• অপুষ্টিতে বাংলাদেশে ৫-বছরের কম বয়েসী শিশুদের প্রায় অর্ধেকের বৃদ্ধি রহিতঃ গার্ডিয়ান
    Children-BD.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০১২, বুধবারঃ  আজ প্রভাবশালী ব্রিটিশ সংবাদপত্র দৈনিক গার্ডিয়ান বাংলাদেশের পাঁচ বছরের কম বয়েসী শিশুদের অপুষ্টির কারণে শারীরিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে এবং এতে এই মর্মে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, সমস্যা সমাধানে সকারের বাক্যবাগীশতা ছাড়া বাস্তবে তেমন কিছু হচ্ছে না।

    আন্তর্জাতিক দাতব্য প্রতিষ্ঠান সেইভ দ্য চিল্ড্রেনের  বৈশ্বিক গবেষণার ফল 'এ্যা লাইফ উইদাউট হাঙ্গার'-এর প্রকাশ উপলক্ষ্যে দৈনিক গার্ডিয়ান শিশু-পুষ্টি ক্ষেত্রে অন্যতম পশ্চাতপদ দেশ  হিসেবে বাংলাদেশকে বেছে নিয়ে উল্লেখিত প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে। 

    ঢাকার মগবাজারের একটি বস্তিতে চার মাসের শিশু রূপা, তার ২০-বছর বয়েসী মা ও ২৫-বছর বয়েসী বাবার পরিবারের উপর আলোকপাত করে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ৫% থেকে ৬% হলেও সেখানে পাঁচ বছর বয়সে পৌঁছার আগেই প্রতি ১৫টি শিশুর মধ্যে একজনের মৃত্যু ঘটে এবং জন্মানোর প্রথম মাসের মধ্যে মৃত্যু ঘটে বছরে ২৫০,০০০ শিশুর।

    বাংলাদেশে দাতব্যকর্মে নিযুক্ত ‘সেইভ দ্য চিল্ড্রেন’-এর প্রকাশিত পরিসংখ্যান উল্লেখ করে দৈনিক গার্ডিয়ান জানায়, বাংলাদেশে পাঁচ বছরের কম বয়েসী ৪৮.৬% শিশুর বৃদ্ধি স্থবির কিংবা তাদের বয়সের তুলনায় বেঁটে; ১৩.৩% তাদের উচ্চতার তুলনায় এবং ৩৭.৪% তাদের বয়সের তুলনায় ওজনে ক্ষীণ। এছাড়া জনসংখ্যার সবচেয়ে বিত্তশালী অংশের তুলনায় সবচেয়ে দরিদ্র অংশের বিকশা-রহিত শিশুর সংখ্যা দ্বিগুণ।

    এর জন্য দারিদ্র-জাত অপুষ্টিকে দায়ী করে গার্ডিয়ান জানায়, চার মাস বয়সে রূপার ওজনে যেখানে হওয়া উচিত ছিলো ৩ কেজি, সেখানে তার ওজন হচ্ছে মাত্র ২ কেজি। মা অন্তরা নিজেই নানাবিধ অসুস্থতায় ভগ্নস্বাস্থ্য হবার কারণে রূপা মায়ের বুকের দুধ পাচ্ছে না। রূপার রিকশা-চালক বাবা সারা দিন খেটে আয় করেন মাত্র ৩০০ টাকা বা ৩ পাউণ্ড ২৭ পেন্স। সেখান থেকে তাঁকে বস্তির ভাড়া দিতে হয়ে মাসে ৩,০০০ টাকা, তারপর তাঁর হাতে যে অর্থ থাকে, তাতে ওষুধ কেনা তো দূরের কথা, শিশুর জন্য দুধ কেনাই সম্ভব হয় না।

    সেইভ দ্য চিল্ড্রেন-এর স্বাস্থ্য ও পুষ্টির বিভাগের পরিচালক মাইকেল ফলি’র উদ্ধৃতি দিয়ে  গার্ডিয়ান জানায়, রূপাকে তার মা দুধের পরিবর্তে খেতে দিচ্ছে পানি-মিশ্রিত সুজি।

    ফলির উদ্ধৃতি বলা হয়, ‘রূপা অন্ততঃ নড়াচড়া করতে পারছে, তার চোখ সজাগ এবং সে কাঁদতে পারছে, যা কিনা গত সপ্তাহর তুলনায় বড়ো উন্নতি।’ ‘রূপার ক্ষেত্রে এখনও খুব দেরী হয়ে যায়নি, যদি শিশু মায়ের পুষ্টির উন্নয়ন ঘটানো যায়’, জানান ফলি।

    তিনি আরও বলেন, ‘প্রথম ১০০০ দিনের জন্য যদি ঠিক পুষ্টি দেয়া না যায়, পরবর্তী জীবনে তা আর পূরণ করা যায় না। তারপর শিশুর শারীরিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সে বাকী জীবনের জন্য অসুবিধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে।’

    গার্ডিয়ান জানায়, বাংলাদেশের সরকার দেশের এই পুষ্টিগত গভীর সমস্যা সম্পর্কে অবহিত আছে এবং তারা স্বাস্থ্যক্ষেত্রে পুষ্টি কর্মসূচিকে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলেছে। কিন্তু ফলিকে উদ্ধৃত করে পত্রিকাটি জানায়, ‘তাদের কথাবার্তা ভালো বটে, তবে মূল চ্যালেইঞ্জ হচ্ছে পরিকল্পনার বাস্তবায়ন। তাদের কর্মসূচি যে মানুষের জীবনে কোনো প্রভাব তৈরি করতে পারবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা এখানে নেই।’

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd>
  • Lines and paragraphs break automatically.

লেখা ফরম্যাট করার বিষয়ে আরো তথ্য

আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন