সংবাদ পরিক্রমা
সংবাদ প্রতিবেদন
- যুদ্ধাপরাধীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেছেন সাবেক ছাত্র নেতবৃন্দঢাকা থেকে প্রেরিত বিবৃতি
একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন ১৯৮২-১৯৯০ সময়কালে স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ। ১২ জুলাই, রোববার সংবাদ-মাধ্যমে প্রেরিতে এক বিবৃতিতে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামী ও অন্যান্য চক্রগুলো্র সম্প্রতি সক্রিয় হয়ে ওঠার ঘটনায় উৎকন্ঠা প্রকাশ করা হয়েছে। সাবেক ছাত্রনেতাদের বিবৃতিতে যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়া নস্যাৎ করার নানামুখী ষড়যন্ত্র চলছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সিদ্ধান্ত গ্রহন করলেও রাষ্ট্রযন্ত্রের ভেতরে একটি শক্তিশালী চক্র বিচার প্রক্রিয়া নস্যাৎ করার জন্য নানা ধরণের অন্তর্ঘাতমূলক কাজ করছে। এ ধরণের নানামুখী ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে সরকারকে সজাগ থাকার পাশাপাশি গণজাগরণ গড়ে তোলার জন্য মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সকল রাজনৈতিক-সামাজিক শক্তিকে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন সাবেক ছাত্র নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও বিবৃতিতে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা ও রাষ্ট্রীয় নীতিমালায় প্রগতিশীল নীতির প্রবর্তনের দাবী জানানো হয়েছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে অবিলম্বে ১৯৭২ সনের মূল সংবিধান পুনর্বহালের দাবী জানানো হয়েছে।
যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রসঙ্গে সাবেক ছাত্রনেতার বলেন, ‘‘আমরা মনে করি, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকার্যের ট্রাইবুন্যালকে গতিশীল করার জন্য সরকারকে আরো পদক্ষেপ নিতে হবে। পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ, পর্যাপ্ত সংখ্যক আইনজীবী ও তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ, ট্রাইবুন্যালের কাজের জন্য পর্যাপ্ত স্থানের সংকুলান-সহ প্রয়োজনীয় প্রত্যেকটি পদক্ষেপ নিতে হবে। বিবৃতিতে তিন ধরণের যুদ্ধাপরাধীদেরকে বিচারের আওতায় আনার দাবী জানানো হয়েছে। প্রথম ধরনের অন্তর্ভূক্ত হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংগঠনসমূহ ও নেতৃত্ব; দ্বিতীয় ধরণ হচ্ছে হানাদার পাকিস্তানী সশস্ত্র বাহিনী ও তার সহযোগী আল-বদর, রাজাকার প্রভৃতি ঘাতক বাহিনীর নেতৃত্ব ও অপরাধী সদস্য; তৃতীয় ধরণ হচ্ছে অন্যান্য ব্যক্তি অপরাধী। বিবৃতিদাতারা এ-প্রসঙ্গে উল্লেখ করেন যে ব্যক্তি যুদ্ধাপরাধীদের পাশাপাশি যুদ্ধাপরাধী রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীকেও বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে। কেননা দলীয় রাজনৈতিক সিদ্ধান্তেই জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্র সংঘ ও অন্যান্য সংগঠনের নেতা ও সক্রিয় সদস্যরা যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত করেছিলেন।
বিবৃতিতে সাবেক ছাত্র নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘‘আমরা যুদ্ধাপরাধী সংগঠন, সংস্থা ও ব্যক্তিদের তালিকা প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট সকল অপরাধীকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুন্যালের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানাচ্ছি।“ এছাড়া যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ থাকা যেসব ব্যক্তি ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন তাদেরকে ট্রাইব্যুনালের কাছে হস্তান্তরের দাবী জানিয়েছেন সাবেক ছাত্রনেতারা।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর দানকারীরা হচ্ছেন আখতারুজ্জামান, মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, ফজলে হোসেন বাদশা, মুনীরউদ্দীন আহমেদ, খন্দকার মো.ফারুক, মিজানুর রহমান মানু, খ. ম. জাহাঙ্গীর, আনোয়ারুল হক, বাহালুল মজনুন চুনড়বু, আতাউর রহমান ঢালী, খবির উদ্দিন আহমেদ, আসাদ উল্লাহ তারেক, শহীদুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম নোমান, সাইফুল হক, সোহরাব হোসেন, সুলতান মো. মনসুর, শিরীন আখতার, আবদুল মান্নান, মুশতাক হোসেন, মুকুল বোস, আবদুর রহমান, তাহের উল্লাহ, নাজমুল হক প্রধান, অসীম কুমার উকিল, নূর আহমেদ বকুল, মোস্তফা ফারুক, আশরাফুল হক মুকুল, মুহিবুর রহমান মাণিক, খোরশেদ আলম সুজন, নূরুল ফজল বুলবুল, জাহাঙ্গীর সাত্তার টিংকু, শফি আহমেদ, এস. এম. কামাল হোসেন, নাসির উদ দুজা, আখতার সোবহান মাশরুর, বজলুর রশিদ ফিরোজ, আমিরুল হক আমিন, মোশরেফা মিশু, সৈয়দ জাহাঙ্গীর, মো. শহিদুল্লাহ, আবু আসলাম মিন্টু, ফিরোজ কবির, বেলাল চৌধুরী, রাজেকুজ্জামান রতন, শেখর দাসগুপ্ত, আবদুর রশিদ, আবদুস সাত্তার খান, মারুফ চিনু, আ. ক. ম. জহিরুল ইসলাম, ইসমাইল হোসেন, আজিজুল হক, মোস্তফা ব্যানাজীর্, মোশাররফ হোসেন, শাহাবুদ্দিন, সুজাউদ্দিন জাফর, আবুল হোসাইন, মাসুদুর রহমান, রুহুল আমিন, শফিক আহমেদ খান, আমিনুল ইসলাম, মহিউদ্দিন আহমেদ মহিন, হিমাংশু সিংহ, মোখলেসউদ্দিন শাহীন, সুশান্ত মিশ্র, জায়েদ ইকবাল খান, এম. এ. আওয়াল, আবুল কাশেম তালুকদার আবু,ু সেলিম মুজাহিদ, রাজুু আহমেদ, শেখ নূরুল আমিন, মনসুরুল হক সোহান, রেজাউল করিম শিল্পী, কামাল হোসেন বাদল।
১২।০৭।১০