সংবাদ পরিক্রমা
সংবাদ প্রতিবেদন
- উত্তমকুমারের মৃত্যু-দিবসে তথ্য-চিত্রসহ নানা আয়োজনবিশেষ প্রতিবেদন

তথ্য-চিত্রের প্রিমিয়ার, স্মরণ সভা, আলোচনা অনুষ্ঠান, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানান আয়োজনের মধ্য দিয়ে শনিবার, ২৪ জুলাই, অভিনেতা উত্তম কুমারের ৩০-তম মৃত্যু-দিবস স্মরণ করা হয়েছে কোলকাতায়।
সংবাদ-মাধ্যম সূত্রে প্রকাশ, উত্তম কুমারের মৃত্যু-দিবসে কোলকাতার চলচ্চিত্র শতবার্ষিকী ভবনে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারর উদ্যোগে উত্তম কুমারের ছবি ও পোস্টার প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। দক্ষিন কোলকাতার তপন থিয়েটারে “উত্তম সর্বোত্তম” শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। আয়োজনটিতে হাজির ছিলেন সমাজের সর্বস্তরের উত্তম-প্রেমী মানুষ-জন। প্রিয় অভিনেতার স্মরণে বিশেষ সাংষ্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করে সাংস্কৃতিক সংগঠন রুপমাধুরী। গান, নাচ ও আবৃত্তির মধ্য দিয়ে সংগঠনটি স্মরণ করে প্রিয় অভিনেতাকে। দিনটি স্মরণে শহরের প্রধান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নন্দন-এ শনিবার থেকে শুরু হয়েছে উত্তম কুমার অভিনীত চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী। টালিগঞ্জ ট্রামডিপোতে উত্তম কুমারের মূর্তিতে ফুলের মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানান অভিনয় শিল্লী ও কলা-কুশলীরা।
এছাড়া, উত্তম কুমারের জীবন অবলম্বনে নির্মিত প্রথম তথ্য-চিত্র ‘মহানায়ক- আ সুপারস্টার’স জার্নির প্রিমিয়ার শৌ অনুষ্ঠিত হয়েছে শনিবার। ৫৭ মিনিটের তথ্য-চিত্রটি পরিচালনা করেছেন স্বপন দাস। তথ্য-চিত্রে উত্তম কুমারের শৈশব থেকে শুরু করে ৫৪ বছর বয়সে মারা যাবার সময় পর্যন্ত নানান ঘটনা স্থান পেয়েছে। তথ্য-চিত্রে উত্তম কুমারকে নিয়ে কথা বলেছেন সৌমিত্র চ্যাটার্জী, মান্না দে, সুপ্রিয়া চ্যাটার্জী প্রমুখ। এতে উত্তম কুমারের দৌহিত্র গৌরব চট্টোপাধ্যায় তার পিতামহের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। দক্ষিন কোলকাতার বাঁশরী সিনেমা হল তথ্য-চিত্রটির প্রিমিয়ারের আয়োজন করা হয়েছিলো।
এদিকে, সরকারী পর্যায়ে উত্তম কুমারকে অবহেলা করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন সহ-শিল্পী ও জীবন-সঙ্গী সুপ্রিয়া দেবী। জানা গেছে, উত্তম কুমার অভিনীত ২২৬টি ছবির মধ্যে, মাত্র ২০টি ছবি এখন ৩৫ মিমিতে দেখানোর উপযোগী অবস্থাতে আছে। অন্য ছবিগুলোর মধ্যে ৬০ শতাংশ ধ্বংস হয়ে গেছে।
উত্তম কুমার ১৯২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর কোলকাতায় জন্মগ্রহন করেন। তার পারিবারিক নাম অরুন কুমার চট্টোপাধ্যায়। ১৯৪৮ সালে ‘দৃষ্টিদান’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন তিনি। এ-সময় থেকে তিনি উত্তম কুমার নামে পরিচিত হতে থাকেন। চার বছর অপেক্ষা শেষে ১৯৫২ সালে ‘বসু পরিবার’ ছবিটির মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মত দর্শকদের কাছে ব্যাপক গ্রহনযোগ্যতা পান তিনি। এর পরের বছর আরেক নতুন অভিনেতা সুচিত্রা সেনের সাথে ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ ছবিতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বাংলা চলচ্চিত্রে নতুন যুগের
সূচনা হয়। দীর্ঘ অভিনয় জীবনে সোয়া দুই শতের ছবিতে অভিনয় করেন উত্তম কুমার। ১৯৬৭ সালে প্রথম ভারতীয় হিসাবে অভিনয়ের জন্য রাষ্ট্রীয় পদক পান তিনি। সত্যজিৎ রায়ের 'চিড়িয়াখানা' তে অভিনয়ের জন্য তাকে সেরা অভিনেতার পদক দেয়া হয়। ১৯৬৭ সালে 'এন্টনী ফিরিঙ্গ' ছবিতে অভিনয়ের জন্য আবারো ভারতের সেনা অভিনেতার সম্মান দেয়া হয় তাকে। ১৯৮০ সালের উত্তম কুমার মারা যান।২৫/০৭/১০