• আরব বসন্তের জন্মভূমিতে রাজনৈতিক সংকটঃ তিউনিসিয়ার প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ
    tunisia_map.png

    ইউকেবেঙ্গলি - ২১ ফেব্রুয়ারী ২০১৩, বৃহস্পতিবারঃ  পদত্যাগ করেছেন তিউনিসিয়ার প্রধানমন্ত্রী হামাদি জেবালি। সম্প্রতি আততায়ীর গুলিতে বিরোধীদলীয় এক নেতার খুন হওয়া এবং গতকাল জেবালির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক সংকটে পতিত হয়েছে এ-দেশটি, যেখানে জন্ম হয়েছিলো আরব বসন্তের।

    নিজ দেহে আগুন লাগিয়ে আত্মাহুতিদানের মধ্য দিয়ে 'আরব বসন্তের সূচনা করেছিলেন তিউনিসিয়ার দরিদ্র ফল বিক্রেতা ২৬ বছরের তরুণ মোহাম্মদ বৌয়াজিজি। এক মাসেরও কম সময়ের গণ-অভ্যুত্থানে পতন ঘটে পশ্চিমা সমর্থনপুষ্ট স্বৈরাচার প্রেসিডেণ্ট জেইন আল আবেদিন বেন আলির। নয় মাসের মাথায় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসীন হয় পূর্ব থেকে সুসংগঠিত কিন্তু বেন আলির আমলে অত্যাচারিত আন-নেহদা পার্টি। নির্বাচনে বিজয়ী হলেও সরকার গঠনে দু'টো সেক্যুলার দলের সমর্থন নিতে হয় ইসলামবাদী এ-দলটিকে।

    এ-মাসের ৬ তারিখে সরকার-সমালোচক বিরোধীদলীয় নেতা বামপন্থী রাজনীতিক চোকরি বেবেলাইদকে গুলি করে হত্যা করে অজ্ঞাতনামা আঁততায়ী। এখনও ধরা পড়েনি তাঁর খুনীরা, কিন্তু জনসাধারণের মনে বদ্ধমূল ধারণা যে, এর পেছনে রয়েছে আন-নেহদা পার্টির সরকার। শহরে-শহরে দাঙ্গা ও বিশৃঙ্খলা চলেছে এ-ঘটনার জের হিসেবে।

    পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ও মন্ত্রীসভায় রদবদলের উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু ক্ষমতাসীন জোট  ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে কোন আপোস রফা না হওয়ার ভেঙ্গে পড়ে আলোচনা। শেষ-চেষ্টা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী হামাদি জেবালি নির্দলীয় তত্তাবধায়ক সরকার গঠনের প্রস্তাব দেন। কিন্তু তাঁর নিজের দল আন-নেহদার বিরোধীতার কারণে নির্দলীয় সরকার গঠনেও ব্যর্থ হয়ে পদত্যাগ করেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের মাত্র কয়েক ঘন্টা আগে আন্তর্জাতিক ঋণ রেটিং সংস্থা স্ট্যাণ্ডার্ড এ্যাণ্ড পুওর তিউনিসিয়ার রেটিং নামিয়ে দেয়। এ-নিয়ে অভ্যুত্থানের পরে মোট তিনবার নামলো দেশটির রেটিং। ফলে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ঋণ নিতে দেশটিকে এখন আরও বেশি সুদ গুনতে হবে। এর ফলে ইতোমধ্যে অর্থনৈতিক দূরবস্থায় থাকা আরব এ-দেশটির অর্থনীতির দূর্দশা আরও ঘনীভূত হলো।

    একদিকে রাজনৈতিক অস্থিরতা, অন্যদিকে দূর্বল অর্থনীতি - এই দুয়ের যাতাকলে পড়ে আবারও তেঁতে উঠছে তিউনিসিয়ার জনগণ। তাদের প্রধানতম আকাঙ্খা - অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নয়ন - মেটাতে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে আন-নেহদার নেতৃত্বাধীন জোট সরকার। এ-অবস্থায় সরকারের বিরোধী শক্তিগুলোর মধ্যে মার্ক্সবাদী তিউনিসিয়ান ওয়ার্কার্স পার্টির অর্থনৈতিক কর্মসূচির প্রতি আকর্ষণ বাড়ছে সাধারণের। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আগামী নির্বাচনে আন-নেহদার বিজয়ী হওয়ার সম্ভবনা দ্রুত কমে আসছে, তবে তুলনামূলকভাবে ক্ষুদ্রতর ওয়ার্কার্স পার্টি যে এককভাবে বিজয়ী হবে, সে-সম্ভবনা নেই বললেই চলে। এ-বছরই অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনে রাজনৈতিক বিচারে মধ্যপন্থী ও সেক্যুলার সৌশ্যাল ডেমোক্রেটিক দলগুলোই ইসলামবাদীদের পরাজিত করে বিজয়ী হিসেবে আবির্ভূত হবে বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। 

     

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন