• আটক হতে পারেন খালেদাঃ সহিংসতায় 'হতাশ' যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র চায় সংলাপ
    bangladesh_rab_police_seize_khaleda_zia_house.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ১০ নভেম্বর ২০১৩, রোববারঃ  বাংলাদেশের ৫ বিরোধী নেতাকে পুলিস আটক করার পর আজ থেকে শুরু হয়েছে বিরোধী দলগুলোর ডাকে টানা ৮৪ ঘণ্টার সাধারণ ধর্মঘট। গত দু'সপ্তায় ধর্মঘট কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী সহিংসতায় অন্ততঃ ১৫ নাগরিক নিহত এবং কয়েক শতাধিক আহত হয়েছে।

    সরকার ও বিরোধীদের দ্বন্দ্বের কেন্দ্রে রয়েছে নির্বাচনের সময় দেশের ক্ষমতা কার হাতে থাকবে - এ-প্রশ্ন। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সংবিধানে পরিবর্তন এনে ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে। দলটি প্রস্তাব দিয়েছে বিভিন্ন দল থেকে প্রতিনিধি নিয়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের। তবে শর্ত হচ্ছে, সরকারের প্রধান হিসেবে দলটির নেত্রী শেখ হাসিনাই বহাল থাকবেন। এ-প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বিরোধী দল বিএনপি ও এর সহযোগী ১৭টি দল দাবী করছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার। 

    উভয় পক্ষের অনমনীয় অবস্থানের কারণে অক্টোবরের শেষ সপ্তা থেকে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হয়। এ-অবস্থায়, গতকাল থেকে বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বাসভবনের সামনে প্রচুর সংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। অসমর্থিত সূত্রের বরাত দিয়ে স্থানীয় কয়েকটি সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, তাঁকে যে-কোনো সময় গ্রেফতার করা হতে পারে। তবে আপাততঃ তাঁকে দলের নেতা-কর্মীদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখার উদ্দেশ্যে বাড়তি পুলিস ও র‍্যাব নিয়োগ এবং নেতাদেরকে গ্রেফতার করে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়ে থাকতে পারে।

    এদিকে, বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন নিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে বিদেশী দূতাবাসগুলো। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিরোধী বিএনপি'র মধ্যে 'সংলাপের বদলে সংঘাতমূলক কর্মকাণ্ড' দেখে হতাশা প্রকাশ করেছেন ঢাকাস্থ ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট গিব্‌সন। গতকাল এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, সংলাপের মাধ্যমেই "সব দলের অংশগ্রহণে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হতে পারে।"

    গতকাল ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসও চলমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। দূতাবাসের একজন মুখপাত্রী কেলি ম্যাক্‌কার্থি বলেছেন, "সকল দলের মত প্রকাশের রাজনৈতিক স্থান থাকতে হবে - এটি গণতন্ত্রের অত্যাবশ্যকীয় উপাদান।" তিনি আরও বলেন, "প্রধান দলগুলোকে অবশ্যই এখন গঠনমূলক আলোচনায় নিযুক্ত হতে হবে যেনো একটি নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথ খুঁজে পাওয়া যায়।"

    প্রসঙ্গতঃ বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন নিয়ে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্পষ্ট মতপার্থক্য লক্ষ্যনীয়। বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা গতমাসে ঢাকাস্থ ভারতীয় রাষ্ট্রদূত পঙ্কজ শরণের সাথে সাক্ষাত-শেষে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ ছাড়াই দিল্লী যান বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করতে। সেখানেও উভয় দেশের মতপার্থক্য দূর হয়নি। মজিনা ঢাকায় ফিরে পুনরায় শরণের সাথে সাক্ষাত করেন; এবং এরপর তিনি ওয়াশিংটনে গিয়েছেন।

     

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন