• ‘দেখিস, একদিন আমরাও...’
    মাসুদ রানা

    অপুষ্টিতে কৃশ দেহের একটি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হলে, তাকে কেউ 'স্বাস্থ্য' বলেন না। এটি অসুস্থতা। আন্দাজিত ২৫ কোটি মানুষের জাতি বাঙালী, বিশ্বে যার সংখ্যাবস্থান দ্বিতীয় এবং স্বনামে সৃষ্ট 'বাংলাদেশ' রাষ্ট্রটিতে যাঁদের সংখ্যা অন্ততঃ ১৬ কোটি, সেই জাতির নিদারুণ দারিদ্র আবার উন্মোচিত হলো লণ্ডন অলিম্পিক্‌সে।  

    বিশ্ব-ক্রীড়াঙ্গনে বাঙালীর এক কাল কেটেছে পাকিস্তান ও ভারতের ক্রিকেট-দালালী করে। ইদানিং সূর্যের চেয়ে অধিক তপ্ত দিশি 'তারকা'দের সংকীর্তণে ব্যস্ত জাতি ভুলে গিয়েছে বাকী সব ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া। তপ্ত নক্ষত্রগণ মেজাজে 'বাংলার বাঘ' হয়ে মাঠে-ময়দানে-রাস্তা-ঘাটে 'হালুম, হালুম, কী হনুরে' গর্জাচ্ছেন । আর থর্‌থরানো বঙ্গজগণ বিস্ফারিত নেত্রে বিভোর হয়ে সব ঢেলে দিচ্ছেন ব্যঘ্র-বন্দনায় উজার করে।

    যদিও ঘন-ঘন বন্যার নদীমাতৃক বাংলাদেশের জীবন-যাপিত হয় জলের সাথে, কিন্তু জলক্রীড়ায় আজ বাঙালীর দশা 'সাঁতারে বিড়াল সম'। অথচ এ-জাতির ব্রজেন দাসই একদিন ইংলিশ চ্যানেল সাঁতরিয়ে রেকর্ড করেছিলেন। হতে পেরেছিলেন প্রকৃত 'বেঙ্গল টাইগার'।

    বাঙালী-অধ্যুষিত লণ্ডন টাওয়ার হ্যামলেটস ঘেঁষে চলছে লণ্ডন অলিম্পিক্‌স ২০১২। সারা বিশ্বের নজর নিবিষ্ট এতে। তরুণ প্রজন্মের 'বেঙ্গলি লণ্ডনার্স' বা লণ্ডনবাসী বাঙালীর সংখ্যা সুনির্দিষ্ট না হলেও এদের প্রাচুর্য্য সুনিশ্চিত। কারণ, তেরো বছর আগে ১৯৯৯ সালে গ্রেইটার লণ্ডনের সকল সেকেণ্ডারী স্কুলের 'হৌল পপুলেশন সার্ভে'তে দেখা গিয়েছিলো তিনশোরও অধিক ভাষাভাষীদের মধ্যে ইংরেজি-ভাষীদের পরই বাংলাভাষীদের স্থান।

    আজ তাঁদের মহানগরীতেই যখন বিশ্ব অলিম্পিকস্‌ হচ্ছে নাগরিকত্ব-নির্বিশেষে মূল জাতিগত পরিচয় নিয়ে, তখন না চাইতেও বাঙালী 'আডেন্টিটি' বা আত্মপরিচয়ের প্রশ্নটি তাঁদের সামনে আসবেই। প্রশ্ন আসতে বাধ্যঃ বাঙালীত্বের মূল্যমান কতোটুকু? বিশ্ব-দরবারে বাঙালীর স্থান কোথায়?

    দৃশ্যতঃ তরুণ প্রজন্মের বাঙালীদের ভাবনা কী, প্রশ্ন কী, তা প্রতিফলিত ও ধারণ করার কোনো আধার নেই। তাই লক্ষ-লক্ষ প্রশ্নের তীর নিক্ষিপ্ত হচ্ছে অদৃশ্যে। কে তার জবাব দেবে?

    গত সপ্তাহে বিক্ষিপ্ত-আলাপে সাপ্তাহিক পত্রিকার প্রধান সম্পাদক ও সম্পাদক বললেন, তাঁদের নিজেদের তরুণ-বয়েসী ছেলে-মেয়েরা কাঁদো-কাঁদো হয়ে জিজ্ঞেস করছেঃ 'বাবা ওয়ান হাণ্ড্রেড ফিফটি-সিক্সটি মিলিয়ন পপুলেশনের দেশ বাংলাদেশের অলিম্পিক প্রতিযোগী মাত্র পাঁচজন। কোনো পদক পাওয়া তো দূরের কথা, ভালো পার্টিসিপেশনই নেই। কেনো বাবা? এমনটি হবে কেনো?

    বাবাদের কোনো উত্তর নেই। বস্তুতঃ এ-প্রশ্ন শুধু কিশোর-তরুণ বয়েসীদের নয়, প্রাপ্তবয়স্ক, প্রৌঢ় ও প্রবীণদেরও। এ-প্রশ্নের সম্ভাব্য উত্তর হতে পারে উত্তর-এড়ানো একটি আশাবাদ, যা অনেকটা সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের 'কেউ কথা রাখেনি কবিতা'য় 'বাবা'র সেই কাঁধ-ছোয়া আশ্বাসের মতোঃ

    'একটাও রয়্যাল গুলি কিনতে পারিনি কখনো
    লাঠি-লজেন্স দেখিয়ে দেখিয়ে চুষেছে লস্করবাড়ির ছেলেরা
    ভিখারীর মতন চৌধুরীদের গেটে দাঁড়িয়ে দেখেছি
    ভিতরে রাস-উৎসব
    অবিরল রঙের ধারার মধ্যে সুবর্ণ কঙ্কণ পরা ফর্সা রমণীরা
    কত রকম আমোদে হেসেছে
    আমার দিকে তারা ফিরেও চায়নি!
    বাবা আমার কাঁধ ছুঁয়ে বলেছিলেন, দেখিস, একদিন, আমরাও...'

    বাঙালী জাতির নেতারা সেই 'বাবা'র মতো শুধু আশাবাদ শুনাচ্ছেনঃ 'সোনার বাংলা', 'স্বনির্ভর বাংলাদেশ', 'ডিজিট্যাল বাংলাদেশ', ইত্যাদি। কিন্তু কেউ কথা রাখেনি। সম্ভবতঃ 'কেউ কথা রাখেনি'তে উল্লেখ করা সেই 'মামা বাড়ীর মাঝি নাদের আলি'র মতো সবাই বিশ্বাস করেন বাঙালী এখনও বড়ো হয়ে ওঠেনি। তাই বাঙালীর জন্য ধ্রুব প্রতিশ্রুতিঃ

    '...বড় হও দাদাঠাকুর
    তোমাকে আমি তিন প্রহরের বিল দেখাতে নিয়ে যাবো
    সেখানে পদ্মফুলের মাথায় সাপ আর ভ্রমর
    খেলা করে!'

    কিন্তু, নাদের আলি, বাঙালী আর কতো বড়ো হবে?

    বছর আষ্টেক আগে বাংলাভাষাকে দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব করে জাতিসংঘের মহাসচিব কফি আনানের কাছে লেখা একটি চিঠিতে পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছিলাম যে, 'এথ্‌নিসিটি' ও 'লিঙ্গুয়ালিটি'র সংমিশ্রণে গঠিত 'এথনোলিঙ্গুয়িস্টিক গ্রুপ' বা ভাষাজনজাতি হিসেবে চীনা হান জাতির পরই বাঙালীর স্থান।

    সুতরাং এটি দেহে 'বড়ো হওয়া'র সমস্যা নয়। এটি হচ্ছে চেতনায় পরিপক্ক হবার সমস্যা। এবারের লণ্ডন অলিম্পিক্‌স আবার চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো, বাঙালী জাতি কতো অপরিপক্ক। ১৬ কোটি বাঙালীর রাষ্ট্র থেকে অলিম্পিকে এসেছেন মাত্র ৫ ক্রীড়াবিদ। যদিও, তাদের দেখাশোনা করার জন্য এসেছেন ১৬ জন আমলা-কর্মকর্তা,  আর উৎসাহ দিতে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পুত্র-সহ জানা-মতো ২৫ জন।

    সরকার-বিরোধীদের অভিযোগ-মতে, সরকারী দলের সাথে আনা হয়েছে ২০০ থেকে ২৫০টি ভারী স্যুটকেইস। কিন্তু সাথে আসেনি যা, তা হচ্ছে প্রস্তুতি, দক্ষতা ও দৃঢ়তা, যা দূরদৃষ্টি ও বিশ্ববোধ সম্পন্ন সঠিক নেতৃত্বের অধীনে পরিচর্চার মধ্য দিয়ে বিকশিত হয়। 

    'অপরিপক্কতার' দিকে অঙ্গুলি-নির্দেশ করলে জাতীয়তাবাদীরাতো বটেই, অনেক আন্তর্জাতিকতাবাদী বাঙালীও তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠেন। লেখায় চাবুক হেনে জাতির বোধে আঘাত করে জাগিয়ে তুলতে প্রায়শঃ অপরিপক্কতার প্রসঙ্গ আসে। কিন্তু এতে সবার আগেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে নেতাগণ।

    একই সাথে একই অঙ্গে বঙ্গবন্ধু-সৈনিক, বাম-বিপ্লবী, কমরেড ও আলহাজ্ব রূপের এক 'শ্রীনাথ' সেদিন আপত্তি উচ্চারণ করে বললেন, 'বাঙালী অপরিপক্ক নয়'।

    তথাস্তু! শ্রীনাথকে জিজ্ঞেস করিঃ

    কোন্‌ পরিপক্ক জাতি জনসংখ্যায় বেড়েছে কিন্তু স্পিরিটে বাড়েনি বরং আপন সংখ্যাবৃদ্ধিকে আশির্বাদের চেয়ে অভিশাপ ও দুর্ভাগ্যের কারণ মনে করে?

    কোন্‌ পরিপক্ক জাতি তার হাজার বছরের অতি গৌরবময় ইতিহাস সম্পূর্ণ বিস্মৃত হয়ে মাত্র ষাট বছরের জাবর কাটে?

    কোন্‌ পরিপক্ক জাতি ঔপনিবেশিক শক্তির হাতে তার এক-তৃতীয়াংশ মানুষের নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার ইতিহাস ভুলে যায় একবার, আবার এবং বারবার?

    কোন্‌ পরিপক্ক জাতি ধর্মের নামে নিজের জল-স্থল-অন্তরীক্ষ ও আপন সাংস্কৃতিক সত্ত্বাকে দ্বিখণ্ডিত করে?

    কোন্‌ পরিপক্ক জাতির নেতা স্বাধীনতার ডাক দিয়ে নিজেকে শত্রুর হাতে বন্দী হতে দিয়ে স্বাধীনতার যুদ্ধে অনুপস্থিত থাকেন?

    কোন্‌ পরিপক্ক জাতিতে দালাল তৈরী হয়ে ধর্মের নামে স্বজাতির গণহত্যায় হানাদারদের সহযোগিতা করে?

    কোন্‌ পরিপক্ক জাতির পিতা যুদ্ধে জেতা ধর্ম-নিরপেক্ষ জাতীয় পরিচয়কে ভূলুন্ঠিত করে আন্তর্জাতিক ইসলামিক সম্মেলনে যোগ দেবার জন্য হানাদেরদের দেশে আতিথ্য গ্রহণ করে 'সব ভুলে যাবার' আহবান করেন?

    কোন্‌ পরিপক্ক জাতির নেতা গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করে শেষে নিজেই গণতন্ত্রকে হত্যা করে একদলীয় স্বৈরশাসন কায়েম করে সমস্ত রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন?

    কোন্‌ পরিপক্ক জাতি তার নেতাকে পিতা হিসেবে গ্রহণ করে শেষ পর্যন্ত তাঁকে নিরাপরাধ শিশু-সহ সপরিবারে হত্যা করে আনন্দোল্লাস করে?

    কোন্‌ পরিপক্ক জাতিতে বারবার সামরিক শাসন ফিরে আসে এবং আসা মাত্রই তাকে জয়ধ্বনি দিয়ে স্বাগত জানায়?

    কোন্‌ পরিপক্ক জাতি সামরিক শাসনের বিকল্প হিসেবে বংশপরম্পরায় পূর্ব-নির্ধারিত নেতৃত্বকে 'এটিই নিয়ম' মনে করে 'গণতন্ত্র'র চর্চা করে?

    কোন্‌ পরিপক্ক জাতির 'নাগরিকগণ' আপন সন্তানের জন্য দেশের সর্বোচ্চ নেতৃত্বে আসীন তো দূরের কথা এমনকি প্রতিদ্বন্দ্বিতা কিংবা স্বপ্ন দেখার 'থিওরেটিক্যাল প্রোবেবিলিটি' বা 'তাত্ত্বিক সম্ভাবনা'র অঙ্কুরকে পায়ে মাড়িয়ে রাজনৈতিক দলের সদস্য হন?

    কোন্‌ পরিপক্ক জাতি দুটো কাল্পনিক 'ট্রাইব' বা 'গোষ্ঠী'তে বিভক্ত হয়ে পরস্পরের প্রয়াত নেতাকে 'টোটেম' ও 'ট্যাবু' হিসেবে ব্যবহার করে দৃশ্যতঃ অন্তহীন কলহে লিপ্ত হয়ে সমগ্র দেশ ও জাতির সবকিছুকে দ্বিমেরুকরণে বিভক্ত করে দেয়?

    যে-জাতি শুধু আত্মশ্লাঘা আর তোষামোদ পছন্দ করে, সে জাতি পরিপক্ক নয়। যে-জাতির মধ্যে আত্মসমালোচনাকে দমন করা হয়, সে জাতি সাবালক জাতি নয়। সমাজের রন্ধ্রে-রন্ধ্রে ঘুনে ধরা বাঙালী সমাজে ধনাঢ্য ও প্রবলের পদলেহন ও তোষামোদ এবং দরিদ্র ও দূর্বলের প্রতি নির্দয় ও রুষ্ট আচরণ পদে-পদে প্রতিভাত। এভাবে সমগ্র বাংলা জুড়ে গড়ে উঠেছে এক মহা অচলায়তন।

    এই অচলায়তন ভাঙ্গতে হবে। প্রৌঢ়েরা এটি পারবেন না। স্ট্যাস্টাস্কৌতে যাঁরা নানাবিধ সুবিধা নিয়ে রয়েছেন, তাঁরা পারবেন না। কারণ, তাঁরা হারাবার ভয়ে ভীত। তাঁরা ইতিহাস আশ্রয়ী হয়ে এবং নিজদের মতো ইতিহাস বর্ণনা করে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে চান।

    অচলায়তন ভাঙ্গার ঐতিহাসিক দায়িত্ব তরুণ প্রজন্মের। কিন্তু যতোদিন না তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সম্পূর্ণ ভিন্ন রকমের আত্মপরিচিতি, জীবনবোধ, মূল্যবোধ ও বিশ্ববোধ নিয়ে একদল অস্বীকারকারী তৈরী হবে, স্বপ্নদ্রষ্টা তৈরী হবে, কর্মী তৈরী হবে, ততোদিন পর্যন্ত বাঙালী অপরিপক্কতা ঘুচবে না।

    অপরিপক্কতা ঘুচাতেই হবে। তাই বজ্রনিনাদে উচ্চারিত হোক কবির সেই  'দেখিস, একদিন আমরাও...' উন্মুক্ত কাব্য-সংলাপে 'অলিম্পিকসে সোনার মেডেল জিতে আনবো' যুক্ত করে। বিশ্বের বুকে বাঙালী তার স্থান চেয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবেই।

    অবশ্যই, সে-মাথাকে হতে হবে প্রচলতি চেতনা, বিশ্বাস ও চর্চার 'ঘরের ছাদ ফুঁড়ে, আকাশ স্পর্শ করে'। আর তখনই কাজি নজরুলের ভাষায়ঃ 'শির নেহারি আমারি (আমার মাথা দেখে) নত শির (মাথা নিচু হয়েছে), ঐ শিখর হিমাদ্রির (ঐ হিমালয়শৃঙ্গ এভারেস্টের)'।

    এক সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর কেন্টিনের কার্নিশে রেড অক্সাইড দিয়ে লিখেছিলাম বিপ্লবী বাঙালী দার্শনিক শিবদাস ঘোষের অমর বাণীঃ

    'প্রকৃত যুবক আমরা তাকেই বলি,
    যার মর্যাদাবোধ আছে,
    লড়বার তেজ আছে এবং
    যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে মোকাবেলা করার সাহস রাখে।'

    কথাগুলো তখন একুশ বছর বয়সী এক যুবকের জীবন-বোধকে চিরদিনের জন্যে পাল্টে দেবার মতো যথেষ্ট পারমাণবিক শক্তিসম্পন্ন ছিলো। সত্যি বলতে, এই বাণীতে উজ্জবীতরাই আশির দশকে সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আলোক শিখা জ্বালিয়ে তাকে নিষ্কম্প-প্রজ্জ্বোলিত রেখেছিলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

    তবে আজকের যুগে সেই বোধকে আরও উন্নত ও শাণিত করতে হবে। মনে রাখতে হবে, উন্নত মানবিক জীবনবোধ ও মূল্যবোধ আসে প্রকৃত ভালোবাসা থেকে। বাঙালী সমাজে আর্থিক ও মর্যাদিক শ্রেণী-বিন্যাসে সংখ্যায় বৃহত্তম ও সর্বপ্রান্তস্থিত মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ব বোধ থেকে, তাঁদের সাথে একাত্ম হয়ে নতুন আত্মপরিচিতি লাভ করে, তাঁদের জন্য পৃথিবীতে সুন্দরতম মনুষ্যজীবন আনার নির্ঘুম-স্বপ্নে উজ্জিবীত হয়ে অনুভূত ভালোবাসাই কাঙ্খিত সেই বোধ তৈরীতে সাহায্য করবে।

    রোববার, ১২ অগাস্ট ২০১২
    নিউবারী পার্ক
    এসেক্স, ইংল্যাণ্ড
    masudrana1@gmail.com

পাঠকের প্রতিক্রিয়া

অনন্য লেখা।

আমাদের বাঙালিদের পিছিয়ে পড়া দিকগুলো একদিন একে একে এগিয়ে থাকা দিকে পরিণত হবে-- সেই একান্ত কামনায় ফের আপনার লেখা থেকেই ঊদ্ধৃত করছি:

আজকের যুগে সেই বোধকে আরও উন্নত ও শাণিত করতে হবে। মনে রাখতে হবে, উন্নত মানবিক জীবনবোধ ও মূল্যবোধ আসে প্রকৃত ভালোবাসা থেকে। বাঙালী সমাজে আর্থিক ও মর্যাদিক শ্রেণী-বিন্যাসে সংখ্যায় বৃহত্তম ও সর্বপ্রান্তস্থিত মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ব বোধ থেকে, তাঁদের সাথে একাত্ম হয়ে নতুন আত্মপরিচিতি লাভ করে, তাঁদের জন্য পৃথিবীতে সুন্দরতম মনুষ্যজীবন আনার নির্ঘুম-স্বপ্নে উজ্জিবীত হয়ে অনুভূত ভালোবাসাই কাঙ্খিত সেই বোধ তৈরীতে সাহায্য করবে।

বিশ্ব পরিমন্ডলে বাঙ্গালী অপরিপক্ক জাতি এ সত্যটি মেনে নিতে আমাদের কোন আপত্তি থাকার কথা নয়। অহেতুক ভুল ধারনা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেয়ে সত্যকে মেনে নিয়ে সব কিছু নতুন করে গড়ে তুলাকে আমি শ্রেয় মনে করি।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন