• অভিবাসন-কর্তৃপক্ষের হেফাজতে মৃত বাঙালীর নাম রুবেল আহমেদঃ আত্মহত্যা না-কি কর্তব্যে অবহেলা?
    uk_irc_dead_named_rubel_ahmed.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৪, সোমবারঃ গত শুক্রবার লিঙ্কনশায়ারের ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেণ্টারে প্রাণ-হারানো বাঙালীর নাম রুবেল আহমেদ। তাঁর পরিবারকে হৌম অফিস জানিয়েছে তিনি আত্মহত্যা করেছেন, কিন্তু সহ-হাজতীদের বক্তব্য অঙ্গুলি-নির্দেশ করছে কর্তৃপক্ষের সম্ভাব্য কর্তব্যে অবহেলার দিকে।

    ইউকেবেঙ্গলির পক্ষ থেকে আজ আবারও হৌম অফিসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা রুবেলের পরিচয় বা তাঁর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে অপারগতা জানান। এ-সম্পর্কে বাংলাদেশের হাই কমিশনকে অবহিত করা হয়েছে কি-না এমন প্রশ্নের উত্তরে হৌম অফিস প্রেস অফিসের একজন মুখপাত্রী স্পষ্ট কিছু না জানালেও বলেন, "এ-ব্যাপারে নিয়ম মেনে সব কিছু করা হয়ে থাকবে।"

    লণ্ডনস্থ বাংলাদেশ হাই কমিশনে যোগাযোগ করা হলে সেখানকার 'প্রেস ও মিডিয়া' বিভাগের কর্তব্যরত কর্মকর্তা নাম না-প্রকাশ করার শর্তে জানান, এ-ব্যাপারে তিনি ব্যক্তিগতভাবে অবগত নন। তবে তিনি অনুমান করেন, অন্য কোনো 'উচ্চতর কর্মকর্তা' হয়তো এ-সম্পর্কে জানতেও পারেন। তাঁর পরামর্শিত একটি এক্সটেনশন নম্বরে বার-বার চেষ্টা করেও যোগাযোগে ব্যর্থ হয়েছে ইউকেবেঙ্গলি।

    এদিকে, রুবেলের মৃত্যূর কারণ নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশিত হতে শুরু করেছে। দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, হৌম অফিস রুবেলের পরিবারকে বলেছে যে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। ইউকেবেঙ্গলি এ-তথ্য নিশ্চিত করতে অনুরোধ করলে হৌম অফিস প্রেস অফিসের মুখপাত্রী তাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, "এ-সম্পর্কে তদন্ত চলছে, তা সমাপ্ত হওয়ার আগে কিছু বলা সম্ভব নয়।"

    তবে রুবেলের সহ-হাজতীদের উদ্ধৃতি দিয়ে দ্য গার্ডিয়ান ও কর্পোরেইট ওয়াচ জানিয়েছে রাত সাড়ে ন'টা বা দশটার দিকে রুবেলের বুকে ব্যথা হলে তিনি জরুরি-ঘণ্টি বাজিয়ে চিকিৎসার অনুরোধ জানান। কিন্তু কর্তব্যরত কর্মকর্তা সময়মতো তার প্রয়োজনীয় জরুরি-চিকিৎসার আয়োজন করতে ব্যর্থ হওয়ার পর রাত এগারোটার দিকে তিনি শেষ-নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ঈস্ট মিডল্যাণ্ড্‌স এ্যাম্বিউলেন্স সার্ভিস জানায় রাত সাড়ে এগারোটার পর-পর মর্টন হল হাজত থেকে তাদের সাথে যোগাযোগ করা হয়।

    একজন প্রত্যক্ষদর্শী বন্দী কর্পোরেইট ওয়াচকে জানিয়েছেন, মৃত্যুর আগে যন্ত্রনাকাতর রুবেল অনবরত গরাদ ধরে ঝাঁকাচ্ছিলেন ও লাথি দিচ্ছিলেন। এ-সময় তাঁর সাথে দুর্ব্যহার করেন অফিসার।" রুবেলের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কিত কোনো তথ্য ইউকেবেঙ্গলি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়নি।

    ঘটনার পূর্ণাঙ্গ সত্য উদ্ঘাটনে একটি স্বাধীন তদন্তের দাবি করেছে রুবেলের পরিবার ও আইনজীবী। তাঁরা জানান হৌম অফিস বা ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ নয়, রুবেলের মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা পর একজন সহ-হাজতীর কাছ থেকে টেলিফৌনে এ-সংবাদ পান তারা। সম্প্রতি একটি আবেদনপত্রের সাথে রুবেলের ঘনিষ্ট আত্মীয়-স্বজনের সাথে যোগাযোগের ঠিকানা দেওয়া থাকলেও দ্রুত তার পরিবারের সাথে যোগাযোগ না করার জন্য হৌম অফিসের সমালোচনা করেন সলিসিটর সারওয়ার খান।

    সলিসিটর খান দ্য গার্ডিয়ানের কাছে দাবি করেছেন, তাঁর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ ছিলো রুবেলের এবং দৃশ্যতঃ স্বাস্থ্যবান এ-তরুণের আত্মহননের মতো কাজ করার কোনো কারণ ছিলো না। কয়েকদিনের মধ্যেই বাংলাদেশে পরিজনের কাছে ফিরে যাওয়ার কথা ছিলো ২৬ বছর বয়স্ক এ তরুণের।

     

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন