• ইরানে শুরু হলো জোট-নিরপেক্ষ আন্দোলনের ষোড়শ শীর্ষ সম্মেলন
    iran_nam_summit_2012.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ২৬ অগাস্ট ২০১২, রোববারঃ  সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ, বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সামরিকায়ন, পারমাণবিক প্রকল্প-সূত্রে ইরানের উপর ইসরায়েলের 'একপাক্ষিক হামলার' অব্যাহত হুমকি ইত্যাদি উত্তেজনা-পূর্ণ বিশ্ব-পরিস্থিতির মধ্যে ইরানে আজ শুরু হলো জোট-নিরপেক্ষ আন্দোলন সংক্ষেপে ন্যাম-এর ষোড়শ শীর্ষ সম্মেলন। এবারের মূল আলোচ্য বিষয়গুলো হচ্ছে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ, বৈশ্বিক মানবাধিকার, মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ। আগামী ৩১ অগাস্ট শেষ হবে এ-সম্মেলন।

    তেহরানে শুরু হওয়া এ-সম্মেলনে ইরান মিসরের কাছ থেকে আগামী ৩ বছরের জন্য ন্যামের নেতৃত্বের দায়িত্ব নিচ্ছে। ইসরায়েল ও তার পশ্চিমা-বিশ্বের মিত্রদের দিক থেকে ইরানের উপর বেড়ে চলা চাপের মুখে ন্যামের নেতৃত্ব গ্রহণ ইরানকে আন্তর্জাতিক অঙ্গণে স্বস্তিদায়ক সুবিধা দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    মধ্যপ্রাচ্যে একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী ইসরায়েল ও তার মিত্র পশ্চিমী পরাশক্তিগুলো অভিযোগ করে আসছে যে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। পক্ষান্তরে, ইরান বরাবর এ-অভিযোগ অস্বীকার করে বলে আসছে যে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির উদ্দেশ্য 'বিদ্যুত উৎপাদন ও চিকিৎসা-ক্ষেত্রে ব্যবহার'।

    এবারের সম্মেলনে জাতিসংঘে অস্বীকৃত ফিলিস্তিন-সহ মোট ৫০টি রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছেন ২৭টি দেশের প্রেসিডেন্ট ও বাংলাদেশের শেখ হাসিনা-সহ ৭ জন প্রধানমন্ত্রী। ন্যামের সদস্য না হলেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে অস্ট্রেলিয়া ও রাশিয়াকে, যার মধ্যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অংশ নিচ্ছেন। অস্ট্রেলিয়া থেকে আসছেন জাতিসঙ্ঘে দেশটির দূত গ্যারি কুইনলান।

    অ-সদস্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আপত্তির মুখেও 'রীতি রক্ষা করে' এ-সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব বান কি মুন। ইসরায়েলী দৈনিক হারেৎস্‌ জানায়, দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ব্যাক্তিগতভাবে মুনকে অনুরোধ করেছিলেন এ-সম্মেলনে অংশ না নিতে। এছাড়াও ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশে-দেশে নিযুক্ত তার দূতদেরকে আদেশ করেছিলো, যেনো তাঁরা সংশ্লিষ্ট দেশকে অংশ না নিতে বা অন্ততঃ নিম্ন-পর্যায়ের কর্মকর্তা পাঠাতে প্রভাবিত করে।

    যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে বিশ্ব-নেতাদেরকে এ-সম্মেলনে না যেতে উৎসাহিত করে। এক বিবৃতিতে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্রী ভিক্টৌরিয়া নাল্যাণ্ড বলেন, অংশগ্রহণকারী দেশগুলোকে আমরা জানিয়েছি যে, (ইরান) এ-সম্মেলনের জন্য অনুপযুক্ত স্থান'। হারেৎস্‌ জানাচ্ছেঃ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল উভয়েই আশঙ্কা করছে, যখন ইরানকে একঘরে করার চেষ্টা চলছে তখন এ-সম্মেলনের মধ্য দিয়ে 'আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানের গ্রহণযোগ্যতা নবায়িত হবে'।

    উল্লেখ্যঃ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যত্ব লাভের চেষ্টারত এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ঘনিষ্টতা বাড়াতে উদগ্রীব তুরষ্কের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লাহ গুলের এ-সম্মেলনে যোগ দেয়ার কথা থাকলেও 'আঙ্কারায় সামরিক প্যারেইডের অজুহাতে' সম্মেলনের মাত্র একদিন পূর্বে তিনি তা বাতিল করেন।

    স্নায়ু-যুদ্ধের সময় পৃথিবীর উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলোকে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র এ-দুই পরাশক্তির বলয়ের বাইরে বিকশিত হতে সহায়তা করতে সাবেক যুগোস্লাভিয়ায় এ-সংগঠনটির জন্ম হয়। বর্তমানে প্রধানতঃ এসিয়া, আফ্রিকা, ল্যাতিন আমেরিকার দেশগুলোই এখন ন্যাম এর সদস্য, যার মোট সংখ্যা ১২০ এবং পৃথিবীর প্রায় ৫৫% মানুষ এর অন্তর্ভূক্ত। সোভিয়েত ইউনিয়নের ভাঙ্গন ঘটাতে ইউরোপীয় সদস্য-দেশগুলো ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দেয়ার পরে বর্তমানে বেলারুশই সংগঠনটির একমাত্র ইউয়োপীয় সদস্য।

    ১৯৭৯ সালে ন্যামের হাভানা ঘোষণায় কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল ক্যাস্ত্রো বলেন, 'ন্যামের উদ্দেশ্য হচ্ছে সাম্রাজ্যবাদ, ঔপনিবেশিকতা, নব্য-ঔপনিবেশিকতা ও বর্ণবাদের বিরুদ্ধে সদস্য-দেশগুলোর সংগ্রামে তাদের জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা'। যুগোস্লাভিয়ার প্রেসিডেন্ট যোফেপ টিটো, ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু, মিশরের প্রেসিডেন্ট গামেল আব্দেল নাসের, ঘানার প্রেসিডেন্ট কোয়াম ন্‌ক্রুমা এবং ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট আহ্‌মেদ সুকর্ণ জোট-নিরপক্ষে আন্দোলনের জনক।

     

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন