• ইউক্রেনের প্রেসিডেণ্ট অপসারিতঃ ইইউ-যুক্তরাষ্ট্র সন্তুষ্ট, তীব্র সমালোচনা রাশিয়ার
    ukraine_anti_govt_protesters_in_guard_of_parliament.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৪, সোমবারঃ ইউক্রেনের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেণ্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচকে সরিয়ে দিয়ে ইউরো-পন্থী ওলেক্সান্দর তুর্চিনভক অস্থায়ী প্রেসিডেণ্ট করা হয়েছে। একই সাথে মুক্ত করা হয়েছে দুর্নীতির দায়ে কারাদণ্ডিত বিরোধী নেত্রী জুলিয়া তিমোশেঙ্কোকে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন দৃশ্যতঃ এ-ঘটনায় সন্তুষ্ট তবে ঘনিষ্ট প্রতিবেশি রাশিয়া এর কড়া সমালোচনা করে দূত প্রত্যাহার করে নিয়েছে।

    ইউরোপীয় ইউনিয়ন না রাশিয়া কার সাথে ঘনিষ্ঠতা বাড়াবে ইউক্রেন এমন বিতর্কে রাশিয়া দিকে ঝুঁকেছিলেন প্রেসিডেণ্ট ইয়ানুকোভিচ। গত নভেম্বরে রাশিয়ার সাথে একটি অর্থনৈতিক চুক্তি স্বাক্ষর করেন, যখন একই সময় ইউরোপীয় ইউনিয়নও চাপ দিচ্ছিলো মুক্ত বাণিজ্যের চুক্তি করতে। তখন থেকে দেশটির রাজধানী কিয়েভের স্বাধীনতা চত্বর বা ময়দানে ইউরোপন্থীরা সরকার-বিরোধী বিক্ষোভ শুরু করে।

    রাজপথের বিক্ষোভকারীরা সশস্ত্ররূপে আবির্ভূত হলে সম্প্রতি পথ-যুদ্ধে রূপ নেয় এবং ব্যাপক সহিংসতা শুরু হয়। এর ফলে নিরাপত্তারক্ষী-সহ অন্তত ৮২ জন ব্যক্তি প্রাণ হারায়। এ-অবস্থায় সঙ্কট নিরসনে গত শুক্রবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকজন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যস্থতায় প্রেসিডেণ্টের সাথে বিরোধী-নেতাদের সাথে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি-মতে, প্রেসিডেণ্টের ক্ষমতা হ্রাস করা হবে, জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠন করা হবে এবং প্রেসিডেণ্ট ডিসেম্বরের মধ্যেই আগাম নির্বাচন আয়োজন করবেন।

    কিন্তু পরদিন শনিবারই যখন প্রেসিডেণ্টকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলো না, তখন অভিযোগ ওঠে যে, বিরোধীরা চুক্তি ভঙ্গ করেছে। গতকাল রোববার, লাল-কালো পতাকা উড়িয়ে সরকার-বিরোধীরা পার্লামেণ্ট ভবনের নিয়ন্ত্রণ নেয় বলে জানিয়েছে সংবাদ-মাধ্যম আরটি। জার্মান নাৎসীদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ ইউক্রেনীয় জাতীয়তাবাদীরা এ-পতাকা ব্যবহার করতো। 

    বিরোধীদের নিয়ন্ত্রিত পার্লামেণ্ট প্রথমে প্রেসিডেণ্টকে ইম্পিচ করার চেষ্টা করলেঅ, পরে সকল বিধি না-মেনেই প্রেসিডেণ্টকে অপসারন করে। এরপর তাঁর স্থলে অন্তর্বর্তীকালের জন্য নতুন প্রেসিডেণ্ট হিসেবে ওলেক্সান্দর তুর্চিনভকে নিয়োগ দেয়। উল্লেখ্য, তুর্চিনভ পার্লামেণ্টের নবনিযুক্ত স্পীকার ও বিরোধী নেত্রী জুলিয়া তিমোশেঙ্কোর ঘনিষ্ঠজন।

    অপসারিত প্রেসিডেণ্ট ইয়ানুকোভিচ এ-ঘটনাকে ক্যু আখ্যা দিয়ে পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। শুক্রবারের চুক্তির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নকে প্রতিশ্রুত দায়িত্ব পালনের আহবান জানান। কিন্তু আজ, নবনিযুক্ত কর্তৃপক্ষ অপসারিত প্রেসিডেণ্টের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ এনে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে।

    ব্রিটেইনের পররাষ্ট্র মন্ত্রী উইলিয়াম হেইগ জানিয়েছেন, তিনি শীঘ্রই ইউক্রেন সফর করবেন। রাশিয়াকে ইউক্রেনের আভ্যন্তরীন ব্যাপারে হস্তক্ষেপ না করতেও আহবান জানান তিনি।

    এদিকে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে রাশিয়ার কাছ থেকে আকাঙ্খিত অর্থ-সাহায্য প্রাপ্তি এটকে থাকায় ভয়াবহ অর্থসঙ্কটে পতিত হয়েছে ইউক্রেন। নতুন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে আগামী দু'বছরের জন্য অন্ততঃ ৩৫ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে। যুক্তরাষ্ট্র ইঙ্গিত দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আইএমএফের সাথে যৌথভাবে অর্থ-সাহায্য নিয়ে এগিয়ে আসার।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন