• ইরানের তেল আমদানিতে ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞাঃ ‘নীতিগত’ মতৈক্য
    Iran-Oil.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ৪ জানুয়ারী ২০১২, বুধবারঃ  ফ্রান্সের কূটনৈতিক তৎপরতার পরিণতিতে অবশেষে আজ বুধবার ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন ইরানের অশোধিত তেল আমদানির উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপে ‘নীতিগত’ মতৈক্যে পৌঁছেছে, তবে কতিপয় বিষয়ে এখনও অমীমাংসিত রয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

    গত মাসে অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠক-কাল থেকেই ইরানী তেল আমদানির উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের দরদস্তর চলছিলো। আজ বুধবার নাম উল্লেখ না করে জনৈক ইউরোপীয় কূটনৈতিকের বরাত দিয়ে দৈনিক গার্ডিয়ান জানাচ্ছে যে, ইরানের অশোধিত তেল আমদানির উপর নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগের জন্য এখন ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের মধ্যে একটি মতৈক্য গড়ে উঠেছে, কিন্তু এর সময় ও মেয়াদের বিষয়ে এখন বিতর্ক অব্যাহত আছে।

    উল্লেখ্য, ইরান দৈনিক ২.৬ মিলিয়ন অশোধিত তেল বিদেশে রফতানি করে, যার প্রধান গ্রাহক হচ্ছে চীন। চীনের পরেই রয়েছে ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন, যাদের আমদানির পরিমাণ হচ্ছে দৈনিক ৪৫০,০০০ ব্যারেল।

    নিষেধাজ্ঞা বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ৩০ জানুয়ারীতে অনুষ্ঠিতব্য ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের বিদেশ মন্ত্রীদের বৈঠকে গৃহীত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে, সিদ্ধান্ত হলেও তা কবে নাগাদ কার্যকর হবে, তার মেয়াদ-কাল কী এবং পুনর্বিবেচনার জন্য কী বিধি থাকবে তা এখনও অনির্ধারিত।

    এদিকে, ইরান ইউরোপীয়ান ইউনিয়নে আলোচিত তেল-নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি প্রতি অবজ্ঞা দেখিয়ে বলেছে, দেশটির তাতে কিছু আসবে যাবে না, কারণ তারা নতুন আমদানিকারী দেশ পেয়ে যাবে।

    তেলের উপর আমদানি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে ইরান তার নিয়ন্ত্রণাধীন হরমুজ প্রণালীতে তেলবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ইতোমধ্যে ইরানের সেনাবাহিনীর প্রধান আতাওল্লাহ সালেহি পারস্য উপসাগরে মার্কিন বিমানবাহী জাহাজ ফিরে না-আসার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘একবারের বেশি হুঁশিয়ারি দেবার অভ্যাস আমাদের নেই’।

    ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের ‘নীতিগত’ মতৈক্য হওয়ার ঘটনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হৌম ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্রী ভিক্টোরিয়া নুল্যান্ড ‘খুবই ভালো সংবাদ’ বলে সমর্থন জানিয়েছেন। তবে গতকাল, যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগন ও ওয়াইট হাউসের স্ব-স্ব প্রেস সেক্রেট্যারী পারস্য উপসাগর সংক্রান্ত ইরানের হুঁশিয়ারিকে নাকচ করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবহরের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।

    ধারণা করা হচ্ছে, ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন যদি বাস্তবে ইরানের তেল আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, তাহলে ইরান তার তেলের মূল্য কমিয়ে অ-ইউরোপীয় দেশ-সমূহের কাছে বিক্রি করবে। এর ফলে শুধ ইরানে নয়, অন্যান্য দেশের অর্থনীতিতেও নানারূপ প্রভাব পড়বে।  

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন