• ইংলিশ-রায়ট নিয়ে ইংলিশ-ঝগড়াঃ জনগণের অনাস্থা পুলিসে আর পুলিসের অনাস্থা সরকারে
    Cameron.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি, ১১ অগাস্ট ২০১১, বৃহস্পতিবারঃ  ‘ইংলিশ রায়ট’ নামে (কু)খ্যাতি লাভ করা ইংল্যান্ডের চারদিনের দাঙ্গা নিয়ে দাঙ্গা শুরু হয়েছে প্রধানমন্ত্রী-সহ সরকারের সাথে পুলিসের শীর্ষ কর্মকর্তাদের। বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টের হাউস অফ কমন্সে প্রধানমন্ত্রী পুলিসের ভুলের সমালোচনা করার পর পুলিসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে পাল্টা দোষারোপ করে বিবৃতি দেন।

    ইংলিশ রায়ট বিষয়ে হাউস অফ কমন্সের জরুরী বিতর্কে  প্রধানমন্ত্রী ডেইভিড ক্যামেরোন পুলিসের সাহসিকতার প্রশংসা করার পাশাপাশি সমালোচনা করে মন্তব্য করেন যে, মার্ক ডুগানের হত্যাকাণ্ডের উপর বিক্ষোভ-প্রদর্শনের পর টোটেনহ্যামে শনিবারে প্রথম সহিংসতা শুরু হলে পুলিস পরিস্থিতি বিচারে বড়ো ধরণের ভুল করেছে।

    তিনি বলেন, ‘পুলিশের কর্তারা আমার সাথে খোলামেলা ভাবে বলেছেন কী হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পুলিস পরিস্থিতিকে একটি অপরাধ সংঘটনের বিষয়ের চেয়েও অতি-মাত্রায় জনশৃঙ্খলার বিষয় হিসেবে নিয়েছিলো। কিন্তু সত্য হলো, পুলিস একটি নতুন ও অসাধারণ চ্যালেইঞ্জের মুখোমুখী হচ্ছিলো যেখানে বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন মানুষ একই বিষয় করছিলো - মূলতঃ লুটপাট।’

    কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর চেয়ে একমাত্রা বেড়ে হৌম সেক্রেট্যারী থেরেসা দাবী করেন, সপ্তাহের শুরুর দিকে সহিংসতা দমনে পুলিসের ব্যর্থতা একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রিটিশ ঐতিহ্যকে ধ্বংস করেছে। তিনি বলেন, ‘ব্রিটিশ কায়াদা হচ্ছে সম্মতির ভিত্তিতে পুলিসীকরণ (পুলিসিং বাই কনসেন্ট)।’ ‘কিন্তু’ ম্যে বলেন, ‘বৃহত্তর কমিউনিটির আস্থা পুলিস তখনই সংরক্ষা করতে পারে তখনই যখন উন্মুক্ত অপরাধ সংঘটন-কালে তাদেরকে স্পষ্ট ও দৃঢ়তার সাথে কর্ম সম্পাদনে দেখা যায়। সোমবার রাতে এটি স্পষ্ট ছিলো যে, যথেষ্ট সংখ্যক অফিসার কর্তব্যরত ছিলেন না।’

    হৌম সেক্রেট্যারী পুলিসের এক প্রস্থ ভুল চিহ্নিত করেন। তার মধ্যে রয়েছে মঙ্গলবার রাতের আগে পর্যন্ত লন্ডনের রাস্তায় পর্যাপ্ত অফিসার মোতায়েনে ব্যর্থতার ফলে কতিপয় অঞ্চলে পুলিসের নিয়ন্ত্রণ হারানো; জটলা ভাঙ্গার জন্য যথেষ্ট দৃঢ় হবার ক্ষেত্রে উদ্যোগহীন মনে হওয়া; গ্রেফতার করার বদলে সন্দেহিতদের একটি নির্দিষ্ট এলাকায় ধারণ করা এবং এর মাধ্যমে তাদেরকে ক্ষতিসাধন ও চুরি করতে নির্বিঘ্ন করা;  ব্ল্যাকবেরী ম্যাসেঞ্জারের মতো সামাজিক নেটওয়ার্ক পরিষেবা থেকে গোয়েন্দা-তথ্য সংগ্রহ ও বিনিময় করার ক্ষেত্র যথেষ্ট কাজ করার ক্ষেত্রে ব্যর্থতা।’

    ভুল ধরার পাশাপাশি,  লন্ডন মেয়র বরিস জনসন, পুলিস ফেডারেশন ও লেবার পার্টির পক্ষ থেকে অনুরোধ সত্ত্বেও পুলিসে বিভাগে অর্থ-বরাদ্দ হ্রাসের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট অস্বীকৃতি জানানোর প্রেক্ষাপটে জ্যেষ্ঠ অফিসারেরা সরকার প্রতি তাদের উষ্মা স্পষ্ট প্রকাশ করেন।

    দৈনিক গার্ডিয়ান নাম উহ্য রেখে জনৈক ‘জ্যেষ্ঠ পুলিস উৎস’ উদ্বৃত করে বলে, ‘পুলিসের কাছে যাদুর আয়না না থাকায় এবং অদৃষ্টপূর্ব একপ্রস্থ অতি মারাত্মক পরিস্থিতি সম্পর্কে পূর্ব-ধারণা করতে না পারায় ডেইভিড ক্যামেরোন পুলিসকে দোষারোপ করছেন।’ ‘কিন্তু সরকারের উপর পুলিস নেতৃত্বের আস্থা হচ্ছে সর্বকালের মধ্যে সর্ব-নিম্ন। ক্যামেরোন নিজের দোষ সরাতে তাঁর সুবিধা-মতো পুলিসের উপর আবর্জনা নিক্ষেপ করেন।’

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন