় তাঁরা ছাত্র রাজনীতি করে ধাপে-ধাপে রাজনীতির ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ এবং হতাশা হলো, এখন শীর্ষ নেতৃত্বকে খুশি করতে পারলেই তা হয়ে যায়। এ-কথা বুঝতে পাঠকের অসুবিধা হয়নি যে, তোফায়েল আহমেদ এ-কথাগুলো নিজ-দল আওয়ামী লীগ সম্পর্কেই বলেছেন।

    সংবাদ পত্রের খবর থেকে বুঝা যায়নি এর কারণ সম্পর্কে তোফায়েল আহমেদের ধারণা কী। প্রয়াতঃ আব্দুর রাজ্জাক ও তোফায়েল আহমেদের মতো নেতাদের অভিজ্ঞতার বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ বাংলাদেশের প্রধান স্রোতধারার রাজনীতির সবলতা-দূর্বলতা বুঝার ক্ষেত্রে আমাদের বিশেষভাবে সাহায্য করতে পারতো।

    তোফায়েল আহমেদের সমস্যা হচ্ছে ‘স্মৃতি-তুমি-বেদনা' ধরনের। তিনি ১৯৬৯ সাল ভুলতে পারেন না। তিনি ঊনসত্তরের গণ-অভূত্থানের নেতা ছিলেন। এ-অভ্যূত্থান ছিলো বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বাধীনতা যুদ্ধের ড্রেস রিহার্সেল। আর, তোফায়েল আহমেদ ছিলেন তার নায়ক। কিন্তু সময় এগিয়ে চলে। সময়ের দাবী পূরণ না করে ইতিহাস ধরে থাকলে প্রান্তিক হয়ে যেতে হয়। রাজ্জাক-তোফায়েল সাহেবেরা সময়ের দাবী পূরণ করতে পারেননি।

    তাঁদের প্রথম ব্যর্থতা বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর মুক্তিযুদ্ধের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য কাজ করতে না পারা। এ-ব্যর্থতার ফলে ছাত্রলীগ ভেঙ্গে জাসদের সৃষ্টি হয়েছিলো। জাসদ আজ শেখ হাসিনার দৃঢ়কল্প অনুগত। ভিত্তি কী? ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা'। কিন্তু এ-জাসদই অত্যন্ত ইতর ভাষায় শেখ মুজিবুর রহমানের ‘গায়ের চামড়া দিয়ে জুতো বানানো'র কথা বলেছিলো বলে আওয়ামী লীগের অভিযোগ রয়েছে। জাসদেরও অভিযোগ রয়েছে তার দশ হাজার কর্মী হত্যা করার। একমাত্র জাসদের পক্ষেই সম্ভব ছিলো ‘বিভীষণ' হয়ে শেখ মুজিবুর রহমানকে এতো অ-জনপ্রিয় করে তোলা যে, তাঁর বিরুদ্ধে সামরিক বাহিনী অভ্যূত্থান করার সাহস করতে পেরেছিলো। এটিই সত্য যে, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর তথাকথিত ‘সিপাহী-জনতার বিপ্লব' কালে জেনারেল জিয়াউর রহমান ও কর্নেল তাহেরের যুক্ত নামে স্লৌগান দেয়া হয়েছিলো।

    রাজ্জাক-তোফায়েলদের দ্বিতীয় ব্যর্থতা হচ্ছে শেখ মুজিবুর রহমানকে বাকশাল গঠন করার মধ্য দিয়ে তাঁকে স্বাধীন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের একনায়কে পরিণত হতে দেয়া। তাঁদের উচিত ছিলো সাধারণ ভাবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এবং বিশেষভাবে আওয়ামী লীগের মধ্যে বুর্জোয়া অর্থেও প্লুরালিজম নিশ্চিত করা। কিন্তু তা তাঁরা করেননি। এর ফলে যে রাজ্জাক-তোফায়লেরা বাংলার মানুষকে, প্রধানতঃ তরুণ প্রজন্মকে, ঊনসত্তর-একাত্তরে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখিয়ে উদ্বুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলেন, তাঁরা সে-মানুষগুলোর স্বাধীনতা ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত করা জন্য নিজেদের নিবেদিত করেননি। তাঁরা যুদ্ধে-প্রাপ্ত-রাষ্ট্রে নিজেদের ক্যারিয়ার গুছাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। ভুলে গিয়েছিলেন ঊনসত্তর-একাত্তরের কথা।

    রাজ্জাক-তোফায়েলদের তৃতীয় ব্যর্থতা হচ্ছে, ১৯৭৫ সালের সামরিক অভ্যূত্থানকে সাথে-সাথে চ্যালেইঞ্জ করতে না পারা। যাঁরা পাকিস্তানী সেনাবাহিনী ও তথাকথিত লৌহমানব আইয়ুব খানকে চ্যালেইঞ্জ করে সমগ্র পাকিস্তানকে তাঁর লৌহ-থাবা থেকে মুক্ত করতে পেরেছিলেন, তাঁরাই বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর অপকর্মের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারলেন না। কেনো তাঁরা ঊনসত্তরে পারলেন, কিন্তু পঁচাত্তরে পারলেন না? পারলেন না এ-কারণে যে, ঊনসত্তরে তাঁরা জনগণের প্রতি মমত্বে সংকল্প-সমৃদ্ধ ছিলেন, কিন্তু পঁচাত্তরে ছিলেন না। তাই তাঁদের নৈতিক বলও ছিলো না।

    পঁচাত্তরে আওয়ামী লীগের একদল শেখ মুজিবুর রহমানকে ষড়যন্ত্র করে খুন করিয়েছে। একদল পালিয়ে গিয়েছে। একদল ভয়ে অথবা লোভে ষড়যন্ত্রকারীদের সাথে যোগ দিয়ে মন্ত্রী পর্যন্ত হয়েছে এবং আরেক দল নিষ্ক্রিয় হয়ে থেকেছে।

    এটি শেখ হাসিনার কৃতিত্ব যে, তিনি কোনো দলের মধ্য না থেকেও শেষ পর্যন্ত শেখ মুজিবুর রহমানের খুনীদের বিচার করিয়ে শাস্তি পাইয়ে ছেড়েছেন। বাঙালীর ছেলে না হলে আফসোস করেঃ নাম ধরে রাখবে কে? শেখ মুজিবুর রহমানের পুত্র শেখ কামাল পিতার নামকে উজ্জ্বল করতে পারেননি বরং কালিমা লিপ্ত করেছিলেন। কিন্তু কন্যা শেখ হাসিনা পিতা শেখ মুজিবুর রহমানকে ইতিহাস নিভৃত গহবর থেকে তুলে এনে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেছেন।

    আমি শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার রাজনীতির সমালোচক, কিন্তু এ-কথা বলতে আমার দ্বিধা নেই যে, পৃথবীর ইতিহাসে শেখ হাসিনার মতো এমন কন্যা পাওয়া যাবে না, যিনি তাঁর পিতৃ-হত্যার এমন গঠনমূলক প্রতিশোধ নিয়েছেন। ইতিহাস তাঁকে এ-কাজের জন্য মনে রাখবে (গাদ্দাফি-কন্যা আয়শা হয়তো একদিন শেখ হাসিনার কাছে ছুটে আসবে অভিজ্ঞতার জন্য)। কিন্তু এটি আবার রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে শেখ হাসিনার একটি দূর্বলতাও বটে, তবে এ-আলোচনা এখানে অপ্রাসঙ্গিক।

    রাজ্জাক-তোফায়েল সাহেবদের চতূর্থ ভুল হচ্ছে, জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থায় আওয়ামী লীগের রেজিস্ট্রেশন নেবার পর দলের জ্যৈষ্ঠ নেতা হওয়া সত্ত্বেও নিজদের মধ্যে সমঝোতা করে দলটিকে একটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে না পারা।

    আজ শেখ হাসিনা সর্বময় কর্তৃত্বের মাল্‌কিন্‌। তাতে ঊনসত্তরের নায়ক তোফায়েল আহমেদ স্মৃতি-কাতর হয়ে বেদনা বোধ করেন। কিন্তু ন্যায় কথা বলতে গেলে বলতে হয়, শেখ হাসিনা তো নিজে থেকে এসে নেতা হননি। এমনকি চতুর নেহুরুর মতো শেখ মুজিবও তাঁর কন্যাকে ভাবী নেত্রী হিসেবে গড়ে তুলেননি।

    আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মধ্যে কাজিয়ার জন্য শেখ হাসিনাকে আনতে হয়েছিলো। শেখ মুজিবুর রহমানের উত্তরাধিকার হিসেবে তার কমরেড নয়, বরং পরিবারের সদস্য শেখ হাসিনাকে আওয়ামী লীগের নেতা বানানো হয়েছে বলেই পরবর্তীতে জিয়াউর রহমানের উত্তরাধিকার হিসেবে তাঁরও পরিবারের সদস্য খালেদা জিয়াকে বিএনপির নেতৃত্বে আনা হয়েছে। রাজ্জাক-তোফায়েল সাহেবেরা যে-বিদ্যা শিখিয়েছিলেন, এখন সে-বিদ্যাই তাঁদের উপর প্রয়োগ করা হয়েছে।

    তাঁদের পঞ্চম ভুল হচ্ছে, তাঁরা নিজেদের অতীতের ভুলকে শুধরাতে চেয়েছেন সামরিক বাহিনীর সহায়তায় ২০০৭ সালে। সামরিক বাহিনী যখন শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে বন্দী করে তথাকথিত ‘মাইনাস টু ফর্মুলা' বাস্তবায়িত করতে চাইলো, তখন রাজ্জাক-তোফায়েল সাহেবেরা ‘ঘর-পোড়ার মধ্যে আলু পোড়াতে' চাইলেন। ভাবলেন, ঊনসত্তরের ‘কর্মী' শেখ হাসিনাকে ‘নেত্রী' করে যে-ভুল করেছি, এবার তা সংশোধনের সুযোগ যায়। তাঁরা দলের গণতান্ত্রয়ণ তথা সংস্কার করতে চাইলেন। দলের নেত্রী যখন বন্দিনী, তখন তাঁর পাশে না দাঁড়িয়ে তাঁকে বিয়োগ করার চিন্তা বা চেষ্টা দুটোই রাজনৈতিক নৈতিকতায় অন্যায়। সে-জন্যেই রাজ্জাক-আমু-তোয়াফেল-সুরঞ্জিতদেরকে তাঁদের নামের ইংরজী আদ্যাক্ষর দিয়ে ‘ইঁদুর' হিসেবে নির্দেশ করা হয়।

    সর্বোপরি, রাজ্জাক-আমু-তোফায়েল-সুরঞ্জিত-সহ আওয়ামী লীগ সাধারণ নেতা-কর্মীদের সর্বোচ্চ ব্যর্থতা হচ্ছে দলটিকে বুর্জোয়া অর্থেও একটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে না পারা। এর প্রধান কারণ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, ব্যক্তি-স্বাধীনতা বোধ ও ব্যক্তির মর্যাদাবোধের ঘাটতি। আর এ-ঘাটতি এসেছে, রাজনীতিক হিসেবে দেশের মানুষের প্রতি প্রকৃত ভালোবাসার অভাব থেকে।

    যাঁরা আওয়ামী লীগ (বা বিএনপি) করেন, তাঁরা এটি মেনে নিয়েই রাজনীতি করছেন যে, তাঁরা বা তাঁদের সন্তান-সন্ততি স্বপ্নেও দলের শীর্ষ নেতা বা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না। দলের শীর্ষ নেতা বা প্রধানমন্ত্রীত্ব নির্ধারিত হয়ে আছে এক অদ্ভূত ‘পবিত্র পরিবার'-এর বোধ থেকে। আওয়ামী লীগ বিএনপি'র কর্মীদের মধ্য যতো লাঠা-লাঠি ও ফাটা-ফাটি থাকুক না কেনো, নেতৃত্ব সম্পর্কিত দৃষ্টিবোধে এরা অভিন্ন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে আমি যাকে ‘রহমানিজম' বলি, এটি তার একটি উপাদান। কিন্তু দুঃখের বিষয়, কোনো রহমানই সম্ভতঃ এ-বিষয়টির জন্ম দেননি - অন্ততঃ বুঝে দেননি।

    প্রান্তিক হয়ে বেঁচেছিলেন আব্দুর রাজ্জাক। আজ তাঁর কোনো দাবী নেই নেতৃত্বের। তিনি কোনো হুমকিও নন। সম্ভবতঃ তাঁর উপর ‘হাই কমাণ্ড'ই আর বিরক্ত নন। তাই জীবিতাবস্থায় আব্দুর রাজ্জাকের গণ-সংবর্ধনা, কর্মী-সভা, সাংবাদ-সম্মেলন বা মত-বিনিময় সভা অনুষ্ঠান না হলেও মৃত্যুর পর একটি শোক সভা হচ্ছে লণ্ডনে। সে-শোকসভায় যাবার নিমন্ত্রণ-প্রাপ্তির পরিপ্রেক্ষিত একটি বিখ্যাত নজরুলগীতি বেজে উঠলো দূর স্মৃতি-কন্দরেঃ

    'জীবনে যারে তুমি দাওনি মালা,
    মরণে কেনো তারে দিতে এলে ফুল?
    মুখপানে যার কভু চাওনি ফিরে,
    কেনো তারই লাগি আঁখি অশ্রু-আকুল?'

    নিউবারী পার্ক
    এসেক্স, ইংল্যাণ্ড
    রোববার, ৮ জানুয়ারী ২০১২
    masudrana1@gamil.com

     

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন