সংবাদ পরিক্রমা
সংবাদ প্রতিবেদন
- আবার জেলে যেতে হতে পারেঃ বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বললেন প্রাক্তনকে

ইউকেবেঙ্গলি - ৭ জানুয়ারী ২০১২, শনিবারঃ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ শনিবার ঢাকায় একটি দলীয় ছাত্রসভায় বক্তৃতা করতে গিয়ে চির-প্রতিদ্বন্দ্বী প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিরোধী-দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার উদ্দেশ্য ইঙ্গিতে বলেন, তিনি যেনো তৃতীয় কোনো শক্তিকে ক্ষমতায় আসার সুযোগ করে দিয়ে এমন অবস্থা সৃষ্টি না করেন, যেখানে তাঁদের দুজনের কেউই ক্ষমতায় থাকবেন না।
বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচন তত্ত্ববধায়ক সরকারের অধীনে হতে হবে বলে খালেদা জিয়ার দল বিএনপি ও অন্যান্যরা যে দাবি করছে, তা নাকচ করে দিয়ে শেখ হাসিনা খালেদা জিয়াকে সাবধান করে বলেন, তত্ত্ববধায়ক সরকার এলেই প্রধানমন্ত্রীত্ব তাঁর হাতে যাবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। তিনি বলেন, এমনকি আগের মতো ‘জেলে যেতে হতে পারে।’
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে বিএনপি-নেতৃত্বাধীন ৪-দলীয় জোট ও বিরোধী আমওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোটের সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে তত্ত্ববধায়ক সরকার সামরিক বাহিনী প্রত্যক্ষ সমর্থনে শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে বন্দী করে ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’ নামে তাঁদেরকে বিদেশে নির্বসিত করে রাজনীতির পুনর্বিন্যস্ত করার চেষ্টা চালায়। তার অংশ হিসেবে নৌবেল শান্তিপুরষ্কার জয়ী গ্রামীন ব্যাংকের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূসকেও রাজনীতিতে বিকল্প ‘ব্যক্তিত্ব’ হিসেবে আনার চেষ্টা করা হয়, যদিও গোটা প্রচেষ্টাটাই ব্যর্থ হয়। শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া তাঁদের জনপ্রিয়তা ফিরে পান।
শনিবার রাজধানী ঢাকায় দলীয় ছাত্রদের একটি সভাতে বক্তৃতা দিতে গিয়ে খালেদা জিয়ার প্রতি সতর্কতা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বলেন, ‘খাল কেটে কুমির আনার দরকার কী?’
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়াই নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে এ-ধারণার পক্ষে যুক্তি দেখাতে তিনি, কুমিল্লা সিটিতে মেয়র নির্বাচনে খালেদা জিয়ার ‘লোক’-এর জয়লাভ করা ঘটনা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, তত্ত্ববধায়ক সরকার ছাড়াই নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব।
শেখ হাসিনা বলেন, গণতান্ত্রিক পদ্ধিতে নির্বাচনের মাধ্যমে যাঁরা ক্ষমতায় যেতে পারবেন না, তাঁরাই খালেদা জিয়াকে তত্ত্ববধায়ক সরকারের পক্ষে আন্দোলন করার জন্য উস্কে দিচ্ছেন, যাতে আখেরে তাঁরা ক্ষমতা নিজেদের হাতে নিয়ে যেতে পারেন।
এদিকে, দেশটির নানা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীদের উপর আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের আক্রমণের ঘটনা দলটি সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।
সম্প্রতি, দেশটির শিল্প ও নদীবন্দর নগরী নারায়ণগঞ্জে ও সর্বশেষ কুমিল্লাতে মেয়র নির্বাচনে শেখ হাসিনার মনোনীত প্রার্থীদের পরাজয় আওয়ামী লীগের দ্রুত জনপ্রিয়তা হারার সূচক হিসেবে প্রতিভাত হয়েছে।