• ইস্তাম্বুলে লক্ষ-লক্ষ লোকের সমাবেশঃ মৃত্যুদণ্ড ফিরিয়ে আনতে চান এর্দোয়ান
    istanbul-rally-erdogan-and-gulbaran.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - লণ্ডন, ৭ অগাষ্ট ২০১৬, রোববারঃ আজ তুরষ্কের ইস্তাম্বুলের অন্ততঃ দশ লক্ষ লোকের অংশগ্রহণে এক বিরাট সমাবেশে প্রেসিডেণ্ট রেজিপ তায়িপ এর্দোয়ান বলেছেন, তিনি মৃত্যদণ্ড পুনর্বহাল করতে চান। গত মাসে দেশটিতে ব্যর্থ সামরিক অভ্যূত্থানের পর আজকের এই সমাবেশ তুর্কী রাজনীতিতে নতুন যুগের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা।

    ইস্তাম্বুলের প্যারেড গ্রাউণ্ডে অনুষ্ঠিত সভায় এর্দোয়ান বলেন, "মৃত্যুদণ্ড পুনর্বহালের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে তুর্কী সংসদ...আমি আগাম ঘোষণা দিচ্ছি, সংসদের সিদ্ধান্ত আমি অনুমোদন করবো"। তুরষ্কে ১৯৮৪ সালে মৃত্যুদণ্ডের বিধান বাতিল করা হয়। পুনরায় এ-বিধান প্রবর্তন করা পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে এর্দোয়ান বলেম, "যুক্তরাষ্ট্রে এটি আছে; জাপানে আছে; চীনে আছে; পৃথিবীর বেশিরভাগ স্থানেই আছে।"

    'গণতন্ত্র ও শহীদ সমাবেশ' নামের আজকের বিপুলাকার সভায় ক্ষমতাসীন জাষ্টিস এ্যাণ্ড ডেভেলপমেণ্ট পার্টির সাথে যোগ দেয় তিন প্রধান বিরোধী দলের দুই দল - রিপাবলিকান পিপল্‌স পার্টি ও ন্যাশনালিষ্ট মুভমেণ্ট পার্টি। তৃতীয় বিরোধী দল কুর্দী পার্টিকে আমন্ত্রণই জানানো হয়নি।

    ইসলামবাদী এর্দোয়ানের সরকারের বিরুদ্ধে ব্যর্থ ক্যু'র পেছনে রয়েছেন তাঁরই একসময়ের মিত্র আরেক ইসলামবাদী ধর্মীয় নেতা ফেতুল্লাহ গুলেন - শুরু থেকেই এমন দাবী করে আসছে তুর্কী সরকার। ইতোমধ্যেই গুলেনের সমর্থক সন্দেহে প্রায় এক লক্ষ লোককে গ্রেফতার অথবা সরকারী চাকুরী থেকে পদচ্যুত করা হয়েছে। আজকের সভায় এর্দোয়ান ঘোষণা করেন যে, তুর্কী রাষ্ট্রটিকে গুলেনের সমর্থক-মুক্ত করা হবে। ইতিমধ্যেই গুলেনের আন্দোলনকে সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকাভূক্ত করেছে এর্দোয়ান সরকার।

    যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী ফেতুল্লাহ গুলেন অবশ্য দাবী করে আসছে যে এ-ব্যর্থ ক্যু'র সাথে তাঁর কোন সম্পর্কে নেই। তিনি সন্দেহ করছেন, এটি এর্দোয়ানের সাজানো নাটক হতে পারে - যা ব্যবহার করে তিনি তুর্কী রাষ্ট্রে তাঁর ক্ষমতা একচ্ছত্র করতে চান।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন