• ইরান ও ফাইভ-প্লাস-ওয়ান পরমাণু-সংলাপ তুরস্কেঃ উভয় পক্ষ আশাবাদী ভবিষ্যত নিয়ে
    Iran-Nuke-talk.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ১৫ এপ্রিল ২০১২, রোববারঃ  ইরানের বিতর্কিত পরমাণু কর্মসূচি বিষয়ে গত কাল শনিবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে নতুন করে শুরু হওয়া সংলাপে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবী করেছে অংশগ্রহণকারী সকল পক্ষ। সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে সঙ্কট থেকে উত্তরণের বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে বলে পরবর্তী সংলাপের স্থান-তারিখও স্থির হয়েছে।

    ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে ঘিরে পাশ্চাত্যের সন্দেহ-সংশয় এবং এ-কর্মসূচি পরিত্যাগে ইরানকে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দৃশ্যতঃ অকার্যকর প্রমাণিত হবার পর সম্প্রতি তুরস্কের সক্রিয় মধ্যস্থতায় নতুন করে শুরু হওয়া সংলাপের এক পক্ষে ছিলো ইরান ও অন্যপক্ষে ফাইভ-প্লাস-ওয়ান, অর্থাৎ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য - মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেইন, ফ্রান্স, রাশিয়া ও জার্মানী এবং তার সাথে জার্মানী।

    ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত সংলাপকে ইতিবাচক এবং গঠণমূলক হিসাবে বর্ণনা করেছেন সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ, যদিও 'অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে' এবং 'ইরানকে সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ গ্রহণ' করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন একাধিক কূটনৈতিক।

    সংলাপ থেকে কোনো ধরণের সিদ্ধান্ত কিংবা সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব আশা করেনি অংশগ্রহণকারী কোনো পক্ষ; কেবল ইরানকে যুক্ত রেখে সংলাপকে জিইয়ে রাখাই ছিল শনিবারের সংলাপের উদ্দেশ্য। পরবর্তী সংলাপ আগামী ২৩শে মে ইরাকের রাজধানী বাগদাদে অনুষ্ঠিত হবে বলে সহমত হয়েছেন সকল পক্ষের প্রতিনিধিরা।

    ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিদেশ-নীতি বিভাগের প্রধান ক্যাথেরিন অ্যাশটন এই সংলাপকে ‘গঠনমূলক ও ফলপ্রদ’ হিসাবে বর্ণনা করেছেন। অ্যাশটন সাংবাদিকদের বলেন, ভবিষ্যতের সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে ‘পর্যায়ক্রমিক এবং পারস্পরিক গ্রহণ ও বর্জনের নীতি’ অনুসরন করে।

    অ্যাশটন আরও বলেন, শান্তিপূর্ণ কাজে পরমাণু কর্মসূচি ব্যবহারের অধিকার ইরানের রয়েছে, তবে ভবিষ্যতের সংলাপের ভিত্তি হবে ‘পারমাণবিক অস্ত্র-বিস্তার রোধ চুক্তি’।

    ইরানের পরমাণু বিষয়ক প্রধান দরদস্তুরকারী সাঈদ জলিলি শনিবারের সংলাপকে পারস্পরিক সহযোগিতা ভিত্তিক এবং ‘অত্যন্ত সফল’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি ভবিষ্যত সংলাপে পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির উপর গুরুত্ব দেয়ার আহবান জানিয়েছেন।

    পরমাণু বিস্তার-রোধ চুক্তি অনুযায়ী ২০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার রয়েছে বলে বিশ্বাস করে ইরান। জলিলি বলেন, ‘বাধ্যবাধকতার ভেতরেও আমাদের সমান অধিকার উপভোগ করা উচিত’।

    উল্লেখ্য, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি অস্ত্র নির্মাণের উদ্দেশ্য সংগঠিত বলে পশ্চিমা বিশ্বশক্তি ও ইসরায়েলের যে-অভিযোগ করছে, ইরান তা অস্বীকার করে বরাবর বলে আসছে, বেসামরিক খাতে শক্তির যোগান নিশ্চিত করাই তার পারমাণবিক কর্মসূচির উদ্দেশ্য।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন