সংবাদ পরিক্রমা
সংবাদ প্রতিবেদন
- জামায়াতে ইসলামীর তিন নেতার গ্রেফতার ও রিমান্ড

বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর গ্রেফতার ও রিমান্ড বিষয়ে আপনার মতামত লিখুন।
পাঠকের প্রতিক্রিয়া
আমি যেটুকু জেনেছি, জায়ায়েত এধরনের সিচুয়াশনের জন্য প্রস্তুত ছিলো।
আমি যেটুকু জেনেছি, জায়ায়েত এধরনের সিচুয়াশনের জন্য প্রস্তুত ছিলো??
Baje kotha. Jamat is simply overrated. Kono Motadorsho nai eder.
ঢাকার মিডিয়া পাড়া থেকে শুরু করে সবত্র একটি গুজুব ঘুরে বেড়াচ্ছে তা হলো জামাত নেতাদের গ্রেফতার ও রিমান্ড সব কিছুই করা হচ্ছে জামাতকে বিএনপি থেকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য, চাপে ফেলার জন্য। জামাতের বিচারের কোনো ইচ্ছে আওয়ামী লীগের নেই।
স্মরণ করা যেতে পারে, জাতীয় পার্টির প্রধান হুসাইন মহম্মদ এরশাদের ক্ষেত্রেও বিগত চার দলীয় জোট একই কাজ করেছিলো। সে সময় জাতীয় পার্টি যেনো কোনোভাবেই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোটে না আসতে পারে সে জন্য জাতীয় পার্টির নেতার মাথার ওপর ঝুলে থাকা মামলাগুলোকে গুটির সুতো হিসেবে ব্যবহার করা হতো। এবার আওয়ামী লীগ বিএনপির দেখানো পুরানো পথেই বিএনপিকে মিত্রহীন করার চেষ্টা হিসেবে জামাতের নেতাদের বিরুদ্ধে মামলাগুলো করা হয়েছে বলে আপাত দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে বিশ্বের কাছে এ কোন বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরছে আওয়ামীলীগ? আওয়ামী লীগ নিজেদের অসাম্প্রদায়িক দল হিসেবে প্রচার করে থাকে। বর্তমান মহাজোট সরকারের সঙ্গে বেশ কিছু বামপন্থী প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক শক্তি রয়েছে। তারাও ক্ষমতার অংশীদার। অথচ এই সরকারের আমলে বিশ্ববাসী দেখলো ধর্মীয় অনু্ভূতিতে আঘাত হানার জন্য জামাতের নেতাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, রিমান্ডে নেয়া হচ্ছে। সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠতে পারে যে তাহলে বিএনপি জামাত জোটের সঙ্গে আওয়ামী লীগের আদৌ কী কোনো পার্থক্য আছে, এমন কী অসাম্প্রদায়িকতার প্রশ্নে? দ্বিতীয় বিষয়টি হলো সারা বিশ্ব দেখলো বাংলাদেশে ধর্মীয় সহিষ্ণুতা একেবারেই নেই ; এখানকার সরকারগুলো উগ্র ধর্মীয় মতাদর্শের পৃষ্ঠপোষক। পশ্চিমারা যে দেশটাকে তাদের কথিত ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’-এর ক্ষেত্র বানাতে চায় সেই দিকেই কী আওয়ামীলীগ বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে গেলো না?
নিজামী, মুজাহিদ, সাঈদীর বিরুদ্ধে রয়েছে সব থেকে মারাত্মক অপরাধের অভিযোগ, তা হলো তারা ১৯৭১ সালে যুদ্ধাপরাধ সংগঠন করেছিলেন। তা হলে সরকার কেন তাদের যুদ্ধাপরাধী হিসেবে গ্রেফতার করছেন না? সরকারের দেড় বছর পার হয়েছে। যথেষ্ট সময় এই সরকার অতিবাহিত করেছে। প্রশ্ন হলো - সরকার কেন তাদের যুদ্ধাপরাধের দায়ে গ্রেফতার করছে না? সরকারের ভাবনা সম্পর্কে দেশের মানুষের জানার অধিকার রয়েছে। যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে জামাতের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার না হওয়ায় এই সরকার যুদ্ধাপরাধের বিচার করবে কিনা সে ব্যাপারে জনমনে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। নাকি ভোটের রাজনীতির মেরুকরনের হাতিয়ার হিসেবে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনাল ব্যবহার করবে? যদি সংকীর্ন ভোটের স্বার্থে যুদ্ধাপরাধ ইস্যুকে আওয়ামী লীগ ব্যবহার করে তাহলে যে প্রজন্ম তাকে এবার ভোট দিয়ে এনেছে, সেই তরুন প্রজন্মের বুকে ঘৃণার নাম হবে আওয়ামী লীগ, বিশ্বাসভঙ্গের অপর নাম হবে আওয়ামী লীগ। সরকারকে এই কঠিন সত্য উপলব্ধি করতে হবে।
জামাতের যেসব লোকজন যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত তাদেরকে সেসব অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হোক। শুধু কী যুদ্ধাপরাধ? জামাতের নেতাদের বিরুদ্ধে জঙ্গীবাদে পৃষ্টপোষকতারও অভিযোগ রয়েছে। তাহলে সরকার কেন একটি সাম্প্রদায়িক দলের সঙ্গে সাম্প্রদায়িক আচরণ করবে? সরকারকে কেন ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের মত’ অভিযোগ দাঁড় করাতে হচ্ছে? এ দেখেই অনেকে মনে করছেন ‘ডাল মে কুচ কালা হায়’। ‘ডাল’ যে কতটুকু ‘কালো’ হতে পারে তা এখনই বোঝা যাচ্ছে না। তবে এখন কান পাতলেই ঢাকার আকাশে-বাতাসে নানান কথাবার্তা শোনা যাচ্ছে।
যুদ্ধাপরাধী সুর্নিদিষ্ট অভিযোগে তাদের গ্রেফতার করা হোক।
বাংলাদেশ ছোট করার কোনো অধিকার আমাদের দেশের কোনো রাজনৈতিক দলকে দেয়া হয়নি। আমাদের দেশকে এভাবে মৌলবাদী রাস্ট্র সাজানোর কোনো মানে নেই।
its in justice and complect political
এইসব হাবোল তাবল হয়রানিমূলক মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাদের যুদ্ধাপরাধী অবস্থানকে হাল্কা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। অবিলম্বে তাদের বিরুদ্ধে সু নির্দিস্ট যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার করা হোক। তা না হলে আইনি ফাক ফোকরে তারা বেরিয়ে আসবে। যুদ্ধাপরাধের বিচার আরো বেশি বাধাগ্রস্ত হবে।