• ইউক্রেনের নতুন ইউরোপন্থী কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলেঃ যুদ্ধ-প্রস্তুতি পরীক্ষণ রুশদের
    ukraine_crimea_pro_russian_protest.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৪, বৃহস্পতিবারঃ ইউক্রেনের নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছে পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশগুলো। এ-নিয়ে জাতিগত ইউক্রেনীয় ও রুশীদের মধ্যে উত্তেজনার ও সংঘর্ষের মধ্যেই আজ দক্ষিণাঞ্চলীয় স্বায়ত্বশাসিত প্রদেশ ক্রাইমিয়ার পার্লামেণ্ট ভবনে রুশ পতাকা উত্তোলিত হয়েছে। খবর জানিয়েছে বিবিসি, রয়টার্স, এএফপি ও রাশিয়া টুডে।

    ইইউর বদলে রাশিয়ার সাথে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোকে কেন্দ্র করে ইউক্রেনের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেণ্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয় নভেম্বর মাসে। তাঁর বিরোধীরা দেশটিকে ইইউর সাথে ঘনিষ্ঠ হিসেবে দেখতে চায়। শুরুতে শান্তিপূর্ণ থাকলেও সরকারবিরোধী বিক্ষোভে ক্রমাগতভাবে সহিংসতা পরিলক্ষিত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-কালে নাৎসী বাহিনীর সাথে আতাঁতকারী বলে অভুযুক্ত ইউক্রেনীয় জাতীয়তাবাদীরা লাল-কালোর পতাকা ধারণ করে পুলিসের সাথে সশস্ত্র সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। স্বাধীন ইউক্রেনের ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী এ-বেসামরিক সহিংসতায় দু'পক্ষ মিলিয়ে প্রায় একশো ব্যক্তি প্রাণ হারায় - বিশেষতঃ শেষ সপ্তায় প্রাণহানী ঘটে সবচেয়ে বেশি।

    এ-পরিস্থিতিতে গত শুক্রবার প্রেসিডেণ্ট ইয়ানুকোভিচের সাথে বিরোধী নেতাদের একটি শান্তি-চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার আওতায় ডিসেম্বরের মধ্যে আগাম নির্বাচনের কথা ছিলো। এছাড়াও এ-সমঝোতার অধীনে প্রেসিডেণ্টের ক্ষমতা হ্রাসকরা-সহ আরও অনেকগুলো সংস্কারের কথা ছিলো। কিন্তু দৃশ্যতঃ চুক্তির বরখেলাপ করে ইয়ানুকোভিচকে শনিবার ক্ষমতাচ্যুত করে বসে বিরোধীদের নিয়ন্ত্রিত পার্লামেণ্ট।

    ইয়ানুকোভিচের স্থলে বিরোধী ওলেক্সান্দর তুর্চিনভকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেণ্ট হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। কিন্তু শিল্পোন্নত পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশগুলো তৎক্ষনাৎ তুর্চিনভের শাসন মানতে অস্বীকৃতি জানায়। ঐতিহাসিকভাবে রুশ  সংখ্যাগরিষ্ঠ এ-অঞ্চলগুলোর অধিবাসীরা ইউক্রেনীয় আতীয়তাবাদীদেরকে 'অগ্রসরমান ফ্যাসিস্ট' আখ্যায়িত করে তাঁদের সম্ভাব্য আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য প্রতিবেশি রাশিয়ার কাছে আবেদন করেছে। ঐ অঞ্চলগুলোর সংখ্যালঘু জাতিগত ইউক্রেনীয় ও মুসলিম তাতাররা অবশ্য নতুন সরকারের প্রতি সমর্থ জানিয়ে রুশীদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে নেমেছে।

    বিরোধীদের আন্দোলন ব্যাপকভাবে ইউরোসঙ্ঘ ও যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন লাভ করেছিলো। প্রেসিডেণ্ট ইয়ানুকোভিচকে হটানোর পর পশ্চিমা পরাশক্তিগুলো নতুন সরকারকে সমর্থন দেয়। মুমূর্ষু ইউক্রেনীয় অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে আইএমএফ, ইইউ ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ তহবিলের কথাও বলতে শোনা যায়।

    এদিকে ইউক্রেনের উদ্ভূত পরিস্থিতিকে 'ক্যু' আখ্যা দিয়ে নতুন সরকারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে রাশিয়া। প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদ্ভেদেভ এ-ঘটনাকে সশস্ত্র বিদ্রোহ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। নতুন কর্তৃপক্ষের সাথে অসহযোগিতার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেছেন, "কিয়েভে ঘুরে বেড়ানো কালো মুখোশপরিহিত ও কালাশনিকভ রাইফেলধারীদেরকে যদি সরকার বলা হয়, তবে তাদের সাথে একযোগে কাজ করা আমাদের জন্য কঠিন হবে।"

    পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছে, ইউক্রেনের পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলে জাতিগত রুশদের নিরাপত্তার আশঙ্কা। নতুন প্রশাসন এসেই রুশ ভাষার আঞ্চলিক রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা রহিত করেছে। একই সাথে পরোক্ষোভাবে নিষিদ্ধ করেছে রুশ টিভি চ্যানেলের প্রচার। তাই নিরাপত্তার জন্য রাশিয়ার কাছে সহায়তা প্রার্থনা করেছে এ-অঞ্চলগুলো।

    এ-অবস্থায় ইউক্রেনের আভ্যন্তরীন সহিংসতা আঞ্চলিক সংঘাতেও রূপ নিতে পারে বলে মনে করছেন অনেক পর্যবেক্ষক। এরই ইঙ্গিত দিতেই যেনো, গতকাল থেকে রাশিয়া তার পশ্চিমের ইউক্রেন সীমান্তে দেড় লাখ সৈন্যের যুদ্ধানুশীলন শুরুর করছে। আনুষ্ঠানিকভাবে বলা হয়েছে, এর সাথে ইউক্রেনের রাজনৈতিক অস্থিরতার কোনো সম্পর্ক নেই, বরং সৈন্যরা প্রয়োজনের মুহূর্তে দ্রুত সাড়া দিতে কতোটা সক্ষম তা নিরীক্ষা করতেই এ-অনুশীলন। উল্লেখ্য, ক্রাইমেরায় রাশিয়ার একটি নৌ-ঘাঁটি রয়েছে।

    ইউক্রেনে সামরিক হস্তক্ষেপ না করতে আজ রাশিয়ার বিরুদ্ধে সতর্কতা উচ্চারণ করেছে পশ্চিমা দেশগুলো। যুক্তরাষ্ট্রের জন কেরি ও ব্রিটেইনের ইউলিয়াম হেইজ আজ এ-মর্মে বক্তব্য দিয়েছেন। যদিও রাশিয়া জানিয়ে দিয়েছে, ইউক্রেনের আভ্যন্তরীন ব্যাপারে সামরিক হস্তক্ষেপের ইচ্ছা তাদের নেই, তবে স্মরণ করা যেতে পারে যে ২০০৮ সালে অনুরূপ পরিস্থিতিতে জর্জিয়ার সাথে যুদ্ধ বেঁধে গিয়েছিলো রুশদের।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন