• আরব-বসন্তঃ তিউনিসিয়ার সংসদীয় নির্বাচনে ইসলামবাদী দলের বিজয়
    tunisian_cast_vote.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ২৮ অক্টোবর ২০১১, শুক্রবারঃ তিউনিসিয়ার সংসদীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছে এক সময়ের নিষিদ্ধ-ঘোষিত ইসলামপন্থী দল 'আন-নাহদা' বা পুনর্জাগরণ পার্টি। তবে বিজয়ী হলেও সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে 'ইসলামিক পণ্ডিত' রশিদ ঘানুশির নেতৃত্বাধীন এ-পার্টি। ২১৭টি আসনের মধ্যে এ-দলটি জয়লাভ করেছে মোট ৯০টিতে। ৩০টি আসন নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সেক্যুলার ও মুক্তবাজারপন্থী 'কংগ্রেস ফর দ্যা রিপাবলিক' পার্টি আর বামঘেঁষা আত-তাকাতুল পার্টি ২১টি আসন পেয়ে রয়েছে তৃতীয় স্থানে।

    এ-বছরের শুরুতে আরব-দেশসমূহে শুরু হওয়া ও আরব-বসন্ত নামে পরিচিতি লাভ করাগণ বিক্ষোভের সূচনা হয়েছিল তিউনিসিয়াতে। গত বছরের ১৭ই ডিসেম্বর নিজ-দেহে আগুন লাগিয়ে আত্মাহুতি দিয়ে প্রথম প্রতিবাদের স্ফুলিঙ্গ জ্বালিয়েছিলেন মোহাম্মেদ বুয়াজিজি নামক সব্‌জি-ফল-বিক্রেতা এক যুবক। তারপর দেশব্যাপী দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ, রূপ নেয় প্রেসিডেন্ট জাইন আল-আবিদিন বেন আলির ২৩ বছরের একনায়কতান্ত্রিক শাসন অবসানের দাবিতে গণ-অভ্যুত্থানে। সময়মতো মিত্র ফ্রান্সের কাছ থেকে আকাঙ্খিত সমর্থন না পাওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হন বেন আলি। জানুয়ারীর ১৪ তারিখে তিনি পালিয়ে যান সৌদি আরবে। উল্লেখ্য, এ-আন্দোলনে পুলিস সরকারের পক্ষে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করলেও সেনাবাহিনী সরকারের বিরোধিতা করে জনতার সাথে যোগ দেয়।

    কোনো দল এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার নিশ্চিতভাবেই একটি কোয়ালিশন সরকার গঠিত হবে তিউনিসিয়ায়, যার নেতৃত্বে থাকবে আন-নাহদা। এ-সরকারটি গঠিত হবে অন্তর্বর্তীকালের জন্য যার প্রথম কাজ হবে একটি নতুন সংবিধান প্রনয়ণ করা। তারপর তাদেরকে নতুন নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। ধারণা করা হচ্ছে ২০১৩ সালের মধ্যেই তা করা সম্ভব হবে।

    অর্থ-সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগে লণ্ডন-ভিত্তিক ধনী ব্যবসায়ী ও সাংবাদিক হাশেমি হামদির নবগঠিত 'পিপলস পিটিশন' পার্টিকে নির্বাচন থেকে বাদ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। প্রাথমিক গণনায় দেখা গিয়েছিলো এ-পার্টির প্রার্থীরা বেশ কয়েকটি আসনে বিজয়ী হয়েছিলেন। নির্বাচন কমিশনের এ-সিদ্ধান্ত ঘোষণার সাথে সাথে ঐ দলটির কর্মীরা প্রতিবাদে ফেটে পড়ে। তিউনিসিয়ার গণঅভ্যুত্থানের সূতিকাগার সিদি বৌজিদ শহরের মেয়রের অফিসের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে তাঁরা। তাঁরা বিজয়ী আন-নাহদার পার্টির একটি অফিসে হামলা চালিয়েছে বলেও জানা গেছে। এসময়ে পুলিসের সাথে তাদের সংঘর্ষ হয়।

    এদিকে দেশটির তুলনামূলক উদারপন্থী জনগণ আন-নাহদার বিজয়ে শঙ্কিত বোধ করছেন বলে বলা হচ্ছে। তাঁরা মনে করছেন, ইসলামবাদী দলটি জনগণের উপরে ধর্মীয় আচরণ-বিধি আরোপের চেষ্টা করতে পারে। উল্লেখ্যঃ একনায়কতন্ত্রী বেন আলির আমলে ধর্মবাদীদেরকে শক্ত নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছিলো। শুধুমাত্র আন-নাহদা পার্টিরই প্রায় ২৫,০০০ কর্মীকে জেলে পাঠিয়েছিলেন তিনি।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন