• অপরাধ-দণ্ডে উল্টো-মোচড়ঃ নতুন দণ্ড-নীতির রূপরেখা ঘোষণা ক্যামেরোনের
    David-Cameron-on-Setencing.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি, ২১ জুন ২০১১, মঙ্গলবারঃ তড়িৎ দোষ স্বীকারের বিনিময়ে সব ধরণের অপরাধের ৫০% দণ্ড মকুবের বিধান দিয়ে জাস্টিস সেক্রেট্যারী কেনিথ ক্ল্যার্ক যে সংস্কার প্রস্তাব করেছিলেন, তা সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাগ করা হলো বলে ঘোষণা দিলেন প্রধানমন্ত্রী ডেইভিড ক্যামেরোন। বিপরীতে, কতিপয় অপরাধের বাধ্যতামূলক যাবজ্জীবন দণ্ড, ছোটো অপরাধের কঠোরতর শাস্তি-সহ সংস্কারের নতুন রূপরেখা হাজিরকরেলন ক্যামেরোন।

    অভিজ্ঞ বিচারক-সমাজ থেকে শুরু করে বিভিন্ন মহলের সমালোচনার মুখে সরকারের প্রস্তাবিত দণ্ড-নীতিতে উল্টো-মোচড় দিয়ে প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রীটে আয়োজিত এক সংবাদ-সম্মেলনে বলেন, ‘আমারা এ-উপসংহারে উপনীত হয়েছি যে, গুরুতম অপরাধ-সমূহের জন্য নিশ্চিতভাবে এটি (৫০% দণ্ড-হ্রাস) ঠিক নয়। (এতে)অপরাধীর খাটা সাজার ও বিচারকের প্রদত্ত সাজার মধ্যে বিস্তর ব্যবধান তৈরী হবে, যা সোজা কথায় গ্রহণযোগ্য নয়।’

    লঘু অপরাধের ক্ষেত্রে ৫০% দণ্ড-হ্রাস হলে, ‘সাজা হয়ে যেতো খুবই নরম যা অপরাধীকে ভুল বার্তা দিতো এবং বিচার পদ্ধতির উপর জনগণের আস্থা হয়ে দুর্বল হয়ে পরতো’ বলে দাবী করেন ক্যামেরোন।

    প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত নতুন পরিবর্তন যা নতুন আইন-প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত হবে, তার রূপরেখায় বলা হয়ঃ

    - কারাবাসীকে দীর্ঘতর ও কঠিনতর শ্রম করতে হবে এবং তাদের অপরাধে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি অধিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে;

    - প্রাপ্ত বয়স্ক কোনো ব্যক্তি অন্য কাউকে ছুরি দেখিয়ে হুমকি দিলে, তার জন্য কারাদণ্ড বাধ্যতামূলক হবে;

    - ‘স্কোয়াটিং’কে (অর্থাৎ খালি বাড়ীতে বে-আইনী দখল) একটি নতুন অপরাধ হিসেবে বিবেচনার জন্য পরামর্শ-আলোচনা করা হবে;

    - অপরাধীদেরকে মদ্য ও মাদক থেকে মুক্ত করার জন্য পাইলট ভিত্তিতে কারাগারে নতুন শাখা চালু করা হবে;

    - লেবার সরকারে প্রবর্তিত ‘ইনডিটারমিনেইট’ (অনির্দিষ্ট) কারা মেয়াদের পুনর্বিবেবচনা করা হবে;

    - বাড়ীর মালিক ও দোকানদার নিজেদের জান-মাল রক্ষার্থে যুক্তিসঙ্গত বল-প্রয়োগ করলে তাদের বিরুদ্ধে বিচার হবে না মর্মে আইন প্রনয়ণ করা হবে;

    - বাজেটের বরাদ্দ কর্তন করা হবে এবং এর পরিণতিতে ব্যক্তিগত পারিবারিক আইন সংক্রান্ত, অভিবাসন ও অন্যান্য মামলার জন্য আর আর 'লীগ্যাল এইড' (আইন-সহায়তা) মিলবে না।

    কনসার্ভেটিভ প্রধানমন্ত্রী ডেইভিড ক্যামেরোন এই উলটো-মোচড় নিয়ে তীর্যক মন্তব্য করে বিরোধী লেবার-দলীয় নেতা এড মিলিব্যান্ড বলেন এটি হচ্ছে, ‘এ-সরকারের গণ-সম্পৃক্ত না থাকার আরেকটি উদাহরণ, যেখানে প্রস্তাব পেশ করে আবার তা ত্যাগ করতে হয়।’

    এ-প্রসঙ্গে ক্যামেরোন বলেন, ‘আমি এক মিনিটের জন্যেও মনের করি না যে, শোনা ও তার পর ক্রিয়া করার মধ্যে কোনো প্রকার দূর্বল-চিত্ততা আছে, এটি হচ্ছে শক্তি ও আস্থার পরিচায়ক’।

    প্রথমে আইন প্রস্তাব তৈরী করে পরে আবার তার পরিবর্তন করার মধ্যে রাজনৈতিক দুর্বলতার ইঙ্গিত করে মিলিব্যান্ড বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নিজেকে জিজ্ঞেস করতে হবে আগাগোড়া ভাবনা ছাড়া আইন প্রস্তাব করার মতো অবস্থানে তিনি পৌঁছুলেন কীভাবে ’।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন