• নারী দিবসে কমলা ভাসিনের চিঠি
    অনুবাদঃ প্রিসিলা রাজ

    কমলা ভাসিন (জন্ম ১৯৪৬) জন্মসূত্রে রাজস্থানের হলেও আজ তিনি সারা ভারতে তো বটেই, দেশের সীমানা ছাড়িয়ে সারা দক্ষিণ এশিয়ার নাগরিক হয়ে উঠেছেন। দক্ষিণ এশিয়ার নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় লড়াইরত একাধিক সংগঠনের নেতৃত্বে আছেন ভাসিন। এসব সংগঠনের অন্যতম হচ্ছে সাউথ এশিয়া নেটওয়ার্ক অফ জেন্ডার একটিভিস্ট এন্ড ট্রেইনার্স (South Asian Network of Gender Activists and Trainers) বা সংক্ষেপে সঙ্গত(SANGAT )। এটি এখন দক্ষিণ এশিয়ায় নারীর অধিকার আন্দোলনে পুরোধায় ভূমিকা পালন করছে। সঙ্গতের পত্তন হয়েছিল বাংলাদেশেই, ১৯৯৮ সালে মানিকগঞ্জের কোইট্টায় আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে। সঙ্গতের একটি অত্যন্ত তাৎপর্যবহ কাজ হচ্ছে দক্ষিন এশিয়ার আটটি দেশের নারী প্রতিনিধিদেরকে নিয়ে প্রতি বছর মাস-ব্যাপী কর্মশালার আয়োজন। সঙ্গত এ-কাজটি বেশ কয়েক বছর ধরেই করছে

    ষাঠোর্ধ্ব নারী ও মানবাধিকার নেত্রী কমলা ভাসিন ব্যক্তিগত জীবনে সয়েছেন চরম দূর্ভোগ ও যন্ত্রণা। কয়েক বছর আগে আত্মহত্যা করেন তার এক কন্যা। মায়ের মতোই উজ্জ্বল, মেধাবী ও মানবিক এই মেয়েটি মৃত্যুর সময় কাদিয়ানী মুসলমানদের ওপর অন্যান্য মুসলমান সম্প্রদায় ও বিভিন্ন রাষ্ট্র যে নিপীড়ন চালিয়ে আসছে তার ওপর গবেষণা করেছিলেন। কর্মক্ষেত্রে পাহাড় সমান বাধা, কন্যা হারানোর হাহাকার আর জীবনের যাবতীয় বিপর্যয়ের পরও কমলা ভাসিনের প্রাণশক্তির ভান্ডার যেন অফুরন্ত। তাঁর উপস্থিতি বিপন্নতম মানুষটির মুখেও হাসি ফোটায়, নিজের ওপর আস্থা ফিরিয়ে আনে। তীক্ষ্ণধী,রসবোধে ভরপুর এবং সদা কর্ম-চঞ্চল এই মানুষটি আন্দোলন পরিচালনার পাশাপাশি লিখেছেন বহু বই। বহু প্রেরণাময়ী সঙ্গীত রচনা করেছেন। নারী অধিকার বিষয়ে ভাসিন ও সহযোগীদের তাত্ত্বিক চিন্তা নারী আন্দোলনকারীদের দিচ্ছে নির্দেশনা।
    এবারের আন্তর্জাতিক নারী দিবসে ( ৮ মার্চ) সহযোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে লিখিত কমলা ভাসিনের একটি চিঠি ইউকেবেঙ্গলির পাঠকদের জন্য অনুবাদ করেছেন প্রিসিলা রাজ। অনুবাদ পড়ুন নীচেঃ

    প্রিয় বন্ধুরা আমার,

    আন্তর্জাতিক নারী দিবস এবং এর শত-বার্ষিকীর এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আমার মনে পড়ছে আপনাদের আর অন্যান্য বহু মানুষের কথা যাঁরা আমার নারীবাদী জীবনের দীর্ঘ-যাত্রার সঙ্গী হয়েছেন। এ মুহূর্তটিতে দাঁড়িয়ে আমি কেবল একটি কথাই বলতে চাই - নারী আন্দোলন এক অপূর্ব উপহার। এ আন্দোলন আমাকে এত বেশী কিছু দিয়েছে যে আমি সেসব আর্শীবাদ কিভাবে গুনবো তাই ভেবে পাই না ।জীবনের অর্থ আমি আমি খুঁজে পেয়েছি এর কাছে, আমার জীবনের সমৃদ্ধতম বন্ধুদের পেয়েছি এর মধ্যে দিয়ে, দক্ষিণ এশিয়া শুধু না সারা পূথিবীতে অসংখ্য ঘর আমি পেয়েছি এরই কাছে।
    সবচেয়ে বড় যে উপহার-আমি এর জন্যই সৃজনশীল হতে পেরেছি আর জীবনের যে মুহূর্তটিতে আমি এখন দাঁড়িয়ে সেখানে বেঁচে থাকার কারণটা আমি জেনেছি এরই কাছে।

    আমার বন্ধুদের সঙ্গে ঐক্য প্রকাশ করে একটাই প্রত্যাশার কথা জানাই - জীবনের বাকী বছরগুলোতে আমি দক্ষিণ এশিয়ার নারী আন্দোলনের জন্য কাজ করে যেতে চাই। কথা দিচ্ছি
    যে মুহূর্তে আমি নিজের বার্ধক্যজনিত অক্ষমতা বুঝতে পারব ঠিক তখনই আমি সরে যাব। আর
    যদি আমি নিজের অক্ষমতার কথা উপলব্ধি করতে না পারি, আমি চাই আপনারাই আমাকে তা ধরিয়ে দেবেন আর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেবেন। ঠিক আছে?

    কামনা করি আপনারা ভাল থাকুন আর আগামীকাল যেন সকলের জন্য সুন্দর হয়। মেতে উঠুন
    প্রাণখোলা অথবা মুখভরা হাসিতে। সব আন্দোলনের জন্যই আরো, আরো বেশি হাসি আর রসবোধ দরকার।

    মজবুত হোক ঐক্য, শান্তি আর ভালবাসার বন্ধন।

    কমলা

    আপলৌড ১২/০৩/১০

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd>
  • Lines and paragraphs break automatically.

লেখা ফরম্যাট করার বিষয়ে আরো তথ্য

আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন