• ‘পশ্চিমা মিডিয়ার কথা সত্য নয়’
    - ত্রিপোলিবাসী বাঙালী পেশাজীবী
    Islamists-in-Tripoli.jpg

    আন্তর্জাতিক সংবাদ-সংস্থা থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত পর্যন্ত লিবিয়ায় গাদ্দাফী-পুত্রের ‘নিশ্চিত গ্রেফতারের খবর’ নিশ্চিত মিথ্যা প্রমাণিত পর সংবাদ তৈরীতে ইউকেবেঙ্গলি অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করছে।

    সর্বশেষ পরিস্থিতি এবং প্রকৃত ঘটনা জানার জন্য ত্রিপলীতে কর্মরত একটি নির্মাণ সংস্থার বাংলাদেশী প্রকল্প ব্যাবস্থাপক রিয়াজুর রহমানের সাথে আজ শনিবার লন্ডন সময় সকাল ১১ টায় কথা বলেছেন ইউকেবেঙ্গলির প্রতিবেদক আশফাক চৌধুরী। উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারীতে লিবিয়ায় সশস্ত্র বিদ্রোহ আরম্ভ হওয়ার পর ২৯ শে মার্চ তিনিই এ-প্রতিবেদককে তখনকার পরিস্থিতি সম্পর্কে জানিয়েছিলেন।

    ইউকেবেঙ্গলিঃ গাদ্দাফীপুত্র সাইফ আল-ইসলামের গ্রেফতার নিয়ে পশ্চিমা সংবাদ মাধ্যগুলোর প্রচারিত সংবাদ মিথ্যা প্রমাণিত হবার প্রাপ্ত সংবাদের উপর আস্থা রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। আপনি কি মনে করেন বিবিসি, সিএনএন এবং আল-জাজিরা সত্য সংবাদ প্রচার করছে?

    রিয়াজুর রহমানঃ পশ্চিমা মিডিয়ার সংবাদগুলো পুরোপুরি সত্য নয়। ত্রিপলী দখল নিয়ে মিড়িয়া যেভাবে একতরফা সংবাদ প্রচার করছে তা ঠিক নয়। ত্রিপলীর অনেক স্থানে রিবেলদের সাথে সরকারী বাহিনীর সংঘর্ষ চলছে। আবু সালিমে গণহত্যা এবং ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটছে। কিন্তু মিডিয়া তা প্রচার করছে না।
            
    ইউকেবেঙ্গলিঃ ত্রিপলীর বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে কিছু বলুন।

    রিয়াজুর রহমানঃ আমাদের এলাকা বেশ শান্ত। রিবেলরা গত রোববারেই এ-ই এলাকা দখল করে নেয়। এখন পর্যন্ত যা দেখলাম, তাতে মনে হচ্ছে ত্রিপোলির বেশিরভাগ অঞ্চল রিবেলদের দখলে। আবু সালেম এবং বিমান বন্দরের আশে পাশের এলাকাগুলো এখনও সরকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। সেখানে তুমুল লড়াই হচ্ছে বলে খবর পেয়েছি। কিছুক্ষণ আগে খবর পেলাম আবু সালেম এলাকায় গণহারে মানুষ হত্যা এবং ধর্ষণের মতো আপরাধ সংঘটিত হচ্ছে।

    ইউকেবেঙ্গলিঃ আপনি বলছেন ত্রিপোলির বেশিরভাগ আঞ্চল রিবেলদের দখলে, এ-ব্যাপারে ত্রিপলীর বাসিন্দাদের প্রতিক্রিয়া কী?

    রিয়াজুর রহমানঃ আমরা ভেবেছিলাম রিবেলরা ত্রিপোলি আক্রমণ করলে তুমুল লড়াই হবে। কেউ বিশ্বাস করতে পারিনি এতো সহজে রিবেলরা ত্রিপলী দখল করে নেবে। রোববার ও সোমবার ত্রিপলীতে রিবেলদের উপস্থিতি আমাদের অবাক করে। আমার কাছে মনে হয়েছে ত্রিপলীবাসী বেশ আতঙ্কিত। ত্রিপলীর ছোটো বড়ো সবার হাতে-হাতে অস্ত্র। জানি না সামনের দিনগুলোতে কী হবে।

    তবে পরিস্তিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে বলে ধারণা করতে পারি। কয়েকদিন আগে যাঁদেরকে গাদ্দাফীর পক্ষে মিছিল করতে দেখেছি, তাঁদের এখন রিবেলদের পতাকা উড়াতে দেখছি। আমি খাবার দাবার কিনতে গতকাল এবং আজ বাইরে গিয়েছিলাম। বড়-বড়ো শপিং-মল ছাড়া বেশিরভাগ দোকান-পাট বন্ধ। রাস্তায়-রাস্তায় রিবেলরা চেকপৌষ্ট বসিয়েছে। রাস্তায় তাঁরা গাদ্দাফীর ছবি ছিঁড়ে ফেলে রেখেছে। কয়েকদিন পর হয়তো ত্রিপোলির বাসিন্দাদের প্রতিক্রিয়া ভালোভাবে বুঝা যাবে।

    ইউকেবেঙ্গলিঃ শনিবার আসলে কী হয়েছিলো, সরকারী বাহিনী রিবেলদের প্রতিরোধ করতে ব্যর্থ হলো কেনো?

    রিয়াজুর রহমানঃ আমি গত শুক্রবার রাতে প্রতিবেশীদের কাছে শুনেছি কয়েকদিনের মধ্যে ত্রিপোলিতে হামলা হতে পারে। গভীর রাতে বিস্ফোরণের শব্দের আমার ঘুম ভাঙ্গে। শনিবারে ত্রিপোলিতে ন্যাটো প্রচণ্ড বোমা-হামলা করে রিবেলদের কাজ সহজ করে দেয়। অনেকের মুখে শুনেছি সমুদ্র পথে ন্যটোর অনেক সৈন্য ত্রিপলীতে প্রবেশ করে। সরকারী বাহিনী কেনো রিবেলদের প্রতিরোধ করতে ব্যার্থ হলো তা ঠিক বলতে পারবো না।
     
    ইউকেবেঙ্গলিঃ আমরা বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে জানতে পেরেছি বিভিন্ন ট্রাইব রিবেলদের সাথে লড়ছে, কথাটা কতটুকু সত্য?

    রিয়াজুর রহমানঃ হ্যাঁ আমিও শুনেছি বিভিন্ন ট্রাইবের সেচ্ছাসেবকরা সরকারী বাহিনীর সাথে মিলে রিবেলদের বিরুদ্ধে লড়ছে। লিবিয়ার বেশিরভাগ ট্রাইব গাদ্দাফী অনুসারী বলে মনে হয়েছে। সেক্ষেত্রে এধরণের দাবী অসত্য নয়।

    ইউকেবেঙ্গলিঃ লিবিয়ার অন্যান্য অঞ্চলের পরিস্থিতি সম্পর্কে কিছু জেনেছেন কি?

    রিয়াজুর রহমানঃ সব জায়গায় যুদ্ধ হচ্ছে শুনেছি। মিসরাতায় সরকারী বাহিনী ও রিবেলদের মধ্যে বেশ লড়াই হয়েছে। দখল পাল্টা-দখলের খবর পাওয়া যাচ্ছে। আমি গত ছয় মাসে ত্রিপোলির বাইরে যাইনি। তাই ঠিক বলতে পারবো না অন্য অঞ্চলে কী হচ্ছে।

    ইউকেবেঙ্গলিঃ আপনাকে অনেক ধন্যবাদ

    রিয়াজুর রহমানঃ আপনাকেও ধন্যবাদ।

    ২৭ অগাস্ট ২০১১, শনিবার

    সাক্ষাতকার দিয়েছেন: 
    লিবিয়াবাসী বাঙালী নির্মাণ-ব্যবস্থাপক রিয়াজুর রহমান

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন