সংবাদ পরিক্রমা
সংবাদ প্রতিবেদন
- ইসলামী চরমবাদ ঠেকাতে নিষ্ক্রিয় সহ্যের বদলে ‘মাসক্যুলার লিবারালিজম’ চান ক্যামেরৌন

ইউকেবেঙ্গলি, রোববার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০১১- ব্রিটেইনের দীর্ঘকালের অনুসৃত বহুসংস্কৃতিবাদ ব্যর্থ হয়েছে উল্লেখ করে ইসলামী চরমবাদ রুখতে অশ্রুতপূর্ব ‘মাসক্যুলার লিবারালিজম’ নীতি অনুসরণের কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরৌন। লেবার দলীয় এমইপি রিচার্ড হাওইট পেশীশক্তি অর্থদায়ক ‘মাসক্যুলার’ শব্দটিকে দুঃখজনক ও হুমকী-পরিবেশের সহায়ক বলে সমালোচনা করেন।
গতকাল শনিবার জার্মানীতে অনুষ্ঠিত ৪৭তম মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে ‘রেডিক্যলাইজেশন এ্যান্ড কজেস অফ টেরোরিজম’ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার প্রথম ভাষণে ক্যামেরৌন বলেন, রাষ্ট্রীয় বহুসংস্কৃতিবাদ ব্যর্থ হয়েছে এবং এটি তরুণ মুসলমিদেরকে রেডিক্যালাইজেশনের মুখে ঠেলে দিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘নিজেদেরকে অন্তর্ভুক্ত মনে করতে চাইবে, এমন একটি সমাজের চিত্র তাদেরকে যোগাতে আমরা ব্যর্থ হয়েছি।’ এর ফলে, তরুণ মুসলামানগণ শিকড়হীন অনুভূতিতে নিপতিত হয়েছ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরৌন বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় বহুসংস্কৃতিবাদ তত্ত্বের অধীনে আমরা বিভিন্ন সংস্কৃতিকে একে অন্যের থেকে এবং প্রধান স্রোতধারা থেকে পৃথকভাবে বসবাস করতে উৎসাহিত করেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এমনকি এই পৃথকীকৃত সম্প্রদায়গুলোকে এমনভাবে আচরণ করতে সহ্য করেছি, যা আমাদের মূল্যবোধের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।’
চরমবাদের সাথে বিভিন্ন মুসলিম সংগঠনের সম্পর্ক নির্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে-সকল সংগঠন সরকারী অর্থ লাভ করেছে কিন্তু চরমবাদ রুখতে তেমন কিছু করেছে না, সেগুলোকে কঠোরতর বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।’ তিনি বলেন, মন্ত্রীদের উচিত এ-সমস্ত সংগঠনের সাথে জড়িত ও অংশীদার না হওয়া এবং সরকারী তহবিল প্রাপ্তি থেকে এবং বিশ্ববিদ্যালয়সমহে ও কারাগারগুলোতে তাদের বার্তা ছড়ানো থেকে এগুলোকে বিরত রাখা।
মুসলিম সংগঠনগুলো মানবাধিকার বিশ্বাস করে না, এমন অভিব্যক্তি প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চলুন এ-সংগঠনগুলোকে যথাযথভাবে যাচাই করা যাকঃ তারা কি নারী, শিশু ও অন্য বিশ্বাসের মানুষ সহকারে সর্বজনীন মানবাধিকারে বিশ্বাস করে? তারা কি আইনের সামনে সবার সমান থাকায় বিশ্বাস করে? তারা কি গণতন্ত্রে ও নিজেদের সরকার জনগণের নির্বাচনের অধিকারে বিশ্বাস করে? তারা কি সংহতিতে না বিচ্ছিন্নতায় বিশ্বাস করে?’ ক্যামেরৌন বলেন, ‘আমাদের প্রয়োজন এ-ধরনের প্রশ্ন জিজ্ঞেস করা। এ-পরীক্ষায় ব্যর্থ হলে এ-সংগঠনগুলোর সাথে জড়িত হওয়া যাবে না বলে বুঝে নিতে হবে।’
এর প্রতিকারের জন্য ক্যামেরৌন সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমাদের দেশগুলোতে কী ঘটছে তার প্রতি সজাগ হোন!’ তিনি বলেন, ‘এখন সময় এসেছে অতীতের ব্যর্থ নীতির পাতা উল্টোবার।’ ক্যামেরৌন বলেন, ‘অপকটভাবে বলতে চাই, বিগত দিনের নিষ্ক্রিয় সহ্যের প্রয়োজন আমাদের খুবই অল্প, আমাদের দরকার সক্রিয় মাসক্যুলার লিবারালিজম’।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী এমনই একসময় বহুসংস্কৃতিবাদের বিরুদ্ধে এ-কথাগুলো বললেন, যখন একই দিনে ইংল্যান্ডের বিভিন্ন স্থান থেকে কর্মী-সমর্থকদের সংগঠিত করে দক্ষিণপন্থী সংগঠন ইংলিশ ডেফেন্স লীগ লন্ডনের অদূরে লুটন নগরীতে ঘটা করে একটি বিক্ষোভ সমাবেশ এবং তার বিরুদ্ধে একই দিনে একই শহরে ভিন্নস্থানে একই সময়ে ‘ইউনাইট এ্যাগেইনস্ট ফ্যাসিজম’ নামের বর্ণবাদ-বিরোধী জোট প্রতিবাদ সভা করেছে।
ইউনাট এ্যাগেইনস্ট ফ্যাসিজম আহুত প্রতিবাদ সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে ভাষণ দান-কালে লুটনের লেবার দলীয় ইউরৌপীয়ন পার্লামেন্টের সদস্য রিচার্ড হাওইট বলেন, ‘বহুসংস্কৃতিবাদের উপর আক্রমণ করার অর্থ হচ্ছে চরম দক্ষিণপন্থী আদর্শের কাছে আত্মসমর্পণ, মৌলবাদী ও উদারপন্থী আদর্শবাদের মধ্যে পার্থক্য বুঝার ক্ষেত্রে ব্যর্থতা এবং প্রকৃতপ্রস্তাবে বিভিন্ন বিশ্বাসের জনগোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার ক্ষতিসাধন করা।’
ক্যামেরৌনের ব্যবহৃত বাগ্ধারার সমালোচনা করে এমইপি হাওইট বলেন, ‘আজ লুটনের রাস্তায় যে হুমকি, ভীতি ও সহিংসতার আবহ বিরাজ করছে, দুঃখজনকভাবে ‘মাসক্যুলার লিবারালিজম’ শব্দগুচ্ছ বিশেষভাবে তার পৃষ্ঠপোষকতা করছে।’