• ইরানের সাথে পরমাণু-প্রকল্প নিয়ে আলোচনাঃ ছাড় দিতে রাজি ছয় পরাশক্তি
    iran_necluer_talk_feb2013.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৩, বুধবারঃ  ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে ছয় বিশ্ব-শক্তি। গতকাল কাজাখিস্তানে অনুষ্ঠিত প্রথম দফা বৈঠক শেষে উভয় পক্ষই সন্তোষ প্রকাশ করেছে। মার্চের ১৮ তারিখে দ্বিতীয় দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে তুরষ্কে, যা হবে উভয় পক্ষের বিশেষজ্ঞদের মধ্যে; এপ্রিলে হবে রাজনৈতিক পর্যায়ের আলোচনা।

    যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেইন, ফ্রান্স, জার্মানী, রাশিয়া ও চীনের সমন্বয়ে গঠিত বিশ্ব-শক্তিগুলো এবার ইরানের উপর আরোপিত অর্থনৈতিক অবরোধ কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে। পশ্চিমাদের পূর্বের দাবি ছিলো, ইরানকে তার পরিশোধিত ইউরেনিয়াম অন্য দেশের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। এবার তারা সে-চাহিদা থেকে সরে এসেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। এছাড়াও নতুন প্রস্তাবে সোনা ও অন্যান্য দামী ধাতুর বিনিয়মে বৈদেশিক বাণিজ্যে চলমান অবরোধ শিথিল করার কথাও রয়েছে।

    বিনিময়ে ইরানকে তার ইউরোনিয়াম পরিশোধন কার্যক্রম সীমিত করতে হবে যেন তা দিয়ে পারমাণবিক বোমা বানাতে না পারে দেশটি। ইরান মনে করে স্বাধীন দেশ হিসেবে তারও অধিকার রয়েছে শান্তিপূর্ণ কাজে পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের। দেশটির একজন কর্মকর্তা সংবাদ সংস্থাগুলোকে বলেন যে, ইরান চায় পারমাণবিক প্রযুক্তিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে 'আরও বেশি তেল রপ্তানি' করতে।

    কাজাখ শহর আলমাতিতে অনুষ্ঠিত দুই দিনের এ-আলোচনার আগে দুই পক্ষ শেষবার আলোচনায় টেবিলে বসেছিলো আট মাস আগে। এ-সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্কের দৃশ্যতঃ অবনতি ঘটেছে। মার্কিন গোয়েন্দা ড্রৌন ইরানের আকাশ-সীমা লঙ্ঘন করায় সেটিকে আটকের দাবি করেছে দেশটি। নিজেরাও তৈরি করতে শুরু করেছে ড্রৌন। মধ্যপ্রাচ্যে গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন-মিত্র ইসরায়েল দাবি করেছে ইরান ইতোমধ্যেই ইউরেনিয়াম শোধন করে প্রায় বোমা বানানোর পর্যায়ে পৌঁছেছে।

    গতকাল শেষ হওয়া আলোচনা শেষে ইরানের প্রধান আলোচক সাঈদ জলিলি বলেছেন, "বিশ্ব-শক্তিগুলো আমাদের মতামতের কাছাকাছি আসতে চেষ্টা করছে, এটি খুবই ইতিবাচক ব্যাপার"। পারমানবিক প্রকল্প সংক্রান্ত দরদস্তুরে এ-আলোচনা একটি 'নতুন মোড়' বলে আশা করেন তিনি।

    যুক্তরাষ্ট্রও এ-আলোচনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। দেশটির পররাষ্ট্র-মন্ত্রী জন কেরি ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে এক সভায় বলেন, 'ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে'।

    ইরান তার পরমাণু প্রকল্পের উদ্দেশ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন, চিকিৎসা ও গবেষণা বলে বর্ণনা করে। পক্ষান্তরে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা সন্দেহ করে, পারমাণবিক বোমা বানানোই এর উদ্দেশ্য। সে-সন্দেহ থেকে ইরানের উপর অর্থনৈতিক অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

    পশ্চিমা অর্থনৈতিক অবরোধের কারণে ইরানের তেল বিক্রি ব্যাপক মাত্রায় সীমিত হয়ে পড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে দেশটির অর্থনীতিতে। খাদ্য ও ওষুধের মতো জরুরি দ্রব্যাদি আমদানিতেও অসুবিধায় পড়েও ইসলামিক প্রজাতন্ত্রটি পরমাণু প্রকল্প স্থায়ীভাবে বাতিল করতে সম্মত হয়নি।

     

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন