• বাংলাদেশ সরকারের প্রতি জাতীয় কমিটির ৭ দফা দাবী
    বিশেষ প্রতিবেদক

    তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ও সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ এক বিবৃতিতে বলেছেন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট বর্তমানে এক অসহণীয় অবস্থায় পৌঁছেছে; দেশের অর্থনীতি আজ চরমভাবে বিপর্যস্ত। অথচ কিছু নাতি-বৃহৎ আকারের উদ্যোগ গ্রহণ করলেই এই সংকটের দ্রুত সমাধান সম্ভব। বিবৃতিতে জাতীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ বলেন, জনগণের জীবন অতিষ্ঠ করে তা লাঘব করার নাম করে জ্বালানী সম্পদের উপর বিদেশী কৌম্পানীর কর্তৃত্ব আরো বাড়িয়ে তোলার জন্য এই সংকট পরিকল্পিতভাবে জিইয়ে রাখা হচ্ছে কিনা সে-ব্যাপারে সন্দেহের অবকাশ আছে। গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের আশু সমাধান লক্ষ্যে অনতিবিলম্বে নিম্মোক্ত সাতটি গ্রহনের দাবী জানিয়েছে জাতীয় কমিটি। দাবীগুলো হচ্ছেঃ

    তিতাস ও হবিগঞ্জ গ্যাসত্রে থেকে গ্যাস উত্তোলন বৃদ্ধি, নতুন গ্যাস-ক্ষেত্রে অনুসন্ধান ও উত্তোলনের জন্য জাতীয় সংস্থাগুলোকে কর্তৃত্ব ও প্রয়োজনীয় সমর্থন দান, পেট্রোবাংলার কর্তৃত্বাধীন ১২টি বন্ধ কূপ চালু করার জরুরী উদ্যোগ গ্রহন করা, বিদেশী কৌম্পানীর হতে আটকে থাকা গ্যাস-ক্ষেত্রগুলোতে অনুসন্ধান ও উত্তোলন কাজ জোরদার করতে কৌম্পানীগুলোকে বাধ্য করা, গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিবহন লাইন মেরামত ও নবায়ন, বড়পুকুরিয়ায় ইতিপূর্বে স্থাপিত ২ x ১২৫ মেগাওয়াট প্লান্ট ভালোভাবে মেরামত করে চালু করা ও নতুন প্রস্তাবিত পাওয়ার প্লান্ট বসানোর জন্য জরুরী উদ্যোগ গ্রহন ও গ্যাসে রূপান্তর-সহ পরিবেশ অনুকূল পদ্ধতিতে কয়লার সর্বোত্তম ব্যবহারের জন্য উদ্যোগ গ্রহন।

    জাতীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ জানান এই উদ্যোগগুলো তেমন ব্যয়-বহুলও নয়। এগুলোর জন্য প্রয়োজন শুধুমাত্র সরকারের সদিচ্ছা। বিদেশী কোম্পানীর ‘স্বার্থরক্ষার অপতৎপরতা’ থেকে সরে এসে অবিলম্বে উপরোক্ত উদ্যোগগুলো গ্রহন করে জনজীবন ও অর্থনীতিকে অচল অবস্থা থেকে রক্ষার দাবী জানিয়েছে কমিটি। এছাড়াও দীর্ঘ-মেয়াদে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট সমাধান এবং জ্বালানী নিরাপত্তা নিশ্চিত করবার লক্ষ্যে পিএসসি ২০০৮ ও ফুলবাড়ী কয়লা প্রকল্প বাতিল করে জ্বালানি সম্পদের উপর শতভাগ সরকারী মালিকানা রক্ষা, খনিজ সম্পদ রফতানী নিষিদ্ধকরণ আইন পাস এবং জাতীয় সক্ষমতার বিকাশকে কেন্দ্রে রেখে সমন্বিত জ্বালানি নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানানো হয়েছে।

    বিবৃতিতে জাতীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ জানান অর্থমন্ত্রী উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উৎপাদন এর পক্ষে জোর সুপারিশ করে সম্পূর্ণ গন-স্বার্থ বিরোধী অবস্থান নিয়েছেন। তারা উল্লেখ্য করেন যে, উন্মুক্ত পদ্ধতিতে মানুষের জীবন-জীবিকা পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হওয়া ছাড়াও কয়লা রফতানী বাধ্যতামূলক হয়ে পড়বে। আবার উৎপাদিত কয়লার পরিমানে বাংলাদেশের হিস্যা সুড়ঙ্গ পদ্ধতির উৎপাদনের পরিমাণের তুলনায়ও অর্ধেক হবে। এমতপরিস্থিতিতে ‘বহুজাতিক কোম্পানীর এজেন্ডা বাস্তবায়নে জনগণকে জিম্মি করার সরকারী তৎপরতা’ বন্ধের দাবী জানিয়েছে জাতীয় কমিটি।

    ০২/০৪/১০

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd>
  • Lines and paragraphs break automatically.

লেখা ফরম্যাট করার বিষয়ে আরো তথ্য

আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন