• ব্রাহ্মণবাড়িয়া কমিউনিটি ইউকের ‘বিজয় উৎসব ও প্রজন্ম চেতনা’ অনুষ্ঠান লণ্ডনে
    BiBarhiya.jpg

    ১৬ জানুয়ারী ২০১২

    যুক্তরাজ্যে প্রাবাসী ও অভিবাসী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার লোক-জনের মধ্যে একটি সামাজিক সংযোগ ও দেখা-সাক্ষাতের সুযোগ তৈরী করার উদ্দেশ্য নব-গঠিত সংগঠন 'ব্রাহ্মণবাড়িয়া কমিউনিটি ইউকে' গত ৮ জানুয়ারী মাইক্রো বিজনেজ সেন্টার অডিটোরিয়ামে ‘বিজয় উৎসব ও প্রজন্ম চেতনা’ শিরোনামের একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ৪১তম বিজয়দিবস পালন করেছে।

    তিনটি পর্বে সংগঠিত এ-অনুষ্ঠানের প্রথমে ছিলো নতুন প্রজন্মের জন্য 'মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’র উপর আলোচনা। শফিকুল আলমের সভাপতিত্বে ও জান্নাতুল ইসলাম ডালিমের সঞ্চালনে এ-আলোচনা পর্বে অংশগ্রহণ করেন ব্যারিস্টার নোরা শরীফ, শিক্ষক মাসুদ রানা ও আইনজীবী সৈকত আচার্য।

    নোরা শরীফ স্বাধীনতা যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশের পরিস্থিতির স্মৃতি-তর্পণ করে সে-সময়ের বিভিন্ন দিকের অনুপুঙ্খ বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর তিনি বাংলাদেশে গিয়ে দেখেছেন, উপরিকাঠামো বলতে তেমন কিছুই ছিলো না -  রাস্তা-ঘাট, পুল-সেতু, বাড়ী-ঘর ছিলো যুদ্ধে বিধ্বস্ত। খাদ্যের সঙ্কট ছিলো, কাপড়ের সঙ্কট ছিলো, বাসস্থানের সঙ্কট ছিলো চোখে পড়ার মতো। তবে, বাংলাদেশের মানুষ তা সত্ত্বেও ছিলো পরম অতিথিপরায়ণ। শরীফ বলেন, আজ চার দশক পর বলতেই হবে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে গেছে। তবে তিনি বলেন, এখনও কিছু-কিছু দিক আছে, যেখানে আরও উন্নয়ন প্রয়োজন।

    মাসুদ রানা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কোনো বিমূর্ত বিষয় নয়। স্বাধীনতা যুদ্ধে মানুষের মধ্যে মুক্তির যে আকাঙ্খা ছিলো, তাই ১৯৭২ সালের সংবিধানের মধ্যে চার মূল স্তম্ভ রূপে মূর্ত হয়ে উঠেছিলো আর সেগুলো ছিলো জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র। তিনি বিশ্লেষণ করে দেখান যে, আজকের বাংলাদেশ মূল সেই চার সম্ভ থেকে অনেক দূরে সরে এসেছে। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারণ মানেই হচ্ছে সেই চার স্তম্ভের পূর্ণ বাস্তবায়ন, অন্যথায় শুধু চেতনার কোনো মানে নেই।

    সৈকত আচার্য বলেন, আজ বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের যে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের মুক্তি যুদ্ধে মানবতার বিরুদ্ধে যে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, তা সংজ্ঞানুসারেই আন্তর্জাতিক। তিনি বলেন, স্বধীনতার পর অপরাধীদের বিচার হয়েছিলো এবং এদের অনেকেই কারাগারে ছিলেন, কিন্তু ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তাদের মুক্ত করে দেয়া হয়েছিলো। আজ আন্তর্জাতিক সে-অপরাধের ট্রাইবুন্যাল গঠিত হয়ে অপরাধীদের বিচার হচ্ছে।

    আলোচনা অনুষ্ঠানের শেষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কমিউনিটির অন্যতম সংগঠক প্রৌকশলী সমিরুজ্জামান বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ-কালে নোরা শরীফের ভূমিকার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে কমিউনিটির পক্ষ থেকে তাঁর হাতে একটি সম্মাননা তুলে দেন।

    সভাপতির ভাষণে শফিউল আলম স্বাধীনতা যুদ্ধকালে তাঁর শৈশব ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কয়েকজন বীর মুক্তিযুদ্ধার স্মৃতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সে-বীরগণ যে উদ্দেশ্য জীবন দিয়েছিলেন, তা বুঝতে হবে বর্তমান প্রজন্মকে। তিনি বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলসমূহের অভ্যন্তরীন গণতন্ত্রহীনতার সমালোচনা করেন। তবে তিনি আশা করেন, বাংলাদেশ ভবিষ্যত প্রজন্ম সমস্ত প্রতিবন্ধকতা দূর করে এগিয়ে যাবে। শফিউল আলম ব্রাহ্মণবাড়িয়া কমিউনিটি গঠনের উদ্যোগের জন্য উদ্যোগীদের প্রশংসা করেন এবং উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানান।

    অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ছিলো সাংস্কৃতিক উপস্থাপনা। আরফুমান চৌধুরীর উপস্থাপনায় এ-পর্বে অংশ নেন সত্যন সেন স্কুন অফ পারফরমিং  আর্টস ও উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর শিল্পী-সহ বেশ কয়েক জন অতিথি শিল্পী। নৃত্য, অভিনয়, কবিতা আবৃত্তি ও সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে উৎসব-মুখর হয়ে ওঠে পরিবেশ। উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাগণ মুগ্ধতায় উপভোগ করেন শিশু ও তরুণ শিল্পীদের সাংস্কৃতিক উপস্থাপনা।

    অনুষ্ঠানের শেষপর্বে ছিলো প্রীতিভোজ। ব্রাহ্মণবাড়িয়া কমিউনিটির কর্মী-সংগঠকগণ অভ্যাগতদের পরম আতিথ্যে আপ্যায়ণ করেন দেশীয় খাদ্যে।

    'ব্রাহ্মণবাড়িয়া কমিউনিটি ইউকে' বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যের জন্য সমীরুজ্জামান (07809603892), আজিজুর রহমান বাবু (07944675502),  জান্নাতুল ইসলাম ডালিম (07568085496), নাজমুল হাসান (07788998713) কিংবা হেলালউদ্দীনের (078258187874) সাথে যোগাযোগের অনুরোধ করা হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া কমিউনিটির সাথে যোগাযোগের লণ্ডনের ঠিকানাঃ Heneage Street, Brick Lane, London, E1 5LJ এবং ইন্টারনেটে যোগাযোগের জন্যঃ bbariauk@googlegroups.com,  Facebook: Brahmanbaria Community (UK)  ও Google Group: Brahmanbaria Community, UK

পাঠকের প্রতিক্রিয়া

ভালো উদ্যেগ। প্রবাসী বাঙ্গালীদের এ পদক্ষেকে স্বাগত জানাই।
বদরুল ইসলাম
সিলেট

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd>
  • Lines and paragraphs break automatically.

লেখা ফরম্যাট করার বিষয়ে আরো তথ্য

আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন