• এক্সক্লুসিভঃ বিদ্রোহ-কবলিত লিবিয়ায় কর্মরত প্রবাসী বাঙালীর সাক্ষাৎকার

    লিবিয়া
    ইউকেবেঙ্গলি, মঙ্গলবার, ২৯শে মার্চ ২০১১ - উত্তর আফ্রিকার লিবিয়ায় চলমান সশস্ত্র বিদ্রোহের পরিপ্রেক্ষিতে ইউকেবেঙ্গলি লিবিয়ায় বসবাস ও কর্মরত কয়েকজনের সাক্ষাৎকার গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে। এই পর্যায়ে ইউকেবেঙ্গলির পক্ষে বাঙালী 'প্রকল্প ব্যব্স্থাপক' রিয়াজুর রহমানের এই সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন আশফাক চৌধুরী।

    ইউকেবেঙ্গলিঃ রিয়াজুর রহমান, আপনি এখন লিবিয়ার কোন অঞ্চলে আছেন?
    রিয়াজুর রহমানঃ আমি বর্তমানে রাজধানী ত্রিপলীতে অবস্থান করছি।

    ইউকেবেঙ্গলিঃ আমাদেরকে সংক্ষেপে একটু বলবেন কি সেখানে কি ঘটছে এখন?
    রিয়াজুর রহমানঃ দিনের বেলা এখানে স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে। রাতের বেলা বিমান হামলা হচ্ছে তবে আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে। কয়েকদিন আগে রাতের বেলা ভারী বোমা হামলা হয়েছে। বেশ কিছু সরকারী স্থাপনা বোমা হামলায় ধংস হয়েছে।

    ইউকেবেঙ্গলিঃ সরকারী বাহিনী কি নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের উপর বিমান থেকে বোমা ফেলেছে?
    রিয়াজুর রহমানঃ বিমান হামলার ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। আপনাদের (ওয়েষ্টের সাংবাদিকদের) কাছেই আমরা এসব কথা শুনতে পাই। বেনগাজীতে স্বশস্ত্র বিদ্রোহ হচ্ছে কিন্তু সেখানেও সরকার সাধারণ মানুষের উপরে বিমান হামলার মতো ঘটনা ঘটিয়েছে বলে শুনিনি।

    ইউকেবেঙ্গলিঃ যদি সরকার নিরস্ত্র মানুষের উপর সরকারী বাহিনী বিমান হামলা না করে থাকে, তাহলে কার উপর সেই হামলা করেছে? নাকি আদৌ কোন বিমান হামলা তারা করনি?
    রিয়াজুর রহমানঃ আপনারাই দাবী করছেন সরকার বিমান হামলা করছে। আপনারাই বলুন সরকার কোথায় বিমান হামলা করছে। আমার জানা মতে সরকার সাধারন মানষের উপর বিমান হামলা করেনি। এটা মিডিয়ার মিথ্যাচার বলে মনে হচ্ছে।

    ইউকেবেঙ্গলিঃ বিদ্রোহী কারা? তাদের গোষ্ঠীগত বা জাতিগত পরিচয় কি?
    রিয়াজুর রহমানঃ বেনগাজীর কিছু গোষ্টী যারা এ বিদ্রোহ করে আসছে। আমি সেই গোষ্ঠিগুলোর নাম জানি না। তাদের সংখ্য নেয়াহাতই কম। কিন্তু মিডিয়া যেভাবে গন বিপ্লব হিসেবে উপস্থাপন করছে তা ঠিক নয়।

    ইউকেবেঙ্গলিঃ তারা কি চায় অর্থাৎ তাদের দাবীগুলো কি কি?
    রিয়াজুর রহমানঃ গুরুত্বপুর্ন প্রশ্ন করেছেন। এই ব্যাপারটা মিডিয়া খুব সুক্ষভাবে এড়িয়ে যাচ্ছে। বিদ্রোহীদের দাবীর ব্যাপারে মিডিয়া নীরব ভুমিকা পালন করছে। বলা হচ্ছে গাদ্দাফীকে ক্ষমতা ছাড়তে হবে। গাদ্দাফী কিসের ক্ষমতা ছাড়বে। লিবিয়ার সরকার ব্যবস্থা ভিন্ন। এখানে পিউপলস কমিটি দেশ পরিচালনা করে। গাদ্দাফী তো পিউপলস কমিটির কেউ নয়। সত্যি বলতে কি বিদ্রোহীরা নিজেরাই জানে না তারা কি চায়। তাদের তো কোন ম্যানিফেষ্টো নেই। তারা ক্ষমতা দখল করে কি করবে সে ব্যাপারে তাদের কোন বক্তব্য নেই। সত্যি বলতে কি আমি বিদ্রোহের মূল কারণ উদঘাটন করতে পারছিনা।

    ইউকেবেঙ্গলিঃ বিদ্রোহীদের কাছে কি ধরণের অস্ত্র-শস্ত্র রয়েছে? এগুলো তারা কোথায় পেয়েছে বলে মনে করেন?
    রিয়াজুর রহমানঃ বেনগাজীতে যখন বিদ্রোহ হয় তখন সরকারী বাহিনীর কয়েকটি গ্রুপ সরকারের সাথে বেইমানী করছে। তারা বেনগাজীর অস্ত্রাগার লুঠ করেছে। আর এটা তো ধ্রুব সত্য যে বিদেশীদের এখানে প্রত্যক্ষ মদদ আছে। তারাই বেনগাজী্র গোষ্ঠীগুলোকে প্রচুর অস্ত্র-শস্ত্র দিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধা করাচ্ছে। ঘুরিয়ে বললে বলতে হয় বিদেশীরা তাদের কাজ বিদ্রোহীদের দিয়ে করাচ্ছে।

    ইউকেবেঙ্গলিঃ লিবিয়ার সাধারণ জনগনের মাঝে কি বিদ্রোহীদের প্রতি সহানুভূতি রয়েছে? নাকি তারা সরকারের প্রতি আস্থাশীল? আমরা বেশিরভাগ সাধারণ মানুষের ব্যাপারে জানতে চাইছি।
    রিয়াজুর রহমানঃ আমি বাঙালী, লিবিয়ান নাগরিক নই। আমি কারো পক্ষাবলম্বন করবো না। আমি যা দেখছি তাতে এটুকু নিশ্চিত করতে পারি, সাধারন মানুষ সরকারের পক্ষে। বর্তমান সরকার সাধারন মানুষের মৌলিক অধীকার পুরন করছে, লিবিয় মানুষের কোন অভাব নেই। সাধারন মানুষ কেন সরকারের বিরুদ্ধে যাবে? লিবিয়াতে না আসলে আপনি সম্পূর্ন ব্যাপারটি বুঝতে পারবেন। এখানকার সাধারন মানুষ সরকারের পক্ষে। বিদেশীদের আক্রমন তাদের সরকারের প্রতি সমর্থন আরো বাড়িয়েছে। সরকারের পক্ষের-বিপক্ষের কেউ চায়না বিদেশীরা লিবিয়ার উপর হামলা করুক। ওয়েষ্টার্ন মিডিয়া যেভাবে বলছে লিবিয়ার মানুষ ওয়েষ্ট এর সাহায্য চায়, একথা সম্পুর্ন ভিত্তিহীন।

    ইউকেবেঙ্গলিঃ বাংলা পত্রিকা মারফত আমরা জানতে পেরেছি যে বিদ্রোহীরা বেশ কিছু বাংলাদেশিকে হত্যা করেছে ফেব্রুয়ারী মাসে, এ ব্যাপারে আপনার বক্তব্য কি? ঠিক কতজন বাংলাদেশি তাদের হাতে নিহত হয়েছে বলে আপনি জানতে পেরেছেন?
    রিয়াজুর রহমানঃ বেনিগাজী, আজধাবীয়া, ব্রেঘায় যখন বিদ্রোহ আরম্ভ হয় তখন বিদেশী প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রচুর লুটতরাজ আরম্ভ হয়। বাংলাদেশী শ্রমিকরা এসব প্রতিষ্ঠানের সাধারণ কর্মী বা নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করে। লুটতরাজ শুরু হওয়ার সময় নিরাপত্তাকর্মীরা বাধা দেয়। তখন কিছু হতাহতের ঘটনা ঘটে। তবরুক, বেনগাজীতে লুটপাটের সময় এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে জানতে পেরেছি। নিহতের সংখ্য কত তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারবো না।

    ইউকেবেঙ্গলিঃ বিদ্রোহীরা নিশ্চয়ই কেবল বাঙালিদের উপর নির্যাতন করছে না, অন্য দেশের মানুষও নির্যাতন বা হত্যা করেছে? আনুমানিক কতজন তাদের শিকার হয়েছে বলে আপনি মনে করেন?
    রিয়াজুর রহমানঃ বিদ্রোহীদের হাতে বেনগাজীতে বিদেশী শ্রমিকরা নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে শুনেছি। কতজন এর শিকার হয়েছে এ ব্যাপারে আমি নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারবো না। আপনারা ত্রিপোলিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সাথে কথা বলতে পারেন।

    ইউকেবেঙ্গলিঃ সরকারী বাহিনী কি বিদেশিদেরকে হত্যা করেছে?
    রিয়াজুর রহমানঃ না একদমই না। আমি প্রতিদিন দিনের বেলা রাস্তায় চলাফেরা করছি। সরকারী বাহিনী আমাদের সাথে কোন বৈরী আচরন করছে না। উপরন্তু জনসাধারনের নিরাপত্তার জন্য তারা প্রতিটি রাস্তায় চেকপয়েন্ট বসিয়েছে।

    ইউকেবেঙ্গলিঃ লিবিয়ার জীবনযাত্রার মান কেমন? অন্য কোন দেশের সাথে তুলনা করে বলতে পারবেন যেমন মিশর, তিউনিসিয়া বা আলজেরিয়া?
    রিয়াজুর রহমানঃ লিবিয়ার জীবনযাত্রার মান খুবই ভালো। সরকার জনসাধারনের জন্য সব কিছুই করছে। তাদের অভাব নেই বললেই চলে। এখানে খাবার-দাবার এর দাম খুব সস্তা। সরকার খাদ্য-দ্রব্যের জন্য প্রচুর ভুর্তুকি দিয়ে আসছে। আমরা পৃথিবীর সব জায়গায় খাবারের উচ্চমুল্যের কথা শুনি। কিন্তু লিবিয়াতে ঠিক তার বিপরীত। এখানকার স্বাস্থ্য সেবা অসাধারণ। তাছাড়া পড়াশোনা একদম ফ্রি। সরকার তার প্রত্যেক নাগরিককে ভাতা দিচ্ছে। প্রতি মাসের ১ তারিখ ব্যাংক এর সামনে বিশাল লাইন দেখা যায়। এ কারণে ১ তারিখ আমরা ব্যাংকিং এর কাজ এড়িয়ে চলি। বেকাররা মোটা অংকের ভাতা পাচ্ছে। বৃদ্ধরা পেনশন পাচ্ছে। সরকার বিশাল বিশাল অট্টালিকা তৈরী করে রেখেছে তার নাগরিকদের জন্য। মোট কথা সরকার তার জনগনের জন্য করণীয় সবই করছে। লিবিয়াকে মিশর বা তিউনিসিয়ার সাথে তুলনা করা যাবে না। তিউনিসিয়াতে, মিশরে আমরা খাবারের উচ্চমুল্য, বেকারত্বের ভয়াবহ রূপ দেখেছি। লিবিয়াতে এরকম কোন কিছুই নেই। খাদ্যমূল্য খুবই কম। বেশিরভাগ লিবিয়ান চাকরির সুযোগ পাচ্ছে। যারা বেকার তারা সরকারের কাছ থেকে ভাতা পাচ্ছে। এক কথায় এখানকার জীবন যাত্রার মান খুব ভালো।

    ইউকেবেঙ্গলিঃ আমরা জানি প্রায় সমগ্র লিবিয়া জুড়েই মরুভূমি কিন্তু পানির সঙ্কট সেখানে নেই, কারণ তা দূর করতে সেখানকার সরকার কৃত্তিমভাবে তৈরি করেছে ভূগর্ভস্থ পাইপলাইনের বৃহৎ নেটওয়ার্ক। এ সম্পর্কে কিছু বলুন।
    রিয়াজুর রহমানঃ এখানে পানির সমস্যা একদমই নেই। ভূগর্ভস্থ পাইপলাইনের বৃহৎ নেটওয়ার্ক সম্পর্কে বলে বুঝানো কঠিন। সময় পেলে লিবিয়া ঘুরে যান।

    ইউকেবেঙ্গলিঃ লিবিয়ার সরকারের সাথে সে দেশের মানুষের সম্পর্ক কেমন? সরকার কি সাধারণ মানুষের ভালো-মন্দের ব্যাপারে সচেতন নাকি উদাসীন?
    রিয়াজুর রহমানঃ লিবিয়াতে প্রচুর তেল সম্পদ রয়েছে। এ দিয়ে সরকার খুব সহজেই মানুষের সব মৌলিক অধিকার পূরণ করছে। আমি আগের প্রশ্নের উত্তরে বলেছি, সরকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান, খাবার এসব ব্যাপারে জনসাধারনকে সব সাহায্য করে। তাহলে সরকার মানুষের ব্যাপারে উদাসীন হয় কিভাবে? সরকারকে আমার যথেষ্ট সচেতন মনে হয়েছে। আমি একটি কনস্ট্রাকশন কৌম্পানীর প্রোজেক্ট ম্যানেজার। সরকার সারাদেশের অবকাঠামো তৈরীতে মাষ্টার প্ল্যান বাস্তবায়ন করছে। বর্তমান সমস্যা সমাধান হলে আগামী ১০ বছরে লিবিয়ার অবকাঠামো পৃথিবীর দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। সারা দেশের বলতে গেলে সব জায়গায় নির্মাণ কাজ চলছে।

    ইউকেবেঙ্গলিঃ আপনি কি মনে করেন যে সেখানে বিদ্রোহ ঘটার মত গুরুতর কোন কারণ আছে?
    রিয়াজুর রহমানঃ এই প্রশ্নের উত্তর আমি আগেই দিয়েছি। লিবিয়াতে এমন কোন ঘটনা ঘটেনি যার কারণে বিদ্রোহ করতে হবে। আপনারা সশরীরে লিবিয়া এসে স্থানীয়দের সাথে কথা বলুন। দেখুন তারা কি বলে। আর বিদ্রোহীদেরও প্রশ্ন করুন তারা কেন বিদ্রোহ করছে। তারাও বলতে পারবেনা তারা কেন বিদ্রোহ করছে। তারা বলছে সরকার পরিবর্তন বা গাদ্দাফীর দেশ ছাড়ার কথা। সরকার কেন পরিবর্তন হবে সেই প্রশ্নটা তাদের করুন। দেখেন তারা কি বলে। আর গাদ্দাফী দেশ ছেড়ে কোথায় যাবে। সে তো এদেশেরই নাগরিক। আল জাজিরা, বিবিসির মতো সংবাদ মাধ্যম এসব ব্যাপার একদম এড়িয়ে যাচ্ছে।

    ইউকেবেঙ্গলিঃ আমেরিকা-ফ্রান্স-ব্রিটেইন ইত্যাদি পশ্চিমা দেশগুলো যে দৃশ্যতঃ 'সিভিলিয়ান রক্ষার' উদ্দেশ্যে লিবিয়াতে আক্রমণ করেছে, এ ব্যাপারে সাধারণ মানুষের মনোভাব কি? তারা কি মনে করে এতে সিভিলিয়ানরা রক্ষা পাবে নাকি আরো বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবে?
    রিয়াজুর রহমানঃ এক কথায় সবাই এর বিরোধী। সাধারন জনগন বা বিরোধী কেউই চায়না আমেরিকা-ফ্রান্স-ব্রিটেইন তাদের উপর আক্রমণ করুক। মিডিয়া বলছে লিবিয়ার মানুষ ওয়েষ্ট এর সাহায্য চাচ্ছে। একথা যে কতবড় মিথ্যচার তা এখানে না আসলে বুঝানো সম্ভব হবে না। লিবিয়ার মানুষ খুব ভালোভাবে জানে ইরাক বা আফগানিস্থানে কি হয়েছে। লিবিয়ার সাধারন মানুষ খুব ভালোভাবে জানে ওয়েষ্ট তাদের তেল সম্পদের দখল চায়। যারা বিদ্রোহ করছে তারাও বিদেশীদের হামলা চায়না। আপনাকেই একটা প্রশ্ন করি, ইয়েমেন, আলজেরিয়া, বাহরাইনে তো সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন হচ্ছে। এব্যাপারে পশ্চিমারা নিরব কেন? সেখানে কেন আমেরিকা-ব্রিটেইন বোমা হামলা করছে না? ওয়েষ্ট লিবিয়ান সাধারন মানুষকে রক্ষা করবে রক্ষা করবে কিসের হাত থেকে? এটা এখন স্পষ্ট ওয়েষ্ট আসলে কি চায়।

    ইউকেবেঙ্গলিঃ গাদ্দাফী পরিবারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে। এ ব্যাপারে আপনার পর্যবেক্ষণ কি?
    রিয়াজুর রহমানঃ এ ব্যাপারে আমি আগে কিছুই শুনিনি। এখানকার স্থানীয় লোকজনের মুখেও এধরনের কোন কথা শোনা যায়নি। ওয়েষ্টার্ন মিডিয়া এসব গল্প কোথেকে বানায় তা তাদের প্রশ্ন করুন।

    ইউকেবেঙ্গলিঃ গাদ্দাফীর ছেলে সাইফ আল ইসলাম সম্পর্কে আপনার মতামত কি?
    রিয়াজুর রহমানঃ এখানকার ইয়াং জেনারেশনের কাছে সে যথেষ্ট জনপ্রিয়। তাকে আমার বেশ আধুনিক মনে হয়েছে। সে রাষ্ট্রীয় অনেক ব্যাপারে আধুনিকায়ণের প্রস্তাব করেছিলো, সরকারের অনেকেই তার বিরোধীতা করেছিলো। সেই বিরোধীদের এখন বিদ্রোহীদের প্রতিনিধি হিসেবে দেখছি।

    ইউকেবেঙ্গলিঃ আপনার মুল্যবান সময়ের জন্য ধন্যবাদ।
    রিয়াজুর রহমানঃ আপনাকেও ধন্যবাদ।

    সাক্ষাতকার দিয়েছেন: 
    রিয়াজুর রহমান

পাঠকের প্রতিক্রিয়া

মানবতা যেখানে অসহায় কিইবা করার থাকে...এই আধুনিক যুগে এসে আমদের আর একটি যুদ্ধ মেনে নিতে হলো।

মানুষ হিসাবে আমরা খুব-ই লজ্জিত।

লিবিয়াতে এখন মানবাধিকার বলে কিছু নেই। প্রতিনিয়ত মানবাধিকার লংঘনের ঘটনা ঘটে চলেছে।

আমার ছোট ভাই যখন মিসরাতা থেকে ত্রিপোলির চেকপোস্ট পেরিয়ে আল-জাহইয়া সীমান্তে পৌঁছালো তখন সেখানকার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা। দিনটা ছিল ২৭ শে ফেব্রুয়ারী ২০১১।

ওরা তখন জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাড়িয়ে। ত্রিপোলির চেকপোস্টে গাদ্দাফির সেনারা সবার দিনার, মোবাইল, কেমেরা, লেপটপ, সিম, মেমোরি রেখে দেয়।

তখন সেখানে সবচেয়ে বর্বরোচিত যে ঘটনাটি ঘটে তা হলো- চেকপয়েন্টে এক নার্স দম্পতির কোলের বাচ্চাটাকে ঢিল মেরে হাসবেনডের কাছে দিয়ে দেয়...ভদ্রলোককে চলে যেতে বলে।

আমার ভাই যতদিন তিউনিসিয়া ক্যাম্পে ছিল এই ঘটনাটি তাকে খুব মর্মাহত করে তুলে।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন