• পাঁচ দশকে বিশ্ববিদ্যালয়ে টিউশন ফীর পরিবর্তনের ধারা
    StudentsPortestingFees.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি.কম লন্ডন, মঙ্গলবার, ১২ অক্টোবর, ২০১০

    ১৯৬২ শিক্ষার্থীদের টিউশন ফী ও জীবন-যাপন খরচ নির্বাহের জন্য বাধ্যতামূলক মেইন্টেন্যান্স গ্র্যান্টস প্রবর্তন।

    ১৯৮০ স্টুডেন্ট গ্র্যান্টস ৩৮০ পাউন্ড থেকে ১,৪৩০ পাউন্ডে উন্নীত।

    ১৯৮৪ টিউশন ফীতে শিক্ষার্থীদের মা-বাবাদের অবদান রাখার পরিকল্পনা কনসার্ভেটিভ সরকারের এডুকেশন সেক্রেট্যারী কীথ জৌসেফ কর্তৃক পরিত্যক্ত ঘোষিত।

    ১৯৮৯ কনসার্ভেটিভ সরকার কর্তৃক গ্র্যান্টস স্থগিত করে স্টুডেন্ট লৌন প্রবর্তন - সকল শিক্ষার্থীর জন্য ৪২০ পাউন্ড পর্যন্ত লৌনের অফার।

    ১৯৯৬ উচ্চ-শিক্ষার অর্থয়ান বিষয়ে সুপারিশের জন্য কনসার্ভেটিভ প্রধানমন্ত্রী জন মেইজর কর্তৃক লর্ড ডার্লিংয়ের কমিশন ঘোষিত।

    ১৯৯৭ ‘শিক্ষার্থীদের মেইন্টেন্যান্স খরচ গ্র্যজুয়েইট হবার পর আয়ের ভিত্তিতে পরিশোধ করা উচিত’ বক্তব্য নির্বাচনী ঘোষণায় অন্তর্ভুক্ত এবং নির্বাচনে লেবার পার্টি বিজয়।

    ডার্লিং প্রতিবেদন প্রকাশিত। সরকারী গ্র্যান্টস অক্ষুণ্ণ রাখার কিন্তু টিউশন ফীর ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী কর্তৃক পরিশোধ করার সুপারিশ।

    ১৯৯৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে বার্ষিক ১০০০ পাউন্ড টিউশন ফী দিতে হবে বলে লেবার সরকারের এডুকেশন সেক্রেট্যারী ডেইভিড ব্লাংকেট ঘোষণা করেন।

    ১৯৯৮ দ্য টীচিং এ্যান্ড হাইয়ার এডুকেশন এ্যাক্ট’ শীর্ষক আইন পাস এবং ইংল্যান্ডে বার্ষিক ১০০০ পাউন্ড হারে টিউশন ফী চালু। মীনস টেস্টিংয়ের (সঙ্গতি পরীক্ষা) বিধান থাকার কারণে শিক্ষার্থীদের এক তৃতীয়াংশের ফী দিতে হয়নি।

    ১৯৯৯ স্কটল্যান্ডে উচ্চ-শিক্ষার অর্থায়ন বিষয়ে সামগ্রিক পার্যালোচনার জন্য লর্ড কুবীর নেতৃত্বাধীন কমিটী গঠিত। লর্ড কুবীর সুপারিশ - স্কটল্যান্ডে টিউশন ফীর পূর্ণ প্রত্যাহার করা হোক এবং স্কটিশ কর্তৃপক্ষ উচ্চ-শিক্ষার সম্পূর্ণ অর্থায়ন করুক তবে শিক্ষার্থীদেরকে কর্মজীবনে প্রবেশের পর আয় ২৫,০০০ পাউন্ডে উন্নীত হলে ৩,০০০ পাউন্ড পরিশোধ করতে হবে।

    ২০০০ স্কটিশ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক লর্ড কুবীর প্রস্তাব গৃহীত, তবে ফিরত যোগ্য অর্থের পরিমাণ ৩০০০ পাউন্ডের স্থলে ২০০০ পাউন্ডে এবং কর্মজীবনে যে-পরিমাণ আয়ে উপনীত হয়ে সে-অর্থ পরিশোধ করতে হবে, তার পরিমাণ ২৫,০০০ এর স্থলে ১০,০০০ হাজারে নির্ধারিত।

    ২০০১ ‘টপ আপ ফী প্রবর্তন করা হবে না ওয়াদা করে লেবার পার্টি পুনঃনির্বাচিত।

    ২০০২ ৮০ জনের চেয়েও বেশি লেবার পার্টির ব্যাকবেঞ্চার টিউশন ফী বাতিলের পক্ষে সমর্থন দান।

    ২০০৩ টপ-আপ ফী চালু না-করার ওয়াদার দুই বছরের পর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অনূর্ধ্ব (ক্যাপ) ৩০০০ হাজার পাউন্ড টিউশন ধার্য্য করার ক্ষমতা দিয়ে লেবার সরকারের শ্বেতপত্র প্রকাশ। শিক্ষার্থীরা টিউশন ফী সরকারী ঋণ হিসাবে পাবে এবং শিক্ষা-শেষে কর্মজীবনে বার্ষিক ১৫,০০০ পাউন্ড আয়ে উপনীত হলে সঙ্গতি যাচাই সাপেক্ষে তা পরিশোধ করবে।

    প্রধানমন্ত্রী হিসাবে টনি ব্লেয়ার টপ-আপ টিউশন ফীর প্রশ্নে এমপিদের ভৌটে প্রচণ্ডতম ব্যাকবেঞ্চার বিদ্রোহের সম্মুখীন যেখানে ৭২ জন তার বিপক্ষে ভৌট দেন এবং মাত্র ৫ ভৌটের ব্যবধানে বিজয়ী হন। টনি ব্লেয়ার ঘোষণা করেন, তিন বছর পর টপ-আপ ফী পদ্ধতির পূর্ণমাত্রায় একটি নিরপেক্ষ রিভিউর ঘোষণা দেন।

    কনসার্ভেটিভ পার্টির নেতা ইয়ান ডানকান স্মিথ টিউশন ফীকে ‘শিক্ষার উপর করারোপ’ আখ্যায়িত করে ঘোষণা করেন, ভবিষ্যতে তার দল ক্ষমতায় গেলে বিশ্ববিদ্যাল্যের টিউশন ফীর সম্পূর্ণ বিলোপ সাধন করবেন।

    ২০০৪ লেবার সরকারের এডুকেশন সেক্রেট্যারী চার্লস ক্লার্ক ভ্যারিয়েবল টিউশন ফী চালুর লক্ষ্য বিল হাজির করেন হাজির করেন তবে লেবার ব্যাকবেঞ্চারদের বিদ্রোহ এড়াবার জন্য বিভিন্ন কনসেশন দেন।

    ভ্যারিয়েবল টিউশন ফীর বিলে কিছু সংশোধনী আনা হয়, যার মধ্যে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দরিদ্র ৩০ শতাংশের জন্য মেইন্টেন্যান্স গ্র্যান্টস ১,০০০ পাউন্ড থেকে বাড়িয়ে ১,৫০০ পাউন্ড উন্নীত করা হয়। টিউশন ফীতে ৩,০০০ হাজার পাউন্ডের ক্যাপ বিষয়ে তিন বছর পর রিভিউ হবে। জীবন-যাপনের প্রকৃত ব্যয় নির্বাহের জন্য শিক্ষার্থীর-ঋণ বৃদ্ধি এবং ২৫ বছর পর ঋণ মকুবের সিদ্ধান্ত গৃহীত।

    ২০০৫ প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ই তাদের টিউশন ফী সর্বোচ্চ পরিমাণে - ৩,০০০ পাউন্ডে - ধার্য্য করে এবং ৮০ শতাং বিশ্ববিদ্যালয় নিম্ন আয়ের পরিবার থেকে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য বার্সারী বা বৃত্তি চালু করে।

    ২০০৬ এ বছরের শরৎকালে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা প্রথম-বারের মতো বার্ষিক ৩,০০০ পাউন্ড টিউশন ফী দিলো। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বললো, তাদের ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন পাউন্ডের বাড়তি অর্থায়ন প্রয়োজন। কনসার্ভেটিভ পার্টির নেতা ডেইভিড ক্যামেরৌন বলেন, টিউশন ফী এড়ানো অসম্ভব।

    ২০০৮ ন্যাশনাল ইউনিয়ন অফ স্টুডেন্টস তাদের টিউশন ফী বিরোধিতা পরিত্যাগ করে।

    ২০১০ লর্ড ব্রাউন টিউশন ফীর উপর থেকে ক্যাপ তুলে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিজ-নিজ ফী ধার্য্য করার সুপারিশ করেন। বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ শিক্ষকদের জাতীয় সংগঠন ইউসিইউ ব্রাউনের প্রস্তাবকে ‘উচ্চ-শিক্ষার কফিনে চূড়ান্ত পেরেক ঠোকা’ বলে আখ্যায়িত করে।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন