• আফগান প্রেসিডেন্টের ভাই ওয়ালি কারজাই দেহরক্ষীর হাতে হতঃ কৃতিত্ব দাবী তালিবানের
    WaliKarzai.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি, ১২ জুলাই ২০১১, মঙ্গলবারঃ  চলমান আফগান যুদ্ধের অতি গুরুত্বপূর্ণ দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ কান্দাহারের ক্ষমতার আধার, প্রোভিনশিয়াল কাউন্সিলের প্রধান ও দেশের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই’র ভাই, আহমেদ ওয়ালি কারজাই মঙ্গলবার তার নিরাপত্তা-প্রধানের গুলিতে নিহত হয়েছেন। মার্কিন-বান্ধব এই পাখতুন নেতাকে হত্যা করার কৃতিত্ব দাবী করে একই দিনে বিবৃতি প্রকাশ করেছে তালিবান।

    কান্দাহারের পুলিস সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘকালের বিশ্বস্ত ও নিরাপত্তা দলের প্রধান সাদর মোহাম্মদ নিজ হাতে ওয়ালি কারজাইকে খুব কাছে থেকে গুলি করে হত্যা করেন এবং প্রায় তাৎক্ষণিকভাবে নিজেই প্রাণ হারান নিরাপত্তা কর্মীদের হাতে।

    কন্দাহারের পুলিস-প্রধান আব্দুল রেজাক সাংবাদিকদের জানান, মঙ্গলবার সকাল-সকাল সর্দার মোহাম্মদ কিছু জরুরী কাগজপত্র দেখাবেন বলে তার কর্তা ওয়ালি কারজাইয়ের বাড়ীতে যান। রেজাক বলেন, ‘লোকটি ওয়ালি কারজাইয়ের ঘরে যাবার কালে নিরাপত্তা পরীক্ষার ভিতর দিয়ে সাথে তার পিস্তলও নিয়ে যান। ওয়ালি কারজাই স্নানঘর থেকে বেরিয়ে আসার সাথে-সাথে তিনি তাকে মাথায় বুকে গুলি করেন।’

    রাজধানী কাবুল থেকে ভাইয়ের শেষকৃত্যে যোগদানের জন্য কান্দাহার যাবার আগে সাংবাদিকদের সাথে আলাপ-কালে প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই তার পরিবারে সাথে গোটা জাতির ভাগ্য-সাদৃশ্য নির্দেশ করে বলেন, ‘এই হচ্ছে আফগানিস্তানে জনগণের জীবনের হাল-হকিকত।’ তিনি বলেন, ‘প্রতিটি আফগান পরিবার এই বেদনা অনুভব করছে। আমাদের আশা, এর শেষ হবে এবং এক সময় শান্তি ও সুখ ফিরে এসে আমাদের দেশ ও পরিবারগুলোতে কর্তৃত্ব করবে।’

    উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালে এই জুলাই মাসেই হামিদ কারজাইয়ের জনক আব্দুল আহাদ কারজাই পাকিস্তানের কুয়েটাতে মসজিদ থেকে বাড়ী ফেরার পথে তালিবানদের গুলিতে নিহত হন।

    ওয়ালি কারজাইয়ের হত্যাকাণ্ডের কৃতিত্ব দাবী করে এক বিবৃতিতে তালিবান মুখপাত্র কারি ইউসুফ আহমাদি বলেন, ‘আজ কান্দাহার শহরে পরিচালিত আল-বদর অভিযানে হামিদ কারজাইয়ের ভাইকে হত্যা করা হয়েছে।’ তিনি দাবী করে বলেন, ‘এ-কাজের জন্য বেশ কিছু কাল যাবৎ সাদর মোহাম্মদ নামের এক ব্যক্তিকে আমরা ভাড়া করে রেখেছিলাম। আহমেদ ওয়ালি কারজাইকে অপকর্মের জন্য শাস্তি দেয়া হয়েছে।’

    কান্দাহারে তালিবান দমনে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটোর সামরিক প্রচেষ্টায় ওয়ালি কারজাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অবদান সর্বস্বীকৃত। পশতুন গোষ্ঠী-প্রধান হিসাবে কান্দাহার প্রাদেশিক পরিষদে নির্বাচিত এবং পরবর্তী-কালে চেয়ারম্যান হিসেবে আবির্ভুত ওয়ালি কারজাই তার সামরিক শক্তি ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে বস্তুতঃ প্রাদেশিক ক্ষমতার নিয়ন্তা ছিলেন। তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ থাকলেও তিনি দখলদার মার্কিন বাহিনীর সাথে সু-সম্পর্কিত ছিলেন। মার্কিন পত্রিকা নিউ ইয়র্ক টাইমস ২০০৯ সালের অক্টোবরে ওয়ালি কারজাইকে সিআইএ’র বেতনভূক বলেও প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিলো।

    সাম্প্রতিক কালে বিদেশী সৈন্য প্রত্যাহারের প্রশ্নে প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই সক্রিয় আকাঙ্খী হলেও তার ছোট ভাই ওয়ালি কারজাই বিদেশী সৈন্য রাখার পক্ষে মতামত রেখেছেন।

    আফগানিস্তানে ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি এ্যাসিস্ট্যান্ট ফৌর্সের কামান্ডার মার্কিন জেনারেল ডেইভিড পেট্রিয়েস কারজাই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জ্ঞাপন করেছেন। এছাড়াও ওয়াইট হাউসের মুখপাত্র জ্যে কার্নি প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার পক্ষ থেকে কারজাই পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বার্তা পাঠিয়েছেন।

    আন্তর্জাতিক সংবাদ-মাধ্যমগুলো ওয়ালি কারজাইয়ের হত্যাকাণ্ডকে আফগানিস্তানে ক্ষমতার ভারসাম্যের ক্ষেত্রে নেতিবাচক অভিঘাত সৃষ্টি করবে বলে উল্লেখ করেছে। পঞ্চাশ বছর বয়স্ক ওয়ালি কারজাই তার ভাই প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজায়ের পক্ষে আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলে একটি গুরুত্বপূর্ণ খুঁটি হিসেবে বিবেচিত হতেন। তার অবর্তমানে নাজুক কান্দাহারে পরিস্থিতি কী হবে, তা দেখার বিষয়।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন