• ইরাকের বিরুদ্ধে যেমন ব্লেয়ার, ইরানের বিরুদ্ধে তেমন ক্যামেরোনঃ হুমকি তৈরীর অভিযোগ
    Cameron-on-Iran.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ৬ মার্চ ২০১২, মঙ্গলবারঃ  প্রধানমন্ত্রী ডেইভিড ক্যামেরোন আজ পার্লামেন্টে বলেছেন, ইরান আন্তঃমহাদেশীয় পারমাণবিক অস্ত্র বানাতে চাচ্ছে যা শুধু ইসরায়েলের প্রতি নয়, যুক্তরাজ্যের প্রতিও হুমকি তৈরী করেছে। ইরানের বিরুদ্ধে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর এ-বক্তব্যকে ইরাকের বিরুদ্ধে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের দেয়া ‘৪৫ মিনিটের মধ্যে ইরাক উইপন্স অফ ম্যাস ডেস্ট্রাকশন ফায়ার করতে পারে’ সতর্কতার সাথে তুলনা করেছে দৈনিক গার্ডিয়ান।

    আজ হাউস অফ কমন্সের লিয়াজোঁ কমিটীর এমপিদের মধ্যে বক্তৃতা দান-কালে ক্যামেরোন বলেন, ইরান ‘স্বল্প পরিসরে নয়, বৃহত্তর পরিসরের বিপদজনক  - ইরানীরা এক ধরনের আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রিক ক্ষমতা অর্জন করতে চাচ্ছে বলে আলামত দেখা যাচ্ছে’। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমাদের পরিষ্কার হওয়া দরকার যে, হুমকির এ-সম্ভাবনা নিতান্ত ইসরায়েল ও ঐ অঞ্চলের চেয়ে অনেক বৃহত্তর।’

    উল্লেখ্য, ইরাক আক্রমণের আগে একইভাবে হাউস অফ কমন্সে এমপিদের সামনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার নিশ্চিত করেছিলেন যে, ইরাকের রয়েছে এমন গণ-বিধ্বংসী পারমাণবিক অস্ত্র, যা দেশটির প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হুসেইন ৪৫ মিনিটের মধ্যে নিক্ষেপ করতে পারেন ব্রিটেইনের উপর।

    দৈনিক গার্ডিয়ান ক্যামেরোনের আজকের বক্তব্যেকে এই প্রথম বারের মতো ‘ইরানী হুমকি’র প্রত্যাসন্নতাকে সামনে নিয়ে এলেন বলে উল্লেখ করেছে।  গার্ডিয়ান জানায়, এমপিদের সাথে কথা বলার আগে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর ক্যাবিনেটকে এক ঘন্টা ধরে ব্রীফিং দেন ন্যাশনাল সিকিউরিটী এ্যাডভাইজার স্যার কিম ড্যারোচ। তিনিই যুক্তরাজ্যের উপর ‘ইরানী হুমকি’র প্রত্যাসন্নতার উপর ক্যাবিনেটকে হালনাগাদ করেন।

    উল্লেখ্য, গতকাল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সাথে ইসরায়েলী প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর একান্ত শীর্ষ বৈঠক হয়, যেখানে উভয় নেতা ইরানের প্রতি তাঁদের সম-মনোভঙ্গি গড়ে তোলার বিষয়ে সহমতে উপনীত হন। 

    মার্কিন-ইসারায়েলী নেতৃত্বের শীর্ষ বৈঠকের বোধগম্য অনুঘটন হিসেবে আগামী সপ্তাহে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরোন যাচ্ছেন ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সাথে বৈঠকে মিলিত হতে। এ-বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরোনকে প্রেসিডেন্ট ওবামা তাঁর সাথে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর আলোচনার ফলাফল সম্পর্কে অবহিত করবেন।  

    এদিকে, দীর্ঘকাল যাবৎ ইরানী আর্থিক ও নৈতিক সমর্থন-পুষ্ট গাজা-ভিত্তিক ইসলামবাদী প্যালেস্টাইনী  সংগঠন হামাস বলেছে, ইরান আক্রান্ত হলে তারা ইরানের হয়ে ইসরায়লের বিরুদ্ধে কোনো আঘাত হানবে না। যুক্তি হিসেবে হামাস বলে, তারা কোনো সামরিক ঐক্যের অন্তর্ভুক্ত নয়।

    লক্ষ্য করা যাচ্ছে, মিসরে ক্ষমতাসীন সুন্নী মতাবলম্বী মুসলিম ব্রাদারহুড যতোই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গ্রহণীয় হতে শুরু করেছে, তাদের সাথে আদর্শিকভাবে ঘনিষ্ট হামাস ততোই শিয়া মতাবলম্বী ইরানের কাছ থেকে ক্রমশঃ দূরে সরতে শুরু করেছে।

    ধারণা করা যাচ্ছে, ইরান ইসরায়েল কর্তৃক আক্রান্ত হলে মধ্যপ্রাচ্যের তথাকথিত ‘মুসলিম উম্মাহ’ শিয়া-সুন্নি লাইনে বিভক্ত হয়ে ভিন্ন-ভিন্ন অবস্থান গ্রহণ করতে পারে।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন