• গ্যাসের মালিকানা হাতে রেখেই বিদেশী কোম্পানিকে দিয়ে গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব
    সাক্ষাতকার দিয়েছেন: 
    আনু মুহাম্মদ

    আনু মুহম্মদ

    বাংলাদেশের তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ-বিদ্যুৎ ও বন্দর রক্ষা কমিটীর সদস্য সচিব ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক আনু মুহম্মদের এ-ক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ইউকেবেঙ্গলির পক্ষ থেকে আশফাক চৌধুরী।

    ইউকেবেঙ্গলিঃ গত ১৬ই জুন বাংলাদেশের সরকার বঙ্গোপসাগরের তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য মার্কিন কৌম্পানী কনকোফিলিপের সাথে চুক্তি করেছে। আপনারা এর বিরোধিতা করে গত ৩রা জুলাই ঢাকায় অর্ধদিবস হরতাল পালন করেছে। আপনারা কেনো এ-চুক্তির বিরোধিতা করছেন?

    আনু মুহাম্মদঃ অতীতের তেল গ্যাস চুক্তিগুলোর মতো এ-চুক্তিতেও আমাদের দেশের স্বার্থরক্ষা হয়নি। এ-চুক্তির মাধ্যমে কার্যতঃ আমাদের সমুদ্রের গ্যাস বিদেশীদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে।

    ১৬ই জুন কনকো ফিলিপসের সাথে সরকারের চুক্তি হয়েছে ‘মডেল পিএসসি-২০০৮' অনুসারে। ওই পিএসসির ১৫.৫.৪ অনুচ্ছেদে স্পষ্ট বলা আছে বাংলাদেশ যদি সমুদ্রের ১৭৫ মাইল দূরের গ্যাস ক্ষেত্র পর্যন্ত প্রয়োজনীয় পরিবহণ ব্যবস্থা (পাইপলাইন) স্থাপন করে, তাহলেই কেবল বাংলাদেশের পক্ষে পেট্রোবাংলা তার অংশের ‘প্রফিট গ্যাস' রাখার অধিকারপ্রাপ্ত হবে। তবে তা কোনো মতেই মোট ‘বাজারজাতযোগ্য গ্যাসের' ২০% এর বেশই হবে না। কিন্তু এ-পাইপলাইন তৈরী করতে বাংলাদেশের যে-খরচ পরবে, তা কনকো ফিলিপসের প্রথমিক বিনিয়োগের ৩ গুণ বেশি। এতে শতোভাগ গ্যাস বিদেশে রফতানির সুযোগ করে দেয়া হলো। আমাদের ৫০ বছরের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বঙ্গোপসাগরের গ্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এ-চুক্তির কারণে আমাদের জ্বালানি নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়লো।

    তাছাড়া, রাজনৈতিক কৌশলগত কারণে বঙ্গোপসাগর খুব গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরষ্ট্র এ-অঞ্চলের নিরাপত্তার নামে নৌ-বহর পাঠানোর আগ্রহ দেখিয়েছে। এ-চুক্তির মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরের মার্কিন সামরিক তৎপরতার পথ খুলে দেয়ার সাথে সাথে ভারত ও মায়ানমারের কর্তৃত্বও মেনে নেয়া হলো। এসব কারণেই আমরা এ-চুক্তির বিরোধিতা করছি।

    ইউকেবেঙ্গলিঃ আপনারা বলছেন সম্পাদিত চুক্তি দেশের স্বার্থ রক্ষা করছে না। আপনারা এ-বিষয়ে সরকারকে বিকল্প কোনো প্রস্তাব তুলে ধরেছেন কি?

    আনু মুহাম্মদঃ জাতীয় কমিটী সরকারকে বহুবার বিকল্প প্রস্তাব তুলে ধরেছে। কিন্তু সরকার আমাদের কোনো কথাই শুনছে না। গ্যস অনুসন্ধানের জন্য আমাদের পুঁজি এবং প্রযুক্তি নেই বলে যে-প্রচারণা চালানো হয়, তা আসলে ঠিক নয়।

    প্রথমতঃ সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য যে-পরিমাণ পুঁজি আমাদের প্রয়োজন, তা আমাদের আছে। বঙ্গোপসাগরের দু'টি ব্লকে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য কনকো-ফিলিপস আগামী পাঁচ বছরে ১১০ মিলিয়ন ডলার বা ৭৭০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে। আমাদের দেশে দেড় লাখ কোটি টাকার মতো বাজেট করা হয়। আর গ্যাস উত্তোলনের জন্য আমরা ৭৭০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে পারবো না তা গ্রহণযোগ্য নয়। আপনারা জানেন, বাংলাদেশ প্রতিবছর বিদেশী কোম্পানীর কাছ থেকে গ্যাস কেনার জন্য এবং বিদ্যুৎ কোম্পানীর কাছ থেকে অতি উচ্চমূল্যের বিদ্যূৎ কেনার জন্য প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়। ট্যাক্স, ভ্যাট, লভ্যাংশ সবকিছু মিলিয়ে গত অর্থবছরে পেট্রোবাংলা সরকারকে দিয়েছে ৩,২৬৩ কোটি টাকা। চুক্তি বাতিল করে দেশের কোম্পানীগুলোর মাধ্যমে গ্যাস তোলা হলে এ-ভর্তুকির টাকা কিংবা সরকারী কোষাগারে পেট্রোবাংলার জমা দেয়া টাকার একটা অংশ থেকেই আমরা গভীর সমুদ্রে গ্যাস উত্তোলনের খরচ মেটাতে পারি। এর চেয়েও বড়ো কথা, সরকার মাত্র ১১০ মিলিয়ন ডলারের জন্য কনকো-ফিলিপসের কাছে গ্যাসের মালিকানা ছেড়ে দিচ্ছে, কিন্তু তাদের কাছ থেকে গ্যাস নিতে তার তিনগুণ অর্থাৎ ৩৫০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করে আমাদের পাইপ লাইন বসাতে হবে। গ্যাস কিনতেও লাগবে বিপুল পরিমাণ অর্থ। সুতরাং পুঁজি নেই কথাটা ঠিক নয়।

    দ্বিতীয়তঃ প্রযুক্তি বা দক্ষতা নেই বলে যে অজুহাত দেখানো হচ্ছে তাও ঠিক নয়। প্রযুক্তি আর দক্ষ লোক যদি নাও থাকে, এগুলো বিদেশ থেকে ভাড়া করে আনা যায়। তাছাড়া আমাদের দেশে অবস্থানরত বিদেশী কোম্পানীগুলোতে তো বেশিরভাগ বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞরাই কাজ করছেন।বিদেশী কোম্পানীগুলো বাপেক্সকে দিয়ে সাব-কন্ট্রাক্টে ড্রিলিংয়ের মতো কাজ করাচ্ছে। স্বাধীনতাত্তোরকালে পেট্রোবাংলা ও বাপেক্স নিজেদের সামর্থ্যে ৯টি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার ও ১৭টি নিরাপদ কূপ খনন করেছে। কয়েক বছর আগে পর্যন্তও দেশের ৮০%-এর বেশি গ্যাস উৎপাদন করতো বাংলাদেশী এসব প্রতিষ্ঠান। শুধু তাই নয়, এ-পর্যন্ত পেট্রোবাংলা-বাপেক্সে অক্সিডেন্টাল বা নাইকোর মতো কোনো দুর্ঘটনা ঘটায়নি। যথাযথ মূল্যায়ণ ও রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা পেলে গ্যাস সেক্টরের দক্ষতা ও জনশক্তি কয়েকগুণ শক্তিশালী হতে পারতো। সরকারের সহযোগিতা পেলে এখনও জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো গভীর সমুদ্রের গ্যাস উত্তোলন করতে পারে। আমাদের কথা হলো, শতভাগ গ্যাসের মালিকানা নিজেদের হাতে রেখেই বিদেশী কোম্পানিকে সাব-কন্ট্রাক্ট দিয়ে এই গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব।

    ইউকেবেঙ্গলিঃ কনকো-ফিলিপসের সাথে সম্পাদিত চুক্তি প্রকাশ করতে সরকারকে বাধ্য করতে আপনারা কি কোন পদক্ষেপ নিয়েছেন, বা নেবার পরিকল্পনা করছেন?

    আনু মুহাম্মদঃ কনকো ফিলিপের সাথে সম্পাদিত চুক্তি জনসমক্ষে প্রকাশ করার জন্য আমরা দাবী জানিয়ে আসছি। তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী আমরা এ-চুক্তির বিস্তারিত বিবরণ সরকারের কাছে জানতে চেয়েছি। এখন পর্যন্ত আমরা সরকারের কাছ থেকে কোন উত্তর পায়নি। সরকার যদি এ-চুক্তি জনসমক্ষে প্রকাশ না করে, আমরা নিয়ম অনুযায়ী সব আনুষ্ঠানিকতা পালন করে আদালতের শরণাপন্ন হবো। তাছাড়া এ-ব্যাপারে গণ-সচেতনতা সৃষ্টির জন্য আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ হাতে নিয়েছি। আশা করি জনগণ আমাদের পাশে থাকবে।

    ইউকেবেঙ্গলিঃ ফুলবাড়িতে প্রস্তাবিত উন্মুক্ত-কয়লাখনি প্রকল্পের ব্যাপারে বর্তমান সরকারের অবস্থান কি? এব্যাপারে আপনাদের আন্দোলন এখন কোন পর্যায়ে রয়েছে?

    আনু মুহাম্মদঃ ফুলবাড়ি এবং বড়পুকুরিয়ার জনগণ এখন যথেষ্টে সচেতন। সরকার চাইলেই সেখানে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা খনি করতে পারবে না। আগামী ২৬শে আগষ্ট ফুলবাড়ি দিবস উপলক্ষে ফুলবাড়িতে বিভিন্ন কর্মসুচি আছে। আন্দোলনের অংশ হিসেবে ফুলবাড়িতে আমাদের সভা সমাবেশ এবং প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে।

    ফুলবাড়ি কয়লা খনি প্রকল্পের ব্যাপারে সরকার এখন তেমন কিছু বলছে না। তবে বহুজাতিক কোম্পানীগুলোর গোপন তৎপরাতা অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী ও এমপি উম্মুক্তি পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের পক্ষে সংসদের বক্তব্য দিয়েছেন। এতে বুঝা যাচ্ছে এ-ব্যাপারে তাঁরা এখনো তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।

    ইউকেবেঙ্গলিঃ আপনারা কি আশঙ্কা করেন যে সরকার কনকো-ফিলিপসকে গ্যাস-ব্লক দেবার মতো করে গ্লৌবাল কৌল ম্যানেজম্যান্টকেও (এশিয়া এনার্জির বর্তমান নাম - সম্পাদক) ফুলবাড়ীর কয়লা-সম্পদ দিয়ে দিতে পারে? ফুলবাড়ির কয়লা সম্পদ রক্ষার জন্য আপনাদের প্রস্তুতি কি?

    আনু মুহাম্মদঃ আমি আগের প্রশ্নের উত্তরে বলেছি, ফুলবাড়ির স্থানীয় জনগণ যথেষ্ট সচেতন। জাতীয় কমিটীর উদ্যোগে ফুলবাড়িতে বিভিন্ন ধরণের প্রচারণা চলছে। ভাছাড়া সভা সমাবেশের মাধ্যমে আমরা জনগনকে সচেতন করছি। সরকার যদি গণমত উপেক্ষা করে ফুলবাড়ির কয়লা বিদেশী কৌম্পানীর হাতে তুলে দিতে চায়, ফুলবাড়ির স্থানীয় জনগণ তা প্রতিরোধ করবে।

    ইউকেবেঙ্গলিঃ গত জুলাইয়ের তিন তারিখের হরতালের ব্যাপারে আপনাদের মুল্যায়ন কি?

    আনু মুহাম্মদঃ কনকো ফিলিপের সাথে সরকারের অসম চুক্তি বিপক্ষে জাতীয় কমিটীর অবস্থান। এবং এ-চুক্তির বিরোধিতা করেই আমরা তিন তারিখ ঢাকায় অর্ধ দিবস হরতাল ডেকেছিলাম। হরতালে আমরা জনগণের বিপুল সমার্থন পেয়েছি। বিশেষ করে তরুণদের উপস্থিতি উল্লেখ করার মতো। রাজনীতির সাথে যুক্তি নয়, এমন অনেক মানুষ জাতীয় কমিটীর হরতালের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। বুয়েটের শিক্ষার্থীরা এ-চুক্তির বিরোধিতা করে আন্দোলন করেছে। সৌশ্যাল মিডিয়া, ব্লগে সরকারের এ-সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিবাদ হয়েছে। আমরা এও লক্ষ্য করেছি, বিভিন্ন ব্লগের ব্লগাররা এ-হরতাল সমর্থনে মিছিল করেছে। ফেইসবুক-সহ অন্যান্য সৌশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের আন্দোলনের পক্ষে ব্যাপক প্রচারণা হয়েছে।

    সরকার আমাদের মিছিল এবং প্রচারণায় বাধা দিয়েছে। হরতালের আগের দিন লিফলেটিংয়ের সময় আমাদের কর্মীদের গ্রেফতার করেছে। মেইন-স্ট্রীম মিডিয়ার মাধ্যমে আমাদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটিয়েছে। আপনারা দেখেছেন হরতালের দিন পুলিস আমাদের মিছিল করতে দেয়নি। বিনা উস্কানীতে পুলিস আমাদের মিছিলে লাঠিপেটা করেছে। সরকারের কাছে এ-চুক্তির পক্ষে যুক্তি নেই বলেই আমাদের উপর বল প্রয়োগ করেছে। এতোকিছু সত্ত্বেও আমাদের হরতালে সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহণ ছিলো। আমাদের এ-আন্দোলন এখন জাতীয় আন্দোলনের রূপ ধারণ করেছে।

    ইউকেবেঙ্গলিঃ আপনাদের পরবর্তী কর্মসূচি কি?

    আনু মুহাম্মদঃ জাতীয় সম্পদ রক্ষায় আমরা প্রতিনিয়ত জন-সচেতনতা সৃষ্টি করে যাচ্ছি। দিন-দিন জাতীয় কমিটীর আন্দোলনে জনগণের সমার্থন বাড়ছে। এ-ধারা অব্যাহত রাখতে আমরা আগামী ২৭-৩১শে জুলাই পাঁচটি দলে বিভক্ত হয়ে দেশের পাঁচটি প্রান্ত পর্যন্ত (ঢাকা- পঞ্চগড়, ঢাকা- মংলা, ঢাকা- সুনামগঞ্জ, ঢাকা- কক্সবাজার, ঢাকা-বরগুনা) জনসংযোগ, ১৯শে আগষ্ট কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সভা, ২৬শে আগষ্ট দেশব্যাপী ফুলবাড়ী দিবস পালন। উম্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা খনি নিষিদ্ধ, এশিয়া এনার্জীকে (বর্তমান নাম জিসিএম) নিষিদ্ধকরণ-সহ ফুলবাড়ী চুক্তি বাস্তবায়ন এবং বড়পুকুরিয়ায় হামলা, মামলা ও ভুমি-অধিগ্রহণের মাধ্যমে উন্মুক্ত পদ্ধিতিতে কয়লা খনির চক্রান্ত বন্ধের দাবীতে দেশব্যাপী সভা-সমাবেশ। ২৪-২৬শে সেপ্টেম্বর ‘পিএসসি ২০০৮' ও কনকো ফিলিপসের সাথে সম্পাদিত চুক্তি বাতিলসহ ৭ দফা দাবিতে বঙ্গোপসাগর অভিমুখে প্রচার যাত্রা। ঢাকা চট্রগ্রাম রোডমার্চ।২২-২৫শে অক্টোবরে পিএসসি ২০১১ এর প্রক্রিয়া বন্ধ এবং জাতীয় সংস্থার মাধ্যমে অবিলম্বে সুনেত্র গ্যাসক্ষত্র থেকে গ্যাস উত্তোলনের কাজ শুরু-সহ ৭ দফা দাবীতে ঢাকা-সুনেত্র (সুনামগঞ্জ- নেত্রকোনা) লংমার্চ। ২৬শে নভেম্বর "চলো চলো ঢাকা চলো" কর্মসুচি শেষে জাতীয় সম্পদের উপর জনগণের কতৃত্ব নিশ্চিত করতে জাতীয় কমিটীর ৭ দফা দাবীতে ঢাকায় মহাসমাবেশে কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

    ইউকেবেঙ্গলিঃ আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ

    আনু মুহাম্মদঃ আপনাকেও ধন্যবাদ।

    ২০ অগাস্ট ২০১১

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন