• সুইডিশ রাজকুমারীর বিয়েঃ বর সাধারন ঘরের
    চিত্রা পাল

     রুপকথার কল্প-কাহিনীর রাজকুমারীর বিয়ের গল্প নয়। সুইডেনের রাজ সিংহাসনের উত্তরাধিকারী প্রিন্সেসা ভিক্টোরিয়ার  বিয়ের উৎসব। গত দু সপ্তাহ ধরে পুরো দেশটাতে ছিলো সাজ-সাজ রব। রাস্তা-ঘাট সাজানো হয়েছিলো সুইডেনের জাতীয় পতাকা ও হাজার-হাজার গোলাপ দিয়ে । মনে হয় যেন একেবারে  রুপকথায় শোনা রাজকন্যার সঙ্গে গরীব ঘরের এক যুবকের বিয়ের গল্প। গত ৮ বছর থেকে চলছিল নানান কৌতূহল , নানান গুঞ্জন। অনেকগুলো বছর তাদের অপেক্ষা করতে হয়েছে। দীর্ঘ্ অপেক্ষার সমাপ্তি হলো শেষ পর্যন্ত; চলতি মাসের ২০ তারিখে।

    ভালোবাসারই  জয়। অনেক বাধা বিপত্তির পর রাজ পরিবারের নিয়ম ভেঙ্গে রাজ-ঘরানার বাইরে সাধারন ঘরের  ড্যানিয়েলে ওয়েস্টলিংয়ের সাথে শুভ পরিনয় হলো রাজকুমারী ভিক্টোরিয়ার। ২০০০ সালে ড্যানিয়েলের জিমন্যাশিয়ামে ফিটনেস ট্রেনিং নেয়া শুরু করেন ভিক্টোরিয়া। ট্রেনিংদাতা ড্যানিয়েলের সাথে বন্ধুতা অবশেষ গড়ায় প্রেমে। সবশেষে তা পরিনতি পেলো পরিনয়ে। বিয়ের পরে দেয়া এক টিভি সাক্ষাতকারে রাজকুমারী জানান শুরুতে সম্পর্কটি ওক ফলের মত ক্ষুদ্র থাকলেও এক সময় তা ওক বৃক্ষের মত বিশাল রুপ ধারন করে।

    সংবাদ-মাধ্যমের মতে বৃটেনের প্রিন্স চার্লস ও ডায়ানার বিয়ের পর ইউরোপের সবচেয়ে বড় এই রাজকীয় বৈবাহিক অনুষ্ঠান বিশ্বের প্রায় ৫০ কোটি দর্শক উপভোগ করে। ভিক্টোরিয়া-ড্যানিয়েলের বিয়ের খবর সংগ্রহের জন্য হাজির ছিলেন ২৩ শতাধিক সাংবাদিক; তার মধ্যে প্রায় ৭০০’শ ছিলেন বিদেশী সাংবাদিক। বিয়ের প্রস্তুতি প্রক্রিয়া শুরু হয় ১৯শে জুন শনিবার

     দুপুর বেলা ২টো থেকে। এরপর  শুরু হয় বিবাহ মন্ডপে অতিথিদের আগমন। রাজ পরিবারের রীতি মেনে বিবাহ-মণ্ডপে সব শেষে উপস্থিত হন রাজ পরিবারের আত্মীয়-স্বজন এবং ছোট বোন রাজকুমারী  ম্যাডেলীন ও মা রানী সিলভিয়া । তারপ আসেন রাজপুত্র কার্ল ফিলিপ এবং বর ড্যানিয়েল ওয়েস্টলিংয়। ঘড়ির কাঁটায় সাড়ে তিনটায়  রাজ-পিতা ষোড়শ গুস্তাভ বধুবেশের রাজকুমারী ভিক্টোরিয়াকে নিয়ে  প্রবেশ করেন  গীর্জার সম্মুখস্থ রাস্তায়। অর্ধেক রাস্তার পর পিতা গুস্তাভ রাজকুমারী ভিক্টোরিয়াকে তুলে দেন অপেক্ষমান বর ড্যানিয়েলের হাতে । তারপর ধীরে-ধীরে ভিক্টোরিয়া এবং ড্যানিয়াল একে অপরের হাত ধরে এগিয়ে যায় ষ্টকহৌমের সবচেয়ে বড় গীর্জায়, যেখানে বর্তমান রাজা ও রানীর বিয়ে  হয়েছিল ৩৪ বছর আগে।

    রাজ কন্যা ভিক্টোরিয়ার বিয়ের পোষাক ছিলো খুবই সাধারন। সাদা লম্বা পোশাকে  ছিলো সাদা মুক্তো বসানো রেশমি সূতোর নিপুন কাজ । মাথায় ছিল মায়ের রাজমূকুট, খোপায় জড়ানো ছিল সাদা নেটের ঘোমটা এবং হাতে ছিল সাদা ফুলের তোড়া। বর ড্যানিয়েলের পরনে ছিল অশ্বারোহীর কালো পোষাক। ধর্মীয় আচার শেষে আংটিবদল ও চুম্বন-আলিঙ্গনের মধ্যদিয়ে শেষ হয় বিবাহের প্রাথমিক অনুষ্ঠান পর্ব। বিয়ের আনুষ্ঠানিক পর্বের পর রাজ দম্পতি ঘোড়ার গাড়ীতে এবং বজরাতে করে এক ঘন্টা জনতাকে দেখা দিয়ে রাজপ্রাসাদে প্রবেশ করে। প্রাসাদে প্রবেশের আগে নব-দম্পতি রাজপ্রাসাদের মূল-ফটকের বারান্দায় দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে অপেক্ষমান দর্শকের সাথে শুভেছা বিনিময় করেন। রাজকুমারী ভিক্টোরিয়া জনগনের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমি সুইডেনের জনগনকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও  কৃতজ্ঞতা জানাই,  আমাকে  ভালোবাসার রাজপুত্র দেবার জন্য’। রাত ৮টার দিকে শুরু হয় রাজকীয়  নৈশ ভোজন। তিন মিটার লম্বা কেইক ও চার ধরনের ওয়াইন ছিল টেবিলে । তাছাড়া ছিল দেশ বিদেশের বিশিষ্ট শিল্পীদের পরিবেশন করা মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। চলে বর-কনেকে ঘিরে উল্লাস নৃত্য।
    এদিকে, রাজকুমারীকে বিয়ে করার সুবাদে ড্যানিয়েলের পৈতৃক শহর ওকেলোবোতে মানুষ-জন ভীষণ আনন্দিত বলে জানিয়েছে মিডিয়া।

    স্টকহৌম থেকে চিত্রা পাল
    ২৩/০৬/১০

পাঠকের প্রতিক্রিয়া

very good you right this time your dicision.

Contratulations to the couple!

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন