সংবাদ পরিক্রমা
সংবাদ প্রতিবেদন
- ইতালীর প্রধানমন্ত্রীর যৌন কেলেঙ্কারীঃ সরাসরি কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে চান প্রসিকিউটারগণ

ইউকেবেঙ্গলি, বুধবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০১১ - যৌন কেলেঙ্কারীতে জড়িত ইতালীর প্রধানমন্ত্রীকে অপ্রাপ্ত বয়স্ক দেহপসারিনীকে অর্থ-শোধ এবং প্রভাব খাটিয়ে অপরাধ ঢাকার অভিযোগে সরাসারি আদালতে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়া করাবার অনুরোধ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষ আইনজীবীরা।
রাষ্টপক্ষ আইনজ্ঞদের মতে, প্রধানমন্ত্রী বারলুস্কনির বিরুদ্ধে প্রাপ্ত প্রমান-সমূহ এতোই স্পষ্ট যে, তাকে প্রাথমিক শুনানিরও সুযোগ দেয়া উচিত নয়।
এদিকে ‘নিরাপরাধ’ দাবী-করা প্রধানমন্ত্রী বারলুস্কনি রাষ্ট্রপক্ষ আইনজীবীদের বিরুদ্ধে পাল্টা আঘাত হেনে বলেন, তারা অনিষ্টকর কথা বলছে। তিনি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করেন। রাজধানী রৌমে একটি সংবাদ সম্মেলনে এ-কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বারলুস্কনি।
আইনজ্ঞদের বক্তব্যকে ‘অসম্মানকর’ ও ‘ন্যাক্কারজনক’ বলে আখ্যায়িত করে ইতালীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি দুঃখিত যে, আমরা দেশের প্রতি কাদা ছুঁড়ছি ও মর্যাদাহানি করছি। আমি ভাবি, এ-সমস্ত কর্মের একমাত্র লক্ষ্যই হলো অনিষ্ট করা, তার মূল্য বহন করতে হবে কাকে?’
শেষ পর্যন্ত করদাতাদেরকেই এর মূল্য শোধ করতে হবে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘আমি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মামলা করার চেষ্টা করবো।’ ‘আমি আমার নিজের ব্যাপারে উদ্বিগ্ন নই। আমি এক ধনবান ভদ্রলোক - যে চাইলেই পৃথিবী জুড়ে শিশুদের জন্য হাসপাতাল গড়তে পারে - এবং আমি চেয়েছিও তাই।’
উল্লেখ্য, যৌন কেলেঙ্কারীকে কেন্দ্র করে গত আট মাস যাবত ইতালীর পুলিস ও রাষ্ট্রীয় আইনজীবীরা তদন্ত করে প্রধানমন্ত্রী বারলুস্কনির বিরুদ্ধে শতো-শতো পৃষ্ঠার প্রমান জোগাড় করেছেন, যেখানে তারা দেখাবার প্রয়াস পেয়েছেন যে, তিনি মিলানের অদূরে তার প্রাসাদোপম বাড়ীতে বিভিন্ন দেহপসারিনী-সহ ডজন-ডজন নারীকে নৈশভোজে নিমন্ত্রণ করেছেন, যা শেষ পর্যন্ত নোংরামীতে পতিত হয়েছে।’
বারলুস্কনির নিমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন ঘর-পালানো এক মরোক্কীয় তরুণী, যার প্রকৃত নাম কারিমা আল-মাহরুগ, কিন্তু তিনি রুবী হার্টস্টীলার (হৃদয়চোরনী) নামে পরিচিত। তবে হৃদয় ছাড়াও বিপণীবিতান থেকে পণ্যসামগ্রী চুরি দায়ে রুবী হার্টস্টীলারকে গত মে মাসে পুলিস গ্রেফতার করে। কিন্তু বারলুস্কনির দলের এক আঞ্চলিক এমপির হস্তক্ষেপে তিনি রেহাই পান।
রাষ্ট্রীয় আইনজীবীদের মতে, বারলুস্কনির আতিথ্য গ্রহণ-কালে রুবী হার্টস্টীলার ছিলেন ইতালীর আইনে যৌনবৃত্তির জন্য নূন্যতম বয়স ১৮ বছরের নিচে। এ-প্রসঙ্গে বারলুস্কনির আইনজীবীদের এটি প্রমান করবেন যে, সরকারী নথিপত্রে যা দেখানো হয়েছে, হার্টস্টীলারের বয়স ছিলো বাস্তবে তার চেয়ে বেশি।
ইতালীয় আইনে সাধারণতঃ নাবালিকা দেহপসারিনীকে অর্থ-শোধে সন্দেহায়িত অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিচারকগণ প্রাথমিক শুনানির পর তার অপরাধ সাব্যস্ত করেন। কিন্তু রাষ্ট্রীয় আইনজীবী ব্রুতি লিবারাতি বলেন, তার দপ্তর বারলুস্কনির বিরুদ্ধে আনীত দু’টো অভিযোগের ক্ষেত্রেই ইতিপূর্বে মিলান ও অন্যত্র প্রতিষ্ঠিত দ্রুত-বিচার বিধির নজির প্রয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
রাষ্ট্রীয় আইনজীবীদের পদক্ষেপ অসাংবিধানিক বলে বারলুস্কনির আইনজীবীদের পক্ষ থেকে উল্লেখ করার পরও, সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, তাদের সিদ্ধান্ত অপরিবর্তিত রয়েছে।